17/11/2025
বিকৃত মস্তিষ্ক আর বিকৃত মানসিকতা, উভয়ই ধ্বংসের কারণ!
মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মস্তিষ্ক, চিন্তা করার ক্ষমতা, বিচার-বিবেচনা করার সক্ষমতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা। কিন্তু যখন এই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি বিকৃত হয়ে যায়, তখন মানুষের আচরণ, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে থাকে। ঠিক তেমনই বিকৃত মানসিকতা, যে মানসিকতা নীতিহীন, নৈতিকতা-বিবর্জিত, স্বার্থপর ও ক্ষতিকর, সেটিও ব্যক্তিগত ও সামাজিক ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১. বিকৃত মস্তিষ্ক: ভুল সিদ্ধান্তের কারখানা
যখন একজন মানুষের চিন্তার ভিত্তিটাই সঠিক থাকে না, তখন ছোট ঘটনাকে বড় করা, অহেতুক সন্দেহ, অতিরিক্ত আত্মঅহংকার বা হীনমন্যতা আচরণকে পরিচালনা করতে থাকে।
বিকৃত মস্তিষ্ক মানুষকে যুক্তিহীন পথে ধাবিত করে,
অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় ভাবা, ভুলকেও নিজের কাছে সঠিক মনে হওয়া, সম্পর্ক, দায়িত্ব বা ভালোবাসার মূল্য না বোঝা।
এই ধরনের অবস্থায় সে বাস্তবতা দেখতে পারে না, আর নিজের ভুল বুঝার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।
২. বিকৃত মানসিকতা: নৈতিকতার পতন
মানসিকতা যত বিকৃত, তার আচরণ ততই ক্ষতিকর। এমন মানুষ অন্যের ক্ষতি করে আনন্দ পায়, অন্যের সফলতা সহ্য করতে পারে না, আর মিথ্যে, প্রতারণা, হিংসা—সবকিছুকেই স্বাভাবিক মনে করে।
বিকৃত মানসিকতা,
সম্পর্ক নষ্ট করে, সমাজে বিষ ছড়ায়, আস্থার জায়গা ধ্বংস করে, এবং অশান্তির বীজ বপন করে।
৩. দুইয়ের ফল একই: ধ্বংস
বিকৃত মস্তিষ্ক যুক্তিকে মেরে ফেলে,
বিকৃত মানসিকতা মানবিকতাকে হত্যা করে।
এই দুই মিললে মানুষ নিজেকে, তার পরিবারকে, এমনকি একটি সমাজকেও ধ্বংস করে দিতে পারে।
ধ্বংস শুরু হয় নিঃশব্দে, বিবেকের মৃত্যু দিয়ে, সাহসের অভাব দিয়ে, অন্যায়কে স্বাভাবিক মনে করার মাধ্যমে।
৪. সমাধান: সুস্থ চিন্তা ও সৎ মানসিকতা
শিক্ষা, নৈতিকতা, আত্মসমালোচনা ও ভালো পরিবে, এসবই স্বাস্থ্যকর মস্তিষ্ক ও মানসিকতা তৈরি করে।
যে মানুষ নিজের ভুলকে স্বীকার করতে পারে,
যে মানুষ অন্যের ভালোমন্দ বুঝতে পারে,
সে কখনো ধ্বংসের পথে হাঁটে না।
বিকৃত মস্তিষ্ক চিন্তাধারাকে নষ্ট করে,
বিকৃত মানসিকতা মানবতাকে নষ্ট করে।
নিজেকে বাঁচাতে, সম্পর্ককে বাঁচাতে, সমাজকে বাঁচাতে—
সুস্থ চিন্তা, নৈতিক আচরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।