Manush

Manush Baharampur Uttaran Samajer Mukhapatra, Phone No. 9800551372

আপনিও আমন্ত্রিত। অবশ‍্য‌ই আসুন।
16/06/2025

আপনিও আমন্ত্রিত। অবশ‍্য‌ই আসুন।

17, 18 ফেব্রুয়ারিতে ব্রুণো উদ্‌‌যাপনে আপনার অংশগ্রহণ একান্ত কাম‍্য।আন্তরিক আহ্বানে,– বহরমপুর উত্তরণ সমাজ
11/02/2025

17, 18 ফেব্রুয়ারিতে ব্রুণো উদ্‌‌যাপনে আপনার অংশগ্রহণ একান্ত কাম‍্য।
আন্তরিক আহ্বানে,
– বহরমপুর উত্তরণ সমাজ

01/01/2025

নতুন বছর!
– ইনাস উদ্দীন

সারাটি বছর জ্বালিয়েছ খুব
ছিপি খুলে দৈত্য ছেড়ে দিলে
তাদের তাণ্ডবে তছনছ পারিজাত বন
জ্বালিয়ে দিয়েছে ঘর
জ্বালিয়ে দিয়েছে থালা-বাটি
প্রেম-প্রীতি ভালোবাসা বুকের পাঁজর
যত্রতত্র পুড়িয়েছে ধর্ষিতার লাশ
জাতির পিতার লাঠি কেড়ে নিয়ে
পিটিয়ে মেরেছ জ্ঞাতিগুষ্টি পাড়া-প্রতিবেশী
তবু ছিল পথে নামা হাজার মানুষ
রাতের দখল

নতুন বছর!
নতুন প্রভাতে আজ একটাই কথা
দৈত্য যা গেছে যাক ---
এইবার শুধু ছিপিটা সামলে রেখো
নিজের কণ্ঠে লোকে যেন গাইতে সুযোগ পায়
নিজেদের গান
নিজেদের সুরে!

Md Inasuddin
০১.০১.২০২৫

16/11/2024

৭১তম নিখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ
– ইনাস উদ্দীন

তৃতীয় দিনের (১৬.১১.২০২৪) ভাবনাঃ
সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ

এই বছর (২০২৪) নিখিল ভারত সমবায় সপ্তাহের মূল থিম হচ্ছে 'বিকশিত ভারত' গড়তে সমবায়ের ভূমিকা। প্রতিবছরের মতো এবারেও জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন সমবায় সপ্তাহের প্রতিটি দিবসের আলাদা করে কিছু উপ-থিম ঘোষণা করেছে। সপ্তাহের তৃতীয় দিনের (১৬ নভেম্বর, ২০২৪) থিম হচ্ছে 'সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ'।

আমাদের দেশে কর্মসংস্থান যে সবচেয়ে বড় সমস্যা সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুসারে জীবিকার সংস্থান বাড়ছে না, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ কথা ঠিক যে উন্নত প্রযুক্তির কারণে সরকারি বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই চাকরির সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমছে। বড় শিল্প কারখানা নতুন ভাবে বাড়ছে না যাতে বিশাল সংখ্যক কর্মসংস্থান ঘটে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চাকুরীর ভরসায় অপেক্ষা করে থাকার দিন বর্তমানে প্রায় শেষ। এখন একমাত্র উপায় হচ্ছে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ খুঁজে নেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এক্ষেত্রে অন্যতম উন্নত এবং নির্ভরযোগ্য বিকল্প হচ্ছে সমবেত উদ্যোগে সমবায় পদ্ধতি অবলম্বন।

সমবায়ে কর্মসংস্থান বললেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে সমবায় ব্যাংক, সমিতি বা ঐরকম কোনও প্রতিষ্ঠানে চাকরি। একথা ঠিক যে ভারতে আনুমানিক ২ কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে সমবায় সংস্থাগুলিতে কর্মরত। কিন্তু সমবায় সপ্তাহে এই দিবসের বার্তা হল --- চাকরির সন্ধান নয়, চাকরি সৃষ্টি করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে শুনলে ব্যাপারটা অবাস্তব তত্ত্বকথা বলে মনে হবে। কিন্তু একটু সিরিয়াসলি ভাবলে ব্যাপারটা এমন কিছু দুঃসাধ্য মনে হবে না। কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যাক।
১) উচ্চশিক্ষিত এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষ যুবক-যুবতীরা — যেমন একাউন্টস বিষয়ে অভিজ্ঞ, প্রেস ডিটিপি ও ছাপাছাপির বিষয়ে অভিজ্ঞ, শিল্প কারিগরি বিষয়ে যারা দক্ষ — এমনকি শিক্ষা জগত কিংবা চিকিৎসক নার্সরাও ১০-১৫ জন মিলে তহবিল গঠন করে একটি সমবায় সংস্থা তৈরি করতে পারেন। ধরা যাক, একটা ছাপাখানা বা পাবলিকেশন হাউস — কেউ ডিটিপি জানে, কেউ সাহিত্য জানে, কেউ প্রকাশনা জানে — একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগ হতেই পারে। সেইরকম ডাক্তার নার্স বিভিন্ন হেল্থ টেকনিশিয়ান মিলে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলাই যায়। প্রত্যেকেই মালিক, আবার প্রত্যেকেই কর্মী, কেউ কারো অধীন নয়।

২) কায়িক পরিশ্রমে যারা একই ধরনের কাজে দক্ষ — যেমন রাজমিস্ত্রিরা, ইলেকট্রিক মিস্ত্রিরা, ডেকোরেশনে অভিজ্ঞ ছেলেমেয়েরা এইভাবে নিজেরা সংগঠিত হতে পারে। আয়া বা গৃহসেবিকা, পরিচারিকারাও এইসব এইভাবে সংগঠিত হতে পারে। তাতে কর্মক্ষেত্রে সামাজিক এবং আর্থিক নিরাপত্তা দুটোই বাড়ে।

৩) পরিষেবা সমবায় — বর্তমানে আমাদের রাজ্যে যথেষ্ট সংখ্যক এই ধরনের সমবায় তৈরি হয়েছে। বলতে গেলে বর্তমান যুব সমাজের সামনে এই ধরনের সমবায় গঠন ছাড়া কর্মসংস্থানের খুব ভালো বিকল্প সামনে নাই। বিভিন্ন সংস্থায় সিকিউরিটি কর্মী সরবরাহ, অফিস বা প্রতিষ্ঠানে খাতাপত্র ও অন্যান্য দ্রব্য সরবরাহ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে চুক্তির ভিত্তিতে কম্পিউটার জানা কর্মী সরবরাহ — কতকিছু সুযোগ আছে। শর্ত শুধু একটাই — সমবায়ী মানসিকতা থাকতে হবে।

হ্যাঁ, মূলধনের টাকা অফিসের ঘরবাড়ি পরিকাঠামো, নেতা বা অফিসে ধরাধরি, কানেকশন কোনটাই বড় সমস্যা নয়। একটাই বড় সমস্যা — ১০ জন একত্রিত হয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সমবেত যৌথ উদ্যোগে পথে নামা। আমাদের অভ্যাস হচ্ছে একা একা পথ চলা। একটা চাকরি চাই, সেখানে একা অফিসে যাব, কাজ করব, বাড়ি ফিরব — এই মানসিকতার পরিবর্তন চাই। একা মানেই বিচ্ছিন্ন, একা মানেই বোকা — যৌথবদ্ধতা মানে শক্তি। পাঁচজনের পাঁচ রকম মতামতের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করাটাই সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের প্রধান শর্ত। বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে গেলে সবার আগে চাই সকলের জীবিকার সংস্থান, কর্মসংস্থান এবং তার জন্য চাই সমবায়ের মাধ্যমে সমবেত উদ্যোগ।

(2024-11-16)

●  #জন্মদিনে_শ্রদ্ধাঞ্জলি ●  ❤️🌹🌹        #উলগুলান_এর_শেষ_নাই....✊✊✊    – ✍️ রবীন দাস                                    ...
15/11/2024

● #জন্মদিনে_শ্রদ্ধাঞ্জলি ● ❤️🌹🌹
#উলগুলান_এর_শেষ_নাই....✊✊✊
– ✍️ রবীন দাস

■আজ উলগুলানের নেতা #বিরসা_মুন্ডার জন্মদিন, ১৮৭৫ সালের ১৫ই নভেম্বর ঝাড়খন্ডের রাঁচির উলিহাতু গ্রামে বিরসা মুন্ডার জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম সুগানা মুন্ডা এবং মায়ের নাম করমি বাহাতু।
বিরসা মুন্ডার প্রাথমিক পড়াশোনা সালগা গ্রামে হয়। বাল্যকাল থেকেই বিরসার পড়াশোনার প্রতি ছিল দারুন আগ্রহ। নতুন কিছু শেখার এবং বাইরের জগতকে চেনার এক অদম্য ইচ্ছা ছিল তাঁর মধ্যে। কুন্তি ব্লকের সামলং স্কুলে তৃতীয় শ্রেণী অবধি পড়ার পর বিরসা মুরজু ব্লকের বুরুজু উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করেন। এরপর বিরসা চাঁইবাসায় লুথেরান জার্মান মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানে সপ্তম শ্রেণী অবধি পড়েন। চাঁইবাসার স্কুলে পড়ার সময় বিরসা খৃষ্ট ধর্মমত গ্রহণ করলে তাঁর নামকরণ হয় ‘ডেভিড দাউদ’।

ব্রিটিশ বিরোধী এই লড়াই আদিবাসী বিদ্রোহ সেই সময়ে ইংরেজ শাসকদের বুকে ভয়ানক ত্রাস সৃষ্টি করেছিল, ইংরেজদের কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক মহাচিন্তার বিষয়; এই মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা ছিলেন বিরসা মুন্ডা (Birsa Munda) যাঁর হাত ধরেই ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে আদিবাসী জনগণের অধিকার আদায়ের এক জন জাগরণ সূচিত হয়েছিল। আর এই বিরসা মুন্ডা ছিলেন আদিবাসী আন্দোলন এর প্রধান মুখ।

বিরসা মুন্ডাকে তাঁর অনুগামীরা পরিচিতি দিয়েছিলেন ‘ #ধরতি_আবা’ অর্থাৎ ভগবান বলে। ১৮৮৬ সাল থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত বিরসা এবং তাঁর পরিবার চাঁইবাসাতেই বসবাস করতেন। একসময় জার্মান এবং রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হলে সেই আন্দোলনের রেশ গিয়ে পড়ল আদিবাসীদের মধ্যেও। স্বাধীনতা সংগ্রামের আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে সুগানা মুন্ডা বিরসাকে স্কুল থেকে সরিয়ে নিলেন।১৮৯০ সালে চাঁইবাসা থেকে বিরসাকে নিয়ে সরদারদের প্রবল চাপে খৃষ্ট ধর্মমত ত্যাগ করে গ্রামে ফিরে আসেন তাঁর মা। এরপর ১৮৯১ সালে বান্দাগাঁও গ্রামে বিরসার সাথে পরিচয় হয় বান্দাগাঁওয়ের জমিদার জগমোহন সিংয়ের মুন্সী আনন্দ পাওরের, যার প্রভাবে বিরসা বৈষ্ণব ধর্মমত গ্রহণ করেন। ক্রমেই নিজ জাতিকে জাগ্রত করার দায়িত্ব বিরসা দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে শুরু করেন। বিরসা আদিবাসীদের তাঁদের মূল ঐতিহ্যবাহী উপজাতীয় ধর্মমত ‘সার্না পন্থা’ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া শুরু করলেন। লোকের মুখে মুখে বিরসা হয়ে উঠলেন ‘ধরতি আবা’ অর্থাৎ ভগবান, জগৎ পিতা। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে ১৮৯৫ সালে তিনি ঘোষণা করলেন এক নতুন ধর্মমতের যার মূল ভিত্তি ছিল একেশ্বরবাদী মুন্ডা ধর্ম। দলে দলে মুন্ডা, ওঁরাও, খরাই নরনারীরা নতুন ধর্ম গ্রহণ করে পরিচিত হল ‘ #বিরসাইত’ নামে।

বিরসা মুন্ডা ‘ #মুন্ডাবিদ্রোহে’র নেতা হিসেবে খ্যাত হয়ে আছেন। অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন একদম দেশীয় অস্ত্র তীর ধনুক। মিশনারি স্কুলে থাকাকালীন বিরসা সরদারি আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতায় বুঝেছিলেন আদিবাসীদের দুরাবস্থার জন্য একা দিকু (দিকু কথার অর্থ- ‘শত্রু’/আদিবাসীরা বহিরাগতদের দিকু বলত) অর্থাৎ শুধুমাত্র ব্রিটিশরা দায়ী নয়, দেশীয় দিকুরাও ব্রিটিশদের সঙ্গ দিচ্ছে; আর তাই হয়ত নিজ বাসভূমে পরবাসী হয়ে আছে আদিবাসীরা।

ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থায় সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চেয়েছিল। তারা একে একে দখল করতে থাকে অরণ্য জমি। আদিবাসীদের দখলে থাকা জমিগুলি তাঁদের থেকে অন্যায় ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন প্রবর্তন করে ভারতের বিস্তীর্ণ জঙ্গল মহলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিল আদিবাসীদের। হাজার হাজার বছর ধরে যে বনজঙ্গল, পাহাড়, নদনদীর ওপর ভরসা করে জীবনযাপন করতেন আদিবাসীরা, সেই অরণ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া হল তাঁদের থেকে। ছোটোনাগপুরের সংরক্ষিত বন দখল করার উদ্যোগ নিল যখন ব্রিটিশ সরকার, সেই সময় জেগে উঠল সমগ্র পাহাড় জঙ্গল ও বিরসাইত বাহিনী। ব্রিটিশের বন্দুকের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে তীর-ধনুক নিয়ে লড়াই শুরু হল। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সামাল দিতে ১৮৯৫ সালে জেলা পুলিশ বিরসাকে বন্দী করে দুই বছরের কারাদণ্ড দিল। ১৮৯৭ সালের ৩০ নভেম্বর বিরসা মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুন করে শুরু হল বিদ্রোহের প্রস্তুতি। ‘ #উলগুলান’ বা স্বাধীনতা আনার জন্য চলতে থাকে প্রস্তুতি। বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ১৮৯৯ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে রাঁচির দক্ষিণাঞ্চলে ‘মুন্ডা বিদ্রোহ’ সংগঠিত হয়। এই বিদ্রোহকে মুন্ডারি ভাষায় বলা হয় ‘উলগুলান’ যার অর্থ ‘প্রবল বিক্ষোভ’। এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল মুন্ডা রাজ ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা; বা অন্যভাবে বলতে গেলে মুন্ডা সমাজে অরণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা। এই মুন্ডা বাহিনীর প্রধানকেন্দ্র ছিল বর্তমান রাঁচি-জামশেদপুর হাইওয়ে থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাইল রাকাব গ্রামের #ডোম্বরি পাহাড়। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছিল গেরিলা পদ্ধতি।

১৮৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাঁচি ও খুন্তি শহরে বিরসা বাহিনীর ঝটিকা আক্রমণে বেশ কিছু পুলিশসহ নিহত হল অনেক মানুষ, অগ্নিদগ্ধ হল শতাধিক ভবন। এই আক্রমণের জবাবে ব্রিটিশ সরকার ১৫০ জন সেনা নিয়ে আক্রমণ করল ডোম্বরি পাহাড়। কমিশনার ফোর্বস ও ডেপুটি কমিশনার স্ট্রিটফিল্ড আদিবাসীদের ‘আবুয়া ডিসান' (স্বতন্ত্র শাসন) ধ্বংস করতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করলো চারশো আদিবাসী জনতাকে। ডোম্বরি পাহাড়ে হওয়া এই নির্বিচার গণহত্যায় মৃতদেহের স্তূপ তৈরি হয়ে গেল। মৃতদেহের এই স্তূপ বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ডোম্বরি পাহাড়ের নামই হয়ে গেল মুণ্ডাদের কাছে- ‘ #টপ্ডবুরু’ (মৃতের স্তূপ)।
তবে বিরসাকে ব্রিটিশ পুলিশ ধরতে পারল না। সরকার ৫০০ টাকা ঘোষণা করল বিরসাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। ১৯০০ সালে চক্রধরপুর এর যমকোপাই বনে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত অবস্থায় বন্দী হলেন বিরসা মুন্ডা।
বিরসাকে ধরিয়ে দেওয়ার ইতিহাস হল এক বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। রোগাতো নামক এক স্থানে সভা শেষ করে সেনেত্রার জঙ্গলে ক্লান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছিলেন বিরসা। ডোনকা মুন্ডার স্ত্রী সালি তাঁর জন্য ভাত রাঁধছিলেন।ভাত রাঁধার ধোঁয়া জঙ্গলের মাথার উপর দিয়ে দূর থেকে দেখা যায়। ব্রিটিশ পুলিশ সেই ধোঁয়া লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে এবং অবশেষে মনমারু ও জারকাইল গ্রামের মানুষ কিছু টাকা এবং পেট ভরে দুটো খাওয়ার লোভে বিরসাকে সেদিন ধরিয়ে দেয়। বিরসাকে বন্দী করে তাঁর বিচার শুরু হল। বিরসার সঙ্গে ৫৭১ জনের বিচার চলল। এঁদের মধ্যে তিন জনের ফাঁসি হল এবং ৭৭ জনের দ্বীপান্তর সহ কারাদন্ড।বিদ্রোহীদের রাঁচি জেলখানায় লোহার শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ১৯০০ সালের ৯ই জুন মাত্র ২৫ বছর বয়সে রাঁচি জেলে বিষপ্রয়োগের ফলে বিরসা মুন্ডার মৃত্যু হয়।যদিও জেলের রিপোর্টে বলা হয় রক্ত বমি এবং আমাশার কারণে বিরসার মৃত্যু ঘটেছে। সাধারণ ভাবে প্রচলিত প্রথা হিসাবে মুন্ডা সম্প্রদায়ের প্রয়াত মানুষদের কবর দেওয়াই রীতি, অথচ ব্রিটিশ শাসকরা বিরসার দেহকে তড়িঘড়ি করে দাহ করে দিয়েছিলো। উদ্দেশ্য ছিল দুটো, এক তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণকে ধামাচাপা দেওয়া ও দুই সকল আদিবাসীদের বোঝানো যে বিরসা মুন্ডা কোনো ভগবান নয় একজন সাধারণ মানুষ।

ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে তাঁর তেজদীপ্ত অসামান্য লড়াইয়ের কথা আজো স্মর্তব্য। তাই আজ যখন দেশীয় প্রভুরা দেশের জল জমি জঙ্গলকে বানিয়াদের কাছে বেচে দিচ্ছে, উৎখাত করছে বনবাসী মানুষদের তখন বারবার বিরসা মুন্ডার নাম সামনে চলে আসে আসবেই।
ছবি ঋণ কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত।

14/10/2024
ছত্রিশ ঘন্টা ডিউটি করেও তো এই সরকারের কাছ থেকে বাঁচার অধিকার পায়নি, বিচারের অধিকার‌টাও হারিয়ে গেল।
11/09/2024

ছত্রিশ ঘন্টা ডিউটি করেও তো এই সরকারের কাছ থেকে বাঁচার অধিকার পায়নি, বিচারের অধিকার‌টাও হারিয়ে গেল।

10/09/2024

উত্তরণ সমাজের স্বপ্ন:-
দেখবেন, ধর্ষক-খুনি পক্ষ বলে কেউ থাকবে না, সবাই একদিন "মানুষ" হয়ে উঠবে।

30/06/2024

সন্দেহে পিটিয়ে মারা
– আব্দুর রউফ

মবলিঞ্চিং বা পিটিয়ে মারা,
ঘাতকের দল বিবেক হারা।
গুজব বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে,
আইন কে হাতে, নেয় ওরা৷

বুনে চলেছি হিংসা ফসল,
অমৃত ভান্ডে ঢালছি গরল৷
সন্দেহে কেউ লাশ হয় তবু
আমাদের নেই কোন হেলদোল৷

মণিষীতে ভরা এই বাংলায়,
ভরা ছিল প্রেম, প্রীতি, মমতায়৷
ভিনরাজ্যের নোনা বাতাস এসে
বাংলার সংস্কৃতি বিপন্ন হায়!

তবুও আইনেই ভরসা করি
চোখবাঁধা বিচারের দন্ডধারী৷
দেশজুড়ে ঘটে চলা মবলিঞ্চিং
কসাইরা সাজা পাক আশাধারি।

নজরুল ইসলাম সম্মন্ধীয় একটি প্রতিবেদন    – সুমন সরকার ঝড়-এর সম্পাদকের আবেদনে এ জেলা তথা শহরে খুঁজতে গেলাম, নজরুল কেমনভাবে...
29/05/2024

নজরুল ইসলাম সম্মন্ধীয় একটি প্রতিবেদন
– সুমন সরকার

ঝড়-এর সম্পাদকের আবেদনে এ জেলা তথা শহরে খুঁজতে গেলাম, নজরুল কেমনভাবে বেঁচে আছেন৷ বইয়ের পাতায় নয়, সাজানো মঞ্চেও নয়৷ জানি আমি অত্যন্ত সাধারণ৷ আরো অনেক মানুষের মতোই নজরুল বলতে গুটি কয়েক কবিতা, গান আর দেশের জন্য সাহিত্য করে জেল যাওয়ার মতো ভাসা ভাসা কিছু ধারণা আছে মাত্র৷

সেদিন ২১মে৷ প্রথমেই মনে পড়ল বহরমপুর নজরুল কমিটির কথা৷ বর্তমান সম্পাদক আবুল কালাম সন্ধেবেলা সময় দিলেন৷ কিন্তু উনি বার বার সময় পিছিয়ে দিচ্ছিলেন৷ রাত্রি আটটা নাগাদ উদ্দেশ্যহীনভাবেই বেরিয়ে পড়লাম৷ মনে হল এ শহরের বুকে নজরুল মূর্তিগুলি দিয়েই শুরু করি৷ গত মার্চ মাসে বহরমপুর নজরুল কমিটি ব্যারাক স্কোয়ারের পশ্চিমদিকের রাস্তায় একটি আবক্ষ নজরুল মূর্তি স্থাপন করেছেন৷ প্রথমেই সেটির ছবি সংগ্রহ করলাম৷ নিচের ফলকে লেখা রয়েছে, ‘‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই/নহে কিছু মহীয়ান/-- কাজী নজরুল ইসলাম/ সৌজন্যে - বহরমপুর পৌরসভা, বহরমপুর নজরুল কমিটি/ ১০ই মার্চ, ২০২৪’’।

পরের গন্তব্য পুরাতন কান্দি বাস স্ট্যান্ড, নজরুল সরণি৷ ওইটি বরাবরই আমার খুব পছন্দের৷ কারণ নজরুলের আবক্ষ মূর্তির অনুসঙ্গে রয়েছে একটি গ্রন্থ যেখান থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে এসেছে৷ ঘিরে রেখেছে কবিকে৷ শিখার উপরের অংশে এক উদ্ধত যৌবন৷ যার এক হাতে তিন রঙা পতাকা অন্য হাত মুষ্টিবদ্ধ, স্পর্ধায় ভরপুর৷ কখনও শিল্পীর নাম জানা হয়ে ওঠেনি৷ আজ সেকথা মনে হতেই গ্লানি বোধ হল৷ সেই গ্লানি বুকে নিয়েই স্থাপত্যের সামনে দাঁড়ালাম৷ কিন্তু একি! সব কিছু একই আছে৷ তিনকোনা পাঁচিল৷ বিকল হয়ে যাওয়া জলের ফোয়ারা৷ চারপাশ জুড়ে দেবদারুগাছ৷ নেই শুধু নজরুল৷ বেরিয়ে এলাম৷ বাইরেই একজন ফুচকা বিক্রি করছেন৷ তাঁকেই বললাম, দাদা এখানে নজরুলের মূর্তিটা দেখছি না৷ অল্প বয়সী একদল ছেলেমেয়ে ফুচকার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল৷ তারাও বলল, তাইতো! নজরুলের মূর্তিটা কোথায় গেল? ফুচকা বিক্রেতা মৃদু হেসে জানাল, ওটা ভেঙে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্যারাক স্কোয়ারে বসিয়েছে৷ মনটা ভারি হল৷ ১২৫ বছরে কবিকে খুঁজতে এসে প্রথমেই এভাবে হোঁচট খাব ভাবিনি৷ ফুচকা বিক্রেতাকে আবারও জিজ্ঞেস করলাম, এটা ফাঁকা করে দিল কেন? ফুচকা বিক্রেতার উত্তর, বুঝতে পারছেন না? এ জায়গাটা ভাঙা হবে৷ অন্যকিছু হবে৷ ইঙ্গিতবাহী এই উত্তর মনটা নাড়িয়ে দিল৷ পৌরসভা গোটা শহর জুড়ে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে যেখানেই সম্ভাবনা আছে মার্কেট কমপ্লেক্স বানাতে ব্যস্ত৷ তখন রাত ৯টা পেরিয়ে গেছে৷ হাজির হলাম নজরুল কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত সাহেবের বাড়ি৷ দীর্ঘক্ষণ মিটিং-এর ধকলের ফলে উনি আর সাক্ষাৎকারের জন্য সময় দিতে পারলেন না৷ পরদিন সকাল দশটায় ডাকলেন৷ বাইরে বেরিয়ে এসে নজরুল কমিটির বর্তমান সম্পাদক আবুল কালাম, গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আবৃত্তিকার রাখী বিশ্বাস ও লতিফ সরকারের সামনে নজরুল মূর্তি অপসারনের প্রসঙ্গ তুললাম৷ সম্পাদক আবুল কালাম বললেন, নজরুল সরণি থেকে নজরুলের মূর্তি সরানোটা ঠিক হয়নি৷ উল্লেখ্য, মূর্তি অপসারণের সময় উনি সম্পাদক ছিলেন না৷ রাখী বিশ্বাস আক্ষেপ করে বললেন, আমি তো চেয়েছিলাম নতুন জায়গায় নজরুলের মূর্তি স্থাপনে মূর্তির দামটা সম্পূর্ণ দিতে৷ কিন্তু পূর্বতন সম্পাদক সে কথা শোনেননি৷ নজরুল সরণির মূর্তিটাই সরিয়ে আনলেন৷ যদিও রাস্তায় হওয়া এ কথার কোনও অডিও ভিসুয়াল রেকর্ড আমার কাছে নেই৷

পরদিন অর্থাৎ ২২মে বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টি৷ তারই মধ্যে সকাল ১০টা ১৫ নাগাদ আবুল হাসনাৎ সাহেবের বাড়ি পৌঁছালাম৷ নজরুল কমিটির গোড়ার কথা শোনার পরেই জিজ্ঞেস করলাম, কবিকে আপনি নিজের চোখে দেখেছেন? আক্ষেপের সঙ্গে বললেন, ‘না৷ এ আমার মস্তবড় এক অপ্রাপ্তি৷ রবীন্দ্রনাথকে দেখার সুযোগই ছিল না৷ কিন্তু নজরুলকে দেখার সুযোগ ছিল৷ হয়নি৷’ কিছুপরেই তাঁর সংযোজন ‘চিরকাল নজরুল কিছুটা পারিবারিক কারণে, কিছুটা কপালগুণে, কিছুটা ওর বোহেমিয়ানের জন্যে -- ভবঘুরে তো -- চিরকাল মোসাফির থেকে গেলেন৷ কী কষ্ট গেছে৷ সেই নজরুলের গানকে ভাঙিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে৷ .... (গান গাইতে) দরকষাকষি করছে৷ বলছে এত কমে আমি পারব না৷’ বলতে বলতেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন আবুল হাসনাত৷ মনে হল পেয়ে গেছি৷ এই তো৷ নজরুল কি প্রবলভাবে বেঁচে আছেন আজো৷ কিন্তু ছন্দপতন হল সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে এসে৷ হাসনাত সাহেবের কথার সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসা করলাম --- নজরুল কমিটি তার ৪৪ বছরের জীবনে কোনোদিনও কি সাধারণ মানুষের কোনো অমঙ্গলে পথে নেমেছে? হাসনাত সাহেব স্মৃতি হাতড়ে এমন কোনো পদক্ষেপের কথা মনে করতে পারলেন না৷ মনে হল এ যদি সত্য হয়, তাহলে নজরুল কোথায় বেঁচে আছেন? নজরুল তো নিছক শিল্পচর্চার বিষয় নয়৷ ‘দেশবাসীর প্রতি দরদই ছিল নজরুলের জীবনের চালিকা শক্তি৷’ তাহলে কোন হ্যামলিনের বাঁশি আচ্ছন্ন করেছে এ শহরের বুদ্ধিজনদের৷ অবশেষে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম মূর্তি অপসারনের বিষয়টা৷ আমার শেষ প্রশ্নটা ছিল, আজ নজরুল সরণি থেকে নজরুল উধাও৷ কালকে নজরুল সরণিটাই উধাও হয়ে অন্য কোনো সরণি হয়ে যাবে না তো? হাসনাত সাহেব স্থির চিত্তে উত্তর দিলেন, ‘ওখানে কিছু হয় না৷ নোংরার মধ্যে, আবর্জনার মধ্যে, গোলমালের মধ্যে, ওরা কাপড় টাঙাচ্ছে, একটা বিশ্রী আবহাওয়ার মধ্যে ওরা নজরুলকে অপমান করছে৷ কষ্ট হতো৷ সেজন্য নজরুলকে আরো ভদ্রস্থ জায়গায় আনা হল৷’ এই ‘ওরা’ বলতে অবশ্যই পুরাতন কান্দি বাস স্ট্যাণ্ডে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা৷ আমার আর জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হল না, পৌরসভা প্রতিদিন গোটা বাজারটা ঝাঁট দেয়, ময়লা ফেলে দেয়৷ অথচ মূর্তি প্রাঙ্গণটা পরিষ্কার করে না৷ এ দায় কার? সবার সব দায় কি শুধু ‘ওরা’ বহন করবে?

শহরের বুদ্ধিজনদের ছেড়ে হাজির হলাম বহরমপুর লাগোয়া বাজারপাড়ায়৷ জেরক্স-এর ছোট্টো একটা দোকান চালায় রাজ সেখ৷ স্কুলপাঠ্য বইতে যা পড়েছিল তার মধ্যে রাজের একটিইমাত্র মনে আছে৷ ‘একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান৷’ গুছিয়ে বলতে না পারা রাজ আবেগাপ্লুত হয়ে এ কবিতার মর্মার্থ তুলে ধরতে চেষ্টা করল৷ তারপরেই তার সংযোজন, ‘এখন পলিটিশিয়ানরা ঢুকে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করে দিয়েছে৷’ সেখানেই পেলাম এলাকার ডাকপিয়ন সারাফত সেখকে৷ তাঁর কথায়, চর্চার অভাবে নজরুল ইসলাম আজ আমাদের স্মৃতিতে অনেকখানিই ফিকে হয়ে এসেছে৷ একদিকে স্বঘোষিত হিন্দু নেতা টিভি সাক্ষাৎকারে বলছেন, একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান তিনি মানেন না৷ অপরদিকে শাসকদলের এক মুসলিম নেতা এ কটা হিন্দুকে সরিয়ে দিতে সময় লাগবে না বলে হুঙ্কার ছাড়ছে, তখনও সাধারণ মানুষের মনে ফিকে হয়ে আসা নজরুল জ্বলজ্বল করছেন যৌথ-সংস্কৃতি যাপনের বার্তা নিয়ে৷ আবার শহরমুখী হব৷ জাতীয় সড়কে উঠবার আগে দৃশ্যমান হল গঙ্গার পাড়ে বস্তি এলাকা৷ মূলত মুসলিম এলাকা হলেও কিছু হিন্দু বসতিও রয়েছে৷ কখনও কোনো সাম্প্রদায়িক হিংসার কথা শোনা যায়নি৷ নিত্যদিনের কলহ-বিবাদ, আদর-আহ্লাদে মিলে মিশে থাকেন তাঁরা৷ এপাড়াতেই থাকেন এ জেলার বিশিষ্টজন বহরমপুর নজরুল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শক্তিনাথ ঝা৷ নানা কথার মাঝে নজরুলের মূর্তি সরানোর কথাটিও উত্থাপন করলাম৷ শক্তিনাথবাবু নজরুলের মূর্তি সরানোর দায় সম্পূর্ণটাই পৌরসভার বলে দাবি করলেন৷ তিনি মানতেই চাইলেন না যে অমন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে মূর্তি সরানোর কৃতিত্বটা বহরমপুর নজরুল কমিটির৷ হাসনাত সাহেবের সঙ্গে কথাটা মিলল না৷ ওখান থেকে বেরিয়ে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী সেতু পার হচ্ছি৷ আর ভাবছি ১২৫ বছরে নজরুলের খোঁজ কি শুধু কিছু মানুষের সাক্ষাৎকারেই শেষ হয়ে যাবে? নজরুলের অপসারিত মূর্তি পুনঃস্থাপনের কোনও দায় কি আমারও নয়? গির্জার মোড়ে দাঁড়িয়েই ফোন করলাম ঝড় পত্রিকার সম্পাদককে৷ তিনি বললেন, দ্যাখ না৷ সবার সঙ্গে কথা বল৷ মানুষই বলে দেবে কি করতে হবে? কিন্তু কেই বা সাড়া দেবে আমার ডাকে৷ পেলাম এ শহরের আলোকশিল্পী শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, আমাদের শামুদা৷ তিনি ভীষনই অবাক৷ নজরুল কমিটির মূর্তি স্থাপনার সময় বারবার গিয়েছেন৷ পরামর্শ দিয়েছেন৷ কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি যে নজরুল সরণি থেকে নজরুলকে সরিয়ে এনে এখানে বসানো হচ্ছে৷ তাঁরই সঙ্গে কথা বলে ঠিক হল আগামী ২৫ মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ) পুরাতন কান্দি বাস স্ট্যান্ডে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও অপসারিত মূর্তি পুনঃস্থাপনের দাবি তোলা হবে৷ সন্ধ্যেবেলা নাট্যকর্মী দীপক বিশ্বাসের বাড়িতে আলোচনা হল৷ দীপকদার কথামতো পরেরদিন অর্থাৎ ২৩মে প্রথম ফোনটা করলাম সূর্যসেনার প্রাণপুরুষ নির্মল সরকার মহাশয়কে৷ এক্ষুণি আমাদের সঙ্গে থাকতে রাজি হলেন না৷ প্রথম থেকে নজরুল কমিটির সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত, সবটা না জেনে কবির অপসারিত মূর্তি পুনঃস্থাপনের দাবিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন না৷ ফলত এ বিষয়ে শক্তিনাথ ঝা-কেও আর ফোন করার সাহস পেলাম না৷ তবে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হল৷ শিল্পী কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত বললেন, হ্যান্ডবিলটা যত্ন করে করতে, কোনো ভুল যেন না হয়৷ সন্ধ্যেবেলা মোট কুড়িজনের নাম দিয়ে একটি হ্যান্ডবিল প্রকাশ করলাম৷ অনেকের হাতে তুলেও দিলাম৷ তারপর নজরে পড়ল হেডিংটাই তো ভুল৷ ঠিক করলাম পরদিন ঠিক করে আবার ছাপব৷ পরেরদিন হেডিংটা ঠিক করছি৷ এমন সময় উত্তরণ সমাজের সম্পাদক লতিফ সরকারের কাছে অনল আবেদিন ফোন করে জানালেন হ্যান্ডবিলে একটি সাল তারিখ ভুল আছে৷ সবকিছু ঠিক করে ২৪মে দুপুরবেলা আবার হ্যান্ডবিল প্রকাশ হল৷ কিন্তু মনে মনে ভেঙে পড়েছি৷ ছোট্টো একটা হ্যান্ডবিলও যে ঠিক করে প্রকাশ করতে পারে না, এত ভুল থেকে যায় তার কি কবি নজরুলকে নিয়ে এত উচ্চবাচ্য করার অধিকার থাকে? সবথেকে কাছের বন্ধু সূর্যলতা সাউটে বলল, অশিক্ষিত রিক্সাচালক কিংবা দিন-মজুরেরও অধিকার আছে কবিকে নিয়ে কথা বলার৷ তুমিও না হয় সেই দলেই থাকলে৷ প্রাবন্ধিক চন্দ্রপ্রকাশ সরকার ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি ভিডিয়ো বার্তা দিলেন৷ উল্লেখ্য, হ্যান্ডবিল বা ভিডিয়ো বার্তা কোথাও নজরুল কমিটিকে জড়িয়ে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি৷ যারা খবর পাচ্ছেন তারাই চমকিত৷ ডাঃ আলি হাসান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অনেকেরই বার্তা পাচ্ছিলাম৷

পরদিন ২৫মে ১১ই জ্যৈষ্ঠ ভোর পাঁচটায় লতিফ সরকার আর হীরা সেখ উপস্থিত হয়ে পুরাতন কান্দি বাস স্ট্যান্ডে নজরুল স্থাপনার জায়গাটি পরিষ্কার করছেন৷ বেদী ঢেকে দেওয়া দেবদারু গাছগুলি ছেঁটে ছোটো করে দিচ্ছেন৷ এক পৌরকর্মী গোটা বাজারটা ঝাঁট দিয়ে আবর্জনা জড়ো করছেন৷ স্থাপনার পাঁচিলের গায়ে দাবি সম্বলিত ফ্লেক্স টাঙিয়ে দিলাম৷ ফ্রেম করা নজরুলের ছবি বসিয়ে দিলাম অপসারিত আবক্ষমূর্তির জায়গায়৷ পাশের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী একটি ঝাঁটা দিলেন৷ আরও কয়েকজন মুটে মজুর এসে দেখে গেলেন৷ একজন তো সারাক্ষণ থাকলেন এই সময়টা৷ সাড়ে ছটার পরে দীপক বিশ্বাস এলেন৷ রবীন্দ্রসদনের কর্মী শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় শত ব্যস্ততা ফেলেও ঠিক ৬টা ৫৫ মিনিটে এসে হাজির হলেন৷ ছোট্টো আয়োজন৷ ধীরে ধীরে ভরে উঠল চেয়ারগুলি৷ এলেন কৌশিক চ্যাটার্জী৷ একসময় বিনা আমন্ত্রণে উপস্থিত হলেন শক্তিনাথ ঝা৷ তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় আহত৷ সভায় কোনোকিছু বলতে রাজি হলেন না৷ কেউ কেউ বাজার করতে এসে হাজির হয়েছেন৷ কোনো কোনো ব্যবসায়ী ওপারের ফুটপাতে টুলে বসে আমাদের অনুষ্ঠান দেখছেন৷ ধুতিপরা এক বয়স্ক ভদ্রলোক রাস্তার ওপারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে শুনছেন৷ ডেকে আনতে গেলাম৷ রাজি হলেন না৷ উনি ওখানেই স্বচ্ছন্দ৷ এভাবেই সভার কাজ শেষ হল৷

খবর পেলাম নতুন নজরুল বেদীমূলেও বহরমপুর নজরুল কমিটির অনুষ্ঠান‌ হয়েছে জনা পঁচিশেক মানুষ নিয়ে৷ মনটা আবার খচখচ করছে৷ দু-একজন বাদ দিলে উভয়ক্ষেত্রেই মধ্যবয়স্ক অথবা ষাটোর্দ্ধ মানুষের ভিড়৷ এতো শুকিয়ে আসতে থাকা ডালপালা৷ কিন্তু কচিপাতারা কোথায়? তবে কি এ প্রজন্মের পরেই রবীন্দ্রনাথ নজরুলরা মুছে যাবেন?

আলাপ হল জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা রত্না মণ্ডলের সঙ্গে৷ একটি বেসরকারী ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা৷ তাঁর কথায়, সেখানে শিক্ষার্থীদের রবীন্দ্র-নজরুল, বাংলার কৃষ্টির সঙ্গে খুব একটা পরিচয়ের সুযোগ নেই৷ বিদ্যালয়গুলিতে ‘ইয়ারলি একটা কালচারাল প্রোগ্রাম হয়৷ সেটা হিন্দি বাংলা মিশিয়ে একটা এন্টারটেনমেন্ট৷ তার বেশি আর কিছুই হয় না৷’ অন্যদিকে বহরমপুরের এক ষাটোর্দ্ধ গৃহবধূ মঞ্জুলা বসু নজরুল বলতেই স্মরণ করলেন ‘গঙ্গা-সিন্ধু-নর্মদা’ আর তাঁর শ্যামাসঙ্গীতগুলি৷

বিকেলে পৌঁছলাম খেঁকুল হাইস্কুল প্রাঙ্গণে৷ অনুশীলন পত্রিকার উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ৷ ঘোষক তখন সগর্বে ঘোষণা করছেন -- বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ উপস্থিত থাকতে না পারলেও গেটম্যান জপেন মণ্ডল উপস্থিত আছেন এবং তিনি সবার প্রথমে নিজে থেকেই আমাদের ২০০ টাকা চাঁদা দিয়েছেন৷ কিছুক্ষণ পরেই নৃত্য পরিবেশনের জন্য মঞ্চ ফাঁকা করে দিতে এগিয়ে আসছে কৈশোর পেরোনো রাজেস আর জোসেফ৷ বিদ্যালয় গেটের উল্টোদিকে মাটির দেয়াল ঘেঁসে চুল কাটছে সাধান দাস৷ সে বলল, নজরুল ভালো মানুষ৷ চেয়ারে বসে থাকা আসেদ সেখ সোচ্চারে উচ্চারণ করল ― ভেঙে ফ্যাল কররে লোপাট কারার ঐ লৌহকপাট৷ ওদিকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে রিটায়ার্ড আর্মি ম্যান শ্যামল মণ্ডল আবেগদীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করছেন - রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের উত্তরসূরী আমরাই। আমাদেরই বহন করতে হবে তাঁদের চেতনা৷ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অর্ধেক জুড়ে নিমগ্ন শ্রোতা বাড়ির মেয়ে বউ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা৷ বাকি অর্ধাংশ জুড়ে কচি-কাঁচাদের ভিড়৷ তাদেরই কেউ কেউ অপটু গলায় গাইছে গান৷ উচ্চারণ করছে নজরুল-রবীন্দ্রনাথের কবিতা৷ মনে হল, ‘প্রাণ আছে, প্রাণ আছে৷’

 #উত্তরণ_সমাজের_গণভাষ্য –
16/04/2024

#উত্তরণ_সমাজের_গণভাষ্য –

নারী ও জল    ✍️ কাবেরী বিশ্বাস ২০০ মিলিয়ন ঘন্টা = ৮.৩ মিলিয়ন দিন = ২২৮০০ বছর। সুকুমার রায় থাকলে বলতেন, কাক্কেশ্বর কুচকুচ...
22/03/2024

নারী ও জল
✍️ কাবেরী বিশ্বাস

২০০ মিলিয়ন ঘন্টা = ৮.৩ মিলিয়ন দিন = ২২৮০০ বছর। সুকুমার রায় থাকলে বলতেন, কাক্কেশ্বর কুচকুচের মতো এসব আবোলতাবোল কিসের হিসাব লিখছ? না না, মোটেই আবোল তাবোল নয়। এ হল সময়ের হিসাব। কিসের সময়? মেয়েদের অপচয় হওয়া সময়। যে সময় পৃথিবীর এক বিরাট অংশের মেয়ে প্রতিদিন জল ভরতে, জল আনতে খরচ করে। তাদের সকলের একদিনের জল আনার সময় একত্রিত করে এই সময়ের হিসাব পাওয়া গেছে। ইউনিসেফ এই তথ্য দিয়েছে। একে বলছে ‘সময়ের বিপুল অপচয়।’ জল আনতে একটি মেয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ তাকে ক্রমশঃ সরিয়ে নিয়ে যায় পড়াশোনা, খেলাধূলা আর নিরাপত্তা থেকে।
যুগে যুগে দেশে দেশে সংসারের জলের চাহিদা পূরণ যে শুধুমাত্র মেয়েদেরই কাজ।তাই তাদের জীবন থেকে বিপুল সময় জলে ভেসে যায়, সঙ্গে নিয়ে যায় শৈশব, কৈশোর, স্কুলজীবন, নানা বিষয়ে দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ, সোনালী ভবিষ্যৎ, সব। সব যায় জলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ কমিটি ২০২২ সালের রিপোর্টে জানিয়েছিল যে, পৃথিবীর ২.২ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পান না। এবছর বিশ্ব জল দিবসের থিম ‘শান্তির জন্য জল’। রাষ্ট্র সংঘ এই থিমের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিবেশী রাজ্যে রাজ্যে, দেশে দেশে জলের জন্য কত শত সংঘর্ষের কথা বলেছেন। কিন্তু আমি বলবো শুধু মেয়েদের কথা, বিশ্ব জুড়ে তাদের কাঁধেই সংসারের জল যোগানের গুরুভার। বাড়ীর মধ্যে, কাছে জল না থাকা তাদের কত অশান্তি, কত মানসিক, শারীরিক চাপে ফেলে দেয় সে কেবল ভুক্তভোগী মেয়েরাই জানে। ভারতের রাজস্থান, কর্ণাটক হোক বা আফ্রিকার ঘানা, সবাই একই অশান্তির শিকার। পূর্ণ বয়স্ক নারী আর বাড়ন্ত বালিকাদের উপর এর প্রভাব মারাত্বক। কারণ তারাই সংসারের জলের ভার বয়। তাদের শুধু হাঁটার কষ্ট বা সময় নষ্ট হয় তাই নয়, এই ভার আক্ষরিক অর্থে তাদের শরীর পঙ্গু করে দেয়। সাধারণ ভাবে জলের যে জেরিক্যান গুলো জল আনার জন্য ব্যবহৃত হয় তাতে ৫ গ্যালন জল ধরে, যার ওজন ভর্তি অবস্থায় ৪০ পাউন্ড (২০ কেজি)। বেশীর ভাগ সময় যা মাথায় করে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ভার তাদের ঘাড়, মেরুদণ্ড, কোমরের দফারফা করে দেয়। এছাড়াও বেশী ওজন তোলা, ভারী বোঝা নিয়ে উঁচু নীচু পথে হাঁটার ফলে জরায়ুর স্থানচ্যুতি বা জরায়ুর নেমে আসা খুব বেশী দেখা যায় এসব মহিলাদের মধ্যে (১৯%)। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে, গর্ভপাতের সম্ভাবনা বাড়ে। জরায়ূ নীচে নেমে আসলে মহিলারা অবর্ননীয় শারীরিক কষ্ট ভোগ করেন। এতে তাদের ওঠা-বসা, হাঁটা-চলা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। জল আনা, ঘরের কাজ করতে প্রচন্ড অসুবিধা হয়। সংসারের কাজে পরিবারের লোকরা সন্তুষ্ট না হলে জোটে লাঞ্ছনা গঞ্জনা। যারা অসুস্থ নয় তারাও তীব্র রোদে, গরমে হেঁটে, ঘেমে ঘেমে, শরীরে জলের অভাবে ধুঁকতে থাকে।তাতেও রেহাই পায় না। বাড়ী ফিরে সংসারের হাজারো কাজ সারতে সারতে রাত নামে। জলের যোগান কম থাকায় পরিবারের স্বামী সন্তানের প্রয়োজন মিটিয়ে অনেক সময় তারা তৃষ্ণা নিয়েই শুতে যায়।রাতে ঘুম হয় না। রাত তিনটে চারটেয় উঠে বেরিয়ে পড়তে হয় জল সংগ্রহে।

ঘানার একটি জায়গার একটি কমিউনিটিতে জলের লাইন বসেছে ২০১৮ সালে। তার আগে তাদের অভিজ্ঞতা তারা জানিয়েছে। আসুন দেখি –

প্রথম জন:- আমি ভোর সাড়ে চারটেয় উঠে জল আনতে যেতাম। দেরী হলে লম্বা লাইন পড়ে যেত, জল পেতাম না।

দ্বিতীয় জন:- কোন কোন দিন এত কম জল পেতাম যে বাড়ীতে রান্না হতো না।

তৃতীয় জন: আমাদের কেউ কেউ ছোট বাচ্চাকে পিঠে বেঁধে নিয়ে যেতো। জলের ভারী পাত্র নিয়ে হাঁটার সময় বাচ্চা বেশী নড়াচড়া করলে সামলাতে গিয়ে জলের পাত্র পড়ে যেত। কষ্টে দুঃখে কেঁদে ফেলতো কেউ কেউ।

চতুর্থ জন:- দূর থেকে জল এনে ক্লান্ত হয়ে গেলেও সংসারের কাজ থেকে ছুটি মিলতো না। আমরা সবাই ঘাড়ে, কোমরের ব্যথায় অস্থির হয়ে থাকতাম।

শারীরিক পরিশ্রম বা অসুস্থতা ছাড়াও জল সংগ্রহ করতে গিয়ে মহিলা এবং বালিকাদের অন্য বিপদও কম নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, রাস্তায় বন্য পশুর আক্রমণ বা পশুরও অধম মানুষের হাতে যৌন নির্যাতনের ভয়ও কম নয়। সব থেকে করুণ অবস্থা বোধহয় আমাদের দেশের মহারাষ্ট্রের ডেঙ্গানমাল গ্রামের পানি বাঈদের। তারা বুঝি মানুষও নয়, শুধু বাড়ীর ট্যাপ কলের মতো এক পণ্য বা পরিষেবা। যা তারা শুধু দুমুঠো খাবার আর আশ্রয়ের বিনিময়ে গৃহস্থকে দিয়ে থাকেন। তারা গৃহস্বামীর বিবাহিত স্ত্রী পরিচয়ে সমাজে বাস করেন। যদিও প্রথম বা আইনত বৈধ স্ত্রী নন। দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্ত্রী। স্বামীর শয্যার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার কোন কিছুই নেই তাদের। আছে শুধু কাকভোরে উঠে কলসী মাথায় মাইলের পর মাইল রুক্ষ, পাহাড়ি পথে হাঁটা। ভারী বোঝা নিয়ে উঁচু নীচু, বিপদজনক পথে বাড়ী ফেরা। পা পিছলে গেলে, পড়ে গিয়ে হাত পা ভাঙলে তাদের অবস্থা কি হয় তা অনুমান করতে অসুবিধা হয় না। অসুস্থ হলে, পঙ্গু হয়ে গেলে আশ্রয়দাতা, অন্নদাতা স্বামী আর একটি সক্ষম পানি-বউ ঘরে আনে। পুরুষ মানুষটির যুক্তি হল, গ্রামে কোনো জলের পাইপলাইন নেই, নেই অন্য কোন জলের উৎস। বৈধ প্রথমা স্ত্রীর যদি সারাদিন জল আনতেই কেটে যায়, তাহলে সংসারের বাকী কাজ, রান্নাবান্না, শিশু ও বয়স্কদের দেখভাল কে করবে? তারা তো সকাল হতেই জন খাটতে যায় অন্য কোথাও। তাই বহু বছর ধরে এই বহু বিবাহ প্রথা তাদের সমাজে স্বীকৃত। মনে প্রশ্ন জেগেছিল, পানি বাঈরা কেন এ জীবন বেছে নেয়! উত্তর পেয়েছি বিভিন্ন লেখায়। তারাই পানিবাঈ হয় – পণের জন্য যাদের বিয়ে হয়নি, পরিবারে যাদের উপস্থিতি অবাঞ্ছিত, যারা বিধবা, যারা আশ্রয়হীন একা মহিলা। সমাজ তাদের অমুকের স্ত্রীর শূন্যগর্ভ পরিচয়ে ভুলিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সেরে ফেলে। তারাও ভোলার ভান করে। নইলে যে আরো ক্লেদাক্ত জীবন বেছে নিতে হবে। এ যেন মন্দের ভালো। একটি NGO এর উদ্যোগে ঘানার মেয়েদের কাছে জলের লাইন পৌঁছে গেছে। এখন তাদের মনে নেই চাপ, সংসারে এসেছে শান্তি।

আজ বিশ্ব জল দিবসে, পৃথিবীর সেই সব মানুষ যাদের কাছে এখনও নেই নিরাপদ জল, তাদের জন্য চাই নিরাপদ জল। শান্তি আসুক সবার ঘরে।

[2024-03-22]

Address


Telephone

+919800551372

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Manush posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Manush:

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share