16/11/2025
হাসনাত আব্দুল্লাহর একটা ভিডিও দেখছিলাম।
ভিডিওটা দেখে মনে হলো, সম্ভবত সে তার নিজ এলাকায় গিয়েছে এবং তার এলাকার মুরুব্বিরা এলাকার মসজিদ মাদ্রাসার জন্য তার কাছে টাকা-পয়সা চেয়েছে।
হাসনাত উঠান বৈঠকের মত একটা আয়োজনে মুরুব্বিদের বুঝাচ্ছে, এই যে তার কাছে মসজিদের জন্য টাকা চায়, এই টাকা তাকে অন্য কোথাও থেকে চুরি করে আনতে হবে। ভোটের আগে এরকম মসজিদে দান করে, রাস্তা বানায় দিলে, পকেটে পান খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা, বাজার করার জন্য ১০০০ টাকা ধরায় দিয়ে ভোট কিনে ক্ষমতায় আসা যাবে ঠিকই, কিন্তু পরে ক্ষমতায় এসে ৫ বছর ধরে সে টাকা আদায় করতেই থাকবে।
হাসনাত তখন জিজ্ঞেস করলো, আপনারা কি ভোটের আগে টাকা নিতে চান না এমন কোন প্রতিনিধিকে ভোট দিবেন যে ক্ষমতায় এসে আপনাদের দিবে?
উপস্থিত মুরুব্বিদের চেহারা দেখে মনে হলো, এরকম কথা এই ইহজনমে তাদের মাথাতেই আসে নাই। এভাবে তারা চিন্তাই করতে পারে না। তাদের হতাশা গোপন করতে পারছিলো না। সম্ভবত তারা ধরেই নিয়েছিলো হাসনাত এখন এত বড় নেতা, অন্য বড় দলের নেতাদের মত এলাকায় এসেই টাকা ঢালা শুরু করবে। নীতিকথা দিয়ে কী হবে?
ওসমান হাদীরও একটা ভিডিও দেখলাম, নির্বাচনী এলাকায় প্রচারনা করতে গিয়ে বলতেসে, চাইলে বড় বড় ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা খেয়ে বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতেই পারতো, কিন্তু তাতে পরবর্তীতে সেই টাকা দেওয়া শক্তিদের তাবেদারী করা লাগতো ক্ষমতায় বসে। সে এই সিস্টেমটা ভাংতে চায়। সে ভ্যানগাড়িতে করেই প্রচারণা করছে তাই।
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, জুলাই আন্দোলনের মূল যে স্পিরিট তা বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষদের খুব বেশি একটা স্পর্শ করেনি। তাদের ভিতরে রাজনীতি, নির্বাচন, ক্ষমতায় আসা নেতা— এদের ব্যাপারে ধারণা ও এক্সপেক্টেশন আগের মতই রয়েগেছে। শুধু মানুষ আর মার্কা চেঞ্জ হবে শুধু। বাকি সব আগের মতই থাকবে।
যে "আমজনতা" সারাদিন দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে চিল্লাপাল্লা করে, তারা নিজেরাও এগুলার বাইরে নতুন কিছু ভাবতে পারে না। ভোটের আগে এলাকায় লক্ষ-কোটি টাকা না উড়ালে সে কিসের প্রার্থী? কে তাকে ভোট দিবে? কেন দিবে? ভোট মানেই কালো টাকার মচ্ছব, প্রচারনার নামে এলাকার মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে শোডাউন করা, শব্দদূষণ করা, পেশীশক্তির প্রদর্শন করা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ এগুলা যারা করবে না, সামনের ভোটে তাদের গুণবেও না— এই মেন্টালিটিতেই আটকে আছে।
মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি, কালো টাকা মুক্ত নির্বাচন, দুর্নীতি চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে রাজনীতি— এসবের কোন মূল্য আমাদের তথাকথিত আমজনতার কাছে জিরো। সেটার প্রমাণ আপনারা হাসনাত বা হাদীর প্রতিটা কমেন্টে পাবেন। এরা রাজনীতি বুঝে না, এরা হুদাই পটর পটর করে এসব কমেন্টে ভরপুর।
জুলাই আন্দোলন আমাদের উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম গঞ্জের "সাধারণ মানুষ" দের "হাসিনা পালাইসে" এই আন্দটুকু দিয়েছে। এর বেশি কিছুনা। দেশের রাজনীতিতে আর যেন দুর্বৃত্তায়ন না হয়, লুটপাটকারী-চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী পালা মানুষগুলো যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, কেউ যেন গায়ের জোরে সংসদে গিয়ে ৫বছর অকল্পনীয় সম্পদ গড়ে দানবে পরিণত না হতে পারে— ৫ আগস্ট বিজয় উল্লাসে মাতোয়ারা আন্দোলনকারী, আন্দোলনে নিজের আপন ভাই, বাবা, স্বামীহারা মানুষেরদের এই যে ন্যূনতম স্বপ্ন ছিলো, এখন এসে মনে হচ্ছে, এদেশের বিশাল সংখ্যক মানুষের এসব নিয়ে কোন মাথাব্যথাই নাই। তারা আবার আগের সিস্টেমেই গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।
একদল দানব তাড়িয়ে তারা আরেকদল দানব মাথায় তুলে নিয়ে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে!
আসিফ ভাই