09/10/2025
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া দল এনসিপিকে ভোটের মাঠে সঙ্গে পেতে চায় বিএনপি।
আলোচনা এগোলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন উভয় দলের নেতারা।
তবে বিএনপি নতুন এই দলটিকে তাদের জোটবদ্ধ করতে না পারলেও জামায়াত থেকে দূরে রাখতে চায়।
অন্যদিকে ভোটের মাঠে গণঅভ্যুত্থানের আবেগ পক্ষে রাখতে এনসিপির সঙ্গে জোট না হলেও অন্তত নির্বাচনী সমঝোতা করতে আগ্রহী জামায়াতে ইসলামী।
এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রত্যাশিত সংখ্যক আসনে ছাড় এবং নির্বাচনে সব রকম সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে তাদের সঙ্গে গেলে ডানপন্থি ‘ট্যাগের’ ভয় রয়েছে। আবার বিএনপি পাশে চাইলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন ছাড়তে রাজি নয়।
এ দলটির সঙ্গে গেলে নির্বাচনে প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে এনসিপি নেতাদের।
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি– তিন দলের নেতারাই জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা বিএনপির সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ঐক্যে আগ্রহী।
এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, এই ঐক্য না হলে উপদেষ্টাদের অন্তত একজন ঢাকায় বিএনপির দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হতে পারেন।
জামায়াত সূত্র নিশ্চিত করেছেন, উপদেষ্টারাই এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতায় মূল বাধা।
তাদের কারণেই এনসিপির সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পরও দলটি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলনে আসেনি।
এনসিপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, নতুন এ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আগামী সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
বিএনপির সঙ্গে থাকলে যেসব আসনে ছাড় পাওয়া যাবে, সেগুলোতে জয়ের সম্ভাবনা বেশি।
বিএনপি ২৫-৩০ আসনে ছাড় দিলে এর অধিকাংশেই জয়ী হওয়া সম্ভব। তবে সমস্যা হলো, আর্থিক ও সাংগঠনিক সামার্থ্য না থাকা।
একজন নেতা বলেছেন, বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ছাড়লেও দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন এনসিপির প্রার্থীর পক্ষে পাওয়া যাবে কিনা– এ আশঙ্কা রয়েছে।
জামায়াত ও এনসিপি দুই পক্ষই জানিয়েছে, ডানপন্থি তকমা এড়াতে নাহিদ ইসলামকে জামায়াতের সম্ভাব্য জোটের নেতা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
যেভাবে ২০১৮ সালে ড. কামাল হোসেন বিএনপি জোটের নেতা ছিলেন।
এনসিপি বলেছিল, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নন, নাহিদ গণঅভ্যুত্থানের নেতা হিসেবে জোটকে নেতৃত্ব দেবেন। জোট জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন।
জামায়াত নেতারা বলেছেন, এ প্রস্তাব অবান্তর। এই নেতারা জানান, ডাকসু নির্বাচনে এনসিপিকে জিএসসহ কয়েকটি পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল জামায়াত।
কিন্তু নাহিদ ভিপি পদের জন্য অনড় ছিলেন। নির্বাচনে এনসিপির সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের প্যানেলের ভরাডুবি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনেও জামায়াত নেতৃত্ব হাতছাড়া করবে না।
জামায়াতের সঙ্গে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনসহ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী দল রয়েছে। তারাও এতে সম্মত হবে না।
বিস্তারিত: সমকাল