09/12/2025
অরিন্দম মুখার্জীর প্রাসাদোপম বাড়িতে মাত্র দুটি প্রাণী থাকে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী। ছেলে কালিম্পংয়ের কনভেন্টে পড়ে। হোস্টেলে থেকে। মহুয়ার মাঝেমধ্যে মনে হয়, এঁদের এভাবে একা থাকতে ভয় করে না? অনেকবার ভেবেছে অরিন্দমকে প্রশ্ন করবে। কিন্তু অত বড় একজন স্টার— তাঁকে কি এইসব ছেঁদো কথা বলা যায়?
“কী রে বিন্তি? চোখ মুখ শুকনো কেন?” পরনে সাদা পাজামা আর একটা হাফ শার্ট। এক মাথা চুল এলোমেলো হয়ে আছে। মহুয়া দেখল, নিতান্ত অগোছালো অবস্থাতেও মানুষটাকে কী অপূর্ব সুন্দর লাগছে, “রবিবার সক্কালবেলায় ছুটে এসেছিস… হ্যাঁ রে, সব ঠিক আছে তো? বাড়ির সবাই ভালো তো? বউদির সঙ্গে দেখা হয়েছে?” একগাদা প্রশ্ন মহুয়ার দিকে ছুড়ে দিয়ে উত্তরের অপেক্ষা না করেই ভিতরের দিকে হাঁক দিলেন অরিন্দম, “ও গো শুনছ? আরে বিন্তি এসেছে। খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করো একটু।”
“আমাকে বাঁচান অরিন্দমদা।” মহুয়ার স্বরে আর্তি ঝরে পড়ল।
অরিন্দম থমকে গেলেন। উদ্বিগ্ন স্বরে বললেন, “কী হয়েছে রে?”
এতটা মানসিক পরিশ্রম মহুয়া আর সহ্য করতে পারছিল না। দীর্ঘদিন সে ভয়ে সিঁটিয়ে থেকেছে। কিন্তু আজ…
...মহুয়া সোফার হাতলে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। আক্ষরিক অর্থেই আজ তার মানসিক ধকল প্রচুর হয়েছে। ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে থাকতে সে ক্লান্ত।
অরিন্দম আরক্ত মুখে বসে আছেন। অরিন্দমের স্ত্রী অনুভাদেবী মহুয়ার পাশে বসে বললেন, “এর তো একটা বিহিত করা দরকার। কী গো? তুমি কিছু করবে না?”
অরিন্দম গম্ভীর স্বরে বললেন, “পুলিশে ফোন করতেই পারি। মুশকিল হল, পুলিশের কাছে তো কিছু লুকানো যাবে না। তখন আবার বিন্তির বাবাকে নিয়ে টানাটানি হবে।”
“তা হোক না,” অনুভাদেবী বলেন, “অন্যায় করলে সাজা তো পেতেই হবে।”
অরিন্দম একটু আনমনা হয়ে বাইরের দিকে তাকালেন, “মিথ্যে কিছু কাদা ছোড়াছুড়ি হবে অনুভা। তাতে বিন্তির বদনাম হবে। তাছাড়া…”
“তাছাড়া?” মহুয়া চোখ তুলে তাকাল।
অরিন্দম মহুয়ার মাথায় স্নেহের হাত রেখে বললেন, “তুই ছোটো বিন্তি। বুঝতে পারছিস না। তোর বাবা যেমনই মানুষ হোক, বাইরের পৃথিবীর কাছে সে তোর জন্য একটা আড়াল। সমাজ যদি জানতে পারে তোর সামনের আড়ালটা নড়বড়ে, তারা তোকে ছিঁড়ে খাবে রে বিন্তি। তোর যদি বিয়ে হয়ে গিয়ে থাকত…”
“তবে তাই হোক অরিন্দমদা। আমি বিয়ে করব। কিন্তু ওই বাড়িতে আর ফিরব না। আপনি বাইরের লোকের কাছ থেকে বাঁচাতে চাইছেন অরিন্দমদা। আর ঘরেই যে শত্রুর বাস। ওখানে আমি নিরাপদ নই।”
“বিয়ে করবি?” অনুভাদেবী অবাক হয়ে তাকান, “এ কী রে, বিয়ে কি ওইভাবে হয়? বিয়ের তো জোগাড়যন্ত্র লাগে। এ কী তোর সিনেমার বিয়ে?”
“অচ্যুতকে এখুনি বিয়ে করতে বললে, এখুনি বিয়ে করবে?” অরিন্দমের প্রশ্নে কী যেন একটা ব্যাপার ছিল। মহুয়া থতোমতো খেয়ে গেল। তারপর একটু দ্বিধা নিয়েই ঘাড় নাড়ল। সেদিকে তাকিয়ে অরিন্দম বললেন, “ভোলাকে তমালের বাড়ির অ্যাড্রেসটা বুঝিয়ে দে। আর অনুভা পুরুতমশাইকে খবর পাঠাও। বলো খুব দরকার, এক্ষুনি যেন পঞ্জিকাটা সঙ্গে করে আসে। আর… আর…”
“ও গো, তুমি কি খেপে উঠলে?” অনুভাদেবী বিস্মিত স্বরে বলে ওঠেন, “আজই বিয়ে দেবে? বিয়েতে কত জিনিস লাগে তা জানো? আজ বিয়ের তিথি আছে কি না কে জানে। আর অচ্যুতের বাড়ির লোকজনই বা মানবে কেন?”
“মানবে না মানে? ওদের ঘাড় মানবে। আমি অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এ বিয়ে দেব। দেখি কার কত বুকের পাটা যে এই বিয়ে না মানে।”
“আ গেল যা,” অনুভাদেবী ঝংকার দিয়ে উঠলেন, “সংলাপ বলে বলে অভ্যেস খারাপ হয়ে গেছে। সবাইকেই নাটকের চরিত্র মনে করে। সবকিছু গা জোয়ারি করে হয় না। তুমি ফিল্মের হিরো হতে পারো, কিন্তু তাদের ছেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু তাদের।”
স্ত্রীর কথায় খুব একটা পাত্তা দিলেন না অরিন্দম। বরং তাঁর সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী ভজনকে হাঁক দিয়ে ডাকলেন, “ভজন… ভজন… অ্যাই রাস্কেল ভজা, এক্ষুনি সকলকে খবর দে। আরে আজ বিন্তির বিয়ে রে… আর শোন, বিজলি গ্রিলের মানেজারকে ফোন কর। আমি নিজে মেনু ঠিক করব।”
রবিবারের শেষ বেলায় আবার মনে করিয়ে দিয়ে গেলাম....সত্তর এবং আশির দশকের বাংলা তথা বোম্বের রূপোলী জগৎ এবং তার পেছনের ভয়ংকর কিছু অন্ধকার দিক নিয়ে লেখা মালবিকা দাশগুপ্ত র ফিকশনাল উপন্যাস "আগুনে ঢেকেছি মুখ" এর প্রী বুকিং শুরু হয়েছে। লেখিকার সই ছাড়াও থাকছে একটা সারপ্রাইজ গিফট, শুধুমাত্র প্রী বুক করা পাঠকদের জন্যে। কি সারপ্রাইজ?? একটু না হয় অপেক্ষা করুন।
https://www.smellofbooks.in/product-page/aagune-dhekechi-mukh-malabika-dasgupta
Smell of Books