07/12/2025
বাংলাদেশে উদ্যোক্তারা কেন ৫ বছর টেকে না?
৮ টি কারণ যা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
বাংলাদেশে অপরিসীম সম্ভাবনা আছে।
হাজারো তরুণ স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে।
শত শত আইডিয়া জন্ম নেয় প্রতিদিন।
কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হলো—
অধিকাংশ উদ্যোক্তা ৩–৫ বছরের মধ্যে ব্যবসা বন্ধ করে দেন।
প্রশ্ন হলো—কেন?
মূল ৭টি কারণ আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে।
১️. ব্যবসা শুরু হয় আবেগ দিয়ে—কিন্তু টিকে থাকতে লাগে সিস্টেম।
স্টার্টআপ বা ব্যবসায়ের শুরুটা হয় উত্তেজনা, মোটিভেশন, স্বপ্ন দিয়ে।
কিন্তু কয়েক মাস পর শুরুর আবেগ মিলিয়ে যায়।
তখন প্রয়োজন হয়—
অপারেশনাল ডিসিপ্লিন
হিসাবের স্বচ্ছতা
নিয়মিত রিপোর্টিং
প্রসেস ম্যানেজমেন্ট
এই জিনিসগুলো না থাকার কারণেই অনেক ব্যবসা শক্ত ভিত গড়ার আগেই ভেঙে পড়ে।
২️. প্রপার আর্থিক পরিকল্পনার অভাব (The Silent Killer)
অনেক উদ্যোক্তা বুঝেই ওঠে না প্রথম ৬-১২ মাসে টাকা কোথায় চলে গেল।
ক্যাশফ্লো ম্যানেজমেন্ট নেই, বাজেট নেই, প্রজেকশন নেই।
ক্যাশফ্লো ভুল হলে ব্যবসা ডুবে যায়।
৩️৷ ভুল মানুষকে টিমে নেওয়া এবং দেরিতে রিয়েলাইজ করা।
ব্যবসার শুরুতে টিমই সবচেয়ে বড় শক্তি।
কিন্তু, ভুল ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া, ভিশন না মিললে তাকে ধরে রাখা এবং নেগেটিভ বা অদক্ষ মানুষকে সরাতে দেরি করা।
এই ভুলগুলো ব্যবসাকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ধ্বংস করে।
৪️৷ প্রপার মার্কেট রিসার্চ ছাড়া প্রোডাক্ট লঞ্চ করা।
আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা “আমি মনে করি এটা চলবে”—এই আত্মবিশ্বাসে প্রোডাক্ট লঞ্চ করে। অথবা, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের উপর প্রোডাক্ট ডিজাইন করে।
কিন্তু বাজার দেখে, কাস্টমার দেখে, ডেটা দেখে সিদ্ধান্ত না নিলে প্রোডাক্ট টেকে না।
৫️. বিনিয়োগ প্রত্যাশা ভুল জায়গায় (Too Early, Too High)
অনেকেই শুরুতেই বড় বিনিয়োগ আশা করেন। ইম'ম্যাচিউরড ভাবে নেগোসিয়েশন করে কিছু বিনিয়োগ নিতে পারেন আর কেউ নিতে পারেন না
এরপ্র যখন আর বিনিয়োগ আসে না তখন ব্যবসার ছবিটা ভেঙে পড়ে।
প্রকৃত ব্যাপার হল সঠিক ট্র্যাকশন ছাড়া বিনিয়োগ আসে না।
৬️. মানসিক রেসিলিয়েন্সের অভাব।
ব্যবসা হলো এক ধরনের মানসিক যুদ্ধ।
ব্যর্থতার চাপ
লোকসানের চাপ
টিম ম্যানেজমেন্ট
পরিবারের প্রত্যাশা
সোসাইটির কথা
এই সবকিছু একসাথে ব্যালেন্স করতে না পারলে অনেক উদ্যোক্তা নিজেরাই পিছিয়ে যান।
৭. সব কাজ নিজে করতে যাওয়া।
ছোট বড় যে কোন কাজ যেসব উদ্যোক্তা নিজেই করতে চান, কাজ ডেলিগেট করতে পারেন না, নিজের ব্যাকআপ রেডি করতে পারেন না, কারো ওপরে আস্থা রাখতে পারেন না, সে সকল উদ্যোক্তার লং রানে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
৮. সঠিক মেন্টরশিপ বা গাইডেন্স না পাওয়া
বাংলাদেশে উদ্যোক্তারা অরায় একাই লড়াই করেন।
তাদের গাইড করার মতো পরিবেশ খুব কম—
কোন মডেল অনুসরণ করবে?
কীভাবে ডিউ ডিলিজেন্স করবে?
পিচ কিভাবে বানাবে?
অপারেশন কীভাবে স্কেল করবে?
গাইড ছাড়া বেশিরভাগ উদ্যোক্তা পথ হারিয়ে ফেলে—এটাই বাস্তবতা।
আসলে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ব্যর্থ হয় না,
ব্যবসার ভিত দুর্বল হলে ব্যবসা ব্যর্থ হয়।
কিন্তু সুসংবাদ হলো,
এই ৮টি কারণই দূর করা সম্ভব।
যদি উদ্যোক্তা শিখতে চান, উন্নতি করতে চান, স্ট্রাকচার চান তাহলে, ৫ বছর নয়, ৫০ বছরও ব্যবসা টিকে থাকে।
বাংলাদেশে আগামী বড় পরিবর্তন উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই আসবে ইনশাআল্লাহ।
আপনার মতে উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি কোন জায়গায় স্ট্রাগল করে? কমেন্টে জানাতে পারেন।
Collected.