Asha Hasin

Asha Hasin Assalamu alaikum, I'm Asha Hasin, a content creator from Bangladesh. If you like my content, please Support my page.

ভূমিকম্পের সর্বশেষ ব্যক্তিগত প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি স্বীকার করেছেন বড় ভূমিকম্পে সরকারের যে ভূমিকা থাকা উচি...
28/11/2025

ভূমিকম্পের সর্বশেষ ব্যক্তিগত প্রস্তুতি
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি স্বীকার করেছেন বড় ভূমিকম্পে সরকারের যে ভূমিকা থাকা উচিত সেটার প্রস্তুতি নাই। উনি একজন শিক্ষিত ও সম্মানিত মানুষ। উনি অন্তত সাধারণ জনগণকে কোন আশার কথা বলেন নি। এতে করে নিজের রাস্তা নিজে দেখাই উত্তম -

- আপনার সম্পদের দলিল, ট্যাক্সের কাগজপত্র, সবকিছু ফাইলবন্দী করুন। সকল ডকুমেন্টস ফটোকপি করে আলাদা ফাইলে ভর্তি করুন।

- সঞ্চয়পত্র, বন্ড, আর্থিক ডকুমেন্টসের ছবি তুলে রাখুন। স্ক্যান করতে বাইরে নিবেন না। কম্পিউটারগুলিতে একটা কপি থেকে যায় বেশিরভাগ সময়, যা প্রতারণার জন্য ব্যবহার হতে পারে। টেলিগ্রাম, হোয়াটসআপে একটা পারিবারিক গ্রুপ তৈরী করে সবকিছু আপলোড করে রাখুন। পরিবারের সবাইকে এ ব্যাপারে জানিয়ে রাখুন, তারা যেন সতর্ক থাকে। গুগল ড্রাইভ, পেনড্রাইভ, সবখানে একটা সেট রেখে দিন। পরিবারের সবাই জানে তেমন একটা পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড রাখুন। জিপ ফাইল তৈরী করুন ভাইরাসের আক্রমণ মোকাবেলায়।

- একাডেমিক সনদের মূলকপিগুলি সব একসাথে রাখুন। এক সেট ফটোকপি রাখুন। সকল ফটোকপি আলাদা রাখুন।

- নগদ কিছু টাকা হাতে রেখে বাকি সব টাকা একাউন্টে রাখুন। যেন হাতে নগদ অর্থের চাপ না বাড়ে।

- সোনাদানা, রত্ন অলংকারের আলাদা বক্স থেকে বের করে পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে এক জায়গায় রাখুন।

- কাগজের সকল ডকুমেন্টস বাজারের কাপড়ের ব্যাগে ভরে ১০-১৫ পিস সিলিকা রেখে মূল দরজার কাছাকাছি রাখুন আগামী কিছুদিন। সবকিছু বাজারের ব্যাগে রাখুন এবং স্যাঁতস্যাঁতে হওয়া থেকে রক্ষা করতে সিলিকা রাখুন। পরিবারের সবাইকে বলে রাখুন যে আগে বের হবে সে যেন একটা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যায়। দ্বায়িত্ব ভাগ করে রাখুন। সকল কাগজের ডকুমেন্টস ও নগদ অল্প অর্থ (১০-৫০ হাজার টাকার বেশি নয়) এক ব্যাগে বহন করুন। অলংকার আরেকটা ব্যাগে। কাগজের ব্যাগ সর্বোচ্চ ৫ কেজি ও অলংকারের ব্যাগ কাপড়সহ ২-৩ কেজির বেশি হবে না। কাগজের ব্যাগের উপরে কিছু রাখবেন না। দামি সম্পদ যে ব্যাগে থাকবে তার উপরে ন্যাকড়া জাতীয় কিছু রেখে দিতে পারেন। কারণ, ব্যাগ নিয়ে যখন বের হবেন দুষ্টলোকদের নজর থাকবে হাতের দিকে। সুযোগ বুঝে ছোঁ মারতে পারে।

* ব্যাগে একটা বাটন ফোন ফুল চার্জড করে সিমকার্ডসহ বন্ধ করে রেখে দিন। কেননা, জরুরী সময় ফোন খুঁজতে বেশি সময় অপচয় হতে পারে। কারণ আমরা থাকি ঢাকা, ফোন থাকে লন্ডন।

- যারা ফ্রিল্যান্সার রয়েছি তারা মোটামুটি দেশে প্রচলিত প্রায় সব ওয়ালেটে ডলার, টাকা রাখি। প্রতিটা ওয়ালেটে বাড়তি পরে থাকা অর্থ তুলে ফেলুন। অদরকারী টাকা ফেলে রাখা দরকার নাই। যেসব ডলার, টাকা গুরুত্ব বহন করে তার প্রতিটা ওয়ালেটের ইউজার নেইম, ই-মেইল, রিকোভারি মেইল, পাসওয়ার্ড, অর্থের পরিমাণ একটা ডায়েরীতে লিখে রাখুন। কোন কারণে আপনার অনুপস্থিতিতে যেন সেই অর্থের নাগাল পরিবারের অন্য সদস্যরা পেতে পারে। বাবা-মা, ভাই-বোনকে সম্পর্ক বুঝে ডায়েরীর ব্যাপারে জানিয়ে রাখুন।

* অল্প নগদ অর্থ হাতে রেখে বাকি অর্থ ব্যাংকে না রেখে বিকাশ, রকেট, উপায়, এ সমস্ত একাউন্টে রাখতে পারেন অথবা নিজের সুবিধামত জায়গাতে রাখুন।

* ব্যাংকের লকারে অর্থ-সম্পদ রাখতে যাবেন না। তাদের শর্তনামায় ম্যাগনেফাইং গ্লাস ছাড়া দেখা যায় না, এমন সাইজে লেখা থাকতে পারে, "অ্যাক্ট অব গড" এর ক্ষেত্রে তারা কোনকিছু ফেরত দিতে পারবে না। তখন আম-ছালা সব যাবে।

* বাজারের ব্যাগের পরিবর্তে একাডেমিক ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এতে হাত ফ্রি থাকবে। পিঠে চাপিয়ে দৌড়াতে পারবেন।

* নিজের আমল-ইবাদাতে আরো জোর দিন। এটা ছাড়া বাকি সব মূল্যহীন।

* আপনার যদি যাওয়ার মত অন্য জায়গা থাকে, যেখানে ভূমিকম্পে তেমন ভয় নাই তাহলে কিছুদিনের জন্য উল্লেখিত সম্পদগুলি সরিয়ে রাখতে পারেন। এতে জরুরী মুহুর্তে ব্যাগ টানার সমস্যাও থাকবে না।

যারা সচেতন থাকে, তারা নিরাপদ থাকে। জীবন-মৃত্যুর মালিক মহান আল্লাহ পাক, কিন্তু তিনি বলেছেন রোগের জন্য ওষুধ ব্যবহার করো, তাতেই রোগমুক্তি। বুজুর্গরা বলেন, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে কাজ করে যেতে হবে। যেকোন একটা বাদ গেলে লক্ষ্য সাধন হবে না।

দেশে যেভাবে একের পর এক ভূমিকম্প হচ্ছে তাতে বড় ভূমিকম্প হয়ে ভবন ধ্বসের পাশাপাশি ভবনের স্থায়িত্বতা দুর্বল হয়ে ভেঙ্গে পরার ঝুঁকিও তৈরী হচ্ছে। সচেতন থাকুন, সচেতন রাখুন। আল্লাহ পাক আমাদের হেফাজত করুন।

হঠাত এক সন্ধ্যায় দেখলেন ঘরে কোন মশা নেই, একটাও না; নিশ্চয় বেশ অবাকই হবেন! প্রাচীন গ্রীক শহর হেলিকির বাসিন্দারা কিন্তু তা...
23/11/2025

হঠাত এক সন্ধ্যায় দেখলেন ঘরে কোন মশা নেই, একটাও না; নিশ্চয় বেশ অবাকই হবেন! প্রাচীন গ্রীক শহর হেলিকির বাসিন্দারা কিন্তু তার চেয়েও বেশি অবাক হয়েছিল যেদিন দেখল যে শহরের সব সাপ-ইদুর-বিচ্ছু আর পোকামাকড় দলবেঁধে গর্ত ছেড়ে পালাচ্ছে। সাথে আকাশে দেখা গেল ‘আর্থকোয়াক লাইট।’ কিছু বুঝে উঠবার আগেই শুরু হল ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প, সাথে প্রলয়ংকরী ‘সুনামি।’ মুহুর্তেই বন্দরে নোঙ্গর করা ১০টা স্পার্টান জাহাজসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল গোটা হেলিকি শহর।
বোবা জানোয়ারেরা নাকি আগেভাগেই আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে টের পেয়ে যায়; কথাটা ঠিক কতখানি সত্য কে জানে?

আমাদের পায়ের তলার মাটির অনেক নিচে মাটি ফেটে বড়সড় ৭টা ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই ৭টা ভাগের একেকটাকে বলে 'টেকটনিক প্লেট' আর এই প্লেটগুলো আস্তে আস্তে এক্সপান্ড করছে। এই এক্সপানশনের কারনে যখন এক প্লেট তার পাশের আরেক প্লেটকে চাপ দেয় বা ঘষা দেয় তখনি
ভূমিকম্প হয় আর মাটি কাঁপে।

ইদানিং ভূমিকম্পের সংবাদে চারপাশ কম্পিত; আর ভূমিকম্প সংক্রান্ত ১০১টা প্রশ্নে আমরাও প্রকম্পিত। বাস্তবতা হল বছরে প্রায় ৫ লাখ ছোটবড় ভূমিকম্প হয়, অবশ্য এরমধ্যে সাকুল্যে লাখ খানেক আমরা টের পাই আর ‘রিখটার স্কেলে’ ৫ মাত্রার উপরের গুলোই শুধু জানতে পারি। ‘গুটেনবার্গ-রিখটার ল’ অনুযায়ী সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মাত্রার ভূমিকম্প প্রতি বছরই হচ্ছে, সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প প্রতি ১০ বছরে অন্তত একবার আর সাড়ে পাঁচ এর উপরের মাত্রার ভূমিকম্প প্রতি ১০০ বছরে অন্তত একবার হতেই পারে। সুরা যিলযালেও মহান আল্লাহ পাক বলেছেন যে কিয়ামতের দিন পৃথিবী ভয়ঙ্করভাবে প্রকম্পিত হবে।

তারমানে ভূমিকম্প একটা সহজাত বাস্তবতা এবং এর সবচেয়ে রহস্যময় দিক হল ভূমিকম্প কখন কোথায় হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিস্ট ভবিষ্যৎবাণী করা স্রেফ অসম্ভব। তবে বড় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কিন্তু হয় মারাত্মক। যেমনঃ
১৫৫৬ সালের শাংঝি ভূমিকম্পে আট লাখ ৩০ হাজার লোক প্রান হারায়। ১৯৭৬ সালের তাংশান ভুমিকম্পেও প্রায় তিন লাখেরও বেশি লোক প্রান হারিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের সবচে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল ৯.৫ মাত্রার চিলিয়ান ভূমিকম্প; ১৯৬০ সালের ২২মে ১০ মিনিটের এই ভুমিকম্পে হাজার ছয়েক লোক প্রান হারায়।

অথচ শুধুমাত্র যথাযথ ভূমিকম্প সচেতনতা আর সতর্কতার মাধ্যমেই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। ভূমিকম্প কী, কেন হয় এইসব জানার চে জরুরী ভুমিকম্পের সময় কী করবেন, সেইটা জানা। ঢাকার মত বহুতল ভবন ভরা এলাকায় ভূমিকম্প শুরু হয়েছে শোনা মাত্রই দৌড়ে বাইরে খোলা স্থানে বেরিয়ে আসার আইডিয়াটাই বা কতটা নিরাপদ আর যুক্তিযুক্ত?

আসলে যেকোন স্থানেই ভুমিকম্পের সময় দৌড়াদৌড়ি করাটা একটা ব্যাড আইডিয়া। কারন আগুন লাগলে যেমন অনেকেই ভাবেন যে সবাই আগুনে পুড়ে মারা পরে। ব্যাপারটা কিন্তু আসলে তা না। ধোয়ার কারনে আটকে পড়াদের অনেকেরই শ্বাসনালী পুড়ে যায়, যারা উদ্ধারের পর ইন্টার্নাল ইনজুরিতে মারা পড়েন। তাই যারা মেঝের কাছে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসেন, তাদের ইনজুরি কিন্তু অনেক কম থাকে, কারন ধোয়া হালকা বলে রুমের মেঝের চে উপরের দিকেই বেশি পাইল আপ করে থাকে।

তেমনি ভুমিকম্পের কারনে বিল্ডিং এর দেয়াল-জানালা ভেংগে, শেল্ফ থেকে ভারি জিনিস পড়ে, সিড়ি ধ্বসে, কিংবা আতংকিত মানুষের পায়ে চাপা পরেই বেশি হতাহত হয়। ছাদ ধসে স্যান্ডুইচের মত করে পিষ্ট হয়ে মরার রেকর্ড ভুমিকম্পের হিস্ট্রিতে বেশ বিরলই বলা যায়।

তাই ভূমিকম্প শুরু হলেই প্রথম মেঝেতে অবস্থান নিন, হাতের কাছে কিছুই না পেলে স্রেফ হাত দিয়েই নিজের মাথা আর গলা ঢেকে ফেলুন। তারপর ক্রল করে কোন একটা শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নীচে ঢুকে গিয়ে টেবিলের একটা পায়া শক্ত করে ধরে বসে থাকুন ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত। টেবিল বা ডেস্ক না পেলে ভেতরের দেয়ালের পাশে পজিশন নিন। লক্ষ্য রাখবেন ভেতরের দেয়াল, যেমন পাশাপাশি দুই রুমের মাঝের দেয়াল; কারন বাইরের দেয়াল অথবা দেয়ালের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে আহত হবার সম্ভাবনা সবচে বেশি।

আসলে ছাদ ভেঙ্গে চাপা পরে মরার চে বেশি লোক মরে শেল্ফ থেকে আছড়ে পরা ভারী জিনিস যেমন টিভি, কিংবা আলমারি ইত্যাদি, এবং ডেব্রির আঘাতে। ডেব্রি মানে কিছু ভাংবার পর এর ভগ্নাংশ। তাই নিজের চোখ-মাথা সেইফ রাখুন। সিড়ি আর লিফট ভুমিকম্পের সময় সবচে বাজে অপশন। স্রেফ আটকা পরতে পারেন, এবং উদ্ধারকারীরা সবার শেষে লিফটে হাত দেয়। তাই এড়িয়ে চলুন।

পুনশ্চঃ
আজ শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভূমিকম্প সতর্কতা ড্রিল সম্পর্কেই বললাম। ডিযাস্টার ম্যানেজমেন্ট পয়েন্ট অব ভিউ থেকে ঢাকায় ভূমিকম্প উদ্ধার অভিযান হবে নারকীয় একটা টাস্ক, এটা আমি জেনে বুঝেই বলছি। জেনেশুনে নাকি লোকে বিষপান করে, আমরা সায়ানাইডের ড্রাম চুমুক দিয়ে দিয়ে পান করছি!

পুনঃপুনশ্চঃ
অনেকে বলে টেবিল বা ডেস্কের নিচে না বরং পাশে পজিশন নিতে। কথাটা ভিত্তিহীন। চারপায়ের সাপোর্টের নিচে থাকাটাই বেশি সেইফ।

(পোস্টটি ওয়ালে শেয়ার করে রাখুন। ধন্যবাদ।)

22/11/2025

আবারো ভূমিকম্প অনুভূত হলো😢
আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

খালা শাশুড়ি মুখ বাঁকিয়ে বাঁকিয়ে বললেন,- তুমি নাকি এখনই তোমার শাশুড়িকে না খাইয়ে রাখার পায়তারা করছো ?তখন আমার বিয়ের...
14/11/2025

খালা শাশুড়ি মুখ বাঁকিয়ে বাঁকিয়ে বললেন,
- তুমি নাকি এখনই তোমার শাশুড়িকে না খাইয়ে রাখার পায়তারা করছো ?

তখন আমার বিয়ের কেবল ১০ দিন চলে। একটু অবাক হয়ে বললাম,
- মায়ের তো ডায়াবেটিকস আছে তাই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ফলো করছিলাম আর কিছু না।

-ও তাই! তাহলে দুলাভাইয়ের সমস্যাটা কি? তোমাকে নাকি গরুর মাংস রান্না করতে বলেছিল, তুমি মুরগী রান্না করেছো।

-বাবা মায়ের তো বয়স হয়েছে । আগের দিনও গরুর মাংস খেয়েছেন তাই ভাবলাম এত রেড মিট খাওয়া ঠিক হবে না, তাই মুরগি রান্না করেছি।

-ও বুবু, তোমার বউ তো দেখি তোমাদেরকে না খাইয়া মেরে ফেলবে। দেখো কেমন মুখে মুখে তর্ক করে। যাই আমি, অসভ্য বেয়াদব একটাকে ঘরে আনছো, তোমার কপাল তুমি নিজে পুড়াইলা। কত ভালো একটা মেয়ের সন্ধান দিছিলাম।

উনি উঠে চলে গেলেন। আমি হা করে থাকলাম ।

হানিমুন পিরিয়ড কাটার আগেই স্বামীর হাতের থাপ্পড় খেয়ে ছিলাম। ব্যাপার তেমন কিছু না, মায়ের চায়ের কাপে চিনি কম দিয়েছিলাম। উনি আবার চিনি ছাড়া চা খেতে পারেন না এদিকে ডায়াবেটিকস হয়ে আছে ২৬।

-এই তুই জানিস না, আমার মা কিভাবে খাওয়া-দাওয়া করে? তোর মত ফকিন্নি পরিবার থেকে উঠে এসেছে নাকি? তোকে চা পাতা ছাড়া চা দিলেও তুই খেয়ে নিতে পারবি। কি বিশ্রী কদাকার লাগছিল ওর মুখটা।

বিয়ের তিন মাসের মাথায় আমার বাসায় ডিভোর্স লেটার আসে। অবশ্য এক মাস আগেই আমাকে মেরে অপমান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কারণ আমার দেবর আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল আর আমি আমার স্বামীর কাছে অভিযোগ করেছিলাম। উল্টো দোষ পড়েছিল আমার উপরে।

-শোনো বউ নিজের কাপড়-চোপড় নিজে ঠিক রাখতে পারো না আর দোষ হয় আমার ছেলের! শাশুড়ি মা বলেছিলেন।
নিজে যদি মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকো, ওর আশেপাশে না চলাচল করো তাহলেই তো হয়। কে বলে বারবার ওর পাশে ঘুরঘুর করতে? অল্প বয়সী ছেলে, এরকম শরীর দেখিয়ে বেড়ালে মাথা ঠিক থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।

আমার স্বামী কিছু বলছিল না দেখে আমি নিজেই প্রতিবাদ করেছিলাম বিনিময়ে তার কাছ থেকে পেয়েছিলাম চর থাপ্পড় লাথি। স্যান্ডেল ছাড়াই আমাকে খালি পায়ে বের করে দেয়া হলো আর তারপর তো ডিভোর্স লেটার।

মাত্র কুড়ি বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়েছিল তিন মাসের সংসার আমার। হয়তো ছোট ছিলাম তাই বুঝতে পারিনি পরের সংসারে আপন হওয়া এত সহজ না। প্রায় চার বছর পর আমার আবার বিয়ে হয়। ছেলের আগের একটা সংসার ছিল বউ ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে। কারণ জিজ্ঞেস করে বিশেষ কোনো লাভ হলো না সমস্ত দোষ ওই বৌয়ের দেয়া হলো অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। আমার পূর্বের স্বামীও হয়তো বিয়ে করেছে আমার দোষ দেখিয়ে যে আমি তার বাবা মাকে খেতে দিতাম না। যাই হোক অনারম্বড় ভাবে বের হলো।

বাসর রাতে দ্বিতীয় স্বামীর মুখ থেকে আমাকে শুনতে হলো,

- তোমার বিয়ে ভাঙার কারণ আমি জানি। তোমার প্রথম স্বামীর সাথে আমি কথা বলেছি সে তোমাকে দুই মাস ঘরে রেখেছিল আমি তোমাকে দুই দিনও রাখবো না যদি ওই ব্যাপারগুলো আবার ঘটে।

আমি মাথা নাড়িয়ে শুধু সম্মতি দিয়েছিলাম চোখে পানি চলে আসছিল।

সকালে নিজের থেকেই উঠলাম গোসল করে সুন্দর করে শাড়ি পরলাম। এত সকালে উঠেছি থেকে শাশুড়ি মা আর একটু শুয়ে নিতে বললেন। আমি আপত্তি জানিয়ে উনার হাতে হাতেই কাজ করা শুরু করলাম। উনার কাছ থেকেই জানলাম কে কি খায়, কার কি অভ্যাস, কে কি পছন্দ করে সবকিছু । আমার আগ্রহ দেখে উনি খুব খুশি হলেন, একই সাথে আগের বৌয়ের বিস্তর বদনাম করলেন।

রান্নাবান্নায় আমি আগে থেকেই পারদর্শী। যে যখন যেটা খেতে চাইছে আমি বানিয়ে দিচ্ছি। আমার স্বামী দেবতাও তুষ্ট। শাশুড়ির হাই প্রেসার, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সবই আছে। শশুরেরও ডায়াবেটিস আছে। আমার কাছে অর্ডার আসে দিনে ৩-৪ বার চায়ের, আমি সুন্দর করে বানিয়ে দেই। বাড়ির সামনেই মিষ্টির দোকান, বললেই গিয়ে নিয়ে আসি। পাড়া-প্রতিবেশীরা আমাকে দেখে হিংসায় জ্বলে এত ভালো বউ তাদের কপালে নেই কেন। পাশের বাড়ির খালা তো বলেই ফেললেন "আগের বউটা ছিল শয়তানের হাড্ডি, এখন তুমি এসে গেছো। আল্লাহ আসলে মিলাইয়া দেন, ছেলেটা তখন কত কষ্ট করেছে। এখন তুমি ওর জীবনে এসেছ। দুটিতে মিলে ভালো থাকো।"

আমি হাসি, ভালো থাকার জন্যই তো এসেছি।

গর্ভবতী হলাম আমাকে পাঠিয়ে দেয়ার কথা হলো বাবার বাড়িতে। আমি খানিকটা জেদ ধরলাম তাদেরকে ছেড়ে আসবো না। আমার স্বামী পারলে তখন আমাকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। নিজে থেকেই একজন কাজের মহিলা রেখে দিলেন আমার কাজ শুধু দাঁড়িয়ে রান্না করা আর কিছু না। সময় গড়ালে রাজপুত্রের জন্ম দিলাম।

দিনরাত কাটতে লাগলো ভালোই, সেই আগের নিয়মে । এখন অবাক লাগে এ বাড়িতে চার বছর কাটিয়ে দিয়েছি। আমার স্বামীর কোন কমপ্লেন নেই বরং সে মাঝে মাঝে আমার জন্য এখন এটা সেটা হাতে করে নিয়ে আসে, বুঝতে পারি হয়তো ভালোওবাসে।

একদিন ঘরের পরিবেশ থমথমে দেখে জিজ্ঞেস করলাম,আমার স্বামী কিছুই না লুকিয়ে আমাকে খুলে বললেন সবকিছু। ততদিনে আমি তাদের ভরসা জিতে নিয়েছি। আমার অবিবাহিত ননদ নাকি প্রেগন্যান্ট। আমার হাসি পেল। আমি এই ঘটনা আগে থেকেই জানি। ও যে বেশ কয়েকটা ছেলের সাথে ঘোরাফেরা করে সেটা জানি। তবে কার দ্বারা প্রেগন্যান্ট হয়েছে তা বলতে পারবো না। যখন তখন বাড়িতে আসে যায়। মাঝে মাঝে রাতে থাকে না এসব নিয়ে আমি আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাইনি। বললে যদি আমার সঙ্গে বিপদ নেমে আসে! পূর্বের শিক্ষা তো আমার মধ্যে রয়েছে। আমার শশুর শাশুড়ি যেখানে দেখেও দেখেন না আমি বলার কে?

বহু কষ্টের পরেও সেই ছেলের ঘাড়ে ননদকে গছানো গেল না। চারদিকে ঢি ঢি পড়ে গেল। না পেরে ননদ আমার গলায় দড়ি দিল। পুলিশ, মিডিয়া বিশ্রী ব্যাপার। বাবা হার্ট অ্যাটাকে বিদায় নিলেন, মা পড়লেন বিছানায়। আমি শক্ত করে স্বামীর হাত ধরে ঠায় তার পাশে থাকলাম। বাসর রাতে কড়া কথা বলা মানুষটা শিশুর মতো কাঁদে। বাবার বাড়ি থেকে আমাকে নিতে এসেছিল,আমি রুক্ষভাবে না করে দিয়েছি। কারণ জানতাম, এক দুই দিন সেখানে আমার আদর থাকবে। তারপরেই আমি আবার সেখানে বোঝা হয়ে উঠবো।

প্রতিবেশীদের মধ্যে ফিসফিস ছিল,
"যেই পরিবারের কথা মিডিয়া পর্যন্ত চলে গেছে সেই পরিবারে যেই বউ শক্ত হাতে অবস্থান নেয় সে কোন দেবী ছাড়া আর কিছুই না, এত মমতা অন্য কারো মধ্যে থাকে না।"

আজ আমার ঘরে নতুন সদস্য যোগ হয়েছে। হ্যাঁ, বড় ছেলে কে বিয়ে করিয়েছি। সময়ের নিয়মে বিছানায় পড়া শাশুড়ি মা কয়েক বছর পর বিদায় নিয়েছে। পাড়া প্রতিবেশী সবাই আমার গুণমুগ্ধ। আমি যা করলাম এই শ্বশুরবাড়ির জন্য অন্য কেউ হলে নাকি করতো না। মনে মনে ভাবি আসলেই তো... আমি নিজেও তো আগের বার করি নি।

যাক সেসব দিনের কথা। বড় ছেলের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আরো দুটি যমজ ছেলে মেয়ে আমার আছে। সবাইকেই নিজের মানসিকতায় বড় করেছি। তাদেরকে সঠিক জ্ঞান দেবার চেষ্টা করেছে। ভুল শুদ্ধ যাচাই করার মানসিকতা বহন করার ক্ষমতা যেন থাকে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। খাবার টেবিলে এই ছেলের বউকে খাবার তুলে দিতে দিতে বলেছিলাম,
- আমার সংসার কিন্তু আমি তোমাকে দিব না।

সবাই চমকে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমার মুখ থেকে এই ধরনের কথা কেউ হয়তো আশা করেনি। ছেলের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- শোন,পাশের ফ্ল্যাটটা তোরা তোদের মত করে সাজাবি আর এমনিতেই বউ মা তো খালি হাতে আসেনি। সবকিছু তোদের চাহিদা মতো চলেই আসবে এক দুই দিনের মধ্যে। নিজেরাই নিজেদের ঘর সাজিয়ে নে আর মা তুমি তোমার সংসার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সাজাও। পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকবো, তুমি আসবে আমি যাব দুজনের মধ্যে কোন খুনসুটি হবে না।

কাজের মহিলাটির বদৌলতে সারা পাড়ায় এটি রটে গেল যে আমি নিজে থেকে ছেলের বউকে আলাদা সংসার দিয়ে দিয়েছি। সবাই আবারো আমার প্রশংসায় উচ্ছসিত। যৌবন কালে আমি শশুর শাশুড়ির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছি আর এই পড়ন্ত বিকেলে এসে নিজের ছেলের বউকে আলাদা সংসার নিজের হাতে গুছিয়ে দিয়ে দিচ্ছি। আমার মত ভাল মানুষ আর কে হয়?

রাতে শুয়ে স্বামী নামক মানুষটি আমায় বললো,
- শান্তি তুমি কি সত্যিই চাও ওরা আলাদা ফ্ল্যাটে থাকুক! তাহলে আমাদের দেখভাল কে করবে ?

-এতদিন কে করতো বলতো? তোমার ছেলে তো করতো না আর ছেলের বউ তো ছিল না।

-তাই বলে তুমি আস্ত একটা ফ্ল্যাট দিয়ে দিবে !

-তুমি একটু অদ্ভুত কথা বলছো না? আমাদের অবর্তমানে এই পুরো বাড়িই তো আমার তিন ছেলে মেয়ের তাহলে একটা ফ্ল্যাটে কি যায় আসে? তাছাড়া মেয়ের বাড়ি থেকে যে সমস্ত ফার্নিচার আসবে সেগুলো সাজাবে কোথায়? আর আমরা তো এটাও বলে এনেছি যে যা কিছু আনা হচ্ছে সব বৌমার ব্যবহারের জন্য তাহলে আমরা কেন ব্যবহার করব? ছেলে যদি মেয়ের বাড়ির ফার্নিচার ব্যবহার করতে পারে তাহলে নিজের বাবার ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবে না?

-তাও ঠিক, একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনলাম। এজন্যই এক মাস আগেই ভাড়াটিয়া খালি করেছিলে, তখন বুঝতে পারিনি।

আমি এই পাশ ফিরে মুচকি হেসে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে চোখ বন্ধ করলাম। ছেলের পছন্দেই বিয়ে হয়েছে। দেখতে গিয়ে যখন আমার স্বামী দেখলো মেয়েটা একটু শ্যাম বর্ণের হ্যাঁ শুধু শ্যাম বর্ণের আর সবকিছুই ঠিক আছে তিনি তখনই বিশাল অঙ্কের যৌতুক দাবি করলেন। না, না যৌতুক হিসেবে নয়; উপহার হিসেবে চাইলেন। আমি ভাবলাম এই যুগেও এই মানসিকতা! তার মানে এই মেয়েটি যদি আমাদের সাথে থাকে তাহলে হয়তো শুধুমাত্র শ্বশুরের জন্যই আমার মত কষ্ট মেয়েটিকে ভোগ করতে হবে আর তাছাড়া প্রত্যেক মেয়ের অধিকার আছে আলাদা সংসার পাওয়ার। যা আমি কখনো পাইনি তাই বলে অন্য আর কাউকে দেবো না, তা হতে পারে না। আমি আমার ছেলে মেয়ের মানসিকতা তো বদলাতে পেরেছি কিন্তু আমার শাশুড়ির ছেলের মানসিকতা এতদিনেও একটুও বদলাতে পারিনি সে শুধু আমার জন্য বাড়ির নামটাই বদলে রেখেছিল শান্তি নীড় । এছাড়া আর কোন কিছুই সে নিজের মধ্যে খুব একটা বদলাতে পারে নি। মনের মধ্যে একটা গ্লানি ছিল যে আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ননদের সাথে ঠিক ব্যবহার করেছি কিনা? এতদিন পরে এসে মনে হল আমি আসলে ঠিকই ছিলাম আবার যদি আগের মত ব্যবহার করতাম তাহলে এই স্বামীও আমাকে লাথি মেরে বের করে দিতে এক পলক সময় নিত না। যার মানসিকতার প্রমাণ আমি এখনো পাচ্ছি তখন তাহলে কি অবস্থা হতো, না আমার মধ্যে আর কোন গ্লানিবোধ নেই, আমি সঠিক ছিলাম।

আমি চোখ বন্ধ করলাম আজ অনেক ধকল গেছে ঘুমোতে হবে।

শান্তি নীড়
কলমে সুবর্না শারমিন নিশী

জানি না কেমন লাগলো আপনাদের কাছে ভালো লাগলে ছোট করে একটা গঠনমূলক মন্তব্য করবেন কমেন্টে।

স্বর্ণ যখন মাটিতে পরে যায় তখন এর মূল্য কমে যায়না। তুলে একটু পরিষ্কার করে নিলেই আবার চমকাতে শুরু করে। তেমনি আমরা যখন ভু...
31/10/2025

স্বর্ণ যখন মাটিতে পরে যায় তখন এর মূল্য কমে যায়না। তুলে একটু পরিষ্কার করে নিলেই আবার চমকাতে শুরু করে। তেমনি আমরা যখন ভুল করে, ভুল জায়গায়, ভুল মানুষের সাথে থাকি তাতে আমরাও মূল্যহীন হয়ে যাইনা। শুধু দরকার সঠিক জায়গা আর সঠিক মানুষ নির্বাচন করা।

31/10/2025

সিগারেট আর বউ কখনো নিজে থেকে ক্ষতি করে না; যতক্ষণ না আপনি তাদের মাথায় আ*গুন ধরিয়ে দিচ্ছেন!!😜🤣🤣

30/10/2025

যারা আমার জীবন কবরস্থানের মতো নিস্তব্ধ আর মৃ**, ত্যুর মতো ভ/ য়া/নক বানিয়েছে, আল্লাহ যেন তাদের সবার বিচার করে।

অনুগল্প ১:বিয়ের প্রথম এক মাসেই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম, চাকরি-বাকরি সামলে শশুর শাশুড়ি দেবর ননদের মন যুগিয়ে চলতে ভীষণ কষ্ট হ...
24/10/2025

অনুগল্প ১:
বিয়ের প্রথম এক মাসেই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম, চাকরি-বাকরি সামলে শশুর শাশুড়ি দেবর ননদের মন যুগিয়ে চলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। একজন ছুটা বুয়া আছে। স্বামীর কাছে আবদার করলাম একজন পার্মানেন্ট কাজের লোক রাখার জন্য। যার বেতন আমি দেব। সে উদাসীন মানুষ সব কথাতেই হু হু করে। কিন্তু আমার শাশুড়ি শুনতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। ডিনার টেবিলে বললেন,

-পাশের ফ্ল্যাটের বউকে দেখো কি সুন্দর সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকছে আর তুমি এসেছ একমাস হয়নি এখনই কাজের মহিলার হাতের রান্না খেতে হবে? দুদিন পরেই হয়তো বায়না ধরবে ছেলেকে নিয়ে আলাদা হওয়ার। তোমাদের মত চাকরিজীবী মেয়েদের মতলব আমি বুঝিনা মনে করেছ? যে দুই টাকা বেতন পাও তা দিয়ে কি হয়? চাকরি ছাড়ো সবার সাথে মিলেমিশে এক ছাদের নিচে সংসার করো আর হ্যাঁ এই সংসারটা আমার , আমার সংসারে কাজের বুয়া রাখবো কি রাখবো না সেটা সম্পূর্ণ আমার সিদ্ধান্ত।

সেদিন ছিলাম ভীষণ ক্লান্ত। অফিসের ধকল সামলে এসে দেখি ননদ একগাদা কাপড় ভিজিয়ে রেখেছে। রাতের বেলায় কে কাপড় ধোয়? কিন্তু এদেরকে বোঝাবে আর আমি আসার আগে এই কাজগুলো কে করতো? কথাগুলো কখনো বলা হয়নি। আমার শাশুড়ি মানুষটি রেল গাড়ির মত গড়গড় করে কথা বলেই চলেছেন এবং পাশের ফ্ল্যাটের বৌটির গুণকীর্তন করেই চলেছেন। মেজাজ ভীষণ খারাপ হলো।

আব্বা মানে আমার শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে বললাম,

- আম্মা তো ঠিকই বলেছেন আব্বা, এভাবে চাকরি বাকরি করে কি লাভ? বরং বাড়িতেই সময় দেই। সবাই মিলেমিশে না থাকলে কি সংসারের আনন্দ পাওয়া যায়? আপনি বরং আমার দাদী শাশুড়িকে খবর দিন অথবা গিয়ে নিয়ে আসুন। উনি কেন মেয়ের বাড়িতে থাকবেন তাছাড়া আপনি বড় ছেলে আপনার কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। আর আম্মা নিজেই তো বললেন সবাই মিলেমিশে থাকতে।

আব্বা আম্মার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।

-ঠিক আছে বৌমা কাল না হয় গিয়ে নিয়ে আসবো, মা কে অনেকদিন দেখা হয় না।

মুহূর্তে পাশার দান উল্টে গেল,

-ওসবের দরকার নেই, তোমার বাপের বাড়ি তে যদি কোন কাজের লোক থাকে তাহলে নিয়ে আসো। শেষ বয়সে এসে এই ছিল আমার কপালে।

-সেটাও হতে পারে আম্মা। তবে সমস্যা নেই দাদী শাশুড়ি যদি না আসেন, আল্লাহ না করুক আব্বার অবর্তমানে আপনি কিন্তু আপনার মেয়ের সাথে থাকবেন, এই আমি বলে দিলাম। সংসারের ধারা বজায় রাখতে হবে তো।

হাত ধুয়ে উঠে চলে গেলাম, বুঝতে পারছি পেছনে আমার স্বামীর গর্ভধারিনীর মনে ভয়ঙ্কর প্রলয় চলছে।

অনুগল্প ২:

বাবা মা হীন আমার বিধবা বোন সাদিকাকে যখন একজন পছন্দ করলো আর পরিবার সহ এসে বিয়ের প্রস্তাব দিল তখন আমার চোখে পানি চলে এসেছিল।

আমার বোনটা জনম দুঃখী। আমি তবু বাবার আদর পেয়েছি , ও বাবা মানুষটার ভালোবাসা বোঝার বয়স হবার আগেই বাবা এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। বিয়ে দিয়েছিলাম আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে আমারই এক দুঃসম্পর্কের দেবরের সাথে। কিন্তু মাস তিনেক পরেই আমার ইন্জিনিয়ার দেবর সাইটে কাজ করার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সম্ভবত ঐ তিন মাসই ওর জীবনের সবচেয়ে রঙিন দিন ছিল আর সবই বিবর্ন।

পাত্রপক্ষ যখন এলো বেশিরভাগ কথাবার্তা রিফাত অর্থাৎ আমার হাসবেন্ডই বললো। পাত্রকে দেখলাম ধার্মিক প্রকৃতির। লম্বা পাঞ্জাবি পরে এসেছি মুখে দাঁড়ি, কপালে কালো দাগ দেখে বুঝে নিলাম লোকটা নামাজি তাছাড়াও তিনি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করেছেন তাই আমার বুঝতে সমস্যা হয়নি। আমিও আব্রু রক্ষা করে একপাশে চুপচাপ বসে থাকলাম। মনে মনে ভাবলাম ভালোই হয়েছে আমার বোনটাও সব সময় নামাজ রোজা সহীহ ভাবে পালন করে, পর্দা করে, দুজনের বন্ডিংটা ভালই হবে।

সেদিনই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেল। আমি চোখ তুলে দেখলাম আমার বোনের চোখে মুখে খানিকটা দ্বিধা। পাত্রপক্ষ চলে যাওয়ার পর আমি ওকে আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করলাম ওর দ্বিমত আছে কিনা, ওর সমস্যা থাকলে কথা ফিরিয়ে নেব।

ও চোখ তুলে শুধু একটাই কথা বললো,

- আপা, লোকটার দৃষ্টি ভালো লাগে নি। তার চোখে কেমন একটা কামনার ভাব ছিল, আমার অস্বস্তি হচ্ছিল।

-ওসব তোর মনের ভুল। বিয়ে করতে এসেছে পাত্রীকে ভালোভাবে দেখবে না।

-কি জানি আপা, হবে হয়তো।

বিয়ের দিন সাতেক আগে, ছোট খাটো আলোচনার জন্য দুই পরিবার আবার একত্রিত হলাম। মূলত তাদের উদ্যোগেই আমাদের বাসায় আবার বসা। ছেলে, ছেলের বাবা আর মা এই তিনজন আর কেউ না। আমি আগের মতই চুপচাপ বসে আছি। সেখানে রিফাতই কথা বলছে। তারা ঠিক করলো যে তারা অল্প কয়েকজন আসবে, খুব ছোট্ট পরিসরে বিয়ে হবে। এত ঘটা করার কিছু নেই, আমরাও সম্মতি দিলাম। পাত্রের মা বললেন তিনি কিছু বলতে চান । আমি কিছুটা আঁচ করলাম।

-দেখেন আমাদের ছেলে মাদ্রাসা থেকে বের হয়েছে। সে গতানুগতির চাকরি করতে চায় না। তার ছোট একটা ব্যবসা আছে, আপনারা জানেন। সে ঐ ব্যবসাটাকেই বড় করতে চায়। এমনিতেও ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা হচ্ছে হালাল। এই ব্যবসাটা বড় করার জন্য, আর আপনাদের মেয়ের সুখের জন্য উপহারস্বরূপ ছেলেকে যদি লাখ দশেক টাকা দেন তাহলে তো ওরাই ভালো থাকবে, তাই না?

-কত! চমকে রিফাত বলে উঠলো। আমি চুপচাপ আছি যদিও ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড রকম ধাক্কা খেয়েছি। এরা যৌতুক চাইবে আর যৌতুকের এমাউন্টটা এত বড় হবে সেটা ভাবতে পারিনি।

-দশ লাখ, আমরা আর কয়দিন তারপর তো ওরা ওরাই। তাছাড়াও মেয়েটা বিধবা, এই বিধবা মেয়েকে এই জামানায় কে বিয়ে করবে বলুন তো, দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, আমার ছেলেটা তো দেখতে শুনতে মাশাল্লাহ।

আমাকে চমকে দিয়ে রিফাত বললো,

- আমাদের সমস্যা নেই তবে দেনমোহরের ব্যাপারটা যদি খোলাসা করেন, তবে ভালো হয়।

-দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ছেলের ইনকাম অনুযায়ী। আমার ছেলের যে ইনকাম তাতে ১ লাখ টাকার বেশি দেনমোহর দেয়া সম্ভব না। আপনি চাইলে শরীয়তের নিয়ম দেখতে পারেন।

-খালাম্মা শরীয়তের কোথায় লেখা আছে যে বিধবা মেয়েকে বিয়ে করলে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে যৌতুক নিয়ে তারপর বিয়ে করতে হবে ? ভাই তুমি বলো তো ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো রিফাত, ইসলামে কি যৌতুক প্রথা আছে নাকি মেয়ে পক্ষকে সন্তুষ্ট করে সঠিক দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করার বিধান আছে? ছেলে চুপচাপ, যেন বোবা মূর্তি মা যা বলবে তাই।

-দেখেন বাবাজি, ওই টাকা না হলে আমরা বিয়েতে রাজি না, ছেলের মা বললেন।

-আমরাও বিয়েতে রাজি নই, কোন লোভী পরিবারে আমার বোনকে বিয়ে দেব না সরাসরি বলে দিলো রিফাত।

-শ্যালিকা কখনো বোন হয় না। আমি যতদূর জানি আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি নেই তার মানে আপনার শ্যালিকা আপনার বাড়িতেই থাকবে, সে নিশ্চয়ই একা থাকবে না।তাকে বিয়ে দেয়া ছাড়া আপনার আর কোন গতি নেই কারণ আপনি নিজের বাড়িতে পর নারীকে রাখতে পারেন না। নাকি আপনার অন্য উদ্দেশ্য আছে? এইবার অসভ্য ছেলেটি মুখ খুললো।

-তোমার মা যাই বলুক না কেন এতক্ষণ তোমাকে আমি ভদ্র মনে করেছিলাম।এখন দেখলাম যে তোমার ভদ্রতার মুখোশ খুলে গেছে। আমি যখন বিয়ে করি সাদিকার বয়স তখন মাত্র নয়। ওকে আমি নিজের বোন না শুধু নিজের মেয়ের মতো দেখি। আর তুমি ধর্মের প্রলেপ লাগিয়ে একটা সুন্দর সম্পর্ককে ইচ্ছে করে বাজে রূপ দিতে চাইছো অথচ নিজেরা যৌতুক দাবি করে বসে আছো, ছিঃ । কে বলতে পারে আগামীকাল আরেকটা বিয়ে করবে না তুমি ? তখনও ধর্মের একটা লেবাস লাগিয়ে বলবে, ধর্মে আছে সমস্যা কোথায়? তোমাদের মত এই লেবাসধারী ধার্মিকদের জন্য বেশিরভাগ মাওলানা,হুজুর এই ধরনের ব্যক্তিদের উপর থেকে মানুষ শ্রদ্ধা হারায়। তোমার বাবা মা কে নিয়ে এখনই আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাও।

ওরা কথা না বলে সবাই বের হয়ে গেল।

আমি কিছু বলতেই যাচ্ছিলাম এমন সময় রিফাত বললো,

-দয়া করে আমার মুডটা এখন আরও খারাপ করে দিও না। সাদিকা এই বাড়িতেই থাকবে। আমি অফিসে স্যারের সাথে কথা বলেছি। আমার ব্রাঞ্চে কোন পোস্ট খালি নেই তবে অন্য একটি ব্রাঞ্চে আছে। আমিই বিষয়টা পেন্ডিং রেখেছিলাম এই বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে। ছেলেকে দেখে মনে হয়েছিল এই ছেলে স্ত্রীকে চাকরি করতে দেবে না। আমি আগে ওর সুখী সংসার দেখতে চেয়েছিলাম তাই চাকরির কথা তাকে বলিনি কিন্তু এখন বলবো। আমার মনে হয় আগে সাদিকার স্বাবলম্বী হওয়া উচিত তারপর যদি ভাগ্যে থাকে অবশ্যই সে তার উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান পাবে।

আমি কিছুই বললাম না মাথা নিচু করে চোখের পানি আটকানোর চেষ্টা করছিলাম এমন সময় সাদিকা ঘরে ঢুকলো। তাকে দেখেই বোঝা গেল সে সব শুনেছে সব জানে।

-ভাইয়া এই নাও মিষ্টি খাও
- তুই আবার কিসের মিষ্টি নিয়ে এসেছিস?
-বিয়ে ভাঙ্গার মিষ্টি, দশ লাখ টাকা বেঁচে যাবার মিষ্টি আর ছোট্ট এই জীবনটা নরক না হবার মিষ্টি,সাদিকা হেসে ফেলল। তাছাড়া মিষ্টি তো ওই ছেলে পক্ষই এনেছে ।ওরা এত কিছু খেয়ে গেল আমরা যদি মিষ্টি না খাই তাহলে আমাদের অনেকেই লস হয়ে যাবে না?

রিফাত সাদিকার মাথায় হাসতে হাসতে স্নেহের হাত রাখলো। আমার চোখ দিয়ে তখন পানি পড়ছে কিন্তু মুখে হাসি এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি।

অনুগল্প ৩:

শহরের নামকরা একটা প্রাইভেট হাসপাতালের আর.এম.ও ডক্টর তাসনুভা। তাসনুভা তার মেডিকেল অফিসারদের সাথে খুবই বন্ধুসুলভ আচরণ করে এবং তারাও তাকে সম্মান করলেও বন্ধুর মতই দেখে।একজন মেডিকেল অফিসার মিরাজ এসে সালাম দিয়ে তার রুমে ঢুকে বললো,

-আপু আমি পরপর তিনদিন টানা দুটো করে ডিউটি করতে চাচ্ছি অন্যদের সাথে এক্সচেঞ্জ করে, কোন সমস্যা নেই তো?

তাসনুভা হেসে ফেললো, সাধারণত দিনে আট ঘন্টা ডিউটিই মানুষকে কাহিল করে দেয় আর ও ১৬ ঘন্টা ডিউটি করতে চাচ্ছে । সে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল তারপর কৌতুহল থেকে বললো,

- কেন কি হয়েছে, হঠাৎ এত পরিশ্রম করার ইচ্ছা হলো কেন?

মিরাজ একটু অলস প্রকৃতির ছেলে এটা তাসনুভা ভালো করে জানে।

-আর বলবেন না আপু, আমার শাশুড়ি এসেছে সে নাকি তিন দিন থাকবে, কি যে বিরক্তিকর।

-তাই নাকি ! কিভাবে বিরক্ত করে, শুনি।

-বাইরের একটা মানুষ চোখের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখলে এমনিই তো মানুষ বিরক্ত হয় তাছাড়াও ডিউটি না থাকলে সকালে একটু বেশি ঘুমালে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আদুরে ভঙ্গিতে উপদেশের ডালা খুলে বসবে, অসহ্য মহিলা। আমি তো ঘুমাতেই যাই রাত দুইটা তিনটায় তাহলে সকালে কেন উঠবো? এই মহিলা এটা বোঝেনা, খুব বিরক্তিকর। তাই যে দুই তিন দিন থাকবে আমি হাসপাতালেই কাটাবো।

-তোমার কলিগরা যদি ডিউটি এক্সচেঞ্জ করে অথবা তোমাকে দিয়ে দেয় তাহলে কোন সমস্যা নেই তবে তোমার সময় থাকলে দুই একটা কথা বলতাম।

-হ্যাঁ আপু বলেন

-আমি যতদূর জানি তোমার স্ত্রী ডাক্তার, তোমাদের রিলেশনের বিয়ে ছিল তাই না?

-হ্যাঁ আপু

-সে কোন চাকরি বাকরি, পড়াশোনা কিছুই করে না কেন?

-আসলে আপু আমাদের অর্থনৈতিক কোন সমস্যা নেই, বাবা অনেক রেখে গেছে। তাছাড়া মা একদম পছন্দ করে না।

-তোমার মা পছন্দ করে না,তাহলে একটা ডাক্তার মেয়ে তুমি ঘরে আনলে কেন? তুমি কি বিয়ের আগে তাকে জানিয়েছিলে যে তোমার মা তাকে চাকরি করতে দেবে না?

- না আপু সেটা আমি জানাইনি, জানালে ও বিয়েতে রাজি হতো না কারণ ক্যারিয়ার ছিল ওর প্রধান ফোকাস।

- তাহলে এখন ও তোমার কথার বাইরে যাচ্ছে না কেন?

- কারণ মায়ের মতই আমার মত। ও যদি মায়ের কথা না শুনে তাহলে আমি ওকে রাখবো না ও খুব ভালো করে জানে।

-শোনো মিরাজ মনটাকে উদার করো, তোমার মানসিকতা খুবই সংকীর্ণ। একটা ডাক্তার মেয়ে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে শুধুমাত্র তোমার সাথে জীবন কাটাচ্ছে এবং তার ক্যারিয়ারে প্রধান বাঁধা হচ্ছে তোমার মা। সে কি করে তোমার মাকে সহ্য করে এতদিন ধরে সংসার করে যাচ্ছে, একটু ভাববে তুমি? আর তুমি মাত্র তিন দিনের জন্য তার মাকে সহ্য করতে পারছো না, কি ভয়াবহ অবস্থা বলতো।

মিরাজ চুপ করে আছে দেখে তাসনুভা বললো,

-আমাদের সমাজে মেয়েরা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার যাই হোক না কেন তারা সংসারের কথা ভেবে সব সেক্রিফাইস করতে পারে আর ছেলেরা হাসিমুখে একটা দুইটা দিন এক্টিং করে হলেও স্ত্রীর মন ভালো রাখার কোনরকম চেষ্টা করে না।তুমি একবার ভেবে দেখো তো তুমি যদি সুন্দরভাবে এই তিন দিন তোমার বাড়িতে তোমার স্ত্রী, শাশুড়ি আর মায়ের সাথে সময় কাটাও তাহলে সবচাইতে বেশি খুশি হবে তোমার জন্য একটা সুন্দর ক্যারিয়ার স্যাক্রিফাইস করা মেয়েটি। যে তোমাকে আমার ধারণা এখনো পাগলের মত ভালবাসে তা না হলে কবেই চলে যেত। আমার কথা শেষ তুমি চাইলে ডিউটি করতে পারো।

পরদিন তাসনুভা মর্নিং আর ইভনিং উভয় ডিউটিতে মিরাজকে পেল। মনে মনে সে হাসলো, কিছু মানুষ কে যত যাই বোঝানো হোক না কেন সে শুধু নিজেরটাই বুঝবে। পরিশেষে এদের অনেকেই হারিয়ে আফসোস করে।

©সুবর্না শারমিন নিশী*

To love is to suffer not to love is to suffer, to suffer is to suffer... Ahhh it's complicated. 🔨🤕
28/07/2025

To love is to suffer not to love is to suffer, to suffer is to suffer... Ahhh it's complicated. 🔨🤕

24/07/2025

বাচ্চা মেয়ে নাজিয়াকে দেখতে তার বাবা-মা যখন হাসপাতালে গিয়েছিল তখন ডাক্তাররা এসে বলল- দোয়া করেন যেন আপনাদের বাচ্চাটা তাড়াতাড়ি মা-----Ra যায়।

ডাক্তারদের মুখে এ কথা শুনে নাজিয়ার মা আশ্চর্য হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল- আমার মেয়ের মৃ" ত্যুর জন্যে আমি দোয়া করব.? মা হয়ে এ কাজ কিভাবে করব আমি.?

ডাক্তাররা বলল- এ দোয়াই করুন প্লিজ, বাচ্চাটা এত য"ন্ত্রণা নিতে পারছে না।

মা এবং পরিবারের বাকি লোকজন তখন জানালার কাচ দিয়ে দেখতে পায় নাজিয়া হাত-পা ছোড়াছুড়ি করছে, চিৎকার করছে।

পুরো শরীরটাই পু'-" -রে গিয়েছিল নাজিয়ার। ফুসফুস, পাকস্থলী, হৃৎপিণ্ড সবকিছু।

এ দৃশ্য দেখার পর সবার চোখগুলো ছলছল করছিল শুধু। নাজিয়ার মা না জানি কি দোয়া করছিল সে সময়।💔

দারাজের 59tk mystery box থেকে পাওয়া, এটা পইরা আমি এখন কই যাবো😢না গাউন, না বোরকা, না জুব্বা, না পাঞ্জাবী, না রেইনকোট!!Wh...
24/07/2025

দারাজের 59tk mystery box থেকে পাওয়া, এটা পইরা আমি এখন কই যাবো😢
না গাউন, না বোরকা, না জুব্বা, না পাঞ্জাবী, না রেইনকোট!!
What a mystery!!!!!👽

কিছু মানুষ এমনই!বেঁচে থাকবেন ভালোবাসায়😢🙏💔
24/07/2025

কিছু মানুষ এমনই!
বেঁচে থাকবেন ভালোবাসায়😢🙏💔

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Asha Hasin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

5 Minute Treatment

Welcome to 5-Minute Treatment on Facebook. We post about DIY, Beauty, Health, Fitness & Lifestyle information. Also, 5-Minute Treatment brings tips on weight loss, anti-aging, or acne and pimples related videos for people looking natural ways to prevent, treat and heal ailments. Check out our Official YouTube channel as well, https://www.youtube.com/channel/UCPG-5mZpFNcIQs_87lZiWhQ/featured

Live Healthy & Strong