30/08/2025
হ্যালো ইনসমনিয়া, আমার পুরনো বন্ধু
হ্যালো ইনসমনিয়া, আমার পুরনো বন্ধু। গত কয়েকদিন আমি দিনে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছি, যেন শীতের ঘুমে থাকা একটা ভাল্লুক। কিন্তু আজ রাতভর জেগে থেকেও সকাল পর্যন্ত ঘুম আসছে না। অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়। এরকম ঘটনা আমি আগেও বহুবার দেখেছি।
বিষয়টা হলো, আমি কখনো বুঝতে পারি না এটা কিভাবে শুরু হয় আর কিভাবে শেষ হয়। আমি তো আর ঠিক করি না যে আজ রাতে বসে বসে চিন্তা করব আর ঘুম নষ্ট করব। এটা নিজে থেকেই ঘটে যায়। আমার মাথার ভেতরটা যেন একটা ব্যস্ত শেয়ার বাজার। ব্রোকাররা চিৎকার করছে। সংখ্যা ঝলকাচ্ছে। চিন্তাগুলো কেনাবেচা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। এই হট্টগোলে ঘুমের কোনো জায়গা নেই।
কিন্তু কোন চিন্তাটা আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না?
আমার হৃদয়ভাঙা প্রেমের স্মৃতি?
নাকি কোনো অদৃশ্য অভিশাপ ভাঙার পাগলামি?
নাকি বন্ধুবান্ধব আর পরিবারের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ?
কখনও মনে হয় এগুলোর কিছুই নয়। কখনও দোষ দেই কফিকে, মোবাইল স্ক্রিনের আলোকে বা রাত তিনটায় ইউটিউবের অগণিত ভিডিও দেখতে বসার অভ্যাসকে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জানি, এর চেয়ে গভীর কিছু আছে।
আমি একটা জিনিসে বিশ্বাস রাখি। সব কিছুরই শেষ আছে। জীবনের প্রতিটা কষ্টই একদিন চলে যায়। হোক সেটা চলে যাওয়া প্রেমিকার স্মৃতির ব্যথা, কিংবা পকেট ফাঁকা থাকায় প্রিয় পানীয় কেনার অক্ষমতা, কিংবা বুকের ভিতর কামড়ানো উদ্বেগ। সব কিছুরই শেষ আছে। আমি বিশ্বাস করি না যে কেউ সারাদিন খারাপ থাকে, আবার কেউ সারাদিন সুখী থাকে, এমনটাও নয়। জীবন কখনোই চরম নয়, জীবন হলো ভারসাম্য।
কিন্তু ঘুম সত্যিই সুন্দর একটা জিনিস। এটা একটা আশ্রয়, একটা রিসেট বোতাম। সমস্যা শুরু হয় যখন এই আশ্রয়টাই হারিয়ে যায়। তখন বুঝি আমি যতটা শক্ত ভাবি নিজেকে, ততটা নই। আমার বহু চিন্তা একসাথে সামলানোর “সুপারপাওয়ার”টা আসলে আশীর্বাদ নয়, অনেক সময় অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।
ইনসমনিয়া এখন আমার পুরনো বন্ধুর মতো। যে বিনা নোটিশে এসে বসে যায়, তবু আমার সব গোপন কথাই জানে। সে দরজায় নক করে না। কিছু জিজ্ঞেস করে না। শুধু বসে থাকে, মুখে রহস্যময় হাসি নিয়ে, আর আমি মিম দেখি, পুরনো মেসেজ পড়ি আর অস্তিত্বহীনতার ভয়ে ডুবে যাই। এই বন্ধুত্ব আমি চাইনি, কিন্তু মেনে নিতে শিখে গেছি।
হয়তো কাল আমি শিশুর মতো ঘুমাব। হয়তো আজ রাতটাও আমি লিখে লিখে কাটাব, আমার বিশৃঙ্খলাকে শব্দে রূপ দেব। যেভাবেই হোক না কেন, আমি আর ইনসমনিয়া, আমরা একে অপরের উপস্থিতিকে মেনে নিয়েছি।