17/04/2025
জাহান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
পহেলা বৈশাখের দিন আমার ছেলের স্কুল জাহান ইন্টারনেশনালে অনেক বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে। যেহেতু প্রোগ্রাম ছিলো সব স্টুডেন্টসদের বাবা মাও ছিলো স্কুল এর ভিতরে ও বাহিরে । প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে স্কুলের এন্ট্রি এন্ড এক্সিট এর ঠিক ওই জায়গাতে ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট হয়। আর পুরা স্কুল এর ভিতর কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে বিষাক্ত কালো ধোয়া/Smoke হয়ে অনেক খারাপ অবস্থা হয়, একে তো স্মোক তার মধ্যে অন্ধকার এত গুলা বাচ্চা, যে যেভাবে পেরেছে এতো ছোট জায়গা দিয়ে নিয়ে বের হয়ে এসেছে। যেই জায়গা টাতে শর্ট সার্কিট হয় ওই জায়গা দিয়েই সবাই রিস্ক নিয়ে বের হয়ে আসছিলো। আমি ও অনেক কষ্টে বাহির থেকে মুখে কাপড় চেপে ভিতরে যেয়ে আমার ছেলেকে( বয়স:সাড়ে তিন বছর) নিয়ে বের হয়ে আসার সময় আহত হই। এত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি এই প্রথম আমি ফেইস করলাম। শর্ট সার্কিটের ওইজায়গায় অনেক শব্দ ও আগুনের ফুলকির মত হচ্ছিল মনে হচ্ছিল এই বুঝি ব্লাস্ট হলো। ভাগ্যবশত ওইদিন সব পেরেন্টস থাকায় বাচ্চাদের বের করতে পেরেছ। এই স্কুল এ ডে কেয়ার ও আছে যেখানে ৬ মাসের বাচ্চা ও রাখা হয়। ওই দিন ডে কেয়ার ও বন্ধ ছিলো তা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হত।
এবার আশি মূল কথায়, এত নামকর একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যার এত গুলা ব্রাঞ্চ আছে, উত্তরাতেই ৩ টা ব্রাঞ্চ। এত পুরাতন বিল্ডিং যেটার ক্লাস গুলা থেকে ইমারজেন্সি হলে বের হওয়ার কোনও উপযোগী সিস্টেম নেই। এত বেশি বদ্ধ জায়গা কোনও খোলা জানালা নাই যেখান দিয়ে স্মোক বের হবে বা ফায়ার সার্ভিস আসলে কোনো ভাবে বাচ্চাদেরকে রেসকিউ করবে, করিডোরে আগুন লেগেছে ক্লাস এ যেয়ে না বলা পর্যন্ত কেউ জানতেই পারে নাই কারণ কোনও ফায়ার অ্যালার্ম নাই , স্মোক হওয়ার পর কেউ সাথে সাথে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে নাই কারণ করো ট্রেনিং নাই, এমনকি হাতের কাছে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিলো না। ঘটনা ঘটার পর এখন অবশ্য অনেক fire extinguisher 🧯 এনে রেখেছে। এত বড় একটা দুর্ঘটনা হওয়ার পর তার একদিন পরই স্কুল খুলে ফেলেছে যেন কিছুই হয় নাই। এত বড় ঘটনার কোথাও কোনও আপডেট তারা দেয় নাই, গাছাড়া ভাব যে কোনো বাচ্চা মারাতো যায় নাই!! যারা যারা ওইদিন ওইখানে ছিলো প্রত্যেকটা বাচ্চা ও তাদের বাবা মা এখনও ট্রমার মধ্যে আছে, অথচ স্কুল কর্তপক্ষ তাদের ভয় দূর করা বা আস্বাস দেওয়ার জন্যে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা তাদের জাহান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পেজএ পহেলা বৈশাখ এর উৎসব এর ফোটো ও ভিডিও শেয়ার করছে, যেন কিছুই হয় নাই। আমার প্রশ্ন হলো এত বড় একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে এত পুরনো বিল্ডিং যেটার ইলেকট্রিক সিস্টেম এত দূর্বল, যার কোনও ইমার্জেন্সি হলে সেটা মোকাবেলা করার মতো পর্যাপ্ত কোনও ইকুইপমেন্ট, স্টাফদের ট্রেনিং, ইমার্জেন্সি দরজা/ এক্সিট, ফায়ার অ্যালার্ম, কোনো সেফটি সিকিউরিটি ছাড়া চালাচ্ছে ?? এই ধরনের ঘিঞ্জি বিল্ডিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামক বিজনেস প্রতিষ্ঠান গুলা পরিচালনার অনুমুতি কিভাবে পায়?? আগে সন্তান বাঁচুক তারপর পড়াশুনা।
যারা বলেন কিছু তো হয় নাই, হয় নাই দেখেই বলতে পারলাম, যদি হয়ে যেত বলে আর লাভ ছিলনা। আজকে পহেলা বৈশাখ এর দিন সারাদেশে একটা শোক পালনের দিন হতে পারতো । এত গুলা বাচ্চা!! ভাবতেই গা শিউরে উঠে । আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক ।
সবাই সবার বাচ্চাদের স্কুল এ পাঠানোর আগে ইনস্টিটিউটের সেফটি সিকিউরিটি অবশ্যই চেক করে নিবেন।
বি: দ্র: ভিডিও টা বাচ্চা কে রেসকিউ করার পরের ভিডিও । বাইরে এই অবস্থা তাহলে বুঝেন ভিতরে কি ভয়ংকর অবস্থা ছিলো !!
কমেন্টস সেকশনে আরও ভিডিও দেওয়া আছে