24/10/2025
অনুগল্প ১:
বিয়ের প্রথম এক মাসেই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম, চাকরি-বাকরি সামলে শশুর শাশুড়ি দেবর ননদের মন যুগিয়ে চলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। একজন ছুটা বুয়া আছে। স্বামীর কাছে আবদার করলাম একজন পার্মানেন্ট কাজের লোক রাখার জন্য। যার বেতন আমি দেব। সে উদাসীন মানুষ সব কথাতেই হু হু করে। কিন্তু আমার শাশুড়ি শুনতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। ডিনার টেবিলে বললেন,
-পাশের ফ্ল্যাটের বউকে দেখো কি সুন্দর সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকছে আর তুমি এসেছ একমাস হয়নি এখনই কাজের মহিলার হাতের রান্না খেতে হবে? দুদিন পরেই হয়তো বায়না ধরবে ছেলেকে নিয়ে আলাদা হওয়ার। তোমাদের মত চাকরিজীবী মেয়েদের মতলব আমি বুঝিনা মনে করেছ? যে দুই টাকা বেতন পাও তা দিয়ে কি হয়? চাকরি ছাড়ো সবার সাথে মিলেমিশে এক ছাদের নিচে সংসার করো আর হ্যাঁ এই সংসারটা আমার , আমার সংসারে কাজের বুয়া রাখবো কি রাখবো না সেটা সম্পূর্ণ আমার সিদ্ধান্ত।
সেদিন ছিলাম ভীষণ ক্লান্ত। অফিসের ধকল সামলে এসে দেখি ননদ একগাদা কাপড় ভিজিয়ে রেখেছে। রাতের বেলায় কে কাপড় ধোয়? কিন্তু এদেরকে বোঝাবে আর আমি আসার আগে এই কাজগুলো কে করতো? কথাগুলো কখনো বলা হয়নি। আমার শাশুড়ি মানুষটি রেল গাড়ির মত গড়গড় করে কথা বলেই চলেছেন এবং পাশের ফ্ল্যাটের বৌটির গুণকীর্তন করেই চলেছেন। মেজাজ ভীষণ খারাপ হলো।
আব্বা মানে আমার শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- আম্মা তো ঠিকই বলেছেন আব্বা, এভাবে চাকরি বাকরি করে কি লাভ? বরং বাড়িতেই সময় দেই। সবাই মিলেমিশে না থাকলে কি সংসারের আনন্দ পাওয়া যায়? আপনি বরং আমার দাদী শাশুড়িকে খবর দিন অথবা গিয়ে নিয়ে আসুন। উনি কেন মেয়ের বাড়িতে থাকবেন তাছাড়া আপনি বড় ছেলে আপনার কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। আর আম্মা নিজেই তো বললেন সবাই মিলেমিশে থাকতে।
আব্বা আম্মার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
-ঠিক আছে বৌমা কাল না হয় গিয়ে নিয়ে আসবো, মা কে অনেকদিন দেখা হয় না।
মুহূর্তে পাশার দান উল্টে গেল,
-ওসবের দরকার নেই, তোমার বাপের বাড়ি তে যদি কোন কাজের লোক থাকে তাহলে নিয়ে আসো। শেষ বয়সে এসে এই ছিল আমার কপালে।
-সেটাও হতে পারে আম্মা। তবে সমস্যা নেই দাদী শাশুড়ি যদি না আসেন, আল্লাহ না করুক আব্বার অবর্তমানে আপনি কিন্তু আপনার মেয়ের সাথে থাকবেন, এই আমি বলে দিলাম। সংসারের ধারা বজায় রাখতে হবে তো।
হাত ধুয়ে উঠে চলে গেলাম, বুঝতে পারছি পেছনে আমার স্বামীর গর্ভধারিনীর মনে ভয়ঙ্কর প্রলয় চলছে।
অনুগল্প ২:
বাবা মা হীন আমার বিধবা বোন সাদিকাকে যখন একজন পছন্দ করলো আর পরিবার সহ এসে বিয়ের প্রস্তাব দিল তখন আমার চোখে পানি চলে এসেছিল।
আমার বোনটা জনম দুঃখী। আমি তবু বাবার আদর পেয়েছি , ও বাবা মানুষটার ভালোবাসা বোঝার বয়স হবার আগেই বাবা এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। বিয়ে দিয়েছিলাম আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে আমারই এক দুঃসম্পর্কের দেবরের সাথে। কিন্তু মাস তিনেক পরেই আমার ইন্জিনিয়ার দেবর সাইটে কাজ করার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সম্ভবত ঐ তিন মাসই ওর জীবনের সবচেয়ে রঙিন দিন ছিল আর সবই বিবর্ন।
পাত্রপক্ষ যখন এলো বেশিরভাগ কথাবার্তা রিফাত অর্থাৎ আমার হাসবেন্ডই বললো। পাত্রকে দেখলাম ধার্মিক প্রকৃতির। লম্বা পাঞ্জাবি পরে এসেছি মুখে দাঁড়ি, কপালে কালো দাগ দেখে বুঝে নিলাম লোকটা নামাজি তাছাড়াও তিনি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করেছেন তাই আমার বুঝতে সমস্যা হয়নি। আমিও আব্রু রক্ষা করে একপাশে চুপচাপ বসে থাকলাম। মনে মনে ভাবলাম ভালোই হয়েছে আমার বোনটাও সব সময় নামাজ রোজা সহীহ ভাবে পালন করে, পর্দা করে, দুজনের বন্ডিংটা ভালই হবে।
সেদিনই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেল। আমি চোখ তুলে দেখলাম আমার বোনের চোখে মুখে খানিকটা দ্বিধা। পাত্রপক্ষ চলে যাওয়ার পর আমি ওকে আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করলাম ওর দ্বিমত আছে কিনা, ওর সমস্যা থাকলে কথা ফিরিয়ে নেব।
ও চোখ তুলে শুধু একটাই কথা বললো,
- আপা, লোকটার দৃষ্টি ভালো লাগে নি। তার চোখে কেমন একটা কামনার ভাব ছিল, আমার অস্বস্তি হচ্ছিল।
-ওসব তোর মনের ভুল। বিয়ে করতে এসেছে পাত্রীকে ভালোভাবে দেখবে না।
-কি জানি আপা, হবে হয়তো।
বিয়ের দিন সাতেক আগে, ছোট খাটো আলোচনার জন্য দুই পরিবার আবার একত্রিত হলাম। মূলত তাদের উদ্যোগেই আমাদের বাসায় আবার বসা। ছেলে, ছেলের বাবা আর মা এই তিনজন আর কেউ না। আমি আগের মতই চুপচাপ বসে আছি। সেখানে রিফাতই কথা বলছে। তারা ঠিক করলো যে তারা অল্প কয়েকজন আসবে, খুব ছোট্ট পরিসরে বিয়ে হবে। এত ঘটা করার কিছু নেই, আমরাও সম্মতি দিলাম। পাত্রের মা বললেন তিনি কিছু বলতে চান । আমি কিছুটা আঁচ করলাম।
-দেখেন আমাদের ছেলে মাদ্রাসা থেকে বের হয়েছে। সে গতানুগতির চাকরি করতে চায় না। তার ছোট একটা ব্যবসা আছে, আপনারা জানেন। সে ঐ ব্যবসাটাকেই বড় করতে চায়। এমনিতেও ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা হচ্ছে হালাল। এই ব্যবসাটা বড় করার জন্য, আর আপনাদের মেয়ের সুখের জন্য উপহারস্বরূপ ছেলেকে যদি লাখ দশেক টাকা দেন তাহলে তো ওরাই ভালো থাকবে, তাই না?
-কত! চমকে রিফাত বলে উঠলো। আমি চুপচাপ আছি যদিও ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড রকম ধাক্কা খেয়েছি। এরা যৌতুক চাইবে আর যৌতুকের এমাউন্টটা এত বড় হবে সেটা ভাবতে পারিনি।
-দশ লাখ, আমরা আর কয়দিন তারপর তো ওরা ওরাই। তাছাড়াও মেয়েটা বিধবা, এই বিধবা মেয়েকে এই জামানায় কে বিয়ে করবে বলুন তো, দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, আমার ছেলেটা তো দেখতে শুনতে মাশাল্লাহ।
আমাকে চমকে দিয়ে রিফাত বললো,
- আমাদের সমস্যা নেই তবে দেনমোহরের ব্যাপারটা যদি খোলাসা করেন, তবে ভালো হয়।
-দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ছেলের ইনকাম অনুযায়ী। আমার ছেলের যে ইনকাম তাতে ১ লাখ টাকার বেশি দেনমোহর দেয়া সম্ভব না। আপনি চাইলে শরীয়তের নিয়ম দেখতে পারেন।
-খালাম্মা শরীয়তের কোথায় লেখা আছে যে বিধবা মেয়েকে বিয়ে করলে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে যৌতুক নিয়ে তারপর বিয়ে করতে হবে ? ভাই তুমি বলো তো ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো রিফাত, ইসলামে কি যৌতুক প্রথা আছে নাকি মেয়ে পক্ষকে সন্তুষ্ট করে সঠিক দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করার বিধান আছে? ছেলে চুপচাপ, যেন বোবা মূর্তি মা যা বলবে তাই।
-দেখেন বাবাজি, ওই টাকা না হলে আমরা বিয়েতে রাজি না, ছেলের মা বললেন।
-আমরাও বিয়েতে রাজি নই, কোন লোভী পরিবারে আমার বোনকে বিয়ে দেব না সরাসরি বলে দিলো রিফাত।
-শ্যালিকা কখনো বোন হয় না। আমি যতদূর জানি আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি নেই তার মানে আপনার শ্যালিকা আপনার বাড়িতেই থাকবে, সে নিশ্চয়ই একা থাকবে না।তাকে বিয়ে দেয়া ছাড়া আপনার আর কোন গতি নেই কারণ আপনি নিজের বাড়িতে পর নারীকে রাখতে পারেন না। নাকি আপনার অন্য উদ্দেশ্য আছে? এইবার অসভ্য ছেলেটি মুখ খুললো।
-তোমার মা যাই বলুক না কেন এতক্ষণ তোমাকে আমি ভদ্র মনে করেছিলাম।এখন দেখলাম যে তোমার ভদ্রতার মুখোশ খুলে গেছে। আমি যখন বিয়ে করি সাদিকার বয়স তখন মাত্র নয়। ওকে আমি নিজের বোন না শুধু নিজের মেয়ের মতো দেখি। আর তুমি ধর্মের প্রলেপ লাগিয়ে একটা সুন্দর সম্পর্ককে ইচ্ছে করে বাজে রূপ দিতে চাইছো অথচ নিজেরা যৌতুক দাবি করে বসে আছো, ছিঃ । কে বলতে পারে আগামীকাল আরেকটা বিয়ে করবে না তুমি ? তখনও ধর্মের একটা লেবাস লাগিয়ে বলবে, ধর্মে আছে সমস্যা কোথায়? তোমাদের মত এই লেবাসধারী ধার্মিকদের জন্য বেশিরভাগ মাওলানা,হুজুর এই ধরনের ব্যক্তিদের উপর থেকে মানুষ শ্রদ্ধা হারায়। তোমার বাবা মা কে নিয়ে এখনই আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাও।
ওরা কথা না বলে সবাই বের হয়ে গেল।
আমি কিছু বলতেই যাচ্ছিলাম এমন সময় রিফাত বললো,
-দয়া করে আমার মুডটা এখন আরও খারাপ করে দিও না। সাদিকা এই বাড়িতেই থাকবে। আমি অফিসে স্যারের সাথে কথা বলেছি। আমার ব্রাঞ্চে কোন পোস্ট খালি নেই তবে অন্য একটি ব্রাঞ্চে আছে। আমিই বিষয়টা পেন্ডিং রেখেছিলাম এই বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে। ছেলেকে দেখে মনে হয়েছিল এই ছেলে স্ত্রীকে চাকরি করতে দেবে না। আমি আগে ওর সুখী সংসার দেখতে চেয়েছিলাম তাই চাকরির কথা তাকে বলিনি কিন্তু এখন বলবো। আমার মনে হয় আগে সাদিকার স্বাবলম্বী হওয়া উচিত তারপর যদি ভাগ্যে থাকে অবশ্যই সে তার উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান পাবে।
আমি কিছুই বললাম না মাথা নিচু করে চোখের পানি আটকানোর চেষ্টা করছিলাম এমন সময় সাদিকা ঘরে ঢুকলো। তাকে দেখেই বোঝা গেল সে সব শুনেছে সব জানে।
-ভাইয়া এই নাও মিষ্টি খাও
- তুই আবার কিসের মিষ্টি নিয়ে এসেছিস?
-বিয়ে ভাঙ্গার মিষ্টি, দশ লাখ টাকা বেঁচে যাবার মিষ্টি আর ছোট্ট এই জীবনটা নরক না হবার মিষ্টি,সাদিকা হেসে ফেলল। তাছাড়া মিষ্টি তো ওই ছেলে পক্ষই এনেছে ।ওরা এত কিছু খেয়ে গেল আমরা যদি মিষ্টি না খাই তাহলে আমাদের অনেকেই লস হয়ে যাবে না?
রিফাত সাদিকার মাথায় হাসতে হাসতে স্নেহের হাত রাখলো। আমার চোখ দিয়ে তখন পানি পড়ছে কিন্তু মুখে হাসি এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি।
অনুগল্প ৩:
শহরের নামকরা একটা প্রাইভেট হাসপাতালের আর.এম.ও ডক্টর তাসনুভা। তাসনুভা তার মেডিকেল অফিসারদের সাথে খুবই বন্ধুসুলভ আচরণ করে এবং তারাও তাকে সম্মান করলেও বন্ধুর মতই দেখে।একজন মেডিকেল অফিসার মিরাজ এসে সালাম দিয়ে তার রুমে ঢুকে বললো,
-আপু আমি পরপর তিনদিন টানা দুটো করে ডিউটি করতে চাচ্ছি অন্যদের সাথে এক্সচেঞ্জ করে, কোন সমস্যা নেই তো?
তাসনুভা হেসে ফেললো, সাধারণত দিনে আট ঘন্টা ডিউটিই মানুষকে কাহিল করে দেয় আর ও ১৬ ঘন্টা ডিউটি করতে চাচ্ছে । সে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল তারপর কৌতুহল থেকে বললো,
- কেন কি হয়েছে, হঠাৎ এত পরিশ্রম করার ইচ্ছা হলো কেন?
মিরাজ একটু অলস প্রকৃতির ছেলে এটা তাসনুভা ভালো করে জানে।
-আর বলবেন না আপু, আমার শাশুড়ি এসেছে সে নাকি তিন দিন থাকবে, কি যে বিরক্তিকর।
-তাই নাকি ! কিভাবে বিরক্ত করে, শুনি।
-বাইরের একটা মানুষ চোখের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখলে এমনিই তো মানুষ বিরক্ত হয় তাছাড়াও ডিউটি না থাকলে সকালে একটু বেশি ঘুমালে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আদুরে ভঙ্গিতে উপদেশের ডালা খুলে বসবে, অসহ্য মহিলা। আমি তো ঘুমাতেই যাই রাত দুইটা তিনটায় তাহলে সকালে কেন উঠবো? এই মহিলা এটা বোঝেনা, খুব বিরক্তিকর। তাই যে দুই তিন দিন থাকবে আমি হাসপাতালেই কাটাবো।
-তোমার কলিগরা যদি ডিউটি এক্সচেঞ্জ করে অথবা তোমাকে দিয়ে দেয় তাহলে কোন সমস্যা নেই তবে তোমার সময় থাকলে দুই একটা কথা বলতাম।
-হ্যাঁ আপু বলেন
-আমি যতদূর জানি তোমার স্ত্রী ডাক্তার, তোমাদের রিলেশনের বিয়ে ছিল তাই না?
-হ্যাঁ আপু
-সে কোন চাকরি বাকরি, পড়াশোনা কিছুই করে না কেন?
-আসলে আপু আমাদের অর্থনৈতিক কোন সমস্যা নেই, বাবা অনেক রেখে গেছে। তাছাড়া মা একদম পছন্দ করে না।
-তোমার মা পছন্দ করে না,তাহলে একটা ডাক্তার মেয়ে তুমি ঘরে আনলে কেন? তুমি কি বিয়ের আগে তাকে জানিয়েছিলে যে তোমার মা তাকে চাকরি করতে দেবে না?
- না আপু সেটা আমি জানাইনি, জানালে ও বিয়েতে রাজি হতো না কারণ ক্যারিয়ার ছিল ওর প্রধান ফোকাস।
- তাহলে এখন ও তোমার কথার বাইরে যাচ্ছে না কেন?
- কারণ মায়ের মতই আমার মত। ও যদি মায়ের কথা না শুনে তাহলে আমি ওকে রাখবো না ও খুব ভালো করে জানে।
-শোনো মিরাজ মনটাকে উদার করো, তোমার মানসিকতা খুবই সংকীর্ণ। একটা ডাক্তার মেয়ে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে শুধুমাত্র তোমার সাথে জীবন কাটাচ্ছে এবং তার ক্যারিয়ারে প্রধান বাঁধা হচ্ছে তোমার মা। সে কি করে তোমার মাকে সহ্য করে এতদিন ধরে সংসার করে যাচ্ছে, একটু ভাববে তুমি? আর তুমি মাত্র তিন দিনের জন্য তার মাকে সহ্য করতে পারছো না, কি ভয়াবহ অবস্থা বলতো।
মিরাজ চুপ করে আছে দেখে তাসনুভা বললো,
-আমাদের সমাজে মেয়েরা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার যাই হোক না কেন তারা সংসারের কথা ভেবে সব সেক্রিফাইস করতে পারে আর ছেলেরা হাসিমুখে একটা দুইটা দিন এক্টিং করে হলেও স্ত্রীর মন ভালো রাখার কোনরকম চেষ্টা করে না।তুমি একবার ভেবে দেখো তো তুমি যদি সুন্দরভাবে এই তিন দিন তোমার বাড়িতে তোমার স্ত্রী, শাশুড়ি আর মায়ের সাথে সময় কাটাও তাহলে সবচাইতে বেশি খুশি হবে তোমার জন্য একটা সুন্দর ক্যারিয়ার স্যাক্রিফাইস করা মেয়েটি। যে তোমাকে আমার ধারণা এখনো পাগলের মত ভালবাসে তা না হলে কবেই চলে যেত। আমার কথা শেষ তুমি চাইলে ডিউটি করতে পারো।
পরদিন তাসনুভা মর্নিং আর ইভনিং উভয় ডিউটিতে মিরাজকে পেল। মনে মনে সে হাসলো, কিছু মানুষ কে যত যাই বোঝানো হোক না কেন সে শুধু নিজেরটাই বুঝবে। পরিশেষে এদের অনেকেই হারিয়ে আফসোস করে।
©সুবর্না শারমিন নিশী*