Travel With Rimon

Travel With Rimon Exploring the Nature, capturing and sharing.

02/07/2024

রিমনের পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণ || ২য় দিনঃ (১০ অক্টোবর ২০২০)

29/06/2024

রিমনের পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণ || ১ম দিনঃ (৯ অক্টোবর ২০২০)

Shaiful Islam Shanto  ভাই একজন হাইকার। সে অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানুষ। সে  #পায়ে_হেঁটে_৬৪_জেলা_ভ্রমণ করছেন। সে গত ৩...
06/03/2022

Shaiful Islam Shanto ভাই একজন হাইকার। সে অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানুষ। সে #পায়ে_হেঁটে_৬৪_জেলা_ভ্রমণ করছেন। সে গত ৩-২-২০২২ আমার জেলা #যশোরে আসছিলেন। রাতে আমার বাসায় তাকে রেখেছিলাম। অনেক ভালো মনের মানুষ সে। রাতে তার সাথে কথা বলে তার রুট দেখে নিলাম। সকালে সে #কেশবপুর উপজেলা পর্যন্ত যাবে। সেখানে আমার নানা বাসা। তাই তার সাথে কেশবপুর উপজেলা পর্যন্ত যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।আমি এক বছরের বেশি সময় কোনো রকম হাটাহাটি করিনি। শরীর ভাড়ি হয়ে গেছে। এর মধ্যে আমার হাইকিং এর স্যান্ডেল বের করে দেখি সেটাও পড়ার মত অবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে চামড়ার স্যান্ডেল পড়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তার পর ৪ তারিখ সকালে তাকে সাথে করে #বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগা রাস্তার মোড়ে গেলাম। গতদিন সে ওখানে শেষ করেছিল। ধলগা রাস্তার মোড় থেকে শুরু করলাম আমাদের হাইকিং। গল্প করতে করতে ভালোই সময় যাচ্ছিলো। দুপুরে #রূপদিয়া বাজারে লাঞ্চ সেড়ে নিলাম। তারপর আবারও #হাইকিং শুরু করলাম বেশ কিছু দূর হাঁটার পরে আমার ডিহাইড্রেশন এর সিন্ট্রম দেখা দিলো। আমি থেমে গেলাম। কিন্তু সে আমার কথা ভেবে ৫ মিনিট থেমে গেলো। তারপর আমার স্বারিরিক অবস্থা খারাপ থাকায় আমি একটা ভ্যানে চড়ে ৬ কিমি পথ আগে চলে গিয়ে একটা চায়ের দোকানে রেস্ট নিলাম। এর মধ্যে সে চলে আসলো।আমি তাকে হাটতে থাকতে বললাম। আমি আরও কিছু সময় রেস্ট নিয়ে আবারও হাটা শুরু করে মনিরামপুর বাজারে গিয়ে তাকে পেলাম। এর পর এক সাথে অনেক দূর হাটার পরে আমার প্রচুর #ক্ষুধা লাগলো আমি হালকা নাস্তা করলাম। কিন্তু শান্ত ভাই পানি ছাড়া কিছুই খেলো না। এর পর লাউড়ি মোড়ে গিয়ে আমার পা আর হাটতে চাইলো না।৪০ কিমি টোটাল হাঁটলো শান্ত ভাই। সে আরও ২০ কিমি হাটতে পারবে। আমি হেটেছি ৩৪ কিমি। যায় হোক আমি যখন হাইকিং করতাম ভোরে বের হতাম যাতে পথে দুই তিন ঘন্টা রেস্ট নিতে পারি। এক টানা হাটিনি। খুবই অবাক লাগলো শান্ত ভাই রে দেখে তার রেস্ট প্রয়োজন হয় না। তাকে আমি ক্লান্ত অনুভব করতে দেখিনি। তার নাস্তা খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। আসলেই সে আইরোন ম্যান। তার মত সিনিয়র একজন হাইকারের সাথে একদিন কাটালান। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তার পরামর্শ গুলো আমার আগামী হাইকিং এর সময় অনেক কাজে লাগবে।

 #কুমিল্লার সন্তান Saiful Islam Shanto  ভাই আমার মতো  #ভ্রমণ_প্রেমিক হাসি খুশি একজন মানুষ। কিন্তু সে ভ্রমণ দিষয়ে আমার থে...
03/03/2022

#কুমিল্লার সন্তান Saiful Islam Shanto ভাই আমার মতো #ভ্রমণ_প্রেমিক হাসি খুশি একজন মানুষ। কিন্তু সে ভ্রমণ দিষয়ে আমার থেকে অভিজ্ঞ। তিনি #পায়ে_হেঁটে_৬৪_জেলা_ভ্রমণ করার উদ্দেশ্যে #ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে আজ জেলা #যশোরে এসে পৌছান। আগে থেকে আমার তাকে দাওয়াত দিয়ে রাখা ছিল। তিনি আমার দাওয়াত কবুল করেন এবং আমার বাসায় রাত্রি যাপন করছেন। আগামীকাল আমি একদিনের জন্য তার ভ্রমণ পথের সাথী হবো ইনশাআল্লাহ। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন তিনি যাতে বাকি জেলা গুলো দ্রুত শেষ করে সুস্থ ভাবে বাবা,মা এর কাছে ফিরে যেতে পারেন।

26/02/2022
 ্ব /  িনঃ১৭-১১-২০২০ গতকাল ১৬-১১-২০২০ আমি ভোরে উঠতে পারিনি। মোবাইলে এলার্ম দিয়া ছিল তার পরেও কিছুই শুনতে পাইনি। যখন ঘুম ...
24/12/2021

্ব / িনঃ
১৭-১১-২০২০

গতকাল ১৬-১১-২০২০ আমি ভোরে উঠতে পারিনি। মোবাইলে এলার্ম দিয়া ছিল তার পরেও কিছুই শুনতে পাইনি। যখন ঘুম ভাংলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সকাল ১০ টা বেজে ১৭ মিনিট। কি আর করার উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে গেলাম। খুব ক্ষুধা পেয়েছিল একটা হোটেলে নাস্তা করলাম। তারপর রুমে এসে বিশ্রাম নিয়ে আবারও ১ টার দিকে গিয়ে একটা হোটেল থেকে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে রুমে এসে ঘুমালাম। সন্ধ্যায় উঠে আসপাশে হাটা চলা করে একবারে রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে ফেসবুকে ঢুকলাম। রাতে কুষ্টিয়ার Hasan Imam নামের এক ভাই আমাকে ফেসবুকে ম্যাসেজ করেন যে সে আমার সাথে অনেকটা পথ হাটবে।আমি তাকে #স্বাগতম জানালাম।

১৭-১১-২০২০
সকালে ঘুম থেকে উঠে হাসান ভাই এর সাথে যোগাযোগ করলাম তারপর আমরা পাচ রাস্তার মোড়ে মিট করলাম। পরিচয় পর্ব শেষ করে দুইজনে চা খেয়ে হাটা শুরু করলাম। হাসান ইমাম ভাই অনেক #অভিজ্ঞ মানুষ। সে আগেও #হাইকিং করেছে। প্রথমে আমরা কিছু দূর হেটে রেইল লাইন ধরে হাটা শুরু করে #লালন_শাহের_মাজারে গেলাম সেখানে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে একটা চায়ের দোকানে ঢুকে হালকা নাস্তা করে আবারও হাটা শুরু করলাম।কিছুটা পথ রেইল লাইন ধরে হেটে #ঢাকা-কুষ্টিয়া_মহাসড়ক দিয়ে হাটা শুরু করলাম। #মীর_মশাররফ_হোসেন সেতুর কিছুটা আগে আমরা কিছু সময় আর একজন ভাই এর জন্য অপেক্ষা করলাম।হাসান ইমাম ভাই এর এক ছোট ভাই #বাহাদুর ভাই। অল্প সময়ের মধ্যে সে আমাদের সাথে যোগ দিলেন।সে তার জীবনে প্রথম এতোটা পথ হাটবে। তারপর আমরা গল্পে গল্পে সেতু পার হয়ে #আলাউদ্দিন_মোড় থেকে বায়ে কিছুটা সামনে গিয়ে একটা চায়ের দোকানে চা খেলাম। তারপর আবার হাঁটতে হাঁটতে #বিশ্বকবি_রবীন্দ্রনাথ_ঠাকুরের #জন্মস্থান #শিলায়দাহে #কুঠি_বাড়িতে গেলাম। মাঝ পথে আমরা তিন জনে খুব মজা করলাম। মাত্র কয়েক ঘন্টার পরিচয় আমাদের। কিন্তু মনে হল অনেক দিনের বন্ধুত্ব। গল্প করতে করতে হাসান ইমাম ভাই তার একটা বড় অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন। #হাইকিং এর জগতের সবথেকে #অভিজ্ঞ একজন ভাই #বাবর_আলী ভাই আমাদের বড় ভাই তিনি েলা_ভ্রমণ এর সময় যখন #কুষ্টিয়ায় এসেছিলেন তখন হাসান ইমাম ভাই তারও #ভ্রমণ_সাথী হয়েছিলেন। হাসান ইমাম ভাই আমাদের দুপুরের লাঞ্চ করালেন। #কুঠি_বাড়ি ঘুড়ে আমরা #পদ্মার পাড়ে গেলাম। আমি তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে #নৌকায় উঠলাম। বিদায় বেলায় হাসান ইমাম ভাই আমাকে কিছু #উপহার দিলেন। আর আমাকে এক বক্স #চকলেট দিলেন িশুদের দেওয়ার জন্য। তাদের বিদায় নিতে খারাপ লাগছিলো। যেতে দিতে নাহি চাই, তবু যেতে হয়। অনেক অনেক #ধন্যবাদ #হাসান_ইমাম ভাই এর #বাহাদুর ভাইকে আমার ভ্রমণ পথের #সাথী হওয়ার জন্য, এমন একটা সুন্দর মূহুর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ও তার দেওয়া সুন্দর #উপহারের জন্য। অনেক অনেক শুভকামনা রইল আপনাদের প্রতি। বাকি পথটা একাই হাঁটতে হল। #নদী পার হয়ে পাবনা বড় বাজার রোড ধরে হাঁটতে থাকলাম। #চেয়ারম্যান_মোড় হয়ে #গোবিন্দপুর হয়ে #কোমরপুর_বাজারে গিয়ে একটা চায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতে #ফেসবুক অন করলাম। আগে আমি পাবনার কয়েকটি গ্রুপে পোস্ট করেছিলাম। সেখান থেকে তিন জন আমাকে দাওয়াত দিছিলো তার মধ্যে দুই জন আমার রাতে থাকার ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বস্ত করেছিল। আমি তিন জনের কাছে ফোন করলাম এবং আমি আমার অবস্থান তাদেরকে জানালাম। তারা একই কথা বলল যে শহরে এসে ফোন দিয়েন আমরা অপেক্ষায় আছি। তারপর আমি আবার হাটা শুরু করলাম। হেঁটে #দ্বীপচর_বাজার হয়ে #পাবনা_সিটি_বাইপাস হয়ে #পাবনা_শহরে পৌছালাম। এরপর তিন জনকে ফোন করলাম। প্রথমজন উত্তর দিলো আমি শহরের বাইরে চলে এসেছি যদি কোন সমস্যা মনে হয় আমার সাথে যোগাযোগ করেন। দ্বিতীয়জন ফোন ধরলো না। অনেক বার ফোন করলাম রিসিভ করলো না। তৃতীয়জন উত্তর দিলো আমার বাসা শহরের বাহিরে এখন দেখা করা সম্ভব না। আমি খুবই ক্লান্ত ছিলাম একটা হোটেলে ঢুকে রাতের খাবার সেড়ে নিলাম। এরপর এটা আবাসিক হোটেলের সন্ধান করার জন্য বের হলাম ঠিক তখনই সোহেল রানা নামের এক ভাই আমাকে কল দিলেন সে বর্তমানে পাবনাতে নাই। তার কাছের এক ছোট ভাই সম্রাট ভাই এর সাথে আমার ফোনে কন্ট্রাক করায় দিলেন। রাতে সম্রাট ভাই এর কাছে থেকে গেলাম। #সোহেল_রানা ভাই আর #সম্রাট ভাই এর প্রতি রইল অনেক #ধন্যবাদ ও #শুভকামনা। আমকে সাহায্য করার জন্য। আজকে সব মিলিয়ে ভালো খারাপ দুই রকম অভিজ্ঞতা হলো। রাত্রে সম্রাট ভাইয়ের সাথে খাওয়া-দাওয়া সেরে কিছু সময় আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

 ্ব /  #৪র্থ_দিনঃ১৫-১১-২০২০ ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আংকেলের সাথে নাস্তা করতে করতে  কিছু সময় গল্প করলাম। তিনি আমাকে ...
23/12/2021

্ব / #৪র্থ_দিনঃ
১৫-১১-২০২০

ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আংকেলের সাথে নাস্তা করতে করতে কিছু সময় গল্প করলাম। তিনি আমাকে উপহার স্বরূপ কিছু টাকা দিলেন। তারপর তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে #গাংনী বাস স্টান্ড থেকে হাটা শুরু করি।আমার দেখা যতগুলো উপজেলা আছে তার মধ্যে #গাংনী_পরিষ্কার_পরিচ্ছন্ন_উপজেলা। হাঁটতে হাঁটতে #কুষ্টিয়া_মেহেরপুর হাইওয়ে ধরে #জোড়পুকুরিয়া_বাজারে পৌছালাম। সেখানে একটা হোটেলে লুচি দেখে ঢুকে পড়লাম। লুচি আর মিষ্টি খেয়ে আবার হাটা শুরু করলাম। রাস্তার অবস্থা খুব একটা সুবিধার না। অনেক ভাঙাচোরা ও সরু। অনেক বড় বড় গাড়ি চলে রাস্তায়। পথচারীদের হাঁটার মতো জায়গা নেই রাস্তার পাশে। বড়ো গাড়ি সাইট দিয়ে দিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে #তেরাইল_জোড়পুকুরিয়া_ডিগ্রী_কলেজের সামনে এসে একটা গাছের নিচে বসে কিছু সময় বিশ্রাম নিলাম। সেখানে একজন মধ্যবয়সী কৃষক আসলো এবং সে তার সহজ সরল মনে আমাকে জিজ্ঞেস করলো তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি খুব ক্লান্ত তুমিতো এই গ্রামের লোক না। কার বাসায় বেড়াতে এসেছো? আমি তাকে সব কিছু বললাম।কিন্তু সে বিশ্বাস করলো না। সে আমার পাসে এসে বসে একটা বিড়ি ধরালো আর বললো আমি লেখা পড়া জানিনা তোমার গেঞ্জিতে যা লেখা আছে পড়ে শুনায়। আমি পড়ে শুনালাম। তার পরে সে আমাকে বললো আমি বুঝতে পারছি তুমি #গোয়েন্দার লোক। তদন্ত করতে এসেছো। আমার অনেক কাজ আছে আমি গেলাম। তুমি সাবধানে থেকো। জমানা ভালো না। সে আর আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগে না দিয়ে দ্রুত উঠে চলে গেলো। আমি কিছু সময় বসে আবারও হাটা শুরু করলাম। #তেরাইল_বাজার পার হয়ে হাটতে হাটতে এক অজানা নদীর সেতু পার হয়ে কিছুটা সামনে গিয়ে একটা বড় #দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেলাম। একটা ট্রাক পেছন থেকে এসে প্রায় আমার গা ঘেসে চলে গেলো। আমার সাইটে সামান্য একটু যায়গা ছিল। একেবারে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলাম আল্লাহর ইচ্ছায়।তারপর হাঁটতে হাঁটতে #বামুন্দি_বাজারে গিয়ে একটা ছোট হোটেলে মুরগির মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার সেরে আবার হাটা শুরু করে #মেহেরপুর_কুষ্টিয়া হাইওয়ে পথ ধরে #মিরপুর বাস স্টান্ড হয়ে #নোয়াপাড়া_বাজার পৌঁছায়ে হাটা বাদ দিলাম। কিছুই করার ছিল না। এতো অন্ধকার আবার রাস্তার সাইডে যায়গা নেই হাটার জন্য। দূরত্ব ছিল ৪৪ কিঃ মিঃ। ্বে এতো পথ কয়েক বার হেটেছি। কিন্তু আজকের মতো কষ্ট আগে কখনো হয়নি। কারণ হাইওয়ে রাস্তা অনেক গাড়ি চলে সেই তুলনায় রাস্তা সরু। তারপরে আবার সাইডে যায়গা নেই। কয়েক বার #দুর্ঘটনার হাত থেকে বাচিছি। রাতে সি এন জি করে #কুষ্টিয়া_সদরে এসে একটা হোটেলে উঠলাম। ফ্রেশ হয়ে বাইরে কিছু সময় হাঁটাচলা করে খাবার খেয়ে রুমে চলে আসলাম।

#বিশেষ_দ্রষ্টব্যঃ যারা বাস বা ট্রাক চালোক তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই দয়া করে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাবেন না। সবার জীবণের মূল্য আছে। আপনার মা,বাবা,ভাই, বোন,সহধর্মিণী ও সন্তানরাও রাস্তায় চলাচল করে। এটা মনে করে গাড়ি চালাবেন।

 ্ড /  িনঃ ১৩-১১-২০২০ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে Ttcm Saddam  মামার কাছথেকে বিদায় নিয়ে হাটা শুরু করলাম মেইন রাস্তা ধরে হাটলা...
21/12/2021

্ড / িনঃ
১৩-১১-২০২০

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে Ttcm Saddam মামার কাছথেকে বিদায় নিয়ে হাটা শুরু করলাম মেইন রাস্তা ধরে হাটলাম। রোদের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। পথে তেমন বড় গাছপালা না থাকায় অতিরিক্ত গরম লাগছিল। প্রায় ১০ কিঃ মিঃ পথ পাড়ি দেওয়ার পরে কুকুর বাহিনীর খপ্পরে পড়ে ছিলাম। এক পথচারী ভাই এর সাহায্যে বাঁচলাম। রাস্তার ধারে একটা কাঠের গুড়ি দেখে সেখানে বসে কিছু সময় জিড়িয়ে নিলাম। তারপর আবার হাটা শুরু করে #নারায়ণপুর বাজারে গিয়ে জুম্মার নামাজ পড়লাম। এইদিকে পেট আর ক্ষুধা সহ্য করতে পারছিল না। কাছাকাছি একটা হোটেলে ঢুকলাম। শুক্রবার বলে কথা মাংস না হলে জমে না। কিন্তু হোটেলে মাংস দেখে ক্ষেতে মন চাইলো না। তাই বাদ্ধ হয়ে ডিম ঝোল দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার হাটা শুরু করলাম। #নারায়ণপুর বাজার ও #বদরগঞ্জ বাজার এর মাঝখানে একটা ছোট বাজার আছে। সেখানে কিছু ডিবি পুলিশ মটর বাইক থামিয়ে চেক করছে। আমি হেটে যাওয়ার সময় তারা সন্দেহ বসত আমাকে থামালো। তারা আমার ঠিকানা আমার হাটার উদ্দেশ্য সব শুনলো। কিন্তু তারা আমার কথা বিশ্বাস না করে আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা নিল। তখন আমি তাদেরকে বললাম আমার জেলার প্রেসক্লাবের চিঠি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্ড আছে তারা গুরুত্ব দিলোনা। আমার পকেটে চেক করলো এবং আমার ব্যাগ এলোমেলো করল। আমি মেনে নিলাম। তারপর আমাকে ছেড়ে দিলো। তারপর #বদরগঞ্জ বাজারে পৌছালে আক মুরুব্বি আমাকে থামিয়ে আমার গেঞ্জির লেখা পড়ে আমার উদ্দেশ্য যানতে চাইলো। সব শুনে তিনি দোয়া করলেন আর আমাকে যোর করে এক কাপ চা আর বিস্কিট খাওয়ালেন। তিনি জানালেন তিনিও যোয়ান বয়সে #পায়ে_হেঁটে_ভ্রমণ করতেন। কিন্তু খুব বেশি পথ না। তার সাথে কিছু সময় গল্প করলাম। তারপর তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সে আমাকে বললো দ্রুত তোমার এই #ভ্রমণ শেষ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাও। আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পরলাম আমার গন্তব্যের উদ্দেশে। পায়ে সমস্যা হচ্ছিল তার পরেও থেমে যায়নি ঐ অবস্থায় অনেক দূর হেটে আমার গন্তব্য #চুয়াডাঙ্গায় পৌছালাম। তারপর #পৌরসভার পাশে একটা আবাসিক হোটেলের রুম নিলাম। তারপর ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের হলাম খাবারের সন্ধানে। খাইতে মন চাচ্ছিল না কিন্তু পেটে ক্ষুধা ছিল তাই একটা মংলায় আর এক কাপ চা খেয়ে রুমে ফিরে আসলাম। তারপর কিছু সময় #ফেসবুক চালায় ঘুমায়ে পড়লাম।
আফসোস থেকে গেলো মামার বাসা থেকে দ্রুত বের হওয়ার কারণে মামার সাথে আমার ছবি তোলা হলো না।

 #দ্বিতীয়_খন্ডঃফেসবুকে আমার সমর্থকের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। তাদের উৎসাহ ও ভালবাসায় আমি ২য় বারের জন্য বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নি...
31/05/2021

#দ্বিতীয়_খন্ডঃ

ফেসবুকে আমার সমর্থকের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। তাদের উৎসাহ ও ভালবাসায় আমি ২য় বারের জন্য বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। টার্গেট ৩৪ টা জেলা।জেলা গুলো যথাক্রমে মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর,কুষ্টিয়া, পাবনা,নাটোর, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ,নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়,নীলফামারী,লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল,জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর,নরসিংদি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া,কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভিবাজার ও সিলেট।

তারিখ ঠিক করলাম ১২ নভেম্বর ২০২০। সেই অনুযায়ী ফেসবুকে প্রচার করতে লাগলাম। বিভিন্ন জেলার ফেসবুক ফ্রেন্ডের থেকে দাওয়াত পেতে থাকলাম। ভ্রমণের প্রায় ৪০% খরচ আমি ভ্রমণ শুরুর আগে পেয়ে গেলাম। থিম ঠিক করলাম - আসুন ধর্ষন প্রতিরোধে পারিবারিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করি। এবং নারী ও শিশুর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করি।

বিস্তারিত বলতে গেলেঃ বর্তমানে বেশি সংখ্যক শিশুরা বড় হচ্ছে ফ্ল্যাট নামক জেলখানায়। অধিকাংশ শিশু বেড়ে উঠছে গৃহকর্মীদের হাতে,ভেজাল খাবার খেয়ে, দূষিত আবহাওয়া আর অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মধ্যে। ইন্টারনেট এখন হাতের মুঠোয়। যেকোনো শিশু যখন ইচ্ছা যেকোনো সাইটে গিয়ে নিজের মনপছন্দ জিনিস দেখছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে পর্নো সাইটগুলো। এই সাইট গুলো শিশুর মস্তিষ্ক বিক্রিত করে দিচ্ছে। ধর্ষণ নামক সামাজিক ব্যধি বেড়ে যাওয়ার পেছনে এগুলো অনেকাংশ দ্বায়ী।

প্রযুক্তি ছিল, আছে এবং থাকবে। রাষ্ট্র বা সমাজের থেকে পরিবারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের কর্তব্য শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া ও তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখা। সেই সাথে পারিবারিক ভাবে নারী ও শিশুর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণ নামের এই ব্যধি সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব।

দুটো গেঞ্জিতে থিম লিখে আমার কিছু শুভাকাঙ্খী ছোট ভাই উপহার দিলো। ফেসবুকের একটা বন্ধুর মাধ্যমে একটি গ্রুপের সন্ধান পেলাম সেখানে আমার মতো অনেক সদস্য আছে। তারা অনেক অভিজ্ঞ। ওই ফ্রেন্ডের পরামর্শ নিয়ে স্থানীয় কিছু বড়ভাই দের সহায়তায় জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবে চিঠি নিয়ে তাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় দৌড় ঝাপ শুরু করলাম। যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গুরুত্ব দিলেন না। দুই দিন তার পেছনে ঘুরে অবশেষে সাধারণ সম্পাদক এর কাছে গেলাম। সে খুবই ভালো মানুষ সে আমাকে প্রথম সাক্ষাতে সমর্থন করে চিঠিতে স্বাক্ষর করে দিলেন। এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহদয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর পেলাম না। কিন্তু তার পার্সনাল কার্ড পেলাম। সে সব নিয়ে মন খারাপ না করে ম্যাপ তৈরির কাজে লেগে গেলাম। অবশেষে ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখ বেড়িয়ে পরলাম।

িনঃ ১২ নভেম্বর ২০২০

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলাম। ব্যাগ বেশি ভাড়ি করতে চাইনি কিন্তু শীতের কাপড় নিলে ভাড়িতো হবেই। উপায় নেই। এমনিতেই শুনেছি উত্তর অঞ্চলে হাড় কাপানো শীত পড়ে। তাই প্রস্তুতি রাখতে হবে। বাসার সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বের হওয়ার সময় আমার বাসার নিচে এক ছোট বোন ভাড়া থাকে সে আমাকে ডাকলো।সে স্কুলের টিফিনের টাকা থেকে একটু একটু করে জমায়ে আজ সে আমাকে ১০০ টাকা উপহার দিলো। এটাই আমার শেরা গিফট।

আমার স্টাটিং পয়েন্ট মাগুরা,আমি সকাল ৯.৩০ এ ভায়নার মোড় থেকে হেটে মাগুরা প্রেসক্লাবে গেলাম সেখান থেকে এক সাংবাদিক মোঃ অালী অাশরাফ ভাই দুই দিন আগে দাউয়াত দিয়ে রাখছিলেন। তার সাথে দেখা করলাম,অনেক আপ্যায়ন করল। অনেক ভালো ভালো পরামর্শ দিলেন। তার পর সেখান থেকে বের হয়ে ভায়নার মোড় হয়ে মেইন রোড ধরে হাটতে লাগলাম। ইছাখাদা বাজার পার হয়ে এক ফাঁকা স্থানে কাঠের গুড়ি দেখে তার উপর বসে পড়লাম। তাপমাত্রা বেশি থাকলেও বাতাস বেশি থাকায় তেমন কষ্ট হলো না। কিছু একটা রেস্ট নিয়ে আবার হাটা শুরু করলাম। আলাইপুর হয়ে আলমখালী বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে হাট গোপালপুর বাজারে যেয়ে একটা পুরি, সিঙ্গাড়ার দোকান দোকান দেখে ঢুকে পড়লাম। দুটো সিঙ্গাড়া নিয়ে খেতে থাকলাম। এর মধ্যে ৪ জন বেদেনী দোকানের ভেতরে ঢুকে বসলো। একজন বেদেনী আমার কাছে এসে বললো তাকে দুইটা পুরি খাওয়াতে। আমি দোকানদার কে বললাম তাকে দুইটা পুরি দিতে। সে নেওয়ার সাথে সাথে বাকিরা এসে আমাকে ধরলো। তারা বলল আমরা কি দোষ করলাম। ওরে যখন দিছেন আমাদেরও দিতে হবে। দোকানদার রেগে গিয়ে গালি দিয়ে সবাইকে তাড়াতে লাগলো। আমি দোকানদার কে বললাম সাবাইকে পুরি খাওয়াতে। তাদের দেখে আমার খুব মায়া হয়েছিল। অবশেষে আমি হাটা শুরু করলাম। হাটতে হাটতে গোয়ালপাড়া বাজার পার হয়ে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল পৌছালাম। সেখান থেকে নবগঙ্গা নদী পার হয়ে পাগলা কানা বাজারে গেলাম।
সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল আমার সব থেকে ভালো বন্ধু, আমার অতিতের অনেক সফরের সঙ্গী সাদ্দাম মামা,তার বাসা ওখানে। তার সাথে একটা হোটেলে ঢুকে হালকা নাস্তা করে তার বাসায় গেলাম। তারপর ফ্রেশ হয়ে বাসার সাদে বসে অনেক সময় আড্ডা দিলাম। তারপর রাতের খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে গেলাম।

 #প্রথম_খন্ডঃ  িনঃ (২২ অক্টোবর ২০২০)খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। জানালা দিয়ে দিখতে পেলাম বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফ্রেশ হয়...
28/05/2021

#প্রথম_খন্ডঃ
িনঃ (২২ অক্টোবর ২০২০)

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। জানালা দিয়ে দিখতে পেলাম বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফ্রেশ হয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করলাম কিন্তু বৃষ্টি থামলো না। উপায় নেই বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে পড়লাম। মহেশখালী ব্রিজের আগে একটা চায়ের দোকানে বসলাম। একবার ভাবলাম যেহেতু নিম্নচাপ সহজে থামবে না। সময় নষ্ট না করে একটা ছাতা কিনে নিই। কিন্তু পকেটের অবস্থা ভালো না থাকাতে চেপে গেলাম। দোকানদার আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কোথায় যাবো। আমি তাকে সব খুলে বললাম। সে সব শুনে আমাকে নানান প্রশ্ন করতে থাকলো। আমার তার ভাষা বুঝতে এক প্রশ্ন কয়েক বার করে শুনে উত্তর দিলাম। তাতে সে একটুও বিরক্ত হলো না। সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তার কৌতুহল মেটার পরে আমি বেরিয়ে পড়লাম বৃষ্টি ঝিরিঝিরি হচ্ছিল। সেতু পার হতেই আবার জোরে বৃষ্টি পড়া শুরু করলো। আমি সেতুর টোল ঘরের সামনে আশ্রয় নিলাম। ঘরের ভেতরে তিন জন লোক ছিল। একজন আমাকে ডেকে ভেতরে বসতে বললো।আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ভেতরে ঢুকে একটা চেয়ারে বসলাম। লোকটি জানালো তার নাম আলী। সে এই টোলের দায়িত্বে আছে। সে আমাকে বলল আমার গেঞ্জির লেখা তার খুব পছন্দ হয়েছে। সে জিজ্ঞেস করল গেঞ্জির পেছনে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ লেখা কেনো। সে আমাকে একটা গামছা দিলো মাথা মোছার জন্য। আমি মাথা মুছতে মুছতে তাকে সব বিস্তারিত বললাম। সে শুনে খুব খুশি হলো। এবং অনেক অবাকও হলো। সে আমাকে জোর করে চা খাওয়ালেন। প্রকৃতি খুবই সুন্দর ছিল। বৃষ্টির জন্য আরও বেশি সুন্দর লাগছিলো। আলী ভাই এর সাথে কথা বলে খুবই ভালো লাগলো। আমি তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সে আমাকে বলল সব যায়গাতেই ভালো মানুষ খারাপ মানুষ আছে। সাবধানে চলবেন। কোনো ছোট বাজারে দাড়াবেন না। বিশ্রাম নিতে মন চাইলে বড় বাজার দেখে দাড়াবেন। কোনো মানুষের সাথে বেশি কথা বলবেন না। আর আমার নাম্বারটা রেখে দেন কোনো সমস্যা হলে আমাকে ফোন করবেন। মহেশখালীর অধিকাংশ মানুষ আমাকে চেনে। আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে তার ফোন নাম্বারটা নিলাম। উনি আমার উপর খুশি হয়ে আমি যদি কিছু মনে না করি সেই স্বর্তে আমাকে পথ খরচের জন্য কিছু টাকা দিলেন। আমি বিদায় নিয়ে হাটা শুরু করলাম। রাস্তার দুই দিকে বিল। যে দিকে তাকাই শুধু পানি আর পানি। অনেক সুন্দর প্রকৃতি। কিছু সময় হাটার পরে আবার বৃষ্টি জোরে আসলো কিছুটা সামনে একটা পাম্পের সাথে ছোট চায়ের দোকান দেখে দৌড় দিলাম। দোকানে ঢুকে দেখলাম দোকানদার ছাড়া দোকানে কেউ নেই। দোকানদারের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ হবে। সে আমাকে একটা গামছা দিলো আমি মাথা মুছে নিয়ে কেক আর কলা নিয়ে খেতে থাকলাম আর ভাবতে থাকলাম মহেশখালীর বিষয়ে সবাই আমাকে সতর্ক করছে জানিনা কি আছে কপালে। দোকানদারের সাথে আমি গল্প করতে থাকলাম। সে আমার সব কথা খুব মন দিয়ে শুনলো। সব শুনে সে খুব খুশি হলো। সে আমাকে উপাধি দিলোঃ যোদ্ধা। সে বললো আমি এতো সাহস নিয়ে যেটা করেছি সেটা যুদ্ধে থেকে কম কিছু না। সে খুশিতে বলল আমি একটা ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছি তাই আজ আমার দোকান থেকে যা খাবেন সব আপনার জন্য ফ্রি। কোনো টাকা নিবোনা। আমি তাকে ধন্যবাদ দিলাম। আমি আর খেতে চেলাম না কারণ ফ্রিতে কিছু খেতে ইচ্ছে করলো না কিন্তু সে থামলেন না যোর করে খাওয়ালেন। বড় এক প্যাকেট বিস্কিট আর ৪ টা কলা ও চা জোর করে খাওয়ালেন। আমাকে বৃষ্টি থেকে বাচানোর জন্য একটা বড় পলেথিন দিয়ে জামা তৈরি করে দিচ্ছিলেন। আমি তাকে বললাম আমি ভিজতে চাই। আজ সারাদিন আমি ভিজবো। আমার ব্যাগ আর মোবাইল এর জন্য কোনো ব্যবস্থা হলে ভালো হত। সে আমাকে বলল এই বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা জ্বর আসবে। আমি তাকে জানালাম আজ আমার ভ্রমণের শেষ দিন। আজ রাতেই আমি বাসার উদ্দেশ্যে রউনা হবো। আগামীকাল দুপুরের মধ্যে বাড়ি পৌছে যাবো। তাই অসুস্থ হলে সমস্যা নেই। সে আমার ব্যাগটা পলেথিনে সুন্দর করে মুড়ে দিলেন এবং সহজে বহন করার জন্য ব্যবস্থা করে দিলেন। আমার সুবিধার্থে রুটের একটু পরিবর্তন করে দিলেন। আমি তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি হাটতে হাটতে কিছু দূর যেয়ে পাহাড়ি পথ ধরলাম। অনেক বৃষ্টির মধ্যে হাটতে ভালোই লাগছিল। পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানি লেবে অাসার দৃশ্য অামাকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু ওইখানের মানুষের অনেক দূরভোগ।
আমি কয়েক ঘন্টা হাটার পরে আমার পায়ের শিরায় রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমি হাটতে পারছিলাম না।পানি এতো পরিমাণ ঠান্ডা ছিল যে আমার জন্য হাটা অসম্ভব হয়ে গিছিল। এই দিকে কিছু কিছু যায়গায় রাস্তার উপর দিয়ে প্রায় দুই ফিট উচ্চতায় পানি বয়ে যাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে হেটে হোয়ানক ইউনিয়নের টাইম বাজার পর্যন্ত গেলাম। একটা খাবারের হোটেলে গিয়ে দাড়ালাম এক লোক আমাকে দেখে এগিয়ে আসলো। তার ঘাড়ের গামছা দিলো গা মোছার জন্য। এদিকে আমার পায়ের শিরা পুরোপুরি অচল হয়ে গিছিল। আর এক কদম সামনে যেতে পারছিলাম না। লোকটা আমাকে একটা চেয়ারে বসতে দিলো। আমি আমার হাতের আঙ্গুল গুলো দিয়ে টিপে টিপে শিরা স্বচল করার চেষ্টা করলাম। তারপর আমি লোকটার কথা মতো তার সহযোগিতা নিয়ে হোটেলের চুলার ধারে বসলাম। আগুনের তাপে খুব ভালো লাগছিল কিছু সময় পরে ব্যাথা কমে গিয়েছিল এবং পা নাড়াতে পারছিলাম। সে কুসুম গরম পানি নিয়ে এসে আমার পায়ে ঢালছিল। খুব আরাম অনুভব করছিলাম। প্রায় ২০ মিনিট পরে আমার পা আবার চলার জন্য উপযোগী হয়ে গেলো। এবার আসপাশের ৩ থেকে ৪ জন লোক আমার পরিচয় জানতে চাইলো। আমি তাদের সব খুলে বললাম। তারা সব শুনে আমাকে পরামর্শ দিলেন সিএনজি নেওয়ার। কারণ সামনে অনেক পানি জমেছে আমি হেটে যেতে পারবোনা। এই দিকে পায়ে যন্ত্রণা করছিলো তাই আর হাটার রিক্স না নিয়ে তাদের কথায় রাজি হয়ে গেলাম। বৃষ্টি আজ আর থামবে না। তারা একটা সিএনজি দাড় করায়ে আমাকে উঠায় দিলো। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে চালকের পাশের সিটে বসে পড়লাম। কিছু দূর যাওয়ার পরে সব প্যাসেঞ্জার লেবে গেলো আমি চালকের সাথে গল্প করতে লাগলাম। সে সব শুনে অনেক অবাক হয়েছিল। আমাকে সে তার ব্যাক্তিগত জীবনের অনেক ঘটনা শোনালো। অনেক কষ্টের জীবন তার। অবশেষে গোরকঘাটা বাজারে পৌছালাম। সে আমার সাথে মনের কথা শেয়ার করে অনেক তৃপ্তি পেয়েছে। তাকে ভাড়া দিতে গেলাম সে নিলোনা। অনেক জোর করেও ভাড়া দিতে পারলাম না। তাকে চায়ের অফার করলাম। সে রাজি হলো। তাকে চা বিস্কিট খাওয়ালাম। তারপর সে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমি একটা হোটেলে ঢুকে খিচুড়ি আর মুরগির মাংস খেলাম। আজ আমার যে কয়জন মানুষের সাথে দেখা হয়েছে সবাই খুবই ভালো মানুষ। স্বরল, সহজ মানুষ তারা। অনেক আন্তরিক তারা। মহেশখালীর মানুষদের নিয়ে যাদের বাজে ধারণা আছে তাদেরকে বলতে চাই ভালো মানুষ, খারাপ মানুষ সব যায়গাতেই আছে। এখানেও ভালো মানুষ অনেক আছে। এর আগেও দুই বার আমি মহেশখালী এসেছি। আমার সব থেকে পছন্দের যায়গা এটি। আমি হাটতে হাটতে জেটিতে গেলাম। সেখানে কিছু সময় দাড়িয়ে প্রকৃতি উপভোগ করলাম। বৃষ্টি তখনও হালকা হালকা হচ্ছিল। তারপর স্প্রিট বোটে উঠলাম কক্সবাজারের ৬ নাম্বার ঘাটে যাওয়ার জন্য। কিছু সময় পর ঘাটে পৌছালাম। লাবার সময় ঘটলো এক ঘটনা। অনেক লোক বোটের জন্য অপেক্ষা করছিলো। বোট তীরে যাওয়ার সাথে সাথে বোট থেকে দ্রুত অনেক লোক লেবে গেলো। এর মধ্যে কয়েকজন লোক লাফিয়ে পড়লো বোটের মধ্যে। বোট ধার থেকে অনেক দূরে সরে গেলো। এবং একদিকে কাত হয়ে ডুবে যাচ্ছিলো। আমি খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম। আবার পাড়ে আসলে আমি যখন লাবতে যাবো তিখনি এক ছেলে লাফিয়ে পড়লো বোটের মধ্যে। আমি অল্পের জন্য পানিতে পড়লাম না আমি ছেলেটাকে খুব বকা দিছিলাম। অবশেষে এক লোক আমাকে টেনে তুললো। আমি আর এক মূহুর্ত অপেক্ষা না করে হাটতে থাকলাম। হাটতে হাটতে গুগল ম্যাপের ভুল লোকেশনের জন্য মূল সি বীচ যেতে পারছিলাম না। অবশেষে এক ব্যাক্তির পরামর্শ অনুযায়ী প্রায় ৩ কিঃ মিঃ পথ সিএনজিতে গেলাম। বীচে যেয়ে একটা চৌকি ভাড়া করলাম এক ঘন্টার জন্যে। কিছু সময় বিশ্রাম করে সমুদ্রের ঢেউয়ের কাছে দাড়িয়ে আনন্দে চিৎকার করে কেদেছিলাম। আমি পেরেছি। আমার সকল ব্যার্থতার মধ্যে একটা বড় সফলতা। আমার খুবই গর্ব হচ্ছিল। আমি সফল হয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে মহান আল্লাহর ইচ্ছায়,অনেক মানুষের সহযোগীতায়, আমার অধিক আত্নবিশ্বাস ও দৃহ মনোবলের কারণে। দুই তিন জন ছেলেকে হেটে যেতে দেখে তাদেরকে রিকুয়েষ্ট করলাম কয়েকটি ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। তারা আমার সফলতার কথা শুনে তাদের ফোনে কয়েকটি সেলফি তুলে নিয়ে আমাকে অভিনন্দন দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমি একটা টিকিট কাউন্টারে গিয়ে ঢাকার টিকিট নিয়ে বাসে উঠে ঢাকায় গেলাম। সেখান থেকে যশোরের টিকিট কেটে বাসে উঠে পরের দিন রাতে নিজের বাসায় পৌছালাম।

এখানেই আমার #পায়ে_হেঁটে_ভ্রমণের #প্রথম_খন্ডের ইতি হলো। আমি মোট ১৪ দিনে প্রায় ৪০০ কিঃ মিঃ হেটেছি। আগামী দিন আসছি #পায়ে_হেটে_ভ্রমণের #দ্বিতীয়_খন্ড নিয়ে আরও অনেক মজার মজার ঘটনা ও কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়ে।

আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আমার ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি এতো দিন লেখা দিতে পারিনি। আজ থেকে আশা করি নিয়মিত লেখা পাবেন।  #প্রথ...
27/05/2021

আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আমার ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি এতো দিন লেখা দিতে পারিনি। আজ থেকে আশা করি নিয়মিত লেখা পাবেন।

#প্রথম_খন্ডঃ
িনঃ (২১ অক্টোবর ২০২০)

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাটা শুরু করে বিবির হাট হয়ে চক বাজার গেলাম। সেখানে একটা খাবারের হোটেলে ঢুকলাম। হোটেলে অনেক লোকের ভিড়। প্রায় সবাই দুধ চা দিয়ে তোন্দুল রুটি খাচ্ছে। এটা মনে হয় ওখানকার লোকের খুবই প্রিয় নাস্তা। আমিও তাই খেলাম। ভালো লাগলো খেয়ে। তারপর আবার হাটা শুরু করলাম। ডিসি সড়ক ধরে হেটে বউ বাজার হয়ে চাকতাই খাল পাড় দিয়ে হাটতে থাকলাম। খালের পানি খুবই দূষিত। আমার ধারণা শহরের সব ময়লা এই খাল দিয়ে যায়। হাটতে হাটতে শহীদ বশিরুজ্জামান চত্বরে গেলাম সেখান থেকে কর্ণফুলি সেতুতে উঠে কিছু সময় দাড়িয়ে নদী দেখলাম ও পরিবেশটা উপভোগ করলাম। তারপর আবার হাটা শুরু করে সেতু পার হয়ে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চত্বর হয়ে অনেক দূর হেটে ডানপাশের সড়ু রাস্তা ধরলাম। একটা চায়ের দোকানে বসলাম। সেখান থেকে চা খেয়ে আবার হাটা শুরু করে খানিকটা সময় পর চট্টগ্রাম - আনোয়ারা- বাশখালী মহা সড়ক ধরে হাটতে থাকলাম। আনোয়ারা পার হয়ে একটু সামনে গেলেই হটাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। আমি একটা মুদির দোকানে আশ্রয় নিলাম। ক্ষুধা লেগেছিল তাই দোকানদারকে কেক আর কলা দিতে বললাম। সে মোবাইলে গেম খেলায় এতো ব্যস্ত ছিল যে আমাকে বলল কিছু সময় অপেক্ষা করেন দিচ্ছি। আমি খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম কিন্তু কিছু করার নেই। আশপাশে আর কোনো দোকান নেই। এ দিকে ক্ষুধাতে আমি বসতে পারছিলাম না। প্রায় ২০ মিনিট পরে আমাকে খেতে দিলো। আমি দ্রুত খেয়ে নিলাম। এর মধ্যে বৃষ্টি থেমে গেছে। আমি হাটা শুরু করলাম। ঠান্ডা আবহাওয়াই হাটতে ভালোই লাগছিলো। তারপর সেখান থেকে হেটে সাঙ্গু নদী পার হয়ে হাটতে হাটতে বাশখালি উপজেলার গুনাগরি বাজারে যেয়ে একটা চায়ের দোকানে বসলাম। তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ভাবতে লাগলাম যদি বাশখালি বাজারে গিয়ে থাকার জন্য হোটেল না পায় তাহলে খুব বিপদে পড়ব। একটা ফ্লাক্সি লোডের দোকানে দেখলাম অনেক গুলো ছেলেরা আড্ডা দিচ্ছে। আমি তাদের কাছে যেয়ে আমার উদ্দেশ্যের কথা বললাম। তারা খুবই অবাক
হয়েছিল এবং আমাকে অনেক উৎসাহ দিলো। তারা আমাকে কিছু পরামর্শ দিলো বাশখালিতে থাকার কোনো হোটেল নেই। আর মহেশখালী নাকি খুব খারাপ যায়গা। সাবধানে চলতে হবে। মোবাইল, মানিব্যাগ সাবধানে নিয়ে চলতে হবে। আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড এর বাসা মহেশখালী। চাকরির সুবাদে সে কক্সবাজার থাকে। তাকে ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে থাকার হোটেল সম্পর্কে খবর নিলাম। তার আর ওই ভাইদের পরামর্শে একটা সিএনজি করে বদরখালি ইউনিয়নে গেলাম। সেখানে একটা বিকাশের দোকানে বসলাম। কিছু টাকা উঠালাম। দোকানদার আমার গেঞ্জির লেখা পড়ে আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাকে সব খুলে বললাম। সে শুনে খুব অবাক হয়েছিল। এবং সে খুশি হয়ে আমাকে জোর করে চা খাওয়ালেন। সে একজন জনপ্রতিনিধি। সে আমাকে একটা হোটেলের ঠিকানা দিলেন। ওখানকার সব থেকে ভালো হোটেল। কোনো রকম ঝামেলা নেই। দুইনাম্বারি কোনো কারবার নেই। আমি তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সেই হোটেলের সন্ধানে গেলাম। কিন্তু হোটেলের গেটে তালা মারা। অনেক ডাকাডাকি করে কোনো লোক দেখতে না পেয়ে অন্য হোটেল গুলোতে গেলাম। কিন্তু আমাকে দেখে সব হোটেলের কর্মকর্তারা একই উত্তর দিলো রুম খালি নাই। আমার মনে হল সবাই মিথ্যা বলছে। অন্য কোনো কারণ আছে। আমি বেরিয়ে সেই ভাই এর দোকানের উদ্দেশ্যে গেলাম। তার সাথে পথেই দেখা হল। সে আমাকে বলল এখানে সব হোটেলেই রুম খালি আছে কিন্তু আমাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোক মনে করে রুম দিচ্ছে না। সে আমাকে নিয়ে ওই হোটেলের গেটে গেলো। সে অনেক ডাকাডাকি করে যখন কাউকে পেলো না তখন মালিককে ফোন করে সব বিস্তারিত বলল। মালিক লোক পাঠায় দিলো। রাত ১০ টার পর হোটেলের গেট বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে মহেশখালীর বিষয়ে কিছু সতর্ক বাণী দিয়ে তিনি বিদায় নিলেন। লোকটা অনেক ভালো মানুষ। সে না থাকলে আমার ওই রাত রাস্তায় ঘুমাতে হত। আমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হলাম। কিছু সময় পরে হোটেলের কর্মকর্তা আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল আমি আমি প্রশাসনের কোন ডিপার্টমেন্টের লোক। আমি তাকে বিস্তারিত বললাম কিন্তু সে বিশ্বাস করতে পারল না। অবশেষে আমার ফেসবুক আইডি তাকে দেখালে সে বিশ্বাস করল। আমি শুয়ে শুয়ে কিছু সময় ফেসবুক চালালাম। এক ফেসবুক ফ্রেন্ড আমাকে নক দিলেন। বয়সে আমার থেকে অনেক সিনিয়র। আগে কখনও কথা হয়নি। তার বাসাও যশোরে। সে আমার কাছথেকে বিকাশ নাম্বার নিলেন। আমার পায়ে হেঁটে ভ্রমণ শেষ হওয়ার আগেই সে আমাকে ১০০১ টাকা পুরষ্কার দিলেন। তার নাম প্রকাশ করতে মানা করেছেন তাই বললাম না। আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ঘুমায় পড়লাম।

করোনাকে ভয় নয়, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করুন। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য  ঈদের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রইলো।...
13/05/2021

করোনাকে ভয় নয়, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করুন। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য ঈদের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রইলো।
ঈদ মোবারক।

আশরাফুল হাসান রিমন
যশোর।

 #প্রথম_খন্ডঃ  িনঃ (২০ অক্টোবর ২০২০)সকাল ৭ টায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে দেরিয়ে খাগড়াছড়ি গামি বাস ধরলাম। যেই পথ আমার পায়ে...
12/05/2021

#প্রথম_খন্ডঃ
িনঃ (২০ অক্টোবর ২০২০)

সকাল ৭ টায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে দেরিয়ে খাগড়াছড়ি গামি বাস ধরলাম। যেই পথ আমার পায়ে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিল সেই পথটা আমার বাসে করে যেতে হচ্ছে। খুবই খারাপ লাগছিল। যায় হোক বাসে বসে প্রকৃতি উপভোগ করতে লাগলাম। আলু টিলা গুহার কাছে বাস থেকে নেমে টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম। গুহায় আমি আগেও ঢুকেছি। তখন আমার সাথে আমার ভ্রমণ পাটনার সাদ্দাম মামা ছিলেন। এবার আমি একা। মামাকে খুব মিছ করছিলাম। গুহার মুখে যেয়ে কোনো মানুষ না দেখায় কিছু সময় অপেক্ষা করতে লাগলাম। দুইটা ছেলে আসতে দেখে ঢুকে পড়লাম। গুহা থেকে বের হওয়ার সময় ওই দুইজন ছেলের সঙ্গে কথা হলো। তাদের একজন এর নাম তন্ময় ও আর একজন এর নাম নয়ন,আমি আমার পরিচয় আর আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের খুলে বললাম। তারা অবাক হলো। এবং আমাকে অনেক উৎসাহ দিলো। তারা খুশি হয়ে আমাকে ডাব খাওয়ালো। আমরা গল্প করতে করতে মেইন রাস্তায় উঠলাম। এবার তাদের গন্তব্য রিসাঙ ঝর্ণা। আমিও সেই খানে যাবো। তারা একটা সিএনজি ভাড়া করলো আমাকে তারা সিএনজিতে উঠার জন্য খুব রিকুয়েষ্ট করলো। আমি উঠতে রাজি হলাম না। কারণ আমার রুলস ভঙ্গ করার কোনো ইচ্ছায় ছিল না। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিয়ে হাটা শুরু করলাম। তারা আমাকে পেছন থেকে ডক দিয়ে বললো আমি ভুল পথে যাচ্ছি। আমি যেই পথে যাচ্ছি রিসাঙ ঝর্ণা তার উল্টো পথে। সিএনজি চালক তাদের সাথে এম মত হয়ে বললো। আমি ম্যাপটা তাদের দেখালাম। আমার গুগল ম্যাপ আমাকে এই পথ দেখাচ্ছে। আমি ভেবে নিলাম আমার পায়ে হেঁটে পথ তাই হয়তো এই পথ সহজ হবে। তারপর আমি বিদায় নিয়ে হাটা শুরু করলাম ম্যাপের পথ ধরে। পাহাড়ি পথ হাটতে খুবই ভালো লাগছিলো। হাটতে হাটতে অনেক উপর থেকে ঢালু রাস্তায় লাবতে গিয়ে আমি হোচট খেয়ে পড়ে গেলাম। আমি খেয়াল করলাম আমার অপজিটে একটা লোক বসে ছিল। সে দেখলো কিন্তু কিছুই বললো না। একটা চান্দের গাড়ি আমার পাশথেকে গেলো, গাড়িতে অনেক পাহাড়ি মানুষ। তারা আমার পড়ে যাওয়া দেখে উচ্চ স্বরে হাসতে থাকলো এবং আমাকে কি যেন বললো। আমি বুঝতে পারলাম না। আমি খুবই বিরক্ত হলাম। কারণ আমি এইটুকু বুঝতে পারলাম তারা আমাকে পড়ে যেতে দেখে খুব মজা পেয়েছে। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দারালাম। ওই সময় নিচ থেকে একটা জিপ গাড়ি উপরে উঠছিল। গাড়ির ড্রাইভার সেও একজন পাহাড়ি। সে আমাকে ইশারায় জিজ্ঞেস করলেন আমি ওকে কি না। আমি তাকে ইশারায় বোঝালাম আমি ওকে আছি। আমি দেখলাম আমার হাটুর কাছের প্যান্টের কাপড় ছিড়ে গেছে। হাটু ছিলে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। আমি পকেট থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বের করে হাটুতে লাগালাম। তারপর ধিরে ধিরে হাটতে থাকলাম। কিছু দূর গিয়ে একটা সুন্দর যায়গা দেখে বসলাম। পা খুব যন্ত্রণা করছিলো। কিছু সময় বসে আমি মুগ্ধ হয়ে পরিবেশ দেখতে থাকলাম। তারপর আবার হাটা শুরু করলাম। হাটতে হাটতে এক প্রজাতিকে দেখতে পেলাম রাস্তার উপর পড়ে আছে। মনে হল কোন ভাবে আঘাত পেয়েছে। তাকে তুলে নিয়ে একটা ঝোপের ভেতর ছেড়ে দিলাম তারপর খাগড়াছড়ি ০ মাইল মোড় থেকে বায়ে রাস্তা ধরে হাটতে থাকলাম কিছু দূর যেয়ে আবার বায়ের গ্রামের রাস্তা ধরে ম্যাপ দেখে হাটতে থাকলাম। কিছু দূর গিয়ে গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটতে হাটতে এক খালের পাড়ে গিয়ে রাস্তা শেষ হয়ে গেলো। আমার সন্দেহ হলো এই দিকে যদি ঝর্ণা থাকতো তা হলে পর্যাটক দের দেখা যেতো কিন্তু কোনো লোক দেখতে পেলাম না। আবার ভাবতে থাকলাম পানির স্রোত যখন আছে আর ম্যাপে যখন দেখাচ্ছে তা হলে থাকতে পারে। হঠাৎ দেখতে পেলাম কয়েকজন মেয়ে গোসল করছে। আমার সামনে যেতে হলে তাদের নিকট দিয়ে যেতে হবে। আমি লজ্জা বোধ করছিলাম। কিন্তু দাঁড়িয়ে কথা আরও খারাপ দেখায় আমি এগোতে থাকলাম। তাদের নিকটে গেলে তারা কি যেন বললো। আমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম এইদিকে কোনো ঝর্ণা আছে কি না? তারা আমার ভাষা বুঝতে পারলো না। আমি আবারও ধিরে ধিরে বললাম তখন তারা আমাকে ইশারায় সামনের দিকে যেতে বললো। আমি প্যান্ট গুছায় নিয়ে খালে নেমে গেলাম। পানি বেশি না ৬ ইঞ্চি মত। খালে না নেমে উপায় ছিল না। কারণ পথের ব্যবস্থা নেই। পানি খুব স্বচ্ছ ছিলো। অনেক ঠান্ডা পানির মধ্যে দিয়ে হাটছি দুই ধারে গাছ গাছালির ফাকে ছোট ছোট বাড়ি ঘর। খুবই সুন্দর প্রকৃতি। এতো গাছ যে সারাদিনও রোদ পড়ে না। হঠাৎ আমার মোবাইলের নেটওয়ার্ক হারায় গেলো। আমি ম্যাপ ছাড়া আন্দাজ করে এগুতে থাকলাম। একটা সময় যেয়ে সামনে পানি ঘোলা দেখে আমি একটা গাছের ডাল ভেঙ্গে গভীরতা মেপে দেখলাম পানি আমার মাজার উপরে উঠে যাবে। অবশেষে আমি গুগল ম্যাপকে গালি দিতে দিতে ফিরে এলাম। গ্রামের একটা চায়ের দোকানে চা ক্ষেতে বসলাম। তারপর দোকানদারকে সব খুলে বললাম। সে আমাকে জানালো এখানে কোনো ঝর্ণা নেই। ম্যাপে ভুল দেখাচ্ছে। সে আমার পরিকল্পনা শুনে আমাকে বললেন আপনি পাহাড়ি অঞ্চলে হাটার পরিকল্পনা বাদ দেন। এখানে অনেক রিক্স। সে আমার ক্ষত স্থানে হলুদের গুড়া লাগিয়ে দিলেন। তারপর আমি সেখান থেকে বিদায় নিয়ে আবার খাগড়াছড়ি ০ মাইল আসলাম তারপর সোজা রাঙ্গামাটির রাস্তায় উঠে মাত্র দুই কিঃ মিঃ পথ গিয়ে টুরিস্ট পুলিশের হাতে পড়লাম। তারা আমার ভ্রমণ সম্পর্কে সব শুনে খুব অবাক হলো। সব শেষে তারা খুবই ভদ্র ভাবে কিছু সমস্যার কথা বললো। তারপর জানালো আমি পার্বত্য জেলা গুলো একা পায়ে হেঁটে চলতে পারবোনা। আর সামনে সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট আর বিজিবির চেকপোস্ট অনেক গুলো। আমি ঢুকতে পারবো না। তাদের কথা আর স্থানীয় দুই একজনের পরামর্শ নিয়ে আমি বাধ্য হলাম চট্টগ্রাম চলে আসতে। দুটো জেলা বাদ দিতে হলো।যায় হোক নছিবে নেই। অবশেষে চট্টগ্রাম অক্সিজেন মোড়ে এসে আমি কম খরচের একটা থাকার হোটেল খুজতে থাকলাম এক পথচারীর সাথে পরামর্শ করে মুরাদনগরে গিয়ে একটা বোডিংএ উঠলাম। তারপর নিচে এসে কোনো রকম রাতের খাবার খেয়ে ব্যাথার জন্য পেইন কিলার নিয়ে রুমে যেয়ে মোবাইলে বন্ধু মহিমের সাথে,আম্মু আর ছোট ভাই এর সাথে ও স্পেশাল মানুষের সাথে বকবক করে ঘুমাতে গেলাম।

Address

Jessore
7400

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Travel With Rimon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Travel With Rimon:

Videos

Share