24/12/2025
‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই,
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’
১৯৬৭ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় উপন্যাস ‘গণদেবতা’। শিবকালীপুর গ্রামের একটি চণ্ডীমণ্ডপকে কেন্দ্র করে বাংলার গ্রামীণ রাজনীতির একটি রূপ এই উপন্যাসে বেশ সূক্ষভাবে ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলের দুর্ভিক্ষ, সামন্তবাদের প্রভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য আর তার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন- এই সবগুলো বিষয়কে এই উপন্যাসে সন্নিবেশিত করেছেন তারাশঙ্কর। এর পাশাপাশি মানুষ কীভাবে নিজেদের পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে কীভাবে শহুরে জীবনযাত্রায় আগ্রহী হয় বা বলা ভালো শহরে যেতে বাধ্য হয়- সেই দিকেও লেখক আলো ফেলেছেন।
বস্তুত, এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়বস্তু ‘মানুষ।’ তাই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টিতে দেবতা পুরাণের কোনো পাথুরে মূর্তি নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেই দেবতা বা অসুর নিহিত।
“মানুষ সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে অঙ্কশাস্ত্রের অতিরিক্ত রহস্য পৃথিবীর সমুদ্রতটের বালুকারাশির মধ্যে একটি বালুকণার মতই ব্রহ্মাণ্ড-ব্যপ্তির অভ্যন্তরে এই পৃথিবী, তাহার মধ্যে যে জীবনরহস্য, সে রহস্য ব্রহ্মাণ্ডের গ্রহ-উপগ্রহের রহস্যের ব্যতিক্রম- এক কণা পরিমাণ জীবন, প্রকৃতির প্রতিকূলতা, মৃত্যুর অমোঘ শক্তি- সমস্তকে অতিক্রম করিয়া শত ধারায়, সহস্র ধারায়, লক্ষ ধারায়, কোটি কোটি ধারায় কালে কালে তালে তালে উচ্ছ্বসিত হইয়া মহাপ্রবাহে পরিণত হইয়া বহিয়া চলিয়াছে। সে সকল বাধাকেই অতিক্রম করিবে। আনন্দময়ী প্রাণবতী সৃষ্টি, অফুরন্ত তাহার শক্তি- সে তাহার জীবন-বিকাশের সকল প্রতিকূল শক্তিকে ধ্বংস করিবে, তাহাতে তাহার সংশয় নাই আজ।”