28/12/2025
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে কেউ যদি ২৫০ টাকার মশারী আর ৪০০ টাকার তোশকে রাতে ঘুমায়—
তাহলে প্রশ্ন তোলাটাই স্বাভাবিক এবং প্রশ্ন না তোলাই সন্দেহজনক। কারণ এই দেশে আমরা দেখেছি বালিশ, পর্দা, কলাগাছ, এমনকি উন্নয়নের নামেও হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে—সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি, জবাবদিহি হয়নি, ঠিকমতো প্রচারও হয়নি। আজ পর্যন্ত বিদেশে পাচার করা ২৮ লক্ষ কোটি টাকার পাঁচ লাখ কোটি টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি!!!উল্টো সবাই ছিল সেগুলো ঢাকতে ব্যস্ত আর এখন? হঠাৎ করে নৈতিকতার জোয়ার! কী আশ্চর্য সময়! যে জুলাই যোদ্ধারা এই সময় নিয়ে এসেছে সেই সময়েই এই কাজগুলো হচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই একটা পরিকল্পিত বয়ান তৈরি হচ্ছে—এই আন্দোলন নাকি কলুষিত, এই আন্দোলনের মুখগুলো নাকি চাঁদাবাজ, নাটকবাজ, সুযোগসন্ধানী আর এই বয়ান তৈরি করছে কারা??? তারাই যারা এতদিন ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ছিল, যারা আজও তার পা চাটতে লজ্জা পায় না। জুলাইকে কালিমালিপ্ত করলেই যেন সব অপরাধ ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে—এই হলো তাদের হিসাব।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, একজন সুস্থ মানুষের মতো প্রশ্ন করি—এই মেয়েটি কি সত্যিই ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে? নাকি এই ৫০ কোটি হচ্ছে একটি সুবিধাজনক সংখ্যা—যেটা শুনলেই মানুষ চুপ করে যাবে? মামলা হয়েছে, অভিযোগ উঠেছে—ঠিক আছে। কিন্তু অভিযোগ মানেই কি অপরাধ প্রমাণ? এখনো পর্যন্ত কোথাও কি প্রমাণ হয়েছে যে, এই মেয়েটার ব্যক্তিগত দখলে ৫০ কোটি টাকা ছিল, আছে, বা উদ্ধার হয়েছে? কোনো ব্যাংক হিসাব? কোনো সম্পদের তালিকা? কিছুই নেই।
আর যে গল্প শোনানো হচ্ছে—একজন সাংবাদিক নাকি তাকে ২.৫ কোটি টাকা দিয়েছে—এটা কি রম্যকাহিনি, নাকি রাষ্ট্রের ভাষ্য? কোন সাংবাদিক? কোন মিডিয়া হাউস? কোন চুক্তিতে? ক্যাশ না ব্যাংকে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে যদি শুধু সংখ্যা ছুড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা বিচার নয়—সেটা হচ্ছে character assassination
হ্যাঁ, মেয়েটা নাটক করে। হ্যাঁ, সে পাকনামি করে। হ্যাঁ, অনেক সময় বেয়াদবীও করে কিন্তু রাজনীতিতে বেয়াদবরা কবে থেকে সবচেয়ে বড় অপরাধী হয়ে গেল? এই দেশে যারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছে, নির্বাচনী ডাকাতি করেছে, মানুষ গুম করেছে—তারা সবাই কি খুব ভদ্র ছিল? তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা হচ্ছে সে নিয়ন্ত্রিত না সে অনুগত না সে বয়ান মেনে চলে না।
বাস্তবতা হলো—মেয়েটির বাসায় ২.৫ কোটি টাকা তো দূরের কথা, আদৌ ২.৫ লাখ টাকা আছে কিনা, সেটাই যুক্তিসংগত সন্দেহের বিষয়। কিন্তু এই দেশে যুক্তি নয়, চলে গল্প। গল্প বানানো হয়, গল্প ছড়ানো হয়, আর সেই গল্প দিয়েই মানুষকে দোষী বানিয়ে ফেলা হয়!!
আজ তাকে বানানো হচ্ছে ৫০ কোটির চাঁদাবাজ। কাল আরেকজনকে বানানো হবে রাষ্ট্রদ্রোহী। পরশু কাউকে বানানো হবে বিদেশি এজেন্ট। এই প্যাটার্ন নতুন নয়—এই প্যাটার্নই ফ্যাসিবাদের অক্সিজেন।
তাই প্রশ্নটা খুব সোজা—আমরা কি প্রমাণ চাই, নাকি বয়ানেই সন্তুষ্ট? আমরা কি বিচার চাই, নাকি শুধু শিকার চাই?
আবেগে নয়, প্রতিহিংসায় নয়—একবার অন্তত বিবেক দিয়ে ভাবুন। কারণ আজ যে নাটকটা আপনার পছন্দ হচ্ছে, কাল সেটার দর্শক আপনি নিজেই হতে পারেন।
বিপ্লবীদের খেয়ে ফেলার চেষ্টা করতেছে একটি মহল।