
21/01/2025
নেতা তো অনেকেই হন, নেতাজি সুভাষ একজনই।
সন্ধ্যের ধীরলয়ে অন্ধকার নেমেছে। সেদিনও অন্য দিনের মতোই ছিল—সাধারণ, নির্বিঘ্ন। হঠাৎ বাড়ির সামনে ভিড় জমেছে। কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। কেউ যেন শোকের ভারে কাতর।
কাছে গিয়ে জানা গেল, বাড়ির কর্তা বসন্ত রোগে ভুগে মারা গিয়েছেন। কিন্তু শোকের থেকেও বড় হয়ে উঠেছে সমাজের কুসংস্কার। মৃতদেহ পড়ে আছে বাড়ির মধ্যে, সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যে হয়ে গেলেও কেউ সৎকারের জন্য এগিয়ে আসছে না।
ভিড়ের মধ্যে সেদিন দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণ। তাঁর মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন,
"বেশ, যদি কেউ না যায়, আমি একাই মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে যাব।"
এই দৃঢ় ও সাহসী কণ্ঠের মালিক ছিলেন সেই তরুণ, যিনি পরবর্তী কালে বাঙালির চিরকালের নেতা, ভারতের হার্টথ্রব এবং আইকন হিসেবে পরিচিত হবেন—নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
---
কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস
সুভাষচন্দ্রের কথায় হতভম্ব হয়ে যায় সবাই। ভিড়ের মধ্যে একজন বলে উঠল, "তুমি? তুমি কি জানো, তুমি কী বলছো?"
সুভাষ স্থির স্বরে জানিয়ে দেন, "আমি কাউকে বাধ্য করছি না। তবে আমি ঠিক করেছি, মৃতদেহ একাই কাঁধে তুলে শ্মশানে নিয়ে যাব।"
তাঁর সাহসিকতা দেখে একে একে কয়েকজন এগিয়ে এলেন। একজন বললেন, "আমি তোমার সঙ্গে যাব।"
আরেকজন কোমরে কোঁচা বেঁধে সুভাষের পাশে দাঁড়াল। এভাবেই মৃতদেহ সৎকারের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে গেলেন সুভাষ, আর তাঁর নেতৃত্বে এগিয়ে এলেন আরও অনেকে।
---
এক নেতা, যিনি নেতৃত্বে ছিলেন সহজাত
এ ঘটনাটি নিছক একটি ঘটনা নয়। এটি ছিল এক তরুণের সহজাত নেতৃত্বের পরিচয়। সুভাষচন্দ্র বসু ছোট থেকেই সাহসী ছিলেন। তাঁর মনের জেদ, ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তাঁকে একদিন ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতায় পরিণত করেছিল।
---
মানুষের নেতা, বাঙালির গর্ব
ভিড়ের এক ব্যক্তি তখন চারুর কাছে জানতে চান, "ছেলেটি কে?"
চারু উত্তর দেন, "সরকারি উকিল রায়বাহাদুর জানকীনাথ বসুর ছেলে।"
"বলো কী! এত বড় ভদ্রলোকের ছেলে এমন কাজ করছে!" অবাক হয় সবাই।
সেদিনের তরুণ সুভাষই পরবর্তী সময়ে হয়ে উঠলেন সেই নেতা, যাঁকে মানুষ ভালবেসে ডাকত নেতাজি। যিনি ছিলেন বাঙালির গর্ব, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর প্রতিটি কাজ ছিল মানুষের জন্য।
---
প্রেরণার গল্প
সুভাষচন্দ্র বসুর এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে যায়, একজন সত্যিকারের নেতা কোনোদিন নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যান না। নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়; নেতৃত্ব মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আজও, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আমাদের মনে সাহস, দায়িত্ব এবং মানবতার বীজ বুনে যায়।
---
শ্রদ্ধা ও প্রণাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আপনি আমাদের চিরকালের প্রেরণা।