30/10/2025
🔥 মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানীদের “ভাইভা বোর্ড” —
___এক নরক যন্ত্রনার ইতিহাস 🔥
এটা কোনো স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের “ভাইভা বোর্ড” নয়। এটা ছিলো মৃত্যুর বোর্ড।
যেখানে প্রবেশ মানেই — ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
এ ভাইভা বোর্ড ছিলো ভয়ংকর নির্যাতনের দলিল। যেখানে একবার গেলে বেশীরভাগ মুক্তিযোদ্ধার শেষ গন্তব্য হতো শহীদ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া ।
যারা ফিরে আসতে পেরেছেন সেই ভাগ্যবানেরা বলেছেন এই ভাইভা বোর্ড কতোটা ভয়ংকর এবং পৈশাচিক!
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা সারা বাংলাদেশে স্থাপন করেছিল অসংখ্য “ভাইভা বোর্ড” নামের টর্চার সেল।পাকিস্তানী হানাদার ও রাজাকারেরা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে ভাইভা বোর্ড নামে এমন অজস্র কুঠুরির মধ্যে তুলে এলে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য জানতে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালাতো ভয়ংকর, পৈশাচিক, নির্মম নির্যাতন।
প্রতিটি ভাইভা বোর্ডে রাখা থাকতো নানা রকম নির্যাতনের সরঞ্জাম — যেন এক একটি নরকযন্ত্রের ঘর।
প্রতিটি নির্যাতনের কৌশলের জন্য ছিলো ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার। টর্চার করার সময় এগুলো এক একটি নিযার্তনের কৌশল হিসেবে এক এক কাজে লাগতো।
ছবির বড় হাতুড়ি ব্যবহার হতো মুক্তিযোদ্ধাদের হাত পায়ের গিরার হাড় ভাঙ্গার জন্য, চিমটা ব্যবহার হতো নখ টেনে উঠিয়ে নির্যাতনের জন্য, কাটিং প্লাস ব্যবহার হতো আঙ্গুল কাটার জন্য, কাঁচি ব্যবহার হতো মানব দেহের পাতলা চামড়া কাটার জন্য, প্লাস ব্যবহার হতো দাঁত উঠানোর জন্য।
স্ক্রু ড্রাইভার ও বড় আংটা ওয়ালা সূচটি ব্যবহার হতো চোখ উঠানো, নখের ভিতরে দিয়ে নখ ভেঙে ফেলা আর সংবেদনশীল অঙ্গে ফোটানোর জন্য। এছাড়া শরীরে আলপিন ফোটানো হতো।
এমনকি অনেক সময় শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হতো, গরম লোহা দিয়ে দাগানো হতো, কিংবা পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হতো যতক্ষণ না মানুষটি অচেতন হয়ে যায়।
হানাদার ও রাজাকারদের টর্চার সেল ছিলো এমনই ভয়ংকর। এতো নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর ও মুখ খুলতেন না মুক্তিযোদ্ধারা। প্রয়োজনে নিজের উপর দিয়ে হোক শত নির্যাতন, অত্যাচার করতে করতে পিষে ফেলা হোক তবুও মুখ খোলা যাবেনা; প্রকাশ করা যাবেনা মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন একটি তথ্য ও। মুক্তিযোদ্ধারা অস্বীকার করতে নির্যাতনের সীমা ছাড়াতো কয়েকগুণ।
যারা সেই ভাইভা বোর্ড থেকে ভাগ্যক্রমে ফিরে এসেছেন কেবল তাঁরাই জানেন ভাইভা বোর্ড নামের একটি কক্ষ কতোটা তান্ডবলীলা চালাতে পারে তারা।
ভাইভা বোর্ড থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে শুনেছিলাম ভাইভা বোর্ড কতোটা ভয়ংকর আর পাশবিক ছিলো। তিলে তিলে শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু, শেষ স্পন্দনটুকু পর্যন্ত শুষে নিয়ে মারতো! গণহত্যা জাদুঘরের হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকালে বর্তমানের ৪০টি জেলায় এমন ১১১৮টি নির্যাতন কেন্দ্র ছিলো। তাহলে ৬৪ জেলায় কয়টি ছিলো?
দেখা গেছে কোন কোন নির্যাতন কেন্দ্রে একাধিক টর্চার সেল ছিলো।মানে ৫/৬টিও সেল ছিলো। প্রতিটি সেলেই ছিলো এমন ব্যবস্থা! অর্থাৎ, শত শত এমন ভাইভা বোর্ডে প্রতিদিন চলতো পৈশাচিক অত্যাচার ও রক্তাক্ত জিজ্ঞাসাবাদ।.
ছবি- আজ খুলনার গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে সেই ভয়ংকর “ভাইভা বোর্ড” —
যেখানে রাখা আছে সেই হাতুড়ি, চিমটা, স্ক্রু ড্রাইভার, সূচ, প্লাস —
যেগুলো একসময় মানুষের শরীর নয়, মানবতার ওপর আঘাত হেনেছিল।
এই নিদর্শনগুলো আজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় —
স্বাধীনতার দাম কতটা ভয়াবহ ছিলো,
আর কত অগণিত মুক্তিযোদ্ধা তাঁদের শরীর, রক্ত, জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই পতাকার জন্য।
🇧🇩
তাঁদের রক্তের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীন।
তাঁদের স্মৃতি চিরকাল অমর থাকুক।
#মুক্তিযুদ্ধ #ভাইভা_বোর্ড #টর্চার_সেল #বাংলাদেশ #গণহত্যা_জাদুঘর #স্বাধীনতা