হাওয়া বাতাস

  • Home
  • হাওয়া বাতাস

হাওয়া বাতাস Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from হাওয়া বাতাস, Media, .

21/10/2025
21/10/2025

আমরা বিয়ের জন্য সংসারি মেয়ে খুঁজে আনি, কিন্তু তাদেরকে সংসার দেইনা।

কতো শত সহস্র মেয়ে আছে, যাদেরকে সংসারি দেখে ঘরে আনার পরও বহু বছর কেটে গেছে, কিন্তু শাশুড়ির সংসারেই ঘানি টেনে যাচ্ছে। নিজে এখনো সংসার পায়নি।

এখন অনেকেই বলবে- শাশুড়ির সংসার কি সংসার না?

না, সংসার না।

সংসার বলতে যদি শুধু বুঝে থাকে একটা বেডরুম, শুধু তুমি আমি, দিনে দু বেলা খাবার কোনমতে জুটে যাওয়া, তাহলে সংসার না খুঁজে ভাল কোন হোটেল ভাড়া নিয়ে উঠে গেলেই হয়। সংসার জানা বউ ঘরে আনার দরকার কী?

সংসার বলতে বোঝায় নিজের একটা রান্নাঘর। যেখানে একটা মেয়ে যা খুশি তাই রাধতে পারবে।

-"চায়ে চিনি বেশি দিলা কেন?
- তরকারিতে তেল বেশি হলো কেন?
- দুইবেলা নাস্তা বানাতে হবে কেন?
- এতো বারবার রান্না করতে হবে কেন?"

এগুলো কেউ জিজ্ঞেস করতে আসবেনা। আবার মন না চাইলে হাড়ি উল্টে তিনদিন শুয়ে থাকবো, কিচ্ছু রান্না করবোনা তাও কেউ কিছু বলবেনা।

সংসার বলতে নিজের ছোট্ট একটা ফ্রিজ, যেখানে খাবারের পাশাপাশি নিজের শখের একটা আইসক্রিম থাকবে, দুইটা চকোলেট থাকবে। আবার মুখে দেয়ার জন্য দু'টুকরো শসা থাকবে। কেউ এসব নিয়ে খোচাতে আসবেনা।

সংসার বলতে নিজের একটা টিভি যেখানে ভাত খেতে খেতে গোপালভাড় দেখবে, কেউ নিষেধ করবেনা।

সংসার মানে নিজের মতো করে চলতে পারে নিজের ঘরে। কেউ বলবে না বাবার বাড়িতে কি কি শিখে আসা হয়েছে।

সংসার করার জন্য যখন সংসারি মেয়ে খুঁজে আনবেন তখন এই সব দায়িত্ব তার উপরের ছেড়ে দিন। বরং যদি কাউকে আঙুলের ছড়ি ঘুরিয়ে রাখতে চান তবে বরং অসংসারী মেয়ে খুঁজে আনুন।

যে রাঁধতে জানেনা সে আপনার রান্নাঘরে রান্না করতেও ঢুকবেনা। অকাল কুষ্মাণ্ড খুঁজে বের করুন যেন আপনার কোন কাজে সে নাক না গলায়।

দিনরাত তাকে তিনবেলা খাইয়ে পরিয়ে মানুষ করবেন, আর সেই কমন ডায়লগ যেটা সবাইকে দেন- "বাপের বাড়ি থেকে কিচ্ছুটি শিখে আসোনি" সেটা দিতে থাকবেন। দেখবেন সে কোন প্রতিবাদ করতে আসবেনা।

কিন্তু সংসার জানা সংসারী মেয়েকে ঘরে এনে তাকে সংসার বিহীন জীবন কাটাতে বাধ্য করবেন না।

সংসার বড় মারাত্মক জিনিস। সংসার করার আকাঙ্ক্ষা বড় মারাত্মক। কোন সংসারী মেয়েকে তার সংসার থেকে এতোটাও বঞ্চিত কইরেন না যেন আপনার মৃত্যুতে সে স্বস্তি পায়।

- Nadia Parvin Juthi

19/10/2025

সকাল সকাল কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলতেই দেখি বাবা দরজায় দাঁড়িয়ে। বাবা তুমি? ভেতরে এসো বলেই নিজের মুখটা লুকাতে চাইছিলাম। কিন্তু আমার ঠোঁটের কোণে আঘাতের চিহ্ন বাবার নজর এড়াতে পারেনি।
- মলিন মুখে বাবাই বললেন কালও বুঝি শাহেদ তোর গায়ে হাত তুলেছে? আমি মাথা নিচু করেছিলাম। কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। ও কিছু না বাবা, বলে প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইলাম। বললাম বাবা, তুমি এতো সকালে? কখন বেড়িয়েছো? নাস্তা করেছো? বাবা বললেন করেছি মা। নাস্তা করেই তোর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছি। শাহেদ তো অফিসে চলে গেছে।
- হুম একটু আগেই বেড়িয়েছে। কিন্তু বাবা প্রায় এক ঘন্টা লেগে যায় তোমাদের ওখান থেকে এখানে আসতে। এতো সকালে বেড়িয়েছো কেনো বাবা?
-সকাল সকাল না এলে আমি, যে উদ্দেশ্যে এসেছি তার সময় যে পেড়িয়ে যাবে মা।
একটু বসো বাবা তোমার জন্য চা করে আনি।
- না রে মা, চা খেতে ইচ্ছে করছে না। আমি কিছু কথা বলতে এসেছি। তুই আমার সামনে বস একটু স্থির হয়ে। বাবা একটু ইতস্তত করে বলতে শুরু করলেন। মা আমি জানি, আমি তোর সাথে অন্যায় করে ফেলেছি।
তুই কতো ভালো ছাত্রী ছিলি অথচ আমি তোকে মাস্টার্স না করতেই বিয়ে দিয়ে দিলাম। শাহেদেরও তেমন খোঁজ নিইনি। আমার এক পরিচিতর কথায় তোর বিয়ে ঠিক করে ফেললাম। তুই তো কিছুটা জানিস আমার অর্থনৈতিক অবস্থাও তখন ভাল যাচ্ছিল না। সে সময় কোনো পণ ছাড়া যে বিয়ে দিতে পারবো,, সেটা ভেবেই আমি রাজি হয়ে গেছি। তোর মতামত নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করিনি।
- বাবা এসব কথা কেনো বলছো?
আমি জানি তুই বিয়ের পর থেকে ভালো নেই, যদিও আমাকে কখনো অভিযোগ করিস নি। কিন্তু আমি জেনেছি। তোর মা আমাকে গতকালই জানিয়েছে। তারপর থেকে ছটফট করছি মা।
- বাবা তুমি কষ্ট পেও না, সব ঠিক হয়ে যাবে দেখো।
কি ঠিক হবে বলতো? কিছুই ঠিক হবেনা।
- শোন যা বলছিলাম, আজকে তোর একটা চাকরির লিখিত পরীক্ষা আছে, তুই যাবি না? আমি অবাক হলাম বাবা কেমন করে পরীক্ষার কথা জানলো? ভাবলাম মা হয়তো বলেছে। বাবার প্রশ্নে আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না, এই পরীক্ষা দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই গতরাতে শাহেদ আমার গায়ে হাত তুলেছে। আমার কাছে সদুত্তর না পেয়ে বাবা আমাকে বেশ কড়া করেই বললেন, তুই পরীক্ষাটা দিতে যা মা। এই পরীক্ষাটা তোকে দিতেই হবে। আমি আদেশ করছি। আমি জানি কোনদিন আমার অবাধ্য ছিলি না তুই। আজও আমার কথা শুনবি। আমি পরীক্ষায় তোকে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি যাবো। আমি অগত্যা কাপড় পাল্টে নিলাম। রেডি হয়ে বাবার সাথে বের হয়েছি সাড়ে আটটার ভেতর। যদিও কাছেই পরীক্ষা কেন্দ্র। বাবাকে বিদায় দিয়ে ঢুকতে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী মোবাইলের সুইচটা অফ করেছি।

দশটা থেকে পরীক্ষা শুরু। এগারোটার পর পর পরীক্ষার হল থেকে বেড়িয়ে ফোনের সুইচ অন করেছি। সাথে সাথে ভাইয়ার ফোন, তুই কই? তোর ফোন বন্ধ কেনো এতক্ষণ? ভাইয়ার গলা শুনে আমার ভালো ঠেকলো না। কেনো কি হয়েছে ভাইয়া?
-তুই বাসায় আয় এক্ষুনি। আমি আর চাচু বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে। বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। মা বাড়িতে। মাকে নিয়ে তুই শীঘ্রই চলে আয় হাসপাতালে।
আমার ভেতরটা যেনো ঝড় বইতে লাগলো। একটু আগেও তো বাবার সাথে ছিলাম। এই এক ঘন্টার মাঝে এতো কিছু হয়ে গেছে। এই চাকরির পরীক্ষাটায় আমার কাল হয়েছে। এই পরীক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই শাহেদ আমাকে মারতে উদ্যত হলো। আর এখন বাবার এই অবস্থা। ভেতরটা আমার অসাড় হয়ে যাচ্ছে কিচ্ছু ভাবতে পারছি না। মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কিভাবে নিজেকে সামলেছি তা স্রষ্টায় জানেন। কিন্তু তখনও আমার জানার আরও কিছু বাকি ছিলো। মায়ের কাছে যেতেই মা আছড়ে পড়লেন আমার গায়ে। কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারছেন না। আমি অনেক কষ্টে মাকে বুঝিয়ে কিছুটা শান্ত করলাম।তারপর মা'কে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দিলাম।

হাসপাতালের করিডোরে আমরা বসে আছি। মা কেনো জানি নিশ্চুপ হয়ে গেছে। চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে ঠিকই, কিন্তু কোনো অস্থিরতা নাই। আমি মা'কে জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছিলো বাবার? মা যা বললেন তা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। মা আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, গতরাতে আমার আর শাহেদের বিষয়টি বাবা জানবার পর থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন। শেষ রাতের দিকে শরীর বেশিই খারাপ করতে লাগলো। ভোরের মধ্যেই ভাইয়া অনেক চেষ্টা করে এম্বুলেন্স ঠিক করে বাবাকে হাসপাতালে এডমিট করেছে। এডমিট করে বিভিন্ন ফর্মালিটি শেষ করতে করতেই অনেক সময় লেগে গেছে। আর আমাকে খুব ভোরে খবর দেওয়া হয়নি কারণ ওই সময়টাতে হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেতো। ট্রান্সপোর্ট পেতাম কিনা বা পেলেও আমার জন্য আসাটা সেইফ হবে কিনা সেসব ভেবেছিলো ভাইয়া। কিন্তু আমাকে যখন থেকে নক করেছে তখন আমার ফোন বন্ধ পাচ্ছিলো। আমি মা'কে থামিয়ে দিয়ে বললাম কি বলছো মা, বাবা তো সকালে আমার ওখানে......আমি আর কথা শেষ করতে পারলাম না। ভাইয়া আর চাচু হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলো আমাদের কাছে। ওদের মুখ দেখে আমার আত্মা শুকিয়ে গেলো। আমি বুঝতে পারলাম জীবনের সবচেয়ে খারাপ,আর কষ্টের সংবাদ শুনতে যাচ্ছি। হ্যাঁ ঠিকই বুঝতে পারলাম বাবা আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। সকালে হাসপাতালে এডমিট করার সাথে সাথেই অবস্থা বুঝে ডাক্তাররা আই.সি.ইউ তে নিয়ে গেছিলেন। আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশন শুরু করেছিলেন তার পর পরই। কিন্তু বাবার অবস্থার আর কোন উন্নতি হয়নি। শেষটায় উনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

মাকে শক্ত করে ধরে আছি। কিন্তু আমি কিছুতেই কাঁদতে পারছিনা, গলার কাছটায় দলা পাকানো কান্না বেঁধে আছে, বুকের ভেতর যেনো খুঁচিয়ে চলেছে কেউ। দম আটকে আসছে তবুও আমি কাঁদতে পারছি না। আমার যে অনেক প্রশ্ন বাবার কাছে। যার উত্তর আমি কোনোদিন পাবো না। আজ সকালেও, যে মানুষটি আমার কাছে গিয়েছিলো, আমার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছিলো, ছোটবেলা থেকে এভাবেই তো শক্ত করে আগলে রাখতো বাবা। সেই মানুষটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েও আমার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলো। একথা কি কেউ বিশ্বাস করবে? কিন্তু আমি তো জানি। আজ সকালে বাবার সাথে কাটানো প্রতিটি সেকেন্ডের কথা আমার মনে আছে। আর আমিই বা কি করে বিশ্বাস করি বাবা আর নেই। আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু আমি পারছি না। ভিষণ দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে গেছি। বাবা তুমি কোথায়???! আর একটিবার দেখা দাও বাবা, শুধু একটিবার।

বাবাকে হারিয়ে তিনটা দিন পেড়িয়ে গেছে। নিজেকে সামলে নিয়েছি কিন্তু মনকে বোঝাতে পারিনি। সেদিনের সকালের ঘটনা আমার মাঝেই রেখেছি। ভাইয়া আর মা'কে বলতে পারিনি। কেনো জানি না একটা অপরাধবোধ কাজ করছে। বারবার মনে হচ্ছে আমাকে নিয়ে বাবা কষ্ট পেয়েছিলেন আর তা সহ্য করতে পারেননি বলেই তিনি মারা গেছেন। কিন্তু মরে গিয়েও কি শান্তি পেয়েছিলেন??! তাঁর অতৃপ্ত আত্মা ছুটে এসেছিলো আমার কাছে, আমাকে একটা পথ দেখিয়ে দিতে।

এ তিন দিনের প্রথম দিন রাতে শাহেদ এ বাড়িতেই ছিলো। পরদিন চলে গেছে। দিনের কিছুটা সময় এখানে অতিবাহিত করলেও রাতটাতে আর থাকেনি। আমি চাইওনি সে থাকুক। কারণ ওর প্রতি কোন অনুভূতি কাজ করেনা আমার। ওর ব্যবহারগুলো মনে পড়লে শুধু তিক্ততাই আসে আর কিছু না। আমার সাধাসিধে জীবনটাকে অসহনীয় করে তুলেছিলো সে। তাই ওর থেকে দূরত্বটা আমাকে বরং স্বস্তি দিচ্ছে। এই স্বস্তিটা আঁকড়েই আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে পড়লো ভাইয়া আর মা নিজেদের সামলাবে কি করে। ভাইয়া ছোটখাটো চাকরি করে মাকে নিয়ে গুছিয়ে চলতে ওর কষ্ট হবে, এর মাঝে আমিও যদি চলে আসি তাহলে ওদের উপর একটা বোঝা হয়ে যাবো হয়তো। অন্তত যতদিন নিজের একটা ব্যবস্থা করতে না পারি ততদিন শাহেদের ওখানে গিয়ে কাটিয়ে দিতে হবে। বাবা চলে গেলো মাত্র তিনটি দিন হলো। এরই মাঝে এই দুশ্চিন্তাগুলো আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। কঠিন বাস্তবতা কখনো কখনো শোককেও ভুলিয়ে দেয়। এসব ভাবনার মাঝে মোবাইলে হঠাৎ মেসেজ টোন বেজে উঠলো। চেক করতেই যেনো চমকে উঠলাম। সেদিনের লিখিত পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হয়েছি সেই মেসেজই এসেছে। ভাইভার জন্য কল করেছে কদিন পরেই।
বাবা চলে যাবার আটদিনের মাথায় আমার চাকরিটা হয়ে গেলো। এই চাকরিটা আমার হবার কথা ছিলো কি??? আমি তো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাইনি। সেদিন বাবা জোর করেছিলেন বলেই আমি বিকল্প কিছু ভাবতে পারছি। কিন্তু এই ঘটনাগুলোর পেছনে কত বড় একটি রহস্য লুকিয়ে আছে, তা কেউ হয়তো জানবে না। শাহেদ জানবেনা, মা'কে জানাতে পারবো না, ভাইয়াকেও জানাতে চাই না। থাক না রহস্যটি লুকিয়ে আমার আর বাবার মাঝে। আরেকটি বার কি আসবে বাবা আমার কাছে? আরেকটি বার এসো বাবা প্রাণ ভরে তোমায় দেখি। যে বাবা মৃত্যু পথযাত্রী হয়েও সন্তানের মঙ্গলটাই ভেবেছেন।

আর সাত আটদিনের মাথায় আমার চাকুরিতে জয়নিং। আমি শাহেদকে ফোন করে জানালাম। ও যেনো আকাশ থেকে পড়লো। কিছুতেই মানতে পারছে না যে আমি সেদিন পরীক্ষা দিতে গেছি ওই অবস্থায়। আবার সে চাকরিটা আমার হয়েও গেছে। মুখের উপর সাফ সাফ জানিয়ে দিলো, সে অবাধ্য স্ত্রীর সাথে সংসার করতে ইচ্ছুক না। আমিও আর কথা বাড়াতে চাইনি। আমি এখন থেকে নিজের জন্য বাঁচবো। আমার মতো করে বাঁচবো। পৃথিবীর অনেক বাবাই পারে না মেয়ের পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে, আমার বাবা তো মরে গিয়েও পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। চলে যাওয়ার আগে আমাকে সঠিক পথটা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। আমি এখন সেই পথেই হাঁটবো।।

________সমাপ্ত_____

#সংগ্রহীত

19/10/2025

অফিস থেকে বাসায় ফিরে বেল বাজাতেই সেঁজুতি বেজার মুখে দরজা খুলল। "কী ব্যাপার, মুড অফ নাকি?" জিজ্ঞেস করলেও তার উত্তর না দিয়ে রুমে চলে গেল। সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল আমার মেয়ে দোলা। সে ফিসফিস করে বলল, "সজীব ভাইয়া এসেছে।"

বুঝলাম এই হচ্ছে ওর মার মুড খারাপ হওয়ার কারণ। সত্যি বলতে, আমি নিজেও একটু বিরক্ত হলাম। এভাবে না বলে বাসায় চলে আসার মানে কী! বিশেষ করে যখন আমি বাসায় নেই। একটা ফোন করে তো আসবে। আর ওর আসা মানেই টাকা লাগবে, হয়তো ওর মা দিচ্ছে না।

একরাশ বিরক্তি নিয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকলাম। সোফায় জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে সজীব। ছেলেটার মুখের দিকে তাকাতেই মনটা কেমন করে উঠল। মুখটা একদম শুকিয়ে আছে। বাতাসে ঘামের চাপা গন্ধ, হয়তো বাসে চড়ে এসেছে। আমাকে দেখে সালাম দিয়ে একটু নড়ে চড়ে বসল।

সালামের উত্তর দিয়ে বললাম, "কখন এসেছ সজীব?"
"আধা ঘণ্টা হবে বাবা। ভেবেছিলাম এই সময় তুমি চলে আস।"
"হ্যাঁ, আজ একটু দেরি হয়ে গেল ফিরতে, একটা মিটিং ছিল।"
"কিছু খেয়েছ?" জিজ্ঞেস করে নিজেই বিব্রতবোধ করলাম। কিছু দিলে তো টেবিলেই থাকত। তাছাড়া আমি না বললে সেঁজুতি এক কাপ চাও দিতে চায় না ওরা আসলে।
পর্দার নিচ দিয়ে দোলার পা দেখা যাচ্ছে। আড়ি পেতে কথা শোনে নাকি! এই বয়সে এই স্বভাব!
জোরে ডাকলাম, "দোলা, ভাইয়ের জন্য পানি আর নাস্তা নিয়ে এসো, যাও।"

পায়ের আওয়াজ শুনে বুঝলাম দোলা দৌড়ে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর একটা ট্রেতে এক গ্লাস পানি আর কয়েকটা বিস্কুট নিয়ে আসল। ছেলেটা সাথে সাথে গ্লাসটা নিয়ে এক ঢোকে পানি শেষ করে ফেলল। দেখে বুঝাই যাচ্ছে, খুব পিপাসা পেয়েছিল। ভূতের গলি থেকে গুলশান কম দূরত্ব তো নয়। সরাসরি বাসও তো নেই। নিশ্চয়ই বাসা থেকে ফার্মগেট থেকে বনানী এসে আবার সেখান থেকে রিক্সায় বা হেঁটে এসেছে। দোলাকে বললাম, আরেক গ্লাস পানি নিয়ে এসো। নাস্তার কথা আর বললাম না, সেধে ছেলের সামনে আর অপমান হতে চাই না।

"তোমরা সবাই কেমন আছ? সায়রা ভালো আছে? ওর সাথে অনেকদিন কথা হয় না।"

"সায়রা ভালো আছে বাবা, এইচএসসি পরীক্ষা সামনে। চাপে আছে। তুমিও তো ফোন করো না।"

ঠিক! আমিও তো ফোন করি না। খুব একটা মনেও হয় না আসলে। সায়রার সাথে থাকলে সে কি নিত্যনতুন বায়না করত আমার কাছে, দোলার মতো? সেদিনও একটা নতুন জামা কিনে দিলাম তাকে, সাথে অ্যাক্রেলিক কালার সেট। সায়রাও খুব ভালো ছবি আঁকে, সে কি আর্টের জিনিসপত্র মনমতো কিনতে পারে? শখ হলেই একটা জামা কিনতে পারে? ওর মা খুব বেশি আয় তো করে না। হয়তো অনেক শখই মেটাতে পারে না। সজীবের হাতে ওর জন্য কিছু টাকা দিয়ে দেবো ভাবলাম।

হঠাৎ দেখি, সজীব কাঁদছে, ওর পুরো গা কাঁপছে। এর মধ্যে দোলা এসে আরেক গ্লাস পানি দিয়ে গেছে। ওকে পানি দিতে গেলে না করল। আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম, "কী হয়েছে বাবা, বলো।"
"মা কেমন আছে জিজ্ঞেস করবে না বাবা?"
শারমিন! শারমিনের কথা তো আমি কখনোই জিজ্ঞেস করি না। প্রাক্তনের কথা জিজ্ঞেস করা কি উচিত? অবশ্য ভদ্রতা করে ওদের মা কেমন আছে, তা তো জিজ্ঞেস করাই যায়। সেই ভদ্রতাটুকু অবশ্য আমি কখনো করিনি।
"তোমার মায়ের কিছু হয়েছে সজীব।"
"মায়ের ক্যান্সার হয়েছে বাবা। স্টমাক ক্যান্সার, স্টেজ ফোর।"
থমকে গেলাম। ছেলেটা হাঁপুস নয়নে কাঁদছে। ওকে কী বলে সান্ত্বনা দেবো আমি?
কোনো মতে জিজ্ঞাসা করলাম, "কবে ধরা পড়ল?"
"গত সপ্তাহে, পরশু থেকে কেমো শুরু করতে হবে, বেশি সময় নেই বাবা।"
ওর কাছ থেকে হাসপাতাল আর কেমোর সময় সব নিয়ে রাখলাম। ছেলেটাকে ছাড়তে মনে চাইছিল না। বললাম, "চলো, তোমাকে উবার ঠিক করে দিচ্ছি।"
"না না, আমি বাসেই যেতে পারব।"
বুঝলাম ছেলেটা ভাড়ার কথা ভাবছে। বললাম, "আরে চলো তো।"
ওকে নিয়ে বের হয়ে একটা রেস্টুরেন্টে বসে বাপ-ছেলে রাতের খাবারটা খেলাম। খাবারটা খুব মজার হলেও সজীব তেমন খেতে পারল না। হয়তো ফ্রাইড রাইস ওর পছন্দ না। আচ্ছা! ওর পছন্দের খাবার কি সেটাই তো আমি জানি না। বাসার জন্যও কিছু খাবার প্যাক করে দিলাম। সেঁজুতি আর দোলার জন্যও নিয়ে নিলাম। এখানকার খাবার ওদের দু'জনেরই খুব পছন্দ।
সজীবকে একটা উবার ঠিক করে উঠিয়ে দিলাম, আমার কার্ড থেকে পেমেন্ট হয়ে যাবে। যাওয়ার আগে ওকে বললাম, "তুমি ভেঙে পড়ো না, আমি তো আছি।"
ছেলেকে এ কথা বললেও নিজের মনেই সংশয়, কতটা থাকতে পারব আমি?

বাসায় ফিরে দেখি সেঁজুতি তখনও মুখ ভার করে বসে আছে। আমি এখনও অফিসের পোশাক পাল্টাইনি। একবারে গোসল করতে চলে গেলাম। ওর সাথে রাতে কথা বলব।

সব শুনে সেঁজুতিও থম ধরে গেল। স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানদের পছন্দ না করলেও সে নিষ্ঠুর তো নয়। ওকে যখন বললাম যে, শারমিনের প্রথম কেমোর দিন আমি হাসপাতালে যাব, সে মানা করল না। তবে খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল, "তবে দেখো, টাকা-পয়সার ঝাঁপি খুলে বসো না।"

নির্ধারিত দিনে আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। শারমিনকে তখন ভেতরে নিয়ে গেছে। ওর সামনে গেলাম না। সায়রার পাশে গিয়ে বসলাম, মেয়েটা শুকনো মুখে করিডোরে একটা চেয়ারে বসে আছে। অনেক শুকিয়ে গেছে মেয়েটা, চোখ-মুখ ফুলে আছে। বুঝাই যাচ্ছে, দিন-রাত কান্নাকাটি করছে। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম, "মা ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।"
জবাবে সায়রা শুধু মাথা ঝাঁকাল। মেয়েটার সাথে আমার অনেক দূরত্ব। সজীবের সাথে তাও আমি কিছু সময় কাটিয়েছি, সায়রার সাথে একদমই স্মৃতি নেই আমার। ওর দেড় বছরের সময়ই আমার আর শারমিনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আর তার আগের সময়টা আমি নতুন প্রেমে বিভোর ছিলাম। সেঁজুতি ছাডা সেই সময়টা আমার মাথায় কিচ্ছু ছিল না। সায়রা কবে হামাগুড়ি দিল, কবে ওর প্রথম দাঁত উঠল, কবে সে হাঁটতে শিখল, আমি কিছুই বলতে পারব না।

ওয়ার্ডের দরজাটা খুললে শারমিনকে এক ঝলক দেখলাম। শীর্ণ চেহারা, রুগ্ন শরীর, যা শুনেছি, অনেক দিন ধরেই শরীর খারাপ ছিল। কিন্তু সব লক্ষণ অগ্রাহ্য করে শুধু গ্যাসের ওষুধ দিয়ে চালিয়েছে। ডাক্তার দেখায়নি। এ কয়দিন আমি স্টমাক ক্যান্সার নিয়ে বেশ রিসার্চ করেছি। সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

"সায়রা, সজীব, এই নাও কফি। খেয়ে নাও, ভালো লাগবে।" আমার বয়সী এক ভদ্রলোক দুই কাপ কফি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখে বললেন, "ওহ! আমি জানতাম না আপনি এসেছেন। কফি খাবেন?"
"না, ধন্যবাদ। কিন্তু আপনি?"
"বাবা, উনি হামিম আংকেল, মার কলিগ। আমাদের খুব হেল্প করছেন।" সজীব বলে উঠল। ছেলে-মেয়েরা কফি নিয়ে নিলে ভদ্রলোকের সাথে হাত মিলালাম। শারমিনের চিকিৎসার নাড়ি-নক্ষত্র উনার জানা। বুঝলাম সব দৌড়াদৌড়ি উনিই করছেন। শারমিনের বাপের বাড়ির দিকে তেমন কেউ নেই। এক ভাই আছে, ইটালি থাকে। হামিম সাহেবকে ধন্যবাদ দিলাম এই বিপদে ওদের পাশে থাকার জন্য।

হামিম সাহেবের উৎকণ্ঠা দেখছি শারমিনের জন্য, বাচ্চাদের প্রতিও অনেক খেয়াল। বিবাহিত জীবনে শারমিনের প্রতি আমি কখনো এতটা খেয়াল দেখাইনি। মনের মিলই হয়নি। শারমিন অবশ্য অনেক চেষ্টা করত আমাকে খুশি রাখার। অফিস থেকে আসলে সেজেগুজে থাকত, পছন্দের খাবার রান্না করত। অভিযোগ করার সুযোগ দিত না আমাকে। কিন্তু ঢাকায় পড়াশোনা করে আধুনিকতার দেখা পাওয়া আমার মফস্বলের মেয়েটিকে মনে ধরেনি। মনে আছে, একবার ও অসুস্থ থাকায় রান্না করতে পারেনি, আমি বলেছিলাম নাটক করছে আমার মনোযোগ পাওয়ার জন্য। এরপর সজীব এলো, শারমিন তার সমস্ত মনোযোগ সন্তানের প্রতি ঢেলে দিল। বছর দুয়েক পর সায়রা আগমনের সংবাদ পাই। সায়রা পেটে থাকতেই আমার সেঁজুতির সাথে পরিচয়। শহুরে, আধুনিকা, যেমন মেধাবী, তেমন চৌকষ, বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করে। আমার অফিসের একটা প্রেজেন্টেশন দিতে গিয়ে ওর সাথে পরিচয়। সায়রা যখন পৃথিবীতে এলো, তখন আমি সেঁজুতিতে ভীষণভাবে মগ্ন। ওর জন্য নিজের সন্তানদের ছেড়ে অন্য ঘর বাঁধতে দ্বিধা করিনি আমি।

"তুহিন সাহেব, একটা কথা বলব?" হামিম সাহেব জিজ্ঞেস করেন।
"বলুন।" হামিম সাহেবের সাথে শারমিনের সম্পর্ক আছে কিনা চিন্তা করছি, না হলে এ যুগে কে কার জন্য এভাবে করে?
"কী ভাবছেন?"
"কিছু না, আপনি বলুন।"
"শারমিনকে আমি বেশ ক'বছর ধরে চিনি। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন, অনেক পরিশ্রমী। পাঁচ বছর আগে আমার স্ত্রী আর মেয়ে একটা রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়। সেই থেকে একাই আছি।" এতটুক বলে ভদ্রলোক থামলেন।
এত ইতিহাস বলার উদ্দেশ্যটা আন্দাজ করার চেষ্টা করছি।
হামিম সাহেব আবার বলতে শুরু করলেন, "একাকী জীবন আর টানতে পারছিলাম না। শারমিনকে আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম মাস ছয়েক আগে। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের কথা ভেবে উনি আমাকে রিজেক্ট করে দেন। আমি মেনেই নিয়েছিলাম। কিন্তু উনার এই অবস্থায় দূরত্ব বজায় রাখতে পারিনি। তুহিন সাহেব, আমি উনার আর ছেলে-মেয়েদের পাশে থাকতে চাই।" বলে আমার হাত ধরলেন। আমিও অন্য হাত দিয়ে তার হাতের উপর আলতো চাপ দিলাম। বললাম, "আপনি যা করছেন, তা সত্যি ভাবা যায় না।"
"দেখুন, শারমিনের এখন অনেক সেবা, অনেক যত্নের প্রয়োজন হবে। আমি জানি না বাচ্চারা কতটুকু পারবে। কলিগ হিসেবে আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, আপনি তো বুঝেন। আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ প্রশ্ন করবে, আমি কে, ওদের সাথে আমার কী সম্পর্ক।"

"আপনি কী করতে চাচ্ছেন?"

"আমি পূর্ণ অধিকার নিয়ে শারমিনের পাশে থাকতে চাচ্ছি। হয়তো শারমিনের হাতে বেশি সময় নেই। কিন্তু আমি চাই, ও জানুক, কেউ ওর পাশে আছে, ওর হাতটা ধরে আছে। আপনার কাছে আমার অনুমতি চাওয়ার কিছু নেই। তবুও আপনি পরোক্ষভাবে তাদের পরিবারের অংশ। তাই আপনাকে জানালাম। সজীব আর সায়রারও মত আছে।"

আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। শারমিনের মুখটা চোখের সামনে ভাসছে। বিয়ের সময়কার, যেদিন আমি বললাম আমি ওকে ডিভোর্স দিতে চাই সেদিনকার, এখনকার। চোখ খুলে আমার সামনে বসা ভদ্রলোককে দেখলাম। প্রায় ফুরিয়ে যাওয়া, মৃত্যু পথযাত্রী শারমিনের সঙ্গী হতে চাচ্ছেন তিনি। অথচ চোখে-মুখে কী উৎসাহ! আমার বিস্ময় বাঁধ মানছে না, এমনও ভালোবাসা হয়! এভাবেও পাশে থাকা যায়! সজীব আর সায়রা অদূরেই বসে আছে, আড়চোখে ওদের দিকে তাকালাম। সত্যি, ওদের একটা শক্ত সাপোর্ট দরকার, যেটা আমি কখনোই হতে পারব না। আমি হামিম সাহেবের সাথে হাত মিলাই। বলি, "আপনি দারুণ মানুষ হামিম সাহেব, ভালো থাকবেন আপনি, অনেক ভালো থাকবেন।" তাকে বলা হয় না, তার সামনে নিজেকে অনেক ছোটো লাগছে আমার। এখানে বসেও আমি হিসাব করছিলাম শারমিনের চিকিৎসায় কত টাকা দিয়ে আমি দায় সারতে পারব। নিজের ক্ষুদ্রতা নিয়ে শারমিনের সাথে আর দেখা করা হয় না। তার জীবনের এই অন্ধকার সময়েও আলো দেখানোর মানুষ এসে গেছে। আমি যা পারিনি, তা অন্য কেউ করছে তার জন্য। যতদিন বাঁচুক সে, ভালোবাসায় বাঁচুক।

েষ_আশ্রয়_ #
#ছোটোগল্প
#ইসরাত_মোস্তফা

19/10/2025

মা হওয়ার পরে একটি মেয়ে সবচেয়ে বেশি ডি'প্রেশনে তখনই ভো'গে, যখন তার পরিবার এবং প্রিয় মানুষগুলো, তার মাতৃত্বের ত্যা'গগুলোকে গুরুত্বহী'ন ও মূল্যহী'ন ভেবে উপেক্ষা করে💔

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হাওয়া বাতাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share