
24/09/2023
নিয়মিত কর্মস্থলে আসেন না তিন চিকিৎসক
কর্তব্য রোগীদের সেবা দেওয়া হলেও প্রতি সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. গালিবা তাসনিম, ডা. সেলিম রেজা ও ডা. মরিয়ম জামিলার বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয় কর্মস্থলে মাসের বেশিরভাগ দিন অনুপস্থিত থাকলেও তারা প্রতিমাসে নিয়মিত পুরো বেতন-ভাতা তুলছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এভাবে দিনের পর দিন দায়িত্বে অবহেলা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাবঞ্চিত রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয় জনগণ।
জানা যায়, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার তিন লাখ ৩২ হাজার মানুষের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ একটিমাত্র হাসপাতালকে ২০০২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এ হাসপাতালে ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র তিনজন।
সুজানগর পৌরসভার চরভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা নুরু চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালে নিয়মিত ওই তিন জুনিয়র কনসালটেন্ট না আসায় প্রায়ই চিকিৎসা না পেয়ে রোগী নিয়ে ফিরে যেতে হয়। তিনি বলেন, স্বচ্ছলরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা নিতে পারলেও তাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসা।
জানা যায়, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক) ডা. সেলিম রেজা ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. গালিবা তাসনিম এবং গত বছরের ২০ ডিসেম্বর জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি অ্যান্ড অবস) ডা. মরিয়ম জামিলা এ হাসপাতালে যোগদান করেন। যোগদান করলেও জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মরিয়ম জামিলা ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সেলিম রেজা বগুড়া এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. গালিবা তাসনিম পাবনা শহরে অবস্থান করে থাকেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহের শনি থেকে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও সে নির্দেশনা অমান্য করে সপ্তাহে দু-তিন দিন এসে হাজিরা খাতায় পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর করে কিছুক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করে তারা নিজ নিজ শহরে চলে যান। সপ্তাহের দু-তিন দিন কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর করার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মুজিব বলেন, ‘আমি ওই তিন জুনিয়র কনসালটেন্টকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শনি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন কর্মস্থলে আসার কথা বলেছি। কিন্তু যেদিন আসবেন না সেদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার কথাও জানিয়েছি। এ ছাড়া নিয়মিত কর্মস্থলে না আসার কারণে ওই তিন চিকিৎসককে সম্প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করা হয়েছে। পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, সরকারি পদে বহাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং জনগণকে সেবা না দিয়ে বেতন-ভাতা তোলা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। আমি জেলায় নতুন যোগদান করেছি। এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. গালিবা তাসনিমের মুঠোফোনে তিন দিন ধরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর ডা. মরিয়ম জামিলা ও ডা. সেলিম রেজা শনিবার জানান, তারা এখন থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে সেবাপ্রত্যাশী রোগীদের সেবা প্রদান করবেন।