13/05/2024
আমার ছেলের বিয়ের জন্য আমি দুইটি শর্ত নিজের উপর আরোপ করেছিলাম :
১. মেয়েকে পর্দা করতে হবে।
২. বিয়েটি সামাজিকভাবে না হয়ে শারী‘য়াহ্ অনুযায়ী হবে।
আল্লাহর রাহমাতে তাঁর এমন এক বান্দা পেয়ে গেলাম, আমি যা বলেছি তিনি শুধু হাঁ বলেছেন, কোনো কথায় দ্বিমত পোষণ করেননি।
কথা ছিলো :
* মেয়ে দেখতে ছেলে, মা ও ছোট দুইবোন ছাড়া আর কেউ যাবে না।
* কোনো রেষ্টুরেন্টে মেয়ে দেখার আয়োজন হবে না।
* গায়ে হলুদ হবে না।
* বাড়ি লাইটিং হবে না।
* আক্বদ অনুষ্ঠানে প্যাকেট হবে না।
* বিশাল অংকের মোহর হবে না।
* বর যাত্রীর নামে একজনেরও ভুঁড়িভোজ হবে না।
* আক্বদের পর বউ নিয়ে আসা হবে।
* যৌতুকের অভিশাপ হিসাবে একটি সুতা ও একটি লাকড়িও যাবে না।
* সেই রাতেই ওয়ালীমাহ্ হবে।
* বিয়ে উপলক্ষে মেয়ের বাবার একটি টাকাও খরচ হবে না।
* যে দিন আপনার মেয়ে এসে বলবে আব্বা! আমার শ্বশুর আমার ইযযাত রক্ষা করতে পারছেন না, সেদিন আপনি তার জন্য কাপড় পাঠিয়ে দেবেন।
* যে দিন আপনার মেয়ে এসে বলবে আব্বা! আমার শ্বশুর আমার খাবার দিতে পারছেন না সেদিন আপনি চাউলের বস্তা পাঠিয়ে দেবেন এর আগে নয়।
আলহামদুলিল্লাহ!
সবই পেয়ে গেলাম। আমি মেয়েকে কি দিচ্ছি এবং কয় ভরি স্বর্ণ দেয়া হবে তিনি একবারের জন্যও জানতে চাননি। উল্টে নিজে বললেন, আপনার ছেলের বউ আপনি কীভাবে সাজাবেন সেটি আপনাদের বিষয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, বিয়ের আলোচনায় কোনো পক্ষের তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তারপরও কেউ কেউ অতি দরদী সেজে বিয়ের ভাঙানী দিতে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু দ্বীনকে অগ্রাধিকার দেয়াতে তার ভাঙানী কাজে লাগেনি। সব আমি এবং মেয়ের বাবা এমন এক সময় ঠিক করেছি যে সময় সমাজ চৌদ্দগোষ্ঠির অপেক্ষায় থেকে এবং তাদের পরামর্শে বিয়ে ভাঙছে ও গড়ছে।
[আমরা যারা আল্লাহ্'র সন্তুষ্টির জন্য বিবাহ করতে চাই, আমাদেরও এমন দৃঢ় প্রত্যয় রাখা উচিত।]
লিখেছেন : প্রফেসর আতাউর রহমান নাদভী
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (IIUC)