31/01/2025
“বইমেলা ২০২৫: পান্ডুলিপির পূর্ব-পুলিশী তদারকি ও বাংলা একাডেমির বুদ্ধিবৃত্তিক পঞ্চায়েত বিষয়ে জ্বালাময়ী কালোপুটুর শব্দগুলো:
প্রিয় লেখকগণ,
আপনারা কি জানতেন যে, আপনাদের সৃজনশীল চিন্তা এখন থেকে কেবল আপনাদের একার সম্পত্তি নয়? না, এটি কোনো সাহিত্যিক আন্দোলনের নতুন ধারা নয়। এটি সরকার-অনুমোদিত ‘পুলিশি সাহিত্য পরিদর্শন কমিটি’ এবং ‘বাংলা একাডেমির মহান চিন্তাবিদগণের’ দয়ার ফল!
এখন থেকে একুশে বইমেলায় বই প্রকাশ করতে চাইলে আপনাকে প্রথমেই পুলিশ ও বাংলা একাডেমির বোর্ডের কাছে পান্ডুলিপি জমা দিতে হবে। কারণ, আপনি যে কোনো সময় সমাজব্যবস্থার জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন! আপনি হয়তো কবিতার ছদ্মবেশে বিপ্লবের বীজ বুনছেন, গল্পের আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রাখছেন, বা উপন্যাসের মাঝে চেতনাবিরোধী ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন!
তাই, বই প্রকাশের আগে এই দুই মহান প্রতিষ্ঠান আপনার পান্ডুলিপির ন্যাড়া মুন্ডুটা ভালোভাবে ছেঁটে ফেলবে। যদি তারা মনে করে, আপনার গল্পে ‘বিপজ্জনক’ শব্দ আছে, তাহলে তা বিনয়ের সাথে ফেলে দেওয়া হবে। কবিতায় ‘অযথা’ রূপক থাকলে তা ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থে’ সংশোধন করা হবে। আর উপন্যাস যদি বেশি গভীর হয়ে যায়, তবে তার সমুদ্রে ডুব দেওয়ার অনুমতি থাকছে না—তাকে টুকরো টুকরো করে নিরাপদ কূলে তুলে আনা হবে!
তবে ভয়ের কিছু নেই! আপনি যদি রোমান্টিক কবিতা লেখেন, যেখানে প্রেমিকা কেবল বর্ষার রাতে জানালায় দাঁড়িয়ে থাকে, বা যদি গল্পে কেবল নিঃস্ব জনের কান্না থাকে—তবে পুলিশ ও একাডেমি উভয়েই খুশি হবে। শুধু সাবধান! কোনো চরিত্র যেন "অতি চিন্তাশীল" না হয়, সমাজের কোনো অসঙ্গতি যেন চোখে না পড়ে, আর কোনোভাবেই যেন গল্পের শেষে পাঠকের মনে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ প্রশ্ন না আসে!
আরও একটি সুখবর! শিগগিরই ‘পুলিশি সাহিত্য পুরস্কার’ চালু হতে পারে, যেখানে সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ বইগুলো স্বীকৃতি পাবে। বিচারকদের তালিকায় থাকবেন অভিজ্ঞ গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সচেতন সমাজসেবী, এবং অবশ্যই বাংলা একাডেমির দার্শনিক চেতনার মূর্ত প্রতীকগণ!
এখন লেখক সমাজের জন্য দুটো পথ খোলা—
১. সাহিত্যের নামে ‘স্বীকৃত’ ঘুমপাড়ানি গল্প লিখে রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
২. লেখার পরিবর্তে পুলিশি রিভিউ বোর্ডে চাকরির আবেদন করা, কারণ তারা এখন সাহিত্য বিশ্লেষণের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ!
সুতরাং, আসুন, আমরা সবাই ‘নিরাপদ সাহিত্যিক’ হই! ভাবনার দরজা বন্ধ করে ‘অনুমোদিত’ কলম হাতে নেই! কারণ, ‘ভুল’ লিখলে বইমেলায় যাওয়ার দরকার নেই—ততক্ষণে আপনি অন্য কোথাও আমন্ত্রিত হয়ে যেতে পারেন!”
-Tanvir Ratul