স্বপ্নপূরণ_দূর্বা ব্যানার্জি

  • Home
  • India
  • Durgapur
  • স্বপ্নপূরণ_দূর্বা ব্যানার্জি

স্বপ্নপূরণ_দূর্বা ব্যানার্জি Kobita, Gaan, Goppo

28/12/2025

বিচার বলে কারে... 😲
কবিতা: বিচার
কবি: সুকুমার রায়
আবৃত্তি: দূর্বা ব্যানার্জি।

25/12/2025

ছোটবেলা থেকেই একটা কথা ছেলেদের কানে কানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় - "তুই ছেলে কাঁদবি না" - এই একটা বাক্য জীবনে তার অলিখিত আইন হয়ে দাঁড়ায়।
পুরুষ মানেই কি কাঁদতে নেই❗
কলমে: ঋতুপর্ণা রায়।
উপস্থাপনা: দূর্বা ব্যানার্জি।

25/12/2025

Happy Christmas 🔔

এক সময় Santa মানেই ছিল দূরের কোনো বিদেশি গল্প—তুষার ঢাকা দেশ, বড়দিন, ক্রিসমাস ট্রি আর এক অদ্ভুত লাল জামা পরা বুড়ো মানুষ। ভারতবর্ষের মতো গরম দেশ, যেখানে বরফ তো দূরের কথা, শীতও অনেক জায়গায় নামমাত্র—সেখানে Santa কীভাবে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল? কীভাবে সে আজ শুধু খ্রিস্টান সমাজেই নয়, প্রায় সব ধর্ম, সব শ্রেণির শিশুর পরিচিত মুখ? এই জনপ্রিয়তার পেছনে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, বাজার, আর মানুষের আবেগ—সবকিছুর মিলিত গল্প।

Santa-র মূল উৎস অবশ্যই পাশ্চাত্য দুনিয়া। ইউরোপ ও আমেরিকার খ্রিস্টান সংস্কৃতিতে বড়দিন মানেই ছিল আনন্দ আর উপহার। ব্রিটিশ শাসনামলে এই সংস্কৃতির প্রথম প্রবেশ ঘটে ভারতবর্ষে। কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, গোয়ার মতো শহরে বড়দিন পালন শুরু হয় চার্চকেন্দ্রিকভাবে। সেই সময় Santa ছিল মূলত চার্চ আর মিশনারি স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কিন্তু Santa শুধু ধর্মীয় চরিত্র হিসেবে ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়নি। তার জনপ্রিয়তার আসল কারণ—সে ধর্মের সীমা ভেঙে শিশুদের আনন্দের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। Santa কাউকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে না, জাত দেখে না, ভাষা বোঝে না—সে শুধু শিশুদের হাসি বোঝে। এই নিরপেক্ষতা ভারতীয় সমাজে Santa-কে দ্রুত গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

এরপর আসে ইংরেজি শিক্ষা ও মিশনারি স্কুলের প্রভাব। আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল দ্রুত বাড়তে থাকে। সেখানে বড়দিনে নাটক, গান, কার্ড বানানো, Santa সেজে উপহার দেওয়া—এসব শিশুদের জীবনের অংশ হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা Santa-কে আনন্দের সঙ্গে জুড়ে ফেলে। স্কুলের মাধ্যমে Santa ঢুকে পড়ে হাজার হাজার পরিবারের ঘরে।

তারপর এল মিডিয়া ও বিনোদনের যুগ। টেলিভিশন, বিদেশি সিনেমা, কার্টুন—সবখানেই Santa হাজির। বড়দিন এলেই টিভিতে দেখা যেত লাল জামা পরা Santa, “Ho Ho Ho” হাসি, আর উপহারের গল্প। ভারতীয় শিশুরা ভাষা না বুঝলেও ছবি বুঝত, হাসি বুঝত। Santa হয়ে উঠল কল্পনার বন্ধু।

নব্বইয়ের দশকের পর ভারতের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে Santa পেল এক নতুন পরিচয়—বাজারের তারকা। শপিং মল, ব্র্যান্ড, খেলনার দোকান, চকোলেট কোম্পানি—সবাই বুঝে গেল Santa মানে বিক্রি। ডিসেম্বর এলেই দোকানে দোকানে Santa-র টুপি, দাড়ি, গিফট প্যাক। মলগুলোতে Santa বসে ছবি তোলে, বাচ্চাদের হাতে চকোলেট দেয়। Santa তখন আর শুধু গল্পের চরিত্র নয়—সে বাস্তব অভিজ্ঞতা।

এখানেই Santa-র জনপ্রিয়তা ধর্মের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, জৈন—সব ঘরের শিশুই Santa-কে চিনতে শেখে। কারণ Santa কারও ঈশ্বর নয়, সে আনন্দের চরিত্র। ভারতীয় সংস্কৃতিতে যেমন মামা, ঠাকুরদা, দাদুর গল্পে উপহার দেওয়ার রীতি আছে—Santa সহজেই সেই জায়গা দখল করে নেয়।

আরেকটা বড় কারণ হলো—ভারতীয় বাবা-মায়ের আবেগ। বাবা-মায়েরা সবসময়ই সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চায়। Santa সেই হাসির সহজ মাধ্যম। ধর্মীয় জটিলতা ছাড়াই সন্তানের জন্য একটা উৎসব, একটা গল্প তৈরি করে দেওয়া যায়। Santa-র মাধ্যমে বাবা-মায়েরা নিজেরাই “উপহারদাতা” হয়ে ওঠে—যা শিশুমনে গভীর ছাপ ফেলে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে Santa-র ভারতীয় রূপও বদলেছে। কোথাও তাকে দেখা যায় গেরুয়া শাল জড়িয়ে, কোথাও আবার রিকশায় বসে উপহার বিলি করতে। কিছু জায়গায় Santa গরমে ঘেমে ওঠে, তবু হাসি থামে না। এই অভিযোজন ক্ষমতাই Santa-কে ভারতবর্ষে টিকিয়ে রেখেছে। সে বিদেশি হয়েও পুরোপুরি বিদেশি নয়—সে আমাদের মতো করেই বদলে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে Santa আরও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। রিল, ছবি, স্কুল প্রোগ্রাম, অফিস পার্টি—সবখানে Santa। কেউ ধর্মীয় দৃষ্টিতে দেখে না, দেখে উৎসবের দৃষ্টিতে। Santa এখন “সিজনাল হ্যাপিনেস”-এর প্রতীক।

তবে সবচেয়ে বড় সত্যটা হলো—Santa ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়েছে কারণ সে আমাদের নিজস্ব এক বাস্তবতার সঙ্গে মিলে গেছে। আমাদের সংস্কৃতিতে তো আগেই ছিল ত্যাগ, দান, আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ধারণা। Santa সেই চিরচেনা ভাবনাকেই একটু ভিন্ন পোশাকে হাজির করেছে।

সবশেষে বলা যায়—Santa ভারতবর্ষে ফেমাস হয়েছে ধর্মের জোরে নয়, ভালোবাসার জোরে। গল্পের জোরে নয়, হাসির জোরে। সে বিদেশ থেকে এলেও, ভারতীয় হৃদয়ে সে জায়গা করে নিয়েছে কারণ আমরা সবাই ভেতরে ভেতরে একটা শিশু—যে এখনো উপহারের অপেক্ষা করে, একটু আনন্দ চায়।

তাই আজ Santa শুধু বড়দিনের চরিত্র নয়—
সে হলো শৈশবের সার্বজনীন আনন্দের প্রতীক,
আর এই কারণেই Santa সারা ভারতবর্ষে এত ফেমাস।

কলমে সোমনাথ ব্যানার্জি।

৪০ বছরের পর নারীরা নিজেকে নতুন করে চিনতে শেখে—এই কথাটি কেবল একটি বয়সের সংখ্যা নয়, এটি একটি গভীর মানসিক ও আত্মিক পরিবর্...
24/12/2025

৪০ বছরের পর নারীরা নিজেকে নতুন করে চিনতে শেখে—এই কথাটি কেবল একটি বয়সের সংখ্যা নয়, এটি একটি গভীর মানসিক ও আত্মিক পরিবর্তনের গল্প। এই সময়টা কোনো হঠাৎ বিপ্লবের মতো আসে না; আসে ধীরে, নিঃশব্দে, অভিজ্ঞতার আলো হাতে নিয়ে। জীবনের এতগুলো বছর পার করে, দায়িত্ব, ত্যাগ, প্রাপ্তি আর বঞ্চনার ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময় নারী বুঝতে শেখে—নিজেকে হারিয়ে না ফেলে বদলে নেওয়াই আসল শক্তি।

৪০-এর আগে অধিকাংশ নারীই নিজের চেয়ে অন্যদের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেয়। মেয়ে হিসেবে বাবা-মায়ের আশা, স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রত্যাশা, মা হিসেবে সন্তানের চাহিদা—এই তিন পরিচয়ের ভারে নিজের নামটা কোথাও ঝাপসা হয়ে যায়। তখন হাসি থাকে, কিন্তু সেই হাসির অনেকটাই দায়িত্বের, অনেকটাই অভ্যাসের। নিজের পছন্দ-অপছন্দ, স্বপ্ন-ইচ্ছা—সবকিছু যেন তালিকার শেষদিকে পড়ে থাকে। তবু নারী এগিয়ে চলে, কারণ তাকে শেখানো হয়েছে—ত্যাগই নাকি তার সবচেয়ে বড় গুণ।

কিন্তু ৪০-এর কাছাকাছি এসে একটা প্রশ্ন ধীরে ধীরে মাথা তোলে—“আমি কে?” এই প্রশ্নটা হঠাৎ করেই আসে না। আসে ক্লান্তির ফাঁকে, আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে, অথবা গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর নিঃশব্দে। এই প্রশ্ন ভয় দেখায় না, বরং জাগিয়ে তোলে। নারী তখন বুঝতে শুরু করে—এতদিন যে জীবন সে বেঁচেছে, সেটি খারাপ ছিল না, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণও ছিল না।

এই সময় নারীরা বদলে যায়, কিন্তু ভেঙে পড়ে না। বদল মানে এখানে বিদ্রোহ নয়, বরং সচেতনতা। সে বুঝতে শেখে—সব দায়িত্ব তার একার কাঁধে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। “না” বলতে শেখে, অপরাধবোধ ছাড়াই। আগে যেখানে নিজের ইচ্ছাকে চেপে রেখে অন্যদের খুশি করাই ছিল সাফল্য, এখন সেখানে নিজের শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়াটাই হয়ে ওঠে প্রয়োজন।

৪০-এর পর নারীর হাসিটাও বদলে যায়। সেই হাসিতে আর জোর করে ভালো থাকার অভিনয় থাকে না। থাকে এক ধরনের স্বস্তি, এক ধরনের আত্মবিশ্বাস। সে জানে—সবাইকে সন্তুষ্ট করা তার কাজ নয়। যে তাকে বুঝতে চায় না, তার কাছে বারবার প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। এই উপলব্ধি নারীর ভেতরে এক আশ্চর্য শক্তি এনে দেয়।

এই বয়সে এসে নারী নিজের শরীরকেও নতুনভাবে গ্রহণ করতে শেখে। আর সে আগের মতো নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে না। সমাজের বানানো সৌন্দর্যের সংজ্ঞা তার কাছে গুরুত্ব হারায়। সে বুঝে যায়—তার শরীর তার জীবনের গল্প বহন করছে। প্রসবের দাগ, ক্লান্তির রেখা, সময়ের ছাপ—এসব কোনো দুর্বলতা নয়, বরং তার লড়াইয়ের সাক্ষী। এই গ্রহণযোগ্যতাই তাকে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে।

৪০-এর পর নারীরা সম্পর্ককেও নতুন চোখে দেখে। তারা আর অন্ধভাবে আঁকড়ে ধরে না। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে থাকার প্রয়োজন বোধ করে না। যেখানে ভালোবাসা আছে, সেখানে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেও থাকতে চায় না। সে জানে—সম্পর্ক মানে আত্মবিসর্জন নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া। এই উপলব্ধি অনেক নারীকেই নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জোগায়।

এই সময় অনেক নারী নিজের পুরোনো স্বপ্নগুলোর দিকে ফিরে তাকায়। যেগুলো একসময় সংসার, সমাজ আর দায়িত্বের চাপে চাপা পড়ে গিয়েছিল। কেউ নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে, কেউ কাজের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, কেউবা কেবল নিজের মতো করে বাঁচতে শেখে। এই পরিবর্তন বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তা এক বিশাল মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

৪০-এর পর নারীরা আর নিজেদের প্রমাণ করতে চায় না, বরং নিজেদের গ্রহণ করতে শেখে। তারা জানে—সবাই তাদের পছন্দ করবে না, সবাই বুঝবেও না। তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। এই নির্লিপ্তি আসলে উদাসীনতা নয়, বরং আত্মসম্মানের এক পরিণত রূপ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সময় নারীরা হারিয়ে যায় না। বদলে গেলেও তারা নিজেদের মূল সত্তাটাকে আঁকড়ে ধরে রাখে। তারা হাসে, কিন্তু সেই হাসি আর মুখোশ নয়। তারা মানিয়ে নেয়, কিন্তু নিজেকে মুছে ফেলে নয়। তারা নরম হয়, কিন্তু দুর্বল হয় না।

৪০-এর পর নারীর জীবন তাই শেষ অধ্যায় নয়, বরং এক নতুন শুরু। এই শুরুতে থাকে কম শব্দ, কম নাটক, কিন্তু অনেক বেশি গভীরতা। থাকে নিজের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্ব। আর সেই বন্ধুত্বই তাকে শেখায়—নিজেকে ভালোবাসা কোনো স্বার্থপরতা নয়, বরং বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

এই বয়সে এসে নারী বুঝে যায়—সে হারিয়ে যায়নি কোনোদিনই। শুধু অন্যদের জীবনের ভিড়ে নিজেকে কিছুদিন ভুলে গিয়েছিল। এখন সে নিজেকে আবার খুঁজে পেয়েছে। আর সেই খোঁজ পাওয়াই তার সবচেয়ে সুন্দর পরিবর্তন।
✒️Somnath Banerjee

#সম্পর্ক #পরিবার #ভালোবাসা #নারীরজীবন

“শীতের রোদ্দুরে ধুয়ে গেছে ব্যালকনির সকাল,টবের ভেতর ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন নীরব কবিতা।” “শীতের হালকা কাঁপুনিতে যখন জীবন থম...
22/12/2025

“শীতের রোদ্দুরে ধুয়ে গেছে ব্যালকনির সকাল,
টবের ভেতর ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন নীরব কবিতা।” “শীতের হালকা কাঁপুনিতে যখন জীবন থমকে যায়,
আমার ব্যালকনির ফুলগুলো তখন বাঁচার গল্প শোনায়।”
“সব ব্যস্ততার মাঝে ব্যালকনির বাগানটাই আমার ছোট্ট শান্তির দেশ।”

20/12/2025

নীরবতা, - এ কোন দুর্বলতা নয়। কিছু যু*দ্ধ আছে যা জিতে নিতে হয় চুপ থেকে 🤗
Script: Abedin Haque Aadi
Voice: Durba Banerjee.

নীলচে কুয়াশায় মোড়া শীতের সকাল—একটা অদ্ভুত শান্তি, একটা অনুভূতি, যেন পৃথিবী নিজের গতি কমিয়ে আমাদের একটু ধীরে চলতে শেখ...
19/12/2025

নীলচে কুয়াশায় মোড়া শীতের সকাল—একটা অদ্ভুত শান্তি, একটা অনুভূতি, যেন পৃথিবী নিজের গতি কমিয়ে আমাদের একটু ধীরে চলতে শেখায়। শীতের সকালের আনন্দ ঠিক এই ধীরগতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। যখন ভোরের আলো ধীরে ধীরে আকাশের কোণে জমে ওঠে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজতে শুরু করেছে। চোখে ঠাণ্ডা হাওয়ার ছোঁয়া, ঘ্রাণে মাটির স্নিগ্ধতা, আর কানে দূর থেকে ভেসে আসা পাখির ডাক—সব মিলিয়ে শীতের সকাল হয়ে ওঠে এক স্বর্গীয় অনুভূতি।

শীতের সকালে ঘুম ভাঙলে প্রথমেই যে জিনিসটা মনকে শান্ত করে, তা হলো জানালার ওপারকার কুয়াশা। মনে হয় কেউ তুলোর চাদর বিছিয়ে দিয়েছে পুরো পরিবেশে। এ সময়টা যেন নিজের সাথে নিজের একটা অন্তরঙ্গ আলাপের মুহূর্ত। বিছানার কম্বলের উষ্ণতা ছাড়তে মন চায় না, কিন্তু তারপরও জানলা খুলে সেই ঠাণ্ডা হাওয়া মুখে লাগার আনন্দ কিছুতেই ভোলা যায় না। শীতের সকালের সৌন্দর্য দেখার জন্য মানুষ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে—হয়তো হাতে একটা গরম চা, আর মনে হাজারো চিন্তার মেলা।

এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা বা কফির আনন্দ শীতের সকালে যেন দ্বিগুণ বেড়ে যায়। গরম কাপটা হাতে নিলে মনে হয় পুরো শরীরটাই একটু একটু করে উষ্ণ হয়ে উঠছে। চায়ের ধোঁয়ায় ঘর ভর্তি হয় শান্তির সুবাসে। অনেকেই এই সময়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সূর্যের প্রথম কিরণটা দেখেন। শীতের রোদ যেমন নরম, তেমন মায়াবী—যেন কারও স্নেহময় হাত আমাদের গায়ে পড়ছে। এই রোদে বসে কিছুক্ষণ কাটানো মানেই মনকে শান্ত করা, আত্মাকে রিচার্জ করা।

শীতের সকালের আরেকটা বিশেষ আনন্দ হলো নীরবতা। সারা দিনের ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগের এই সময়টা যেন প্রকৃতির প্রার্থনার মুহূর্ত। রাস্তাঘাট নিস্তব্ধ, মানুষের ভিড় নেই, গাড়ির শব্দ নেই—শুধু পাখির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ আর মাঝে মাঝে দূরের কোনো বাঁশির সুর। এই নীরবতার মাঝেই মানুষ নিজের ভাবনাগুলোকে পরিষ্কার করে, জীবনের ছন্দ নতুন করে গুছিয়ে নিতে পারে।

শীত মানেই খাবারের অতিরিক্ত টান। সকালের নাশতাও যেন হয়ে ওঠে আরও বিশেষ। গরম লুচি, সাবজি, খিচুড়ি বা পায়েস—যে যেটাই খায়, শীতের সকালে সেই গরম খাবারের স্বাদ আলাদা করে মন ছুঁয়ে যায়। ধোঁয়া ওঠা নাশতার প্লেট যেন গরম রোদের মতোই আত্মাকে উষ্ণতা দেয়।

এছাড়াও শীতের সকাল হাঁটার জন্য একদম উপযুক্ত সময়। অনেকেই এই সময় পার্কে হাঁটতে যায়, কেউ কেউ ব্যায়াম করে। কুয়াশার ভেতর দিয়ে হাঁটার একটা অদ্ভুত রোমান্স আছে—হাওয়া ঠাণ্ডা, তবুও শরীরকে সতেজ করে তোলে। যারা প্রকৃতিপ্রেমী, তাদের জন্য শীতের সকাল যেন উপহার।

সব মিলিয়ে, শীতের সকালের আনন্দ শুধু আবহাওয়ায় নয়—এটা অনুভূতির আনন্দ। সেই নীরবতা, সেই আলো, সেই চায়ের ধোঁয়া, সেই রোদের উষ্ণতা—সব মিলিয়ে শীতের সকাল যেন জীবনের ছোট ছোট সুখগুলোকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে এই একটা সকাল আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সুখ খুব বড় কিছু নয়, বরং খুব ছোট ছোট মুহূর্তগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
✒️Somnath Banerjee

14/12/2025

আপনি হাসিমুখে নিজের কষ্ট গুলো লুকিয়ে সবকিছু manage করছেন না তো! নিজের সব শখ, আহ্লাদ, অনুভূতিগুলো হারিয়ে ফেলছেন না তো! আপনি যতটা সহ্য করতে পারেন মানুষ ততটাই আপনার কাঁধে চাপিয়ে দেবে। তাই 'নিজের জন্যও একটু বাঁচুন'।
কলমে: ঋতুপর্ণা রায়।
উপস্থাপনা: দূর্বা ব্যানার্জি।

10/12/2025

অপ*মান এটা এমন এক অ*স্ত্র যেটা অনেকেই ব্যবহার করে আপনাকে ভা*ঙার জন্য.... 😲
সংগৃহীত।
উপস্থাপনা: দূর্বা ব্যানার্জি।

03/12/2025

সেদিন মঞ্চ অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করলাম, কবি পিনাকী ঠাকুরের - রাতের ট্রেনে।

02/12/2025

আমার বাড়ীর জানালার ধারে মাটির টবে বসে আছে এক স্নেহময়ী মা–পাখি। চারদিকের কোলাহলকে উপেক্ষা করে সে আপন ধ্যানে সন্তানের দিকে ঝুঁকে আছে। পাতার ফাঁক গলে আসা নরম আলোয় দৃশ্যটি আরও শান্ত, আরও কোমল হয়ে ওঠে। সন্তানকে নিজের ডানার উষ্ণতায় আড়াল করে, মা পাখিটি সস্নেহে তার ছোট্টটির মুখে দানা তুলে দিচ্ছে— যেন পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা এক মুহূর্তে এই ক্ষুদ্র বাসায় এসে জমেছে।
মায়ের সেই যত্ন, সেই নিবিড় আদর দেখে মনে হয়— প্রকৃতি প্রতিদিনই আমাদের শেখায়, ভালোবাসার ভাষা সবচেয়ে সরল, সবচেয়ে পবিত্র। ❤️❤️❤️

সকাল মানেই শুধু দিনের শুরু নয়—সকাল মানেই নতুন আশার আলো, নতুন স্বপ্নের ডানা মেলবার সময়। প্রতিটি সকাল যেন প্রকৃতির একটি ...
01/12/2025

সকাল মানেই শুধু দিনের শুরু নয়—সকাল মানেই নতুন আশার আলো, নতুন স্বপ্নের ডানা মেলবার সময়। প্রতিটি সকাল যেন প্রকৃতির একটি নরম ছোঁয়া, যা আমাদের ক্লান্ত মনের ওপর আলতো করে হাত রেখে বলে— *“উঠে দাঁড়াও, আজও তোমার জন্য কিছু সুন্দর অপেক্ষা করছে।”*

শুভ সকাল তাই শুধু একটি শুভেচ্ছা নয়; এটি অনুভূতির একটি নীরব ভাষা, যা শব্দের চাইতে অনেক গভীর। যখন কেউ আমাদের শুভ সকাল জানায়, তখন মনে হয় পৃথিবী একটু বেশি কোমল হয়ে গেছে, একটু বেশি কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই ছোট্ট বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে যত্ন, ভালোবাসা আর নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা।

সকালের প্রথম আলো যখন জানলার ধারে এসে পড়ে, তখন মনে হয় জীবনের সব অন্ধকার ভেদ করে যেন আলো আমাদের ডাকছে। গতকালের ক্লান্তি, দুঃখ কিংবা অপূর্ণতাগুলো সেই আলোয় গলে যায়। নতুন দিনের স্বপ্নগুলো আবার বুক ভরে ওঠে। প্রতিটি সকাল আমাদের শেখায়—
**“যা হারিয়েছ, তা নয়; যা পেতে পারো, সেই আশা নিয়েই শুরু কর।”**

সকালের হাওয়ায় যে সতেজতা থাকে, তা শুধু দেহ নয়, মনকেও জাগিয়ে তোলে। প্রতিটি পাখির ডাক যেন মনে করিয়ে দেয়, জীবন এখনো অনেক সুন্দর, অনেক রঙিন। চায়ের কাপ হাতে বসে থাকা একটি নীরব মুহূর্তও কখনো এতটা শান্তি দেয়, যেন পুরো পৃথিবী সেদিন আমাদের মতোই একটু থেমে গেছে প্রশান্তিতে।

শুভ সকাল বলার মধ্যে একটি অদ্ভুত শক্তি আছে। এই দুই শব্দ কারও পুরো দিনের মেজাজ বদলে দিতে পারে। হয়তো সে মানুষটি সমস্যার ভিড়ে ডুবে আছে, হয়তো মন খারাপ নিয়ে লড়ছে—তবুও একটি যত্নভরা শুভ সকাল তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে যে কেউ আছে, যে তার দিনের শুরুটা সুন্দর হোক এই কামনা করে।

কখনো কখনো মনে হয়, সকাল নিজের মধ্যেই এক ধরনের ভালোবাসা ধরে রাখে। মাটির গন্ধ, পানির শব্দ, রোদ্দুরের উষ্ণতা—সব মিলিয়ে সকাল আমাদের জীবনের প্রতি আবার নতুন করে প্রেমে পড়িয়ে দেয়। আমরা যাদের ভালোবাসি তাদের প্রতি শুভ সকাল জানানো মানে, আমাদের হৃদয়ের শুভ কামনাগুলোকে নরমভাবে পৌঁছে দেওয়া।

আর যাদের সকাল ভালো যায়, তাদের পুরো দিনটাই অন্য রকম হয়ে ওঠে। মনের ভালোলাগা কাজের সাফল্যে, সম্পর্কের মধুরতায়, আর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসে রূপ নেয়। তাই প্রতিটি সকালকে ধরে রাখা উচিত, অনুভব করা উচিত।

আজকের সকালও যেন তোমার জীবনে এনে দেয় নতুন আলো, নতুন শক্তি আর অনেকটা শান্তি।
যা কিছু গতকালকে ভারী করেছিল, তা আজকের আলোয় মুছে যাক।
যা কিছু সামনে আছে, তা হোক উজ্জ্বল, সহজ আর আনন্দময়।

শুভ সকাল — তোমার দিনের প্রতিটি মুহূর্ত হোক আলোয় ভরা, ভালোবাসায় মিষ্টি, আর আশীর্বাদে।
✒️সোমনাথ ব্যানার্জি।।।

Address

Durgapur
713214

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when স্বপ্নপূরণ_দূর্বা ব্যানার্জি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share