অপ্রমাদ অমৃতপদ

অপ্রমাদ অমৃতপদ "Hatred does not cease by hatred, but only by love; this is the eternal rule." - The Buddha

নিদ্দাসীলি সভাসীলি, অনুট্ঠাতা চ যো নরো,অলসো কোধপঞ্ঞানো, তংপরাভবতো মুখং।বাংলা অনুবাদ: যে খুব ঘুমায়, বন্ধুদের সংগে অনেকক্ষ...
10/01/2026

নিদ্দাসীলি সভাসীলি, অনুট্ঠাতা চ যো নরো,
অলসো কোধপঞ্ঞানো, তংপরাভবতো মুখং।

বাংলা অনুবাদ: যে খুব ঘুমায়, বন্ধুদের সংগে অনেকক্ষণ গল্প করে সময় কাটায়, অলস, উদ্যমহীন ও রাগী তার পরাজয় হয়ে থাকে।

- খুদ্দক নিকায়ের অন্তর্গত সূত্রনিপাতের পরাভব সূত্র হতে।

শ্রেষ্ঠীপুত্র যশের প্রব্রজ্যাসে সময় বারাণসীতে যশ নামে উচ্চকুল-জাত সুকুমার শ্রেষ্ঠীপুত্র ছিলেন। তাঁর তিনটি প্রাসাদ ছিল : ...
10/01/2026

শ্রেষ্ঠীপুত্র যশের প্রব্রজ্যা

সে সময় বারাণসীতে যশ নামে উচ্চকুল-জাত সুকুমার শ্রেষ্ঠীপুত্র ছিলেন। তাঁর তিনটি প্রাসাদ ছিল : একটি হেমন্তের উপযোগী, একটি গ্রীষ্মের উপযোগী, একটি বর্ষার উপযোগী। তিনি বর্ষার উপযোগী প্রাসাদে বর্ষায় চার মাস নিষ্পুরুষ্‌তূর্যে (নটী প্রভৃতির দ্বারা) সেবিত হয়ে কখনো প্রাসাদ হতে নিচে নামতেন না। তিনি একদিন পঞ্চ কামগুণে সমর্পিত, সমঙ্গীভূত (তন্ময়) এবং নারীসেবিত হয়ে সবার আগেই ঘুমিয়ে পড়লেন। পরিজনগণও পরে ঘুমিয়ে পড়ল। কক্ষের ভেতর সারাটা রাত তেলের বাতি জ্বলছিল। তারপর কুলপুত্র যশ সবার আগে জেগে দেখতে পেলেন যে তাঁর পরিজনগণ ঘুমাচ্ছে—কারও কক্ষে মৃদঙ্গ, কারও কক্ষে ‘আলম্বর’, কারও বিকীর্ণ কেশ, কারও মুখে লালা বের হচ্ছে, কেউ-বা প্রলাপ বকছে, মনে হলো যেন হাতের কাছে শ্মশান। তা দেখে পাপে উপদ্রব প্রাদুর্ভূত হলো এবং নির্বেদে চিত্ত সংস্থিত হলো। তখন কুলপুত্র যশ এই উদান (ভাবোক্তি) ব্যক্ত করলেন, ‘এই যে বড়ো উৎপাত! এই যে বড়ো উপদ্রব!’

কুলপুত্র যশ সোনার জুতো পরে ঘরের দরজায় আসলেন, অদৃশ্যভাবে অমনুষ্যগণ (দেবগণ) দরজাটা খুলে দিলেন, যাতে গৃহ হতে গৃহহীন হয়ে প্রব্রজিত হবার পক্ষে কেউ কুলপুত্র যশের অন্তরায় ঘটাতে না পারে। তারপর কুলপুত্র যশ নগরের দরজায় পৌঁছালেন, অমনুষ্যগণ সেখানেও দরজাটা খুলে দিলেন, যাতে কেউ কুলপুত্র যশের প্রব্রজিত হবার পথে অন্তরায় ঘটাতে না পারে। কুলপুত্র যশ ঋষিপতন-মৃগদাবে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সে সময় ভগবান রাতের শেষে, অতি ভোরে শয্যাত্যাগ করে খোলা জায়গায় পায়চারি করছিলেন। তিনি দূর হতে দেখতে পেলেন যে কুলপুত্র যশ তাঁর দিকে আসছেন। তাঁকে দেখে চংক্রমণ (পায়চারি) শেষে নির্দিষ্ট আসনে বসলেন। কুলপুত্র যশ ভগবানের অদূরে থেকে এই উদান (খেদোক্তি) ব্যক্ত করলেন, ‘এই যে বড়ো উৎপাত! এই যে বড়ো উপদ্রব!’
ভগবান বললেন, ‘যশ, এ স্থান যে উপদ্রববিহীন ও উৎপাতশূন্য। এসো যশ, তুমি বসো, আমি তোমাকে ধর্মোপদেশ দেবো।’

‘এ স্থান উপদ্রবহীন ও উৎপাতশূন্য’ -এটা শুনে কুলপুত্র যশ হৃষ্ট ও প্রফুল্ল হয়ে সোনার জুতো খুলে ভগবানের কাছে গিয়ে বন্দনা করে সসম্মানে একপাশে বসলেন। একপাশে বসে থাকা কুলপুত্র যশের কাছে ভগবান পর্যায়ক্রমে ধর্মকথা বলতে লাগলেন। যথা : দানকথা, শীলকথা, স্বর্গকথা। ভগবান কামের উপদ্রব, জঞ্জাল ও সংক্লেশ (মালিন্য) এবং নৈষ্ক্রম্যের সুফল (প্রত্যাশিত সুখদ ফল) প্রকাশ করলেন। যখনই ভগবান জানতে পারলেন যে যশের চিত্ত সুস্থ, নরম, নীবরণমুক্ত, প্রফুল্ল ও প্রসন্ন হয়েছে, তখন তিনি বুদ্ধদের সংক্ষিপ্ত উৎকৃষ্ট ধর্মদেশনা ব্যক্ত করলেন। যথা : দুঃখ, দুঃখসমুদয়, দুঃখনিরোধ ও দুঃখনিরোধের উপায়। যেমন শুদ্ধ ও ময়লাহীন কাপড় সম্যকভাবে রং গ্রহণ করে, সেইরূপ কুলপুত্র যশের সেই আসনে বিরজ, বিমল ধর্মচক্ষু উৎপন্ন হলো : ‘যা-কিছু সমুদয়ধর্মী সেসবই নিরোধধর্মী। যশের পিতা সর্বপ্রথম ত্রিবাচিক উপাসক:

কুলপুত্র যশের মাতা প্রাসাদে উঠে যশকে দেখতে না পেয়ে গৃহপতির কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, ‘গৃহপতি, তোমার ছেলে যশকে তো দেখছি না।’

শ্রেষ্ঠী চারদিকে অশ্বারোহী দূত পাঠিয়ে স্বয়ং ঋষিপতন-মৃগদাবে গেলেন। তিনি সোনার জুতোর চিহ্ন দেখতে পেলেন; চিহ্ন দেখে তারই অনুগমন করলেন। ভগবান দূর হতেই দেখতে পেলেন শ্রেষ্ঠী তাঁর দিকে আসছেন। তিনি আসছেন দেখে ভগবানের মনে এই চিন্তা উদয় হলো : ‘আমি এমন এক ঋদ্ধিমায়া উৎপন্ন করব যাতে শ্রেষ্ঠী এখানে বসে এখানে বসে থাকা কুলপুত্র যশকে দেখতে পাবেন না।’ এই ভেবে ভগবান সেরূপ ঋদ্ধিমায়া সৃষ্টি করলেন।

শ্রেষ্ঠী ধীরপদে ভগবানের কাছে গিয়ে বললেন, ‘ভন্তে, আপনি কুলপুত্র যশকে দেখেছেন কি?’

‘গৃহপতি, তা জানতে চাইলে আপনি বসুন। বসে আপনি অল্প সময়ের মধ্যে এখানে বসে থাকা কুলপুত্র যশকে দেখতে পাবেন।’ ‘সেখানে বসে, সেখানে বসে থাকা নিজের ছেলেকে দেখতে পাবেন’ জেনে শ্রেষ্ঠী প্রফুল্লমনে এবং উৎসুকচিত্তে ভগবানকে বন্দনা করে সসম্মানে একপাশে বসলেন। ভগবান একপাশে বসে থাকা শ্রেষ্ঠীকে দানকথা, শীলকথা প্রভৃতি পর্যায়ক্রমে ধর্মোপদেশ দিলেন। শ্রেষ্ঠী গৃহপতি বুদ্ধের শাসনে আত্মবিশ্বাস লাভ করে ভগবানকে বললেন, ‘ভন্তে, অতি সুন্দর, অতি মনোহর! যেমন কেউ নিচের দিকে মুখ করে থাকা পাত্রটাকে ওপরের দিকে মুখ করে, পথ-হারানো মানুষকে পথ দেখায়, আঁধারে বাতি জ্বালিয়ে দেয় যাতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তি দৃশ্য বস্তুগুলো দেখতে পায়, সেরূপ ভগবান অনেক প্রকারে ধর্ম প্রকাশিত করেছেন। আমি ভগবান বুদ্ধের, তাঁর প্রচারিত ধর্মের ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংঘের শরণ গ্রহণ করছি। ভগবান আজ থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আমাকে আপনার শরণাগত উপাসক হিসেবে গ্রহণ করুন।’
ইনিই জগতে সর্বপ্রথম ‘ত্রিবাচিক’ উপাসক হয়েছিলেন। প্রতিটি ঘটনার স্তরে স্তরে সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ লেখা ছাড়া ছবি বানিয়ে দিন

☸ জয়মঙ্গল অষ্ট গাথা (নালাগিরি হস্তী দমন কাহিনী) ☸জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায় তথাগত মহাকরুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনের আটটি ঘটনার ক...
10/01/2026

☸ জয়মঙ্গল অষ্ট গাথা (নালাগিরি হস্তী দমন কাহিনী) ☸

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায় তথাগত মহাকরুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনের আটটি ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমার এই ক্ষুদ্রতম জ্ঞানে "জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায়" বর্ণিত আটটি ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে উপস্হাপন করার মধ্যেদিয়ে ধর্মদানপূর্বক পূণ্য অর্জনের প্রয়াস ব্যক্ত করছি। আজকের বর্ণনায়- নালাগিরি হস্তী দমন কাহিনী। সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকল সবার প্রতি।

তৃতীয় গাথা -
নালাগিরিং গজবরং অতিমত্তভূতং,
দাবগ্গি-চক্কমসনীব সুদারুণন্তং।
মেত্তম্বুসেক-বিধিনা জিতবা মুনিন্দো,
তন্তেজসা ভবতু তে জয়মঙ্গলানি।

অনুবাদ : দাবানলচক্র বা বিদ্যুৎ গর্জনের মত মদমত্ত নালাগিরি হাতিকে মুনীন্দ্র বুদ্ধ যে মৈত্রী (পারমিতা) বারি সিঞ্চন পূর্বক জয় করেছিলেন, ভগবান বুদ্ধের সেই ধর্মের (সত্যক্রিয়া) তেজ-প্রভাবে আপনার জয়মঙ্গল হোক।

নালাগিরি হস্তী দমন কাহিনী :
নালাগিরি ছিল মগধরাজ অজাতশত্রুর রাজ সংরক্ষণ হাতিশালার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এক বিশালকার হাতি। বুদ্ধের অবর্তমানে সঙ্গের অদ্বিতীয় ক্ষমতার অধীকারি হবার মানসে দেবদত্ত অজাতশত্রুর সাথে চত্রুান্ত করে ভগবান বুদ্ধের জীবন বিনষ্ট করার কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। যে মানুষগুলাকে বুদ্ধের জীবন নাশ করার জন্যে প্রেরণ করা হত, শেষমেষ বুদ্ধের শরণাপন্ন হয়ে সব ভুলে বুদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নিয়ে সৎ জীবন জাপন করতে থাকে। কয়েকবার ব্যর্থ হবার পর দেবদত্ত এবার চিন্তা করল, না এবার আর মানুষ নয় পশু দিয়ে বুদ্ধকে হত্যা করে আমি বুদ্ধের পথ দখল করবো। কারন মানুষকে তো দিব্যশক্তি দিয়ে বস করে ফেলে , পশুকে তো আর করা যাবে না এ ভেবে পশুদিয়ে বুদ্ধের প্রাণনাশের সিদ্ধান্ত নেন।

আর পশুদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর হল হাতি, আর মগধরাজের হাতিশালার সব চেয়ে প্রচন্ড রাগি ও বদ স্বভাবের হাতি ছিল নালগিরি। মগধরাজ অজাতত্রুর সাথে কু-পরামর্শ করে নালগিরিকে প্রতিদিনের তুলনায় তার চেয়েও তিন গুন অধীক মদ্যপান করা হত। আর এভাবে মদ্যপান করিয়ে দিয়ে পুরা রাজ্যে ঘোষনা করা হয় যে, আগামীকাল পূর্বাহ্ন নালগিরি হস্তীকে রাজপথে ছাড়া হবে, নাগরিকেরা কউ যেন পথে তাকে ধরার বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা না করে।
এ খবর যখন রাজ্যে প্রচার হয় তখন বুদ্ধভক্তগণ ভগবান তথাগত বুদ্ধ এবং ভিক্ষু-সঙ্ঘকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। তাঁর সর্তক বার্তা করে বলেন- ভগবান বুদ্ধ এবং আপনার শিষ্য-সঙ্ঘকে নিয়ে আগামীকাল ভিক্ষান্ন-আহোরনের জন্য নগরে বের হবেন না। উপাসক-উপাসিকা গণ বুদ্ধ-প্রমুখ ভিক্ষু-সঙ্ঘের জন্যে আগামীকালের অন্ন-পানীয় যাবতীয় দ্রব্য বস্তু বিহারে পৌঁছে দিবে।

দায়কের মুখে এমন কথা শুনে ভগবান বুদ্ধ বললেন- হে সদ্ধর্মের বাহকগণ আপনারা কোন প্রকারের দুশ্চিন্তা করবেন না। এবং তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন-বু্দ্ধগণের কখনই অকাল মৃত্যু হয় না। বু্দ্ধগণ যথাসময়ে পরিণির্বান প্রাপ্ত হন।
এগিকে দেবদত্ত অজাতশত্রুর অনুমতিতে হস্তীশালায় গিয়ে হস্তী রক্ষককে আদেশ করলেন- শ্রমন গৌতম যখন এই রাস্তা দিয়ে ভিক্ষান্ন-সংগ্রহে বের হবেন, তখন তুমি হস্তীকে অহিফেন সেবন করে শৃঙ্খলা মুক্ত করে দিবে।
এদিকে পরদিন পূর্বাহ্নে ভিক্ষান্ন-আরোহনের উদ্দেশ্যে রাজগৃহের আঠারটি বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষু-সঙ্ঘকে নিয়ে ভগবান বুদ্ধ রাজগৃহের জীবক-আম্রবনের পাশ দিয়ে রাজপথ ধরে বেণুবন বিহারের দিকে এগয়ে চলেন।
অপরদিকে পূর্বাহ্নে হাতি-শালার মাহুতের দল দেবদত্তের কথা মত মদমত্ত নালাগিরিকে জোর করে অংকুশ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উত্তেজিত করে রাজপথে ঠেলে ছেড়ে দেয়। নালাগিরি নিজের খোলা পেয়ে জীবক-আম্রবনের দিকে হেলিয়ে দুলিয়ে গর্জন করে শুঁড় উঁচিয়ে পাগলের মত দৌঁড়াতে থাকে। নালাগিরির অবস্থান অবগত হয়ে রাস্তার মানুষজন দিক বেদিক হারিয়ে প্রাণরক্ষাত্বে পালাতে থাকে।

এইদিকে মদমত্ত হাতি বুদ্ধ-প্রমুখ ভিক্ষু-সঙ্ঘের দিকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসতে থাকে, অন্যদিকে বুদ্ধ এবং শিষ্যগণ ধীর-গতিতে এগিয়ে চলেছেন।
নালগিরিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসতে দেখে আনন্দ বুদ্ধকে বারবার অনুরোধ করছেন সরে দাঁড়াতে। কিন্তু ভগবান বুদ্ধ এগিয়েই চলেছেন। নালাগিরি অতি সন্নিকটে দেখে আনন্দ ভগবানের অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে যায়। তখন আনন্দকে সান্ত্বনা দিয়ে ভগবান বুদ্ধ বললেন- আনন্দ, বুদ্ধগণের অকাল মৃত্যু হয় না। সুতরাং তুমি সরে পড়। সে সময়ে লোকেরা কেউ কেউ প্রাসাদের উপর, কেউ কেউ গৃহের ছাদের উপর এবং কেউ কেউ বৃক্ষের উপর আরোহন করেছিল। তন্মধ্যে শ্রদ্ধা হীন ভিন্ন ধর্ম্মাবল্বীরা বলতে লাগল- অদ্য শ্রমন গৌতম হস্তী দ্বারা নিহত হবেন। কিন্তু যারা শ্রদ্ধাবান এবং বুদ্ধের প্রতি অনুরক্ত তাঁরা বলতে লাগল- অদ্য করীবাজ বুদ্ধ নাগের সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হবে বটে কিন্তু বুদ্ধ নাগের নিকট করীরাজ নিশ্চয়ই পরাজয় হবে।

নালাগিরি ও বুদ্ধের মাঝে যখন দুরত্ব কমে আসে, তখন শাস্তার নির্দেশ না মেনে জগৎজৌতি বুদ্ধের প্রাণ-রক্ষার্থে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে হাতির সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে আনন্দ। প্রিয় শিষ্য আনন্দের জীবন রক্ষার্থে ঋদ্ধিশক্তি প্রয়োগ করে বুদ্ধ হাতির সামনে এগিয়ে যায়।
এবার বুদ্ধ আর নালাগিরি মাঝে কেউ নাই, হঠাৎ এমন সময় ক্রন্দনরত শিশু-সন্তানকে কোলে নিয়ে এক নারী দিশেহারা হয়ে বুদ্ধের সামনে এসে পরে। আর ঐ মদমত্ত হাতিকে দেখে কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে নিজের জীবন-রক্ষার্থে কোলে থাকা শিশু-সন্তানকে ফেলে ভয়ে পালিয়ে যায়। অবোধ শিশু-সন্তান পড়ে যায় ভগবান বুদ্ধের চরণে।

অন্যদিকে নালাগিরর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বুদ্ধের দিক থেকে সরে গিয়ে শিশুর দিকে যায়। শিশুকে আছড়ে মারার প্রয়াসে যখন তার শুঁড় নীচু করতে যাই, ঠিক ঐ সময়ে ভগবান বুদ্ধ তাঁর ডান হাত বরদ-মুদ্রায় বাড়িয়ে নালাগিরির মাথা স্পর্শ করে তার প্রতি মহাকরুণা-বশত মৈত্রীভাব পোষণ করেন। ভগবান বুদ্ধের মৈত্রীকোমল হাতের ছোঁয়া পেতেই নালাগিরির মদমত্ত মন এক অদ্ভুত রোমাঞ্চে রোমাঞ্চিত হয়। শুধু তাই নয়, তার হৃদয় পরিপূর্ণ প্রেমের সঞ্চার হয়। তার মন-মস্তস্কি হতে মদের নেশা বিনষ্ট হয়ে যায়। মন হতে হঠাৎ চন্ডস্বভাব মৈত্রী-করুণা-মুদিতায় পরিবর্তিত হয়। এতই সবিনীত হয়ে পড়ে যে, সবিনয়ে হাঁটু গড়ে বসে পড়ে। মাথা নুইয়ে শুঁড় সঙ্কুচিত করে মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধের চরণ স্পর্শ করে। যেন সে তার প্রাণ ভরা প্রণাম নিবেদন করলো তথাগতের চরণে। আনন্দাশ্রু চোখের কোন দিয়ে গড়াতে থাকে, এ যেন নালাগিরির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।
সুগত হাতির মঙ্গলাকাঙ্খী হয়ে করুনা সিক্ত স্বরে তাকে ধর্মোপদেশ দান করেন-,বললেন-হে কঞ্জর, বুদ্ধ গণকে উৎপীড়ন করিও না। বুদ্ধগণেকে উৎপীড়ন করলে জন্ম-জন্মান্তর দুঃখ ভোগ করিতে হয়। যে বুদ্ধগণকে উৎপীড়ন করে, মৃত্যুর পর দুর্গতিতে (অপায়ে) গমন করে। তুমি প্রমত্ত হইও না, কারন প্রমত্ত ব্যক্তি কখনো স্বর্গে গমন করতে পারে না। তুমি যাতে স্বর্গে গমন করতে পার সে রখমি কাজ কর।

তথাগতের অমৃত বাণী শুনে নালাগিরি শুঁড় দিয়ে পদধুলি গ্রহন করে স্বীয় মস্তিস্ক নত করে রাস্তার একপাশে সরে দাঁড়িয়ে বুদ্ধকে যাবার পথ করে দিল। বু্দ্ধের চরণে এভাবে মদমত্ত নালাগিরিকে নতজানু হয়ে বন্দনা করতে দেখে এ ঘটনা লোখমুখে সর্বত্র দাবানলেন ন্যায় ছাড়িয়ে পড়ে। শোনামাত্র রাজগৃহের হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসতেছে। এ ঘটনা দেখার পর উপস্থিত মানুষজন ভগবানের জয় জয় গান করতে লাগলো। আকাশে, স্বর্গের দেবদেবী,ব্রহ্মারা সাধুবাদ দিয়ে আকাশ বাতাস বারি করে তুলেন। চমৎকার পূর্ন ঘটনার অংশীদার হতে পরে যে যেভাবে পারে হাত, পা, হলা হতে অলংকার খুলে নালাগিরির দিকে ছুঁড়ে দেয়। নালাগিরি হস্তীশালায় গমন করে আর সুগত এবং মাহান ভিক্ষু-সঙ্ঘ ভিক্ষান্ন-আহোরণের পর বেণুবন বিহারে প্রবেশ করেন। সেইদিন হতে নালাগিরি ধনপাল নামেও পরিচিতি লাভ করে।

আহার শেষ করে বিশ্রামের পর শাস্তা সেখানে শিষ্যসঙ্ঘকে আহব্বান করে ধর্মোপদেশ দান করেন। নালাগিরি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন- হে ভিক্ষুগণ, শুধু এ জন্মে নয়, অতীতে আরো অনেক বার আমার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে এভাবেই নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রমাণ দিয়েছে আনন্দ। তখন তিনি চুল্লহংসজাতকের কথা শিষ্যভক্তদের শোনান।

নালাগিরি স্বাভাবের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে শাস্তা আরো বলেন---নালাগিরি এ জন্মে হাতি না হয়ে যদি মানুষ হতো তা হলে আজ (বুদ্ধের) উপদেশ শুনে সে অবশ্যই স্রোতাপন্ন হয়ে আর্য-পদ্গলে পরিণত হতো।
সে দিন হতে এই দুদ্দান্ত হস্তীটি একেবারে শান্ত শিষ্ট হয়ে গেল। লোকে এ অবস্থা দেখে বলতে লাগল- কেউ অঙ্কুশ, কেউ কেউ বা কষায় দ্বারা হস্তী দমন করে, কিন্তু বিনা দন্ডে বিনাঅস্ত্রে বুদ্ধ এ দুদ্দান্ত হস্তীকে দমন করলেন। এ বলে বুদ্ধের জয়গুণ গাইতে লাগলো---
বুদ্ধগুণ অনন্ত। জয় বুদ্ধের জয়। জয় শ্যাক্যপুত্র গৌতমের জয়।

☸•°*”˜˜”*°• চিরং তিট্ঠতু বুদ্ধ সাসনং •°*”˜˜”*°•☸

সম্পাদনা- শ্রীমৎ অমিতানন্দ ভিক্ষু, উপাধ্যক্ষ, ফ্রান্স বিশ্বশান্তি বৌদ্ধ ধ্যান কেন্দ্র।
ধারাবাহিক পর্বের জন্য চোখ রাখুন আমাদের পেইজে।

10/01/2026

সকলের জন্য আজকের দিনটি শান্তিময় হোক

যাবদেব অনত্থায় ঞত্তং বালস্স‌ জায়তি,হন্তি বালস্স‌ সুক্কং‌সং মুদ্ধমস্স‌ বিপাতয়ং।অর্থাৎ, কেবলমাত্র অনর্থের জন্যই মূর্খ লোকে...
09/01/2026

যাবদেব অনত্থায় ঞত্তং বালস্স‌ জায়তি,
হন্তি বালস্স‌ সুক্কং‌সং মুদ্ধমস্স‌ বিপাতয়ং।

অর্থাৎ, কেবলমাত্র অনর্থের জন্যই মূর্খ লোকের শিল্পজ্ঞান জন্মে;মূর্খের প্রজ্ঞা শির নিপাত করে তার সৌভাগ্য বিনাশ করে।

- ধর্মপদ ৭২ (বালবর্গ)

সকালে উঠিয়া আমি এ করি পণ,
বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ শরণে থাকিব আজীবন।

প্রত্যুষে ঘুম থেকে জেগে উঠার সময় আপনিও এভাবে প্রতিদিন বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘ রত্নত্রয়ের শরণাপন্ন হোন। ত্রিশরণে শুরু করুন দিন। আমাদের মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে যত রকমের রত্ন আছে, সেগুলো লৌকিক জগতের রত্ন। এগুলো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘরত্ন হলো চিরস্থায়ী এবং পৃথিবীতে ত্রিরত্নই শ্রেষ্ঠ রত্ন। এ রত্নত্রের সমকক্ষ অন্য কোন রত্ন নেই। বৌদ্ধধর্ম মতে ত্রিরত্নের মর্যাদা সবকিছু ওপরে। তাই বৌদ্ধমাত্রই সর্বদা ত্রিরত্নের শরণাগমনে থাকা আবশ্যক।

আজ শনিবার।
২৫৬৯ বুদ্ধাব্দের ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ;
২৭শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

দেখতে দেখতে শুক্রবার অতীত হয়ে শনিবার এসে পৌছাল। তার মানে আজ থেকে আবার কর্মবাস্ততার দিন শুরু। সকালটা সুন্দরভাবে শুরু করুন, প্রথমে ত্রিশরণ-পঞ্চশীল এবং ত্রিরত্ন বন্দনা-পূজা, মৈত্রী ভাবনানুশীলনের মধ্যদিয়ে আপনার উপাসনা সেরে নিন। তার পর অপ্রমত্ত ভাবে যার যার কাজে মনোনিবেশ করুন

সুপ্রভাত-শুভ কামনা সকলের প্রতি। জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।

সাধু সাধু সাধু।

⚜️🍁পারমী পূরণে দানকর্ম:🍁⚜️দানাদি কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে পারমী সম্ভার পরিপূর্ণ করার জন্য দু'টি শর্ত পূরণ করতে হয়, যথা-(১)...
09/01/2026

⚜️🍁পারমী পূরণে দানকর্ম:🍁⚜️

দানাদি কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে পারমী সম্ভার পরিপূর্ণ করার জন্য দু'টি শর্ত পূরণ করতে হয়, যথা-

(১) নিজের স্বার্থের জন্য বিন্দু পরিমাণও আশা না করা।
(২) পরের স্বার্থের জন্য, পরের মঙ্গলের কামনায় দানাদি কর্ম সম্পাদন করা।

এই দুইটি আদর্শকে ধারণ করে যারা কর্ম সম্পাদন করেন তারাই পারমী পূরণ করছেন বলা যায়।"পরমাণং ভাবো পারমী" অর্থাৎ উৎকৃষ্ট কর্ম সম্পাদনে তাঁরা জীবন অতিবাহিত করেন। যারা জ্ঞানহীন ব্যাক্তি, অল্প জ্ঞানের অধিকারী ব্যাক্তি তারা নিজের সুখ লাভের আশায় প্রার্থনা করে দানকর্ম করে থাকেন।
এমন কিছু ব্যাক্তি আছে যারা লৌকিক সুখ-শান্তি ও নিজ পরিষদের মাঝে প্রশংসা পাওয়ার জন্য কামনা করেন। এ ধরণের কর্মের মাধ্যমে পারমী পূরণ হয় না।

নিজের শত দুঃখ কষ্টকে অতিক্রম করে শান্তি উৎপন্নের জন্য পরের প্রতি মৈত্রী করুণা চিত্ত উৎপন্ন করা সাধারণ ব্যাক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। ইহা পুণ্য পুরুষদের দ্বারাই সম্ভব বা উত্তম পুরুষের কাজ। ইহাকেই পারমী পূরণ বলা হয়।

দুঃশীল ভিক্ষুদের দান করলে ফল হয় কি?- আসীন অগ্রবংশ শিরোনামে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আমাদের প্রথমে জানতে হবে, দুঃশীল মানেটা কী...
09/01/2026

দুঃশীল ভিক্ষুদের দান করলে ফল হয় কি?
- আসীন অগ্রবংশ

শিরোনামে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আমাদের প্রথমে জানতে হবে, দুঃশীল মানেটা কী। ভিক্ষুর দুঃশীল মানেটা হচ্ছে, ব্রহ্মচারী হয়ে ব্রহ্মচারীর নিয়ম পালন করে না বলে তাকেই দুঃশীল বলা হয়। তাই এই দুঃশীল ভিক্ষু অপায়ে পড়ে, নরকে স্থান পায়। (ই.বু.২.৪৮)

আরেকটু সহজভাবে বুঝাতে গেলে যাঁরা কণ্ঠে কাষায়বস্ত্র পরেও অসংযত হয় ও পাপাচরণ করে অর্থাৎ প্রাণীহত্যাকারী হয়, অদত্তবস্তু গ্রহণ করে, অব্রহ্মচারী হয়, মিথ্যা ভাষণ করে এবং সুরা-মৈরেয়-মদ্যপায়ী হয় তাঁরাই নরকে যায়। এবং সেখান থেকে চ্যুত হয়ে বিপাকাবশেষে প্রেতলোকেও উৎপন্ন হয়ে মহাদুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করে। (ধর্মপদ.৩০৭; অ.নি.৫.২৮৬)

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। দান দেওয়া কিন্তু উভয়ই পক্ষে বিচার করা হয়। অর্থাৎ যেকোনে দান করার সময় দানের ফল দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধি ও হ্রাস পায়। সেজন্য বুদ্ধ বলেছেন, ‘হে আনন্দ, বিশুদ্ধ চার প্রকার। সেগুলো হলো,

১। দাতা শীলবান ও কল্যাণধর্মী কিন্তু গ্রহীতা দুঃশীল ও পাপধর্মী হয়। (অর্থাৎ যেই শীলবান ব্যক্তি কর্মফলের প্রতি বিশ্বাস রেখে সম্যকভাবে জীবন-জীবিকা করে উপার্জিত ধন-সম্পদ (টাকা-পয়সা) প্রসন্নচিত্তে দুঃশীলকে দান করেন, তাহলে সেই দান দাতার থেকে বিশুদ্ধ হয়, কিন্তু গ্রহীতা থেকে নয়।)

২। গৃহীতা শীলবান ও কল্যাণধর্মী কিন্তু দাতা দুঃশীল ও পাপধর্মী হয়। (অর্থাৎ যেই দুঃশীল ব্যক্তি মিথ্যাভাবে জীবন-জীবিকা করে উপার্জিত ধন-সম্পদ (টাকা-পয়সা) কর্মফলের প্রতি বিশ্বাস না রেখে প্রসন্নচিত্তে শীলবানকে দান করেন, তাহলে সেই দান গ্রহীতা থেকে বিশুদ্ধ হয়, কিন্তু দাতার থেকে নয়।)

৩। দাতা ও গ্রহীতা দুজনেই দুঃশীল ও পাপধর্মী হয়। (অর্থাৎ যেই দুঃশীল ব্যক্তি মিথ্যাভাবে জীবন-জীবিকা করে উপার্জিত ধন-সম্পদ (টাকা-পয়সা) কর্মফলের প্রতি বিশ্বাস না রেখে প্রসন্নচিত্তে দুঃশীলকে দান করেন, তাহলে সেই দান বিপুল ফলপ্রসু (উপকারী) হয় না। কারণ তারা উভয়ই দুঃশীল ও পাপাধর্মী।)

৪। দাতা ও গ্রহীতা দুজনেই শীলবান ও কল্যাণধর্মী হয়। (অর্থাৎ যেই শীলবান ব্যক্তি কর্মফলের প্রতি বিশ্বাস রেখে সম্যকভাবে জীবন-জীবিকা করে উপার্জিত ধন-সম্পদ (টাকা-পয়সা) প্রসন্নচিত্তে শ্রদ্ধা-সহকারে শীলবান ব্যক্তিকে দান করেন, তাহলে সেই দান বিপুল ফলপ্রসু (উপকারী) হয়। কারণ তারা উভয়ই শীলবান ও কল্যাণধর্মী।) (ম.নি.৩.৩৮১)

আবার যেই বীতরাগ ব্যক্তি কর্মফলের প্রতি বিশ্বাস রেখে সম্যকভাবে জীবন-জীবিকা করে উপার্জিত ধন-সম্পদ (টাকা-পয়সা) প্রসন্নচিত্তে, শ্রদ্ধা-সহকারে ও উদার হৃদয়ে বীতরাগ ব্যক্তিকে দান করেন, তাহলে সেই দান আরো শ্রেষ্ঠ হয়। (ম.নি.৩.৩৮২)

এখান থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, কর্মফলের প্রতি বিশ্বাস রেখে চেতনাকে পরিশুদ্ধ করে তবেই দান দিতে হয়। যেমন ত্রিচেতনা (আগে বর্তমান ও পরে) পরিশুদ্ধ হলে দানের ফল আরো আশানুরূপ হয়। তাই উভয়ের প্রতি নির্ভর করে দানের ফলাফল হয়।

সুতরাং দান কাকে দিবেন সেটা আপনার চেতনার উপর নির্ভর করে। সেজন্য বুদ্ধ দক্ষিণাবিভঙ্গ সুত্রে বলেছেন, চৌদ্দ প্রকার পুগ্গলি দানের মধ্যে দুঃশীল ব্যক্তিকেও দান দেয়া যায়। সেই চৌদ্দ প্রকার ব্যক্তি দান গ্রহণের যোগ্য কারা? যথা—
১। সম্যসম্বুদ্ধকে,
২। পচ্চেক (প্রত্যক) বুদ্ধকে,
৩। অর্হত্ব ফলে স্থিত ব্যক্তিকে,
৪। অর্হত্ব মার্গে স্থিত ব্যক্তিকে,
৫। অনাগামী ফলে স্থিত ব্যক্তিকে,
৬। অনাগামী মার্গে স্থিত ব্যক্তিকে,
৭। সকৃতাগামী ফলে স্থিত ব্যক্তিকে,
৮। সকৃতাগামী মার্গে স্থিত ব্যক্তিকে,
৯। স্রোতাপত্তি ফলে স্থিত ব্যক্তিকে,
১০। স্রোতাপত্তি মার্গে স্থিত ব্যক্তিকে,
১১। শাসন বহির্ভূত সময়ে ধ্যানলাভী ঋষিকে,
১২। শীলবান পৃথকজনকে,
১৩। দুঃশীল পৃথকজনকে এবং
১৪। তির্যক প্রাণীকে। (ম.নি.৩.৩৭৯)

এখানে লক্ষ্য করুন, বুদ্ধ কিন্তু দানের ফল পার্থক্য হওয়াটা এখানে বলেছেন। কিন্তু যে দুঃশীল ব্যক্তিকে দান দিলে ফল হবে না এমন কথা বুদ্ধ বলেননি। শুধু দানের ফলাফল প্রভেদ হয় এই কথা বলেছেন। তাই বুদ্ধ বলেছেন দান দেওয়ার আগে কাকে দিবেন, কাকে দিলে দানের ফল বেশি হয় সেটা দাতার উপর নির্ভর করে।

"এখন প্রশ্ন হচ্ছে দুঃশীল ভিক্ষু তাঁর দানকে কতটা বিশুদ্ধ করতে পারেন।" দশটি গুণ থাকার কারণে তাঁর নিজের প্রাপ্ত দান বিশুদ্ধ করেন।
১। ভিক্ষুবেশ বা নির্দোষ পোষাক ধারণ হেতু নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ কনে।
২। ঋষিচিহ্নের ন্যায় মুণ্ডিতমস্তক ধারণের দরুন দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৩। ভিক্ষুসংঘের অন্তর্গত হওয়ায় তিনি নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৪। বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের শরণাপন্ন হওয়ার দরুন তিনি নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৫। চরম লক্ষ্যে উপনীত হবার পরিবেশে বাসের নিমিত্ত তিনি দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৬। জিনশাসনের উচ্চ বিষয় অন্বেষণে নিরত থাকায় তিনি দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৭। উত্তম ধর্মোপদেশ দিয়েও তিনি নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৮। ধর্মদ্বীপে গতিশীলতার দরুন তিনি নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।
৯। বুদ্ধ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’ এই বিষয়ে একান্ত সোজা ধারণা পোষণের দরুন তিনি নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন। এবং
১০। উপোসথ ব্রত পালন করার নিমিত্ত তিনি নিজের দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।

যেমন যত ঘন কলল কর্দম রজ ময়লা হোক না কেন জল সমস্তই পরিষ্কার করে, সেইরূপ ভিক্ষু দুঃশীল হলেও নিজে বিপন্ন হয়ে দাতাদের প্রদত্ত দক্ষিণা সফল করে তোলেন।

যেমন সুপক্ব গরম জল প্রজ্বলিত বৃহৎ অগ্নিস্কন্ধকে নির্বাপিত করে, সেইরূপ নিজেকে বিপন্ন করেও দুঃশীল ভিক্ষু দাতাদের প্রদত্ত দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।

যেমন খাদ্য সুস্বাদু না হলেও মানুষের ক্ষুধার দুর্বলতা নিবৃত্ত করে, সেইরূপ নিজের জীবন বিপন্ন করেও দুঃশীল ভিক্ষু দাতাদের প্রদত্ত দক্ষিণা বিশুদ্ধ করেন।

কারণ ভিক্ষু দুঃশীল হলেও বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাপরায়ণ হন, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাপরায়ণ হন, সংঘের প্রতি শ্রদ্ধাপরায়ণ হন, সতীর্থগণের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, ধর্মবিষয়ে অধ্যয়নশীল ও গবেষণায় উদ্যোগী হন, ধর্ম শ্রবণে বহু আগ্রহন্বিত হন, ভিক্ষু শীলভ্রষ্ট হলেও দুঃশীল অবস্থায় সভায় গমন করলে তিনি শিষ্ট ব্যবহার করেন। পরনিন্দার ভয়ে দৈহিক ও বাচনিক সংযম রক্ষা করেন, তার চিত্ত উন্নতি অভিমুখী থাকে এবং তিনি ভিক্ষু-সংজ্ঞার অন্তর্গত হন। (মি.প.৪৩-৪৪.দুঃশীলতার পার্থক্য)

একারণেই দক্ষিণাবিভঙ্গ সুত্রে গৌতমী যখন বুদ্ধকে চীবর দান করতে চেয়েছিলেন তখন বুদ্ধ বলেছিলেন, সঙ্ঘকে দাও। সঙ্ঘকে দিলে আমিও পূজিত হব, সঙ্ঘও পূজিত হবে। আবার সঙ্ঘদানের ক্ষেত্রেও ভাগ আছে। বুদ্ধসহ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীসঙ্ঘকে দিলে সেটা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্ঘদান। এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সঙ্ঘদান আর নেই। (ম.নি.৩.৩৭৬)

অতএব, গলায় অথবা এক টুকরো চীবর পরিধান করা এমন দুঃশীল ভিক্ষুদেরও যদি লোকজন অগাধ শ্রদ্ধা মনে ভিক্ষুসঙ্ঘের উদ্দেশ্য করে দান দেয় সেই দানের ফলও হয় অপরিমেয়। তবে সেখানে একটাই মনে রাখা উচিত, বর্তমানের দুঃশীল ভিক্ষুদেরকে দেখে নয়, বরং যে ভিক্ষুসঙ্ঘের মধ্যে সারিপুত্র, মোগ্গলায়ন ইত্যাদি আর্যব্যক্তিগণও আছেন, তাদের উদ্দেশ্য করে দান দেওয়া উচিত। তাহলে সেই দানের ফল হবে অগাধ, অপরিমেয়।

      (কপি করার অনুমতি নেই)

09/01/2026

বৌদ্ধ বিহারে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব :

শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের মন এখনও নরম মাটির মতো, যা সহজেই গঠন করা যায়। আর এই গঠন যদি হয় ধর্মীয় শিক্ষার আলোয়, তবে তারা হয়ে উঠবে আদর্শ মানুষ, সমাজের সত্যিকারের মঙ্গলকামী সেবক।

বৌদ্ধ বিহার কেবল পূজা অর্চনার স্থান নয়, এটি শান্তি, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও মৈত্রীর বাতিঘর। এখানে শিশুদের যদি ছোটবেলা থেকেই পঞ্চশীল, দয়া, অহিংসা, সেবাদান, নৈতিকতা, শীল ও ধ্যানের শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে তারা জীবনের পথে কোনোদিন হারিয়ে যাবে না।

👉 ধর্মীয় শিক্ষা কেন জরুরি?

★ প্রযুক্তির যুগে শিশুরা ভোগের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।
★কৃত্রিম বিনোদনের ভিড়ে মন দূষিত হচ্ছে।
★ সহিংসতা, মিথ্যা বলা, হিংসা ও রাগ থেকে তাদের রক্ষা করতে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।

👉 কীভাবে সম্ভব?
★ প্রতিটি বিহারে সপ্তাহে অন্তত ১ দিন শিশু ধর্মশিক্ষা ক্লাস।
★ বুদ্ধের জীবন থেকে সহজ ভাষায় গল্প শোনানো।
★ ধ্যান ও মৈত্রীর অনুশীলন শেখানো।
★ বয়স্কদের ভালোবাসা ও আচরণে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।

শিশুদের এই মূল শিক্ষা দিলে তারা প্রজ্ঞাবান, দয়ালু, ধৈর্যশীল ও সত্যবাদী মানুষ হয়ে উঠবে। তাদের হাত ধরেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।

কোশল রাজের সপ্তম স্বপ্ন রহস্যসপ্তম স্বপ্নঃ এক ব্যক্তি চৌকিতে বসে দীর্ঘ রজ্জু (রশি) প্রস্তুত করছে। চৌকির নীচে বসে রয়েছে ক...
09/01/2026

কোশল রাজের সপ্তম স্বপ্ন রহস্য

সপ্তম স্বপ্নঃ এক ব্যক্তি চৌকিতে বসে দীর্ঘ রজ্জু (রশি) প্রস্তুত করছে। চৌকির নীচে বসে রয়েছে ক্ষুধাতুর শৃগালী। নিষ্পন্ন রজ্জু যা নিচে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, শৃগালী অমনি তা গলধকরণ করছে লোকটির অজ্ঞাতে। এর তৎপর্য কি?

সপ্তম স্বপ্নের উত্তরে ভগবান : এটাও ভবিষ্যতে ঘটবে। অনাগতে নারীগণ পুরুষের সঙ্গ অভিলাষ করবে তারা হবে সুরাপায়ী, অলংকারী লোভী, বিলাসী ও আমিষাশী। সেই দুঃশীল দুরাচারী স্ত্রী স্বামীর সঞ্চিত সম্পদ অকাতরে নষ্ট করবে এবং গোপণে উপপতির সাথে মিলিত হবে। যেমন স্বামীর অজ্ঞাতসারে শৃগালীর রজ্জু ভক্ষণ সদৃশ। এতে আপনার কোন অনিষ্ট হবে না।

অষ্টম পর্বের অপেক্ষায় থাকুন।

সম্পাদনায়ঃ অমিতানন্দ ভিক্ষু, উপাধ্যক্ষ, ফ্রান্স বিশ্বশান্তি বৌদ্ধ ধ্যান কেন্দ্র।

ন হি পাপং কতং কম্মং সজ্জু খীরং'ব মুচ্চতি,ডহন্তং বালমন্বে‌তি ভস্মাচ্ছন্ন'ব পাবকো।অর্থাৎ, স্বকৃত পাপকর্ম সদ্য দুগ্ধের ন্যা...
08/01/2026

ন হি পাপং কতং কম্মং সজ্জু খীরং'ব মুচ্চতি,
ডহন্তং বালমন্বে‌তি ভস্মাচ্ছন্ন'ব পাবকো।

অর্থাৎ, স্বকৃত পাপকর্ম সদ্য দুগ্ধের ন্যায় সহসা বিনষ্ট হয় না, ভস্মাচ্ছন্ন অগ্নির ন্যায় উহা মূর্খকে দহন করতে করতে অনুসরণ করে।

- ধর্মপদ ৭১ (বালবর্গ )

সকালে উঠিয়া আমি এ করি পণ,
বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ শরণে থাকিব আজীবন।

আজ ছুটির দিন শুক্রবার।
২৫৬৯ বুদ্ধাব্দের ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ;
২৬শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

সর্বপ্রথম প্রাতঃকৃত্যাদি সেরে নিয়ে ত্রিরত্ন বন্দনা-পূজা, মৈত্রী ভাবনানুশীলনের মধ্যদিয়ে আপনার উপাসনা সেরে নিন। পরিবারের সকলকে নিয়ে ছুটির দিনটি ধর্মময়ভাবে উপভোগ করুন। সুপ্রভাতে সকলের প্রতি মৈত্রীময় শুভেচ্ছায় তথাগত বুদ্ধের অপ্রমেয় গুণরাশি প্রভায় সকলের জয়মঙ্গল সাধিত হোক এই শুভ প্রার্থনা করছি।

☸ সাধু সাধু সাধু ☸

জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।

সুপ্রভাতে সকলের জন্য শুভেচ্ছা-শুভ কামনা।
ভালো কাটুক দিনমান, সারাবেলা। ভালো থাকুন সর্বদা।

ধম্মের দায়াদ প্রিয়দর্শী অসোক -ড. বরসম্বোধি ভিক্ষুমহান সম্রাট প্রিয়দর্শী অসোক সত‍্যিকার অর্থেই ধম্মের দায়াদ বা উত্তরাধিকা...
08/01/2026

ধম্মের দায়াদ প্রিয়দর্শী অসোক
-ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

মহান সম্রাট প্রিয়দর্শী অসোক সত‍্যিকার অর্থেই ধম্মের দায়াদ বা উত্তরাধিকারী ছিলেন। তাঁর বিশাল অখণ্ড ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল পাটলীপুত্রে, যা বর্তমান বিহার প্রদেশের রাজধানী পাটনা নামে খ‍্যাত। পাটনাতে যেখানে সম্রাট অসোক মহানের প্রাসাদ ছিল, ভূ-খণ্ডের সে স্থানটি জঙ্গলে ঢাকা ছিল দীর্ঘকাল পর্যন্ত। যে স্থানে ছিল এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপী শাসক মৌর্য সম্রাট অসোকের সুবর্ণাচ্ছাদিত রাজ প্রাসাদ সেখানে কালের প্রবাহে কিছু পাথরের স্তম্ভ এবং দালানের ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। এ স্থানকে বর্তমানে কুম্রাহর (Kumrahar) নামে জানা যায়। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ হতে অনেক পর্যটক সেখানে গিয়ে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে থাকেন।

কুম্রাহরে এখন সম্রাট অসোককালীন প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষই দেখতে পাওয়া যায়। তন্মধ‍্যে ৮০ টি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত সভাগারের ভগ্নাবংশেষ সবিশেষ লক্ষ‍্যনীয়। পাটনা যাদুঘরে সুরক্ষিত প্রাচীন ঐতিহাসিক অনেক মূল‍্যবান প্রত্ন সামগ্রী রয়েছে। সে সমস্ত প্রাচীন সামগ্রী দেখে এরূপ ভেবে শরীর অতীব রোমাঞ্চিত হয় যে-তখন লকেরা কিভাবে থাকতেন, কিভাবে বসবাস করতেন, কিভাবে জন বসতি গড়ে তুলেছিলেন, সম্রাট অসোক কোন স্থানে দেহত‍্যাগ করেছেন, কোন স্থানে ভিক্ষু সঙ্ঘের বিহার ছিল, কোথায় ছিল সে আম্বলক বুদ্ধ বিহার, কোথায় ছিল সেনা ছাউনি, কোথায় হত‍্যা হয়েছিল মৌর্য বংশের দশম শাসক সম্রাট বৃহদ্রথ, কোথায় পুষ‍্যমিত্র শুঙ্গ কর্তৃক মৌর্য বংশের পতন করেছেন-এরকম হাজারো প্রশ্ন মনের মধ‍্যে উঁকি মারে। দেখে সংস্কার ধম্মের অনিত‍্যতা বিষয়ে সংবেগ এসে যায়। ঐতিহাসিক গৌরবের বর্ণনা কেবল ধ্বংসস্তূপ এবং ইতিহাসের পাতার মধ‍্যেই নিহিত রয়েছে। এখন আমরা সেগুলি দর্শন করে কেবল স্মৃতি রোমন্থন করা ব‍্যতীত আর কিছু করার নাই।

ভারতবর্ষের অতীব গৌরবের বিষয় ইহাই যে, আমাদের এ ভূ-খণ্ডে জন্ম গ্রহণকারী সম্রাট অসোকের গৌরবশালী নাম কেবল ভারতে নয়, বরং বিশ্বব‍্যাপী অনেক শ্রদ্ধার সাথেই তাঁর নাম স্মরণ হয়ে আসছে।

সম্রাট অসোকের জীবন সম্পর্কে প্রমুখ কিছু তথ‍্য আমরা নিম্নোল্লিখিত স্রোত হতে জানতে পারি। যেমন-দিব‍্যাবদান, দীপবংশ, মহাবংশ, পুরাণ গ্রন্থ সমূহ, সম্রাট অসোকের শিলালিপি তথা স্তম্ভ লিপি ও বিভিন্ন স্থাপত‍্যের ভগ্নাবশেষ হতে।

সম্রাট অশোক স্বীয় শাসনকালে একটি ধম্ম সঙ্গীতির আহ্বান করেছিলেন, যা তৃতীয় সঙ্গীতি নামে পরিচিত এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তা অতীব তাৎপর্যপূর্ণ। ভগবান তথাগত বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পরে এ তৃতীয় সঙ্গীতি খৃষ্টপূর্ব ২৫১ অব্দে সম্পন্ন হয়েছিল। এ সঙ্গীতির পরেই সম্রাট অসোক দেশ-বিদেশে অভিজ্ঞ ভিক্ষুদের পাঠিয়েছিলেন ধম্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে। এর পরিণাম স্বরূপ আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি সমগ্র এশিয়া ব‍্যাপী অধিক সংখ‍্যক লোক বুদ্ধের শরণাপন্ন হয়ে রয়েছেন।

সম্রাট অসোক বুদ্ধের ধম্ম তথা সদ্ধম্ম প্রচার-প্রসারের জন‍্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে স্বীয় সম্রাজ‍্যের বাহিরে প্রেরণ করেছিলেন। যাঁদের নেতৃত্বে যে সমস্ত দেশে মিশন প্রেরিত হয়েছিল সেগুলির নাম নিম্নে প্রদত্ত হল-

১) ভদন্ত মজ্ঝন্তিক বা মধ‍্যন্তক স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন কাশ্মীর-গান্ধার অঞ্চলে।

২) ভদন্ত মহাদেব স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন দক্ষিণ ভারতের মৈসুর বা মান্ধাতা অঞ্চলে।

৩) ভদন্ত রক্ষিত স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন দক্ষিণ ভারতের বনবাসী বা উত্তর কন্নড় অঞ্চলে।

৪) ভদন্ত ধম্মরক্ষিত স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন অপরান্তক বা উত্তর গুজরাতের কাঠিয়াবার, কচ্ছ এবং সিন্ধ অঞ্চলে।

৫) ভদন্ত মহাধম্মরক্ষিত স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন মহারাষ্ট্র অঞ্চলে।

৬) ভদন্ত মহারক্ষিত স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন যবন (য়ুনান) অর্থাৎ গ্রীক অঞ্চলে।

৭) ভদন্ত মজ্ঝিম বা মধ‍্যম স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন হিমবন্ত বা হিমালয় অঞ্চলে।

৮) ভদন্ত সোণ এবং ভদন্ত উত্তর স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন সুবর্ণভূমি অর্থাৎ মায়ানমার ও থাইল্যান্ড অঞ্চলে।

৯) ভদন্ত মহিন্দ স্থবিরের নেতৃত্বে একদল গিয়েছিলেন সিংহল দ্বীপে (শ্রীলঙ্কা)।

সম্রাট অসোকের ধম্ম প্রচারক ভিক্ষুদের মধ‍্যে সবচেয়ে অধিক সফলতা পেয়েছিলেন সম্রাটের পুত্র ভদন্ত মহেন্দ্র স্থবির ও তাঁর দল। ভদন্ত মহেন্দ্র স্থবির সিংহলের রাজা দেবানংপিয় তিষ‍্যকে সর্বপ্রথম বুদ্ধের সদ্ধম্মে দীক্ষিত করেছেন এবং রাজা তিষ‍্য বুদ্ধ ধম্মকে গ্রহণ করে ইহাকে রাষ্ট্রধম্মরূপে ঘোষণা করেছিলেন।

সম্রাট অসোক মহান যে সমস্ত কার্যের দ্বারা জগত প্রসিদ্ধ লাভ করেছেন, সেগুলি হল-

১) উৎকৃষ্টতম প্রশাসন।
২) নগর নির্মাণ ও সেগুলির বিকাশ।
৩) অনেক বড় সংখ‍্যায় বিহার, স্তম্ভ এবং স্তূপ সমূহের স্থাপনা।
৪) প্রস্তর অভিলেখনী এবং স্তম্ভের উপর প্রজা এবং কর্মকর্তাবর্গের জন‍্য আদেশ, উপদেশ, অনুশাসন সমূহ উৎকীর্ণ করে প্রচার।
৫) পাথরের মধ‍্যে শিল্পকলা।
৬) সমাজসেবা কার্য।
৭) লোকদের মধ‍্যে হিংসা প্রবৃত্তির পরিবর্তে ধাম্মিক প্রবৃত্তির জাগরণ।

সম্রাট অসোক স্বীয় শাসনকালে নিজের সম্রাজ‍্যের সর্বত্র ৮৪,০০০ স্মারক চৈত‍্য নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর দ্বারা কৃত ধম্ম প্রচারে অধিক মহত্বপূর্ণ হল স্বীয় পুত্র ভদন্ত মহেন্দ্র স্থবির এবং কন‍্যা সঙ্ঘমিত্রা থেরী উভয়কে ধম্ম প্রচারের জন‍্য দান দেওয়া। এদিক দিয়ে সত‍্যিকার অর্থেই তিনি একজন সদ্ধম্মের দায়াদরূপে জগৎ বিদিত হয়েছেন। এ নিরিখে একটি সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ ছবি বানিয়ে দিন

সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফল বলতে কি বুঝায়? শ্রমন বা ভিক্ষু জীবনে প্রত্যক্ষ দর্শনীয় ফল বা সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফল কি কি?সান...
08/01/2026

সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফল বলতে কি বুঝায়? শ্রমন বা ভিক্ষু জীবনে প্রত্যক্ষ দর্শনীয় ফল বা সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফল কি কি?

সান্দৃষ্টিক অর্থে স্বয়ং দৃষ্ট বা দর্শনীয় অর্থাৎ ইহ জীবনে প্রত্যক্ষ ফলদায়ক । বুদ্ধ শিষ্যদের ত্যাগী জীবনকে বলা হয় শ্রামণ্য বা শ্রমণ জীবন । যেমন - বুদ্ধকে শ্রমণ গৌতম নামে কেহ কেহ সম্বােধন করতেন । কোন ভিক্ষু বা শ্রমণ এই জীবন গ্রহণের দ্বারা যে সকল উপকার বা ফল প্রাপ্ত হন । সে সব ফল - প্রাপ্তিকে সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফল বলা হয় ।

যেমন- যে কোন শিল্পবিদ্যা গ্রহণকারী বা অবলম্বনকারী প্রত্যক্ষ জীবনে স্বয়ং দর্শনীয় ফল প্রাপ্ত হয়- যা দ্বারা সে নিজকে সুখী ও শক্তিশালী করে এবং পিতামাতা অথবা স্ত্রী - পুত্রাদির ভরণ পােষণ , শ্ৰমণ ব্রাহ্মণের সেবা বা ধর্মীয় কার্যাদি সম্পাদন করে । তদ্রুপ শ্ৰমণ বা ভিক্ষু জীবনের প্রত্যক্ষ প্রাপ্তিকে সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফল বলা হয় ।

শ্ৰমণ বা ভিক্ষু জীবনে প্রত্যক্ষ দর্শনীয় ফল অথবা সান্দৃষ্টিক শ্রামণ্য ফলগুলাে নিম্নরূপ: যে কোন ব্যক্তি শ্ৰমণ বা ভিক্ষু হবার পর,

১. তিনি জনগণের দ্বারা পূজিত হন এবং পবিত্র স্থান বা বিহারে অবস্থান করার অধিকার অর্জন করেন।

২. তিনি জনগণের থেকে পরিধানের চীবর , পিণ্ডপাত , শয্যাসন ও রােগে ঔষধপত্র দান হিসেবে লাভ করেন।

৩. তিনি গুরুর সহায়তায় কায় - সংযমী , বাক্য - সংযমী ও চিত্ত - সংযমী হন।

৪. তিনি শীলসম্পন্ন হয়ে পঞ্চেন্দ্রিয় সংবৃত হয়ে বিচরণ করেন ।

৫. তিনি দাঁড়ানে , গমনে , উপবেশনে ও শয়নে- এ চার ঈর্যাপথে স্মৃতি পরায়ণ হয়ে পঞ্চ নীবরণ (কামচ্ছন্দ, ব্যাপাদ, স্ত্যানমিদ্ধ , ঔদ্ধত্য - কৌকৃত্য ও বিচিকিৎসা) প্রহীন হন।

৬. তিনি সমাধিস্থ হয়ে ধীরে ধীরে প্রথম ধ্যান , দ্বিতীয় ধ্যান , তৃতীয় ধ্যান ও চতুর্থ ধ্যান লাভী হন ।

৭. বিদর্শন জ্ঞান লাভ: ভিক্ষু চিত্তের সমাহিত , পরিশুদ্ধ ও স্থির অবস্থায় জ্ঞান - দর্শন বা বিদর্শন জ্ঞান অভিমুখে চিত্তকে নমিত করেন এবং প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন যে তাঁর দেহরূপী চার মহাভূত (মাটি, অগ্নি, জল ও বায়ু) তাঁর মাতৃ - পিতৃ - সম্ভুত , অন্ন ব্যঞ্জন পুষ্ট , পরিমর্দন স্বভাব সম্পন্ন , অনিত্য ও বিনাশশীল। তাঁর এই বিজ্ঞান সেখানেই আশ্রিত ও প্রতিবদ্ধ।

৮. মনােময় কায় নির্মাণ: ভিক্ষু তাঁর কায় হতে একরূপ মনােময় অপর কায় নির্মাণ করতে পারেন।

৯. ঋদ্ধিবিধ জ্ঞান: ভিক্ষু এক হয়ে বহু এবং বহু হয়েও এক হতে পারেন । ঋদ্ধি সাহায্যে তিনি যত্রতত্র এমনকি স্বর্গ বা ব্রহ্মলােক পর্যন্ত গমনাগমন করতে পারেন। তিনি নিজকে ইচ্ছামত আবির্ভূত ও অন্তর্হিত করতে পারেন।

১০. দিব্য শ্রোত্র জ্ঞান: ভিক্ষু দূরস্থ বা নিকটস্থ দেব - মনুষ্যের শব্দ শ্রবণ করতে সক্ষম হন।

১১. চিত্ত পর্যায় জ্ঞান: মানুষের বিবিধ চিত্ত সম্বন্ধে তিনি বলতে পারেন।

১২. জাতিস্মর জ্ঞান: ভিক্ষু তাঁর পূর্বজন্মের কথা সবিস্তার বলতে পারেন।

১৩. সত্ত্বগণের চ্যুতি উৎপত্তি জ্ঞান: ভিক্ষু সত্ত্ব বা জীবের চ্যুতি - উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পারেন।

১৪. আসবক্ষয় জ্ঞান: ভিক্ষু তাঁর জন্ম - বীজ ধ্বংস করে অর্থাৎ তৃষ্ণার মূলােচ্ছেদ করে বিমুক্ত হন । তিনি অর্হত্ব লাভ করেন অথবা নির্বাণ লাভ করেন ।

ที่อยู่

France World Peace Buddhist Meditation Centre, 15 Avenue De La République
Ayutthaya
93120

เว็บไซต์

แจ้งเตือน

รับทราบข่าวสารและโปรโมชั่นของ অপ্রমাদ অমৃতপদผ่านทางอีเมล์ของคุณ เราจะเก็บข้อมูลของคุณเป็นความลับ คุณสามารถกดยกเลิกการติดตามได้ตลอดเวลา

ติดต่อ ธุรกิจของเรา

ส่งข้อความของคุณถึง অপ্রমাদ অমৃতপদ:

แชร์

ประเภท