27/10/2025
মেট্রোরেলে ব্যবহৃত ৭০-৮০ কেজি ওজনের বিয়ারিং খুলে গিয়ে, ছুটে এসে পড়ে লোকটার মাথায়। তাৎক্ষণিক স্পটেই সে মারা যায়😭😭
========================================
লোকটা মেট্রোরেলের পাশের ফুটপাতে বসে চা খাচ্ছিল। কল্পনাতেও তিনি ভাবতে পারেননি যে, ওই এক কাপ চা শেষ হওয়ার আগেই, বের হয়ে যাবে তার প্রাণবায়ু।
চা তখনও শেষই হলো না। মেট্রোরেলে ব্যবহৃত বিয়ারিং প্যাড, যেগুলো কম্পন রোধ করা বা কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, এমন একটা বিয়ারিং প্যাড খুলে গিয়ে, ছুটে এসে পড়ে লোকটার মাথায়।
একটা বিয়ারিং প্যাডের ওজন কতো জানেন? ৭০-৮০ কেজির মতো।
হয়তো-বা ঘরে ফিরছিল বেচারা। ঘরে হয়তো অপেক্ষা করে ছিল তার মা-বা, স্ত্রী আর সন্তানেরা। তাদের এই অপেক্ষা আর কোনোদিন শেষ হবে না!
আচ্ছা, আমাকে বলতে পারেন কেউ, এই ঢাকা শহর, এবং এই দেশটা এতো অনিরাপদ কেন? মৃত্যু তো স্বাভাবিক ব্যাপারই। কিন্তু এভাবে, এই দেশে কেন ইট খুলে এসে, মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড খুলে এসে, গার্মেন্টসে আগুন লেগে এতো হাজারে হাজারে মানুষেরা মারা যাবে?
মেট্রো পিলারে এই যে কম্পনরোধী এতো ভারি ওজনের বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হলো, মেট্রোর নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা কি জানেন না—এই প্যাডগুলো খুলে পড়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়? নিশ্চয় জানেন। এটা তো রকেট সায়েন্স না। জানার পরেও, কেন তারা রেগুলার বেইসিসে, প্রত্যেকদিন মেট্রো চালু হওয়ার আগে এইসব জিনিস চেক, ক্রসচেক করে সেইফটি এনশিউর করে মেট্রো চালু করেন না, যেভাবে একটা বিমানের ১০০ ভাগ সেইফটি মেজারমেন্ট এনশিউর করে বিমান উড্ডয়ন করে? কেন প্রত্যেকটা বিয়ারিং প্যাডকে ক্লোজ সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়নি?
কোনদিন, ঠিক কোনদিন এই দেশে আমরা একটু নিরাপদে হাঁটতে পারব? কোনদিন আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে—বাইরে বেরুলে একটা গাড়ি এসে আমাকে পিষে দিয়ে যাবে না, মাথায় একটা ইট এসে পড়বে না, মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড এসে থেঁতলে দিয়ে যাবে না?
ঢাকা শহরটা বড্ড অবিশ্বাসের শহর হয়ে পড়েছে। - লেখা আরিফ আজাদ।