09/20/2026
ছোট্ট অপ্রতীমের মা একজন শিক্ষিকা। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের সময় তাঁর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, সে সময় তিনি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তাঁর পরিবারের ২৬ জন স্বজনকে নির্মমভাবে হারিয়েছিলেন। সেই স্বজন হারানোর বেদনাকে ঘিরেও এই ভদ্রমহিলা শেখ হাসিনাকে নিয়ে ট্রল ও উপহাস করেছিলেন, যা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও বেদনাদায়ক আচরণ। তবে আমরা কারও স্বজন হারানোর বেদনাকে উপহাসের বিষয় বানাতে চাই না। কারণ, প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কতটা গভীর, সেই শূন্যতার ভার কতটা অসহনীয় তা কেবল তিনিই উপলব্ধি করতে পারেন, যিনি নিজ জীবনে আপনজন হারানোর সেই বেদনার মধ্য দিয়ে গেছেন।
কিন্তু আজকের বাস্তবতাও আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ক্রমবর্ধমান এই অনিশ্চয়তা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে, আমরা কি ধীরে ধীরে এমন এক অনিরাপদ বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে?
পাকিস্তানের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের তুলনা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়, কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সহনশীলতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবন যখন ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ে, তখন তার পরিণতি কখনোই আশাব্যঞ্জক হয় না।
তাই সময় থাকতেই আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে; নাকি এমন এক বাস্তবতা, যেখানে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতাই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে? সিদ্ধান্তটি শুধু আজকের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।