Aaratrika Ghosh

  • Home
  • Aaratrika Ghosh

Aaratrika Ghosh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Aaratrika Ghosh, .

‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণীভয় নাই ওরে ভয় নাই, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দানক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’১৯৬৭ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ...
24/12/2025

‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই,
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’

১৯৬৭ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় উপন্যাস ‘গণদেবতা’। শিবকালীপুর গ্রামের একটি চণ্ডীমণ্ডপকে কেন্দ্র করে বাংলার গ্রামীণ রাজনীতির একটি রূপ এই উপন্যাসে বেশ সূক্ষভাবে ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলের দুর্ভিক্ষ, সামন্তবাদের প্রভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য আর তার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন- এই সবগুলো বিষয়কে এই উপন্যাসে সন্নিবেশিত করেছেন তারাশঙ্কর। এর পাশাপাশি মানুষ কীভাবে নিজেদের পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে কীভাবে শহুরে জীবনযাত্রায় আগ্রহী হয় বা বলা ভালো শহরে যেতে বাধ্য হয়- সেই দিকেও লেখক আলো ফেলেছেন।

বস্তুত, এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়বস্তু ‘মানুষ।’ তাই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টিতে দেবতা পুরাণের কোনো পাথুরে মূর্তি নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেই দেবতা বা অসুর নিহিত।

“মানুষ সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে অঙ্কশাস্ত্রের অতিরিক্ত রহস্য পৃথিবীর সমুদ্রতটের বালুকারাশির মধ্যে একটি বালুকণার মতই ব্রহ্মাণ্ড-ব্যপ্তির অভ্যন্তরে এই পৃথিবী, তাহার মধ্যে যে জীবনরহস্য, সে রহস্য ব্রহ্মাণ্ডের গ্রহ-উপগ্রহের রহস্যের ব্যতিক্রম- এক কণা পরিমাণ জীবন, প্রকৃতির প্রতিকূলতা, মৃত্যুর অমোঘ শক্তি- সমস্তকে অতিক্রম করিয়া শত ধারায়, সহস্র ধারায়, লক্ষ ধারায়, কোটি কোটি ধারায় কালে কালে তালে তালে উচ্ছ্বসিত হইয়া মহাপ্রবাহে পরিণত হইয়া বহিয়া চলিয়াছে। সে সকল বাধাকেই অতিক্রম করিবে। আনন্দময়ী প্রাণবতী সৃষ্টি, অফুরন্ত তাহার শক্তি- সে তাহার জীবন-বিকাশের সকল প্রতিকূল শক্তিকে ধ্বংস করিবে, তাহাতে তাহার সংশয় নাই আজ।”

24/12/2025
মেরি ওয়ালটন: ধোঁয়া আর শব্দের দানবকে হারানো এক অদম্য নারী১৮০০-এর দশকের শেষ দিককার কথা। আধুনিকতার নামে নিউ ইয়র্ক সিটি ত...
24/12/2025

মেরি ওয়ালটন: ধোঁয়া আর শব্দের দানবকে হারানো এক অদম্য নারী

১৮০০-এর দশকের শেষ দিককার কথা। আধুনিকতার নামে নিউ ইয়র্ক সিটি তখন এক বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার ওপর দিয়ে যখন কয়লার ট্রেনগুলো গগনবিদারী আর্তনাদ করে ছুটে যেত, তখন শহরটা কেঁপে উঠত থরথর করে। আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী সূর্যের আলো ঢেকে দিত। বাড়িঘর, মানুষের জামাকাপড়, এমনকি ফুসফুস—সবকিছু ছেয়ে যেত ঘন কালচে কালিতে।

ডাক্তাররা সতর্ক করেছিলেন, এই বিরামহীন শব্দ আর দূষণ মানুষকে অসুস্থ করে ফেলছে। ইঞ্জিনিয়াররা সমাধান নিয়ে তর্কে মেতেছিলেন। বড় বড় উদ্ভাবকরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত শহরবাসী ধরেই নিয়েছিল—প্রগতির এটাই বোধহয় নির্মম মূল্য। সবাই মানিয়ে নিতে শিখল।

কিন্তু একজন নারী তা মানতে অস্বীকার করলেন। তাঁর নাম মেরি ওয়ালটন।

মেরির কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছিল না। তিনি ছিলেন নিউ ইয়র্কের একটি সাধারণ বোর্ডিং হাউসের মালকিন। তাঁর বাড়িটি ছিল ঠিক রেললাইনের গা ঘেঁষে।

প্রতিদিন তাঁর ঘরে বৃষ্টির মতো ছাই আর ধোঁয়া ঢুকত। প্রতি রাতে ট্রেনের বিকট শব্দে তাঁর দেয়ালগুলো মনে হতো এই বুঝি ধসে পড়বে। অন্য সবাই যখন একে ‘উন্নতির অভিশাপ’ মনে করে মুখ বুজে সইত, মেরি তখন একে দেখেছিলেন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে।

তিনি শুরু করলেন তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ।

1879 সালে মেরি আবিষ্কার করলেন কীভাবে রেলের ইঞ্জিনের ধোঁয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তিনি ধোঁয়াকে ড্রাম ভর্তি জলের মধ্য দিয়ে চালিত করার এক উপায় বের করলেন, যা বাতাসে মেশার আগেই ধোঁয়ার কালি আর ছাইকে জলের মধ্যে আটকে ফেলত। এটি এক অবিশ্বাস্য সাফল্য ছিল! নিউ ইয়র্কের বাতাস পরিষ্কার হতে শুরু করল। ব্রিটিশরা একে সেই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন বলে স্বীকৃতি দিল।

কিন্তু মেরির লক্ষ্য ছিল আরও বড়—সেই দানবীয় শব্দকে থামানো।

এমনকি স্বয়ং টমাস আলভা এডিসনও যখন ট্রেনের সেই গগনবিদারী শব্দ থামাতে ব্যর্থ হলেন, মেরি তখন নিজের কানে হাত দিয়ে রেললাইনের ওপর বসে শব্দটা বোঝার চেষ্টা করলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন, রেলের লোহার পাতগুলো আসলে একটা দানবীয় বেহালার মতো কাজ করছে—চাকা চলার ঘর্ষণকে কয়েক হাজার গুণ বাড়িয়ে শব্দ উৎপন্ন করছে।

তাঁর সমাধান? তিনি রেললাইনের পাতগুলোকে বালি, আলকাতরা, তুলা আর কাঠের এক শক্তিশালী মিশ্রণ দিয়ে ঘিরে দিলেন যাতে তা কম্পন শুষে নিতে পারে। ফলাফল? সেই ভয়াবহ গর্জন এক নিমেষেই ভ্যানিশ হয়ে গেল! শহর ফিরে পেল তার হারিয়ে যাওয়া নিস্তব্ধতা। $1881$ সালে তিনি এই প্রযুক্তির প্যাটেন্ট করান।

মেরি ওয়ালটন তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় দুটি নাগরিক সমস্যা—বায়ু দূষণ এবং শব্দ দূষণ—সমাধান করেছিলেন স্রেফ নিজের উপস্থিত বুদ্ধি আর হার না মানা মানসিকতা দিয়ে।

তিনি খ্যাতির পেছনে দৌড়াননি। কারো অনুমতির অপেক্ষাও করেননি। যা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তিনি স্রেফ তা মেরামত করেছিলেন। বর্তমানে যাকে আমরা ‘এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলি, তা যখন অভিধানেও ছিল না, মেরি তখন সেটি বাস্তবে করে দেখিয়েছিলেন। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নামটি তাই সোনার অক্ষরে লেখা থাকা উচিত।

©আরাত্রিকা

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Aaratrika Ghosh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share