31/05/2021
#দ্বিতীয়_খন্ডঃ
ফেসবুকে আমার সমর্থকের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। তাদের উৎসাহ ও ভালবাসায় আমি ২য় বারের জন্য বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। টার্গেট ৩৪ টা জেলা।জেলা গুলো যথাক্রমে মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর,কুষ্টিয়া, পাবনা,নাটোর, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ,নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়,নীলফামারী,লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল,জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর,নরসিংদি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া,কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভিবাজার ও সিলেট।
তারিখ ঠিক করলাম ১২ নভেম্বর ২০২০। সেই অনুযায়ী ফেসবুকে প্রচার করতে লাগলাম। বিভিন্ন জেলার ফেসবুক ফ্রেন্ডের থেকে দাওয়াত পেতে থাকলাম। ভ্রমণের প্রায় ৪০% খরচ আমি ভ্রমণ শুরুর আগে পেয়ে গেলাম। থিম ঠিক করলাম - আসুন ধর্ষন প্রতিরোধে পারিবারিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করি। এবং নারী ও শিশুর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করি।
বিস্তারিত বলতে গেলেঃ বর্তমানে বেশি সংখ্যক শিশুরা বড় হচ্ছে ফ্ল্যাট নামক জেলখানায়। অধিকাংশ শিশু বেড়ে উঠছে গৃহকর্মীদের হাতে,ভেজাল খাবার খেয়ে, দূষিত আবহাওয়া আর অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মধ্যে। ইন্টারনেট এখন হাতের মুঠোয়। যেকোনো শিশু যখন ইচ্ছা যেকোনো সাইটে গিয়ে নিজের মনপছন্দ জিনিস দেখছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে পর্নো সাইটগুলো। এই সাইট গুলো শিশুর মস্তিষ্ক বিক্রিত করে দিচ্ছে। ধর্ষণ নামক সামাজিক ব্যধি বেড়ে যাওয়ার পেছনে এগুলো অনেকাংশ দ্বায়ী।
প্রযুক্তি ছিল, আছে এবং থাকবে। রাষ্ট্র বা সমাজের থেকে পরিবারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের কর্তব্য শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া ও তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখা। সেই সাথে পারিবারিক ভাবে নারী ও শিশুর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণ নামের এই ব্যধি সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব।
দুটো গেঞ্জিতে থিম লিখে আমার কিছু শুভাকাঙ্খী ছোট ভাই উপহার দিলো। ফেসবুকের একটা বন্ধুর মাধ্যমে একটি গ্রুপের সন্ধান পেলাম সেখানে আমার মতো অনেক সদস্য আছে। তারা অনেক অভিজ্ঞ। ওই ফ্রেন্ডের পরামর্শ নিয়ে স্থানীয় কিছু বড়ভাই দের সহায়তায় জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবে চিঠি নিয়ে তাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় দৌড় ঝাপ শুরু করলাম। যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গুরুত্ব দিলেন না। দুই দিন তার পেছনে ঘুরে অবশেষে সাধারণ সম্পাদক এর কাছে গেলাম। সে খুবই ভালো মানুষ সে আমাকে প্রথম সাক্ষাতে সমর্থন করে চিঠিতে স্বাক্ষর করে দিলেন। এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহদয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর পেলাম না। কিন্তু তার পার্সনাল কার্ড পেলাম। সে সব নিয়ে মন খারাপ না করে ম্যাপ তৈরির কাজে লেগে গেলাম। অবশেষে ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখ বেড়িয়ে পরলাম।
িনঃ ১২ নভেম্বর ২০২০
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলাম। ব্যাগ বেশি ভাড়ি করতে চাইনি কিন্তু শীতের কাপড় নিলে ভাড়িতো হবেই। উপায় নেই। এমনিতেই শুনেছি উত্তর অঞ্চলে হাড় কাপানো শীত পড়ে। তাই প্রস্তুতি রাখতে হবে। বাসার সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বের হওয়ার সময় আমার বাসার নিচে এক ছোট বোন ভাড়া থাকে সে আমাকে ডাকলো।সে স্কুলের টিফিনের টাকা থেকে একটু একটু করে জমায়ে আজ সে আমাকে ১০০ টাকা উপহার দিলো। এটাই আমার শেরা গিফট।
আমার স্টাটিং পয়েন্ট মাগুরা,আমি সকাল ৯.৩০ এ ভায়নার মোড় থেকে হেটে মাগুরা প্রেসক্লাবে গেলাম সেখান থেকে এক সাংবাদিক মোঃ অালী অাশরাফ ভাই দুই দিন আগে দাউয়াত দিয়ে রাখছিলেন। তার সাথে দেখা করলাম,অনেক আপ্যায়ন করল। অনেক ভালো ভালো পরামর্শ দিলেন। তার পর সেখান থেকে বের হয়ে ভায়নার মোড় হয়ে মেইন রোড ধরে হাটতে লাগলাম। ইছাখাদা বাজার পার হয়ে এক ফাঁকা স্থানে কাঠের গুড়ি দেখে তার উপর বসে পড়লাম। তাপমাত্রা বেশি থাকলেও বাতাস বেশি থাকায় তেমন কষ্ট হলো না। কিছু একটা রেস্ট নিয়ে আবার হাটা শুরু করলাম। আলাইপুর হয়ে আলমখালী বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে হাট গোপালপুর বাজারে যেয়ে একটা পুরি, সিঙ্গাড়ার দোকান দোকান দেখে ঢুকে পড়লাম। দুটো সিঙ্গাড়া নিয়ে খেতে থাকলাম। এর মধ্যে ৪ জন বেদেনী দোকানের ভেতরে ঢুকে বসলো। একজন বেদেনী আমার কাছে এসে বললো তাকে দুইটা পুরি খাওয়াতে। আমি দোকানদার কে বললাম তাকে দুইটা পুরি দিতে। সে নেওয়ার সাথে সাথে বাকিরা এসে আমাকে ধরলো। তারা বলল আমরা কি দোষ করলাম। ওরে যখন দিছেন আমাদেরও দিতে হবে। দোকানদার রেগে গিয়ে গালি দিয়ে সবাইকে তাড়াতে লাগলো। আমি দোকানদার কে বললাম সাবাইকে পুরি খাওয়াতে। তাদের দেখে আমার খুব মায়া হয়েছিল। অবশেষে আমি হাটা শুরু করলাম। হাটতে হাটতে গোয়ালপাড়া বাজার পার হয়ে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল পৌছালাম। সেখান থেকে নবগঙ্গা নদী পার হয়ে পাগলা কানা বাজারে গেলাম।
সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল আমার সব থেকে ভালো বন্ধু, আমার অতিতের অনেক সফরের সঙ্গী সাদ্দাম মামা,তার বাসা ওখানে। তার সাথে একটা হোটেলে ঢুকে হালকা নাস্তা করে তার বাসায় গেলাম। তারপর ফ্রেশ হয়ে বাসার সাদে বসে অনেক সময় আড্ডা দিলাম। তারপর রাতের খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে গেলাম।