18/05/2020
#অাবার_দেখা_হবে_অামাদেরই_ছোট্ট_গায়ে_তোমারই_সাথে.....
ছোট্টগল্পঃ নীলের নীলাঞ্জনা
লেখাঃ @শুভ্র দাস
অামি নীল। ব্যস্ত শহুরে বেড়ে ওঠা, অামার জীবনের অনেকটা সময়।
সেই ছোট্ট বেলায় পাড়াগাঁয়ে থেকে যে উঠে এসেছি, অার কখনো গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হলো না অামার।
কেমন জানি, ভূলে গেছি গ্রামের সে-ই রুপালী ধানের শীষ, সবুজ মাঠ, কলকাকলির কিচিরমিচির শব্দ, ভূলে গেছি গ্রামের ছোট্ট ছোট্ট কুঁড়ে ঘর গুলো, ভূলে গেছি গ্রামীন প্রকৃতি-কে।
এখনো মাঝে মধ্যে অাম্মা বলে অামাকে, নীল অামরা যখন শহুরে এসেছি।
তখন, তর বয়স ছিলো ১০-১২ বছর।
তর লেখাপড়া ও অাব্বার চাকুরির জন্যই গ্রামীন জনগোষ্ঠীকে ছেড়ে অাসতে হয়েছিল অামাদেরকে।
দেখতে দেখতে কেটে গেলো গুটিকয়েক বছর।
পাড়াগায়ের, সবকিছুই যেন অামার স্মৃতিতে নিছক কল্পনা হতে তাকলো।
অবসর সময়ে, তুলি রং নিয়েই বসে বসে একে যেতাম কল্পনার স্মৃতি গুলো।
কখনো, গ্রামের গাছ-গাছালি, পশু-পাখি, সবুজ মাঠ, অাকাঁবাকা রাস্তা ও খেটে খাওয়া মানুষের ছবি।
কল্পনা থেকে ভেসে আসা ছবি গুলো, দেওয়ালের খানিকটা স্থান জোড়ে নিতো।
ব্যস্ততার মাঝে বেড়ে ওঠা সেই নীল, অাজ অনেকটা বড় হয়ে গেলো।
সে এখন, বুঝতে শিখেছে প্রকৃতিকে, দারিদ্র্য দুর্দশায় জরজরিত মানুষ গুলোকে বুকে টেনে নিতে শিখেছে।
অাকাঁবাকা পথে চলতে শিখেছে।।
গ্রীষ্মের ছুটিতে অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য এক দীর্ঘ পরিকল্পনা করা হলো।
ভোর বেলাতে নীল ও তার পরিবার রোহানা দিলেন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য, যাত্রাপথে প্রথমে বাসে করে, তার পর কিছু দূর পর্যন্ত গরুরগাড়ি করে পৌঁছালো তাদের গ্রামের বাড়ি।।
গ্রামের মানুষরা এঁকে এঁকে তাদের দেখতে এলো।
সবার সাথে, ভাব বিনিময় হলো।
গ্রীষ্মের রৌদ্র দুপুরে, নীল গ্রামের এদিক ওদিক বেড়াতে লাগলো।
রৌদ্র দুপুরে, ক্লান্ত হওয়ার কারণে তীব্র পানি পিপাসা পেল।
পিপাসা মেটানোর জন্য গ্রামের একটি বাড়িতে উঠলো, উঠানে দাড়িয়ে উঁচু স্বরে বলতে লাগলো বাড়িতে কেউ কি অাছো?
একটু জল খাবো, তীব্র পিপাসা পেয়েছে অামার।
অামাকে একটু জল দাও অামায় ?
কিছুক্ষণ পর এক বৃদ্ধ লোক এসে বললেন, অাচ্ছা বাবা তোমাকে জল দিচ্ছি, রৌদ্র উঠানে দাঁড়িয়ে না থেকে ঘরের ভিতর অাসো।
বৃদ্ধ লোকটি কথা মতো পিপাসার তাগিদে ঘরে গিয়ে বসলাম।।
বৃদ্ধ লোকটি তার ছেলের বউকে সমন্ধ্য করে বলল, লোকটি কে এক গ্লাস জল দাও তো?
দরজার অাড়ালে থেকে মেয়েটি জল হাতে গ্লাসটি বাড়িয়ে দিলো অামার দিকে।
অামি হাত থেকে গ্লাসটি নিয়ে দ্রুত পিপাসা নিবারণ করলাম।
বৃদ্ধ লোকটি সাথে অনেক ক্ষণ গল্পগুজব করলাম।
তখন, অামি লক্ষ্য করলাম কে জানি সেই জানালার পাশ দিয়ে কান পেতে অামাদের কথাগুলো শুনতেছে।
অামি বারবার তাকানোর চেষ্টা করেতেছিলাম তাকে দেখার জন্য, কিন্তু জানালার পাশে তাকা মেয়েটিকে দেখতে পেলাম না।
বারবার অামার মন তাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলো!
ইচ্ছে করছিলো দেখি সেই মেয়েটিকে -
কেন এমন করতেছে অামার সাথে।
ও কি পূর্বের কোন পরিচিত?
চালাকি করে বললাম, অামাকে অার একটা গ্লাস যদি জল দিতেন?
অাবারও দরজার পাশে দেহের এক তৃতীংশ লুকিয়ে হাতটি বাড়িয়ে দিলো অামার দিকে।
অামি পানির গ্লাসের বদলে ওর হাতটি চেপে ধরে বসলাম।।
একি করছেন অাপনি, হাতটা ছাড়ুন।
কেউ দেখে ফেলবেন তো!
অামি বললাম এখানে অন্য কেউ নেই, শুধু তুমি, অামি অার বৃদ্ধ লোক।
সুতরাং, চিন্তার কিছু নেই।
তোমার চেহারা না দেখে কিছুতেই হাতটি ছাড়বো না?
অবাক তো! অচেনা মানুষের হাত ধরে রাখতে লজ্জা করে না?
লজ্জা কিসের, অাপনার লজ্জা করে না লুকিয়ে লুকিয়ে অামার কথাগুলো শুনতে।
এই বলে ওকে, হাত ধরে ঠেনে দরজার বাহিরে নিয়ে এলাম।
একি নীল তুমি এখানে!
ওকি তুমি ওখানে?
অামার ও তো একই প্রশ্ন তুমি এখানে কেন?
এসব পরে বলা যাবে, অাগে বল তুমি এখানে কি রকম।
ওহ্ এইটা অামাদের গ্রাম।
অাব্বা, অাম্মা ও অামি গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে এসেছি।
তুমি জানো নীলাঞ্জনা, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর। শহরের অানাছে কানাছে কোথাও বাকি নেই, সর্বত্র অামি তোমাকে পাগলের মতো খুঁজেছি?
তোমাদের পুরনো বাসাতে অনেক বার গিয়েছি,
দারোয়ান কে বলে এসেছি, কখনো ওরা এখানে অাসলে অামাকে জানিয়ে ও।
অপেক্ষা করতে করতে অনেকটি বছর কাটিয়ে দিয়েছি, কখন তোমার দেখা পাই নি।
অাজ বুঝি পিপাসার তাগিদে তোমারই সাথে দেখা?
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর, তোমাকে জানাতে ভুলে গেছি, অামার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, একটা রেল মাস্টারের সাথে।
অাম্মার জোর জবরদস্তিতে অবশেষে বিয়ে তে রাজি হতে হয়েছিল।
কিছুই করার ছিলো না তখন, অার অাম্মা বড় বোনের বাড়িতে থাকেন।
তাই অামার বিয়ের পর ওই পুরোনো বাসা বাড়ি টি অামরা ছেড়ে দিয়েছি।
নীলাঞ্জনা, তোমাকে দেখে কিছুতে অামার বিশ্বাস হচ্ছে না, সেই যে তুমি?
কবে, অামার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলে।
অাচ্ছা, এই দেখো, তোমার সাথে দেখা হ'য়ে গিয়েছে কিন্তু একটা বারের মতো বলা হলো না তুমি কেমন অাছো নীলাঞ্জনা।
এইতো, ভালো অার কি?
জানো নীল, তোমার দেওয়া চিঠি গুলো অামি হারিয়ে যেতে দেই নি এখনো, চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে তাকা তোমার ভালোবাসার সুভাস এখন অামি শুঁকতে পাই।
জানো নীল, কখনো চিন্তা করি নি তোমার সাথে এভাবে অামার দেখা হবে।
নীলাঞ্জনা তুমি তো শুধু নীলের ই।
নীলাঞ্জনা, ভালোবাসা মানে শুধু বৈবাহিক সম্পর্ক নয়, ভালোবাসা মানে এই যে তুমি অামার জীবনের একটা অংশ হিসেবে এখনো রয়ে গেছো।
এটাই ভালোবাসা।
অাজ চললাম, অাবার দেখা হবে আমাদের এই ছোট্ট গায়ে, তোমারই সাথে নীলাঞ্জনা।
হয়তো অন্য কোন বেশে, অন্য কোন খানে।
অামার ভালোবাসা নিও নীল।
ইতি
নীলের নীলাঞ্জনা।
#শুভ্র দাস(অনার্স হিসাব-বিজ্ঞান)
# #তারিখঃ ১২-০৫-২০২০ইং
# # #নীলের_নীলাঞ্জনা