19/09/2025
সবার দেওয়া দুঃখ গুলো যেন আমার একমাত্র বন্ধু। চারপাশে মানুষ থাকে, কথা বলে, হাসে তবু আমি একা। আমার চোখে পৃথিবী অনেক ছোট, শুধু তার জন্য, তার না থাকা সেই শূন্যতা টা আমাকে বড় করে দেয়।
আমার ভালো সময় খুব জলদি ফুরিয়ে যায়। যা কিছুই আমি ছুঁই, যা আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান, তা হাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে চলে যায়, এমনভাবে যেন কখনো ছিলই না।
আমি একসময় এমন এক মানুষকে ভালোবেসে ফেলি, যার জন্য আমার প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত, প্রতিটি নিঃশ্বাস তার স্মৃতিতে ভরা, যেন তার ভুত আমি আমার মাথা থেকে নামাতেই পারিনা। তার সেই মায়াভরা মুখটা আমি কখনো এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলে থাকতে পারিনি।
হঠাৎ একদিন,
এক মিথ্যা কথার বোঝা আমার কাঁধে এসে পড়ল। কারও কাছে এটা ছোট কিম্বা ভ্রান্ত চিন্তা বা অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে, কিন্তু আমার চোখে যেন পাহাড় হয়ে দাঁড়ালো। হঠাৎ, তার চোখের দৃষ্টি আমার থেকে সরে গেল। পৃথিবীটা এমন ফাঁকা হয়ে উঠল, যা আগে কখনো ভাবিনি।
আমি এলোমেলো চুল, অগোছালো ভাব, ওভারথিঙ্কিং সব মিলিয়ে একাকার অবস্থা, আমার সব থাকলেও তার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় যেন কিছুই নেই আমার। অনুভবটা কখনো মুছে ফেলা যাবে না। আমি বলার চেষ্টা করি, “সব কিছু ঠিক আছে,” কিন্তু শব্দগুলো ভেঙে পড়ে, মনে সজোরে উচ্চারিত হলেও আমার কন্ঠনালি যেন এটা উচ্চারণ করতে গিয়ে থেমে গেছে বহুবার।
আমার কলিজা চেরা আত্মচিৎকার যদি কেউ শুনতে পেত তাহলে হয়ত তার সর্বস্তরের চামড়া জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যেত।
রাতগুলো যেন তার কৃত্রিম ছোয়ায় কেটে যায়, আমি তো যেমন তেমন, আমার মন যেন তাকে কখনো আড়াল করে রাখতে চায় না।
হে স্নিগ্ধমাধুরী,
“পছন্দের গিটার নোট বাজালেও যেন তোমার কন্ঠ শুনতে পাই, সারাদিন আমি যেন তোমার সুরেই হারাই,” যে শব্দগুলো কখনো মুখে আসে না।
শুধু কল্পনায় তার কাছে যাই, তার কাছে দাঁড়াই, মাথা হেলাই, চোখে ভরা সব কথা শুধুই তার জন্য।
এমন এক বিকেল, যখন বাতাস হাতিরঝিলের সেই লাল সিড়ির কোণে শান্ত, আমি তার সামনে এলাম। মুখে কিছু বলতে পারিনি, শুধু চোখে চোখ রাখলাম।
সে কিছু বুঝল কি না জানিনা। কিন্তু আমার চোখে থাকা সমস্ত ভুল, সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত অনুনয় সবকিছু যেন এক সঙ্গীতের মতো তার হৃদয়ের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করল।
আর আমি দাঁড়িয়ে থাকি, এলোমেলো চুল, অগোছালো ভঙ্গি, ওভারথিঙ্কিং আর উচ্চগতিতে চলতে থাকা ফুস্ফুস নিয়ে তবু মনে হয় যেন এক মিষ্টি মধুর মুহূর্ত সৃষ্টি হল।
আমি জানি, কথাগুলো সরাসরি বলা যায় না। আমি জানি, এটি হয়তো সে কখনোই বুঝবে না। কিন্তু কবির মতো, নিঃশব্দে, প্রতিটি দৃষ্টিতে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি তাকে বলেছি “আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি কি তোমাকে ভালোবাসার অনুমুতি আমায় দেবে গো?”
দিনগুলো একাকার হয়ে যাচ্ছিল। সে দূরে, আমি কাছে মনের মধ্যে তাকে দেখার যেন এক ধরনের ক্ষুধা। বারবার ভাবি, যদি সেইদিন মিথ্যা না বলতাম, যদি আমি আমার মনের ভাব তাকে বোঝাতে পারতাম, তাহলে কি সব কিছু বদলে যেত? আমি নিজেকে ভাংতে দেইনি, চেষ্টা করেছি মানিয়ে নেওয়ার কারণ,মানিয়ে নিতে পারলেই নাকি জীবন সুন্দর। তবু এটা আমার কথা না এটা শোনা কথা। জীবনে কত কিছুই তো মানিয়ে নিলাম কই, আমার জীবনে তো খুব বেশি কনো পরিবর্তন লক্ষ করা যাইনি।
চোখগুলোর নিচে কালি, হতাশাভরা মুখ ছাড়া এই জীবনে আমার কনো অর্জন নেই।
সে না জানলেও আমি জানি, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লেখা হয়ত সব তারই জন্য।
এক বিকেলে, সেই রাস্তায় আমাদের আরও একবার দেখা হোক। মুখের অভিব্যক্তি কোনো কথা না বলুক, কিন্তু চোখে চোখ পড়ার মুহূর্তে যেন সমস্ত সময়ের দূরত্ব কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।
আমি এলোমেলো চুল ছুঁয়ে, অগোছালো ভঙ্গিতে, হালকা হাসি দিয়ে শুধু দাঁড়িয়ে তাকে একবার দেখতে চাই। যেন কোন শব্দ নেই, শুধু নিশ্বাসে ভরা অনুভূতি, মিনিট পেরিয়ে মাস পার হয়ে গেলেও যেন শেষ হবেনা,
তাহারে দেখার ও পালা।
সে বুঝল কি না জানি না
কিন্তু আমার দৃষ্টি বলে গেল সব।
সে, হয়তো কখনোই বুঝবে না।
হয়তো সে কখনো বুঝতেও চায়নি।
তবু আমি আজও বলে যাই
“তোমাকেই ভালোবাসি।”
চোখে চোখে সব কি বলা যায়? ভালোবাসা, অনুশোচনা, প্রত্যাশা? সে কি বুঝল? হয়তো বা আবার সে বুঝতে চা-ই নি কখনো। আমি চাই না সরাসরি বলব, বরং আমার প্রতিটি দৃষ্টি যেন বলে:
সে হয়ত কখনোই আমার হবেনা শুধুশুধু দিবাস্বপ্ন দেখে কি হবে?
তবুও তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার সৃতিগুলো আমায় শ্রাবণের মেঘের মত পিছু করে।
আমার যাকে পছন্দ সে আমার চোখে সবার চেয়ে সুন্দরী, কিন্তু আমাদের তো মিলন হবেনা।
আমার ভালো সময় যেন বরফের মত,
ছুঁতে না ছুঁতেই গলে যায়।
যা ছুঁই, তা ফাঁক দিয়ে হারিয়ে যায়,
যেন তা ছিলই না কখনো
এ আমার জীবনে এক অভিসাপের মত।
📜 This is an original piece of writing.
© [Tajun Ahmmed],19/09/2025