শামসুদ্দিন হীরা

শামসুদ্দিন হীরা shamsuddin Ahmed Hira Bsngladeshi Writer,Television director and News Producer.

মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম সেতুঃপ্রায় চারশত বছরের পুরাতন মীর কাদিম সেতু, মুঘল আমলে নির্মিত হয় মীর কাদিম সেতু। এই সেতু  নির্মা...
28/12/2024

মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম সেতুঃ

প্রায় চারশত বছরের পুরাতন মীর কাদিম সেতু,
মুঘল আমলে নির্মিত হয় মীর কাদিম সেতু। এই সেতু নির্মাণকাল ১৬৫৮ থেকে ১৬৬০ সালের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। এই সেতুর নির্মাতা ছিলেন মীর জুমলা ।
মুঘল শাসন আমলে তিনি এতদ অঞ্চলের সুবাদার ছিলেন।
ঢাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জলদুর্গ নির্মাণের পাশাপাশি এই সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর রাজত্ব কালে ইদ্রাকপুর কেল্লা হতে দোহারে অবস্থিত মুসা খানের কেল্লা পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্যে সুবাদার মীরজুমলা দুইটা সেতু নির্মাণ করেন।তার মধ্যে একটি “মিরকাদিম সেতু”, অপরটি “তালতলা সেতু”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজদের বোমার আঘাতে এই “তালতলা সেতু”টি উড়িয়ে দেয়া হয়। সেতুটি তখনি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
পানাম-পোলঘাটা সেতুটি প্রাচীন ও বিলুপ্ত শ্রীবিক্রমপুর মহানগরের সীমানা পরিখা মীরকাদিম খালের উপর পানাম পোলঘাটা গ্রামে অবস্থিত। সেতুটি তিন খিলান বিশিষ্ট ও এটি নির্মাণে চুন-সুড়কি ব্যবহার করা হয়েছিল।

ভূতুড়ে অটো সময় তখন প্রায় রাত সাড়ে নয়টা। বেশ হাঁড় কাঁপানো শীত। শিবচর বাজার থেকে মধ্যে হাউসদি ফিরছেন শাকিল। একটি জরুরি কাজ...
21/12/2024

ভূতুড়ে অটো

সময় তখন প্রায় রাত সাড়ে নয়টা। বেশ হাঁড় কাঁপানো শীত। শিবচর বাজার থেকে মধ্যে হাউসদি ফিরছেন শাকিল। একটি জরুরি কাজে গিয়েছিলেন কাজ সারতে বেশী রাত হয়ে গেলো তার। এই রাস্তায় কোন বাস চলে না। অটোই একমাত্র ভরসা। শাকিল খুব ভাবে চেয়েছে শেয়ারে কেউ উঠুক তার সাথে। অটোচালক এক অল্পবয়সী ছেলে, মাথায় মাফলার জড়ানো। শাকিলের মনে হলো, ছেলেটা খুব একটা সামাজিক নয় ,কারণ পুরো পথে তেমন কোন কথা বলেনি । শীতের কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারপাশ। রাস্তার দুপাশের গাছগুলো অন্ধকারে যেন অশরীরী ছায়ার মতো দেখাচ্ছে।

অটো যখন বাঁশতলা বাজার ক্রশ করলো, হঠাৎ করেই অটো থেমে গেল। চালক নিচে নেমে বলল, “স্যার, একটু দাঁড়ান। ইঞ্জিনটা কিছু একটা ঝামেলা করছে।' শাকিল অটোর ভেতরেই বসে রইলেন। চারপাশ এতটাই নির্জন যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দই ভয় ধরিয়ে দেয়। রাস্তার ধারে ঝোপঝাড় থেকে এক ধরনের চাপা ফিসফিসানির শব্দ ভেসে আসছিল।
'এটা কি বাতাসের আওয়াজ, নাকি অন্য কিছু?” শাকিল ভাবলেন। চালককে ডাকতে যাবেন, এমন সময় দেখলেন, চালক আর অটো দুটোই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। শাকিল আতঙ্কে চারপাশে তাকালেন, কিন্তু কারও কোনো চিহ্ন নেই। রাস্তার একেবারে মাঝখানে তিনি একা দাঁড়িয়ে আছেন। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ বেড়ে গেল।

ঠিক তখনই রাস্তার ধারে একটি বড় বটগাছের নিচে আলো জ্বলে উঠল। এক ধরনের শীতল নীলচে আলো। গাছের নিচে একজন সাদা পোশাক পরা নারী দাঁড়িয়ে। মুখটা ঝাপসা, শুধু দুটো লালচে চোখ জ্বলজ্বল করছে। শাকিলের শরীর শীতল ঘামে ভিজে গেল। নারীটি ধীরে ধীরে ওর দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তার পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে না। শাকিল পেছাতে চাইলেন, কিন্তু পা যেন মাটি থেকে সরে না।

“তুমি আমার জায়গায় এসেছ কেন?” একটি কণ্ঠস্বর শোনা গেল, যা নারীটির ঠোঁট নড়ছে না, অথচ কানে বাজছে। কণ্ঠটি শীতল, অথচ ভয়ানক। শাকিল চিৎকার করতে চাইলেন, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না।

হঠাৎ রাস্তার পাশ থেকে জোরে একটি মোটরসাইকেলের শব্দ এলো। আলো দেখতে পেয়ে শাকিলের দৃষ্টি ফেরানো মাত্রই দেখলেন, সেই নারীটি আর নেই। মোটরসাইকেলটি থামল। চালক বলল, “ভাই, এত রাতে এখানে একা দাঁড়িয়ে আছেন কেন? জানেন না, এই জায়গাটা ভালো নয়? এখানে একসময় একটি নারীকে হত্যা করা হয়েছিল। তার আত্মা এখানেই ঘোরাফেরা করে। সবাই বলে, যারা তাকে দেখে, তারা আর সহজে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারে না।”
শাকিল কোনো কথা বলতে পারলেন না। কোনো মতে সেই মোটরসাইকেলে চেপে হাউসদির দিকে রওনা হলেন। ঘরে ফেরে, ঘোরের মতো আচ্ছন্ন হয়ে বসে রইলেন।

বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন জার্নি: পর্তুগাল থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতাযাত্রার দৈর্ঘ্য: ২১ দিনমোট দূরত্ব: প...
08/12/2024

বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন জার্নি: পর্তুগাল থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা

যাত্রার দৈর্ঘ্য: ২১ দিনমোট দূরত্ব: প্রায় ১৮,৭৫৫ কিলোমিটারঅতিক্রান্ত দেশ: ১৩টি

এক অসাধারণ ট্রেন যাত্রা যা শুরু হয় ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তে পর্তুগালের লিসবন শহর থেকে এবং শেষ হয় এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। যাত্রাপথে আপনি দুই মহাদেশ এবং ১৩টি দেশের ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করবেন। যদিও এটি একটানা ট্রেন জার্নি নয়, বিভিন্ন দেশে ট্রেন পরিবর্তন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটি সম্পন্ন হয়।

যাত্রাপথের প্রধান দেশ ও আকর্ষণ

💧 পর্তুগাল: লিসবন থেকে যাত্রা শুরু।

আকর্ষণ: ট্যাগাস নদী, বিখ্যাত বেলেম টাওয়ার।

💧 স্পেন: মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

আকর্ষণ: গথিক স্থাপত্য, পাইরিনিস পর্বতমালা।

💧 ফ্রান্স: প্যারিস থেকে পূর্ব ফ্রান্স।

আকর্ষণ: আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম।

💧 জার্মানি: বার্লিন, হামবুর্গ, ড্রেসডেন।

আকর্ষণ: ঐতিহাসিক স্থান, ব্ল্যাক ফরেস্ট।

💧 রাশিয়া: ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে।

আকর্ষণ: মস্কো, লেক বাইকাল।

💧 চীন: বেইজিং, সাংহাই।

আকর্ষণ: চীনের প্রাচীর, ইয়াংজে নদী।

💧 মালয়েশিয়া: যাত্রার সমাপ্তি কুয়ালালামপুরে।

আকর্ষণ: পেট্রোনাস টাওয়ার।

যাত্রার বৈচিত্র্য

💧 প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: রোলিং পাহাড়, মরুভূমি, তৃণভূমি।

ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান: লুভর মিউজিয়াম, চীনের প্রাচীর।

💧 সংস্কৃতির মেলবন্ধন: বিভিন্ন দেশের স্থানীয় খাবার ও ঐতিহ্য।

যাত্রার প্রস্তুতি

💧 ইমিগ্রেশন: প্রতিটি দেশের সীমান্তে কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া।

💧 ভিসা: ১৩টি দেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন।

💧 খরচ: প্রায় $১০,০০০ – $১৫,০০০।

এই ২১ দিনের ট্রেন ভ্রমণ শুধু একটি যাত্রা নয়, এটি এক জীবনের অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ইতিহাসের মিশেলে এটি এক অনন্য অভিযাত্রা।

“একটি ট্রেন জার্নি আপনাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না; এটি শেখায় পৃথিবীর বিশালতা ও বৈচিত্র্য।”

29/11/2024

* মনস্তাত্ত্বিক মেটাফোর

শামসুদ্দিন হীরা

সূর্য ধীরে গড়িয়ে যায় আকাশে,
রক্তিম আলো ছুঁয়ে যায় বটবৃক্ষের মগডাল,
পলাশের আগুনে জ্বলে ওঠে মাটির রক্তাক্ত ক্যানভাস।
দাবা খেলা চলছে—
রাজা, মন্ত্রী, সৈনিক সবাই
তোমার মতোই নির্বাক।
তবু প্রতিটি চাল যেন
কোনো এক ধর্মগ্রন্থের পাতায় লেখা ভবিষ্যদ্বাণী।

ঝোপঝাড় থেকে ভেসে আসে
নাপিতের কাঁচির মতো শব্দ,
চুপচাপ কেটে ফেলা হয় স্বপ্নের কেশরাশি,
যেখানে প্রেম এক আড়ালে বন্দী
আর মনুষ্যত্ব এক তাসের প্যাকেট।

তুমি তাকিয়ে থাকো রংধনুর নীরবতায়—
সাতটি রঙে লেগে আছে সাতটি পাপ,
আর তার ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে আছে
মানবিক প্রেমের আবছা ছায়া।
তবু সূর্যের গতি থামে না।
দাবার বোর্ডে কোনো বিজয় নেই,
ফলাফলহীন এক রাজনীতি
যা ধর্মের নামে মুখোশ পরিয়ে
মানবতার মাথা ঝুঁকিয়ে রাখে।

তুমি কি দেখো?
তোমার করোটির নীচে জমে থাকা শূন্যতা?
আমার প্রেম সে শূন্যতায় সেতু হতে চায়,
জাগাতে চায় এক পৃথিবী—
যেখানে ধর্ম কেবল শান্তি,
রাজনীতি কেবল ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি,
আর মানবিক প্রেম এক উদ্ভাসিত সকাল।

তবু সূর্য গড়িয়ে যায় আকাশে,
আর আমরা অপেক্ষায় থাকি—
একটি চাল, একটি মুক্তি,
একটি সত্য।

* প্রেমের সূত্রাবলি

তুমি একটি কনস্ট্যান্ট, এক অখণ্ড মৌলিকতা,
যার জন্য সমীকরণে কোনো সীমা নেই,
তোমার উপস্থিতি অগণিত ডিগ্রীতে বিস্তৃত,
মহাজাগতিক বৃত্তের মতো—সর্বব্যাপী, অপরিসীম।

তোমার হাসি একটি সাইন ফাংশন,
যা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়,
একটি অপ্রতিরোধ্য পিক,
যত্নে আঁকা এক অসীম রেখার অন্তর্গত।

তোমার চাহনি প্রাসঙ্গিকতা,
যার সমীকরণ খুঁজে পাই আমি,
কখনো বেড়ে চলে অ্যালগেব্রিক,
কখনো কমে যায় পিরামিডের মতো।

আমাদের ভালোবাসা দ্বিমাত্রিক নয়,
এটি কোণ, এই কোণটির মধ্যে
এক অদৃশ্য বিন্দু, গতি এবং গ্র্যাভিটি,
পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাশূন্যে এক নক্ষত্রের মতো।

তুমি—একটি কোঅরডিনেট পয়েন্ট,
মৃত্যুর চেয়ে বেশি এবং
অজান্তেই আমি গুণিতক,
বৃদ্ধির মতো, যা কখনো কমে না।

প্রেমের প্রমাণ অঙ্কের সূত্র,
যা ধ্রুবক কিন্তু অতুলনীয়,
কিন্তু আমি জানি,
এই পিঁড়ি ভেঙে তোমার দিকে
এখান থেকে এগিয়ে যাওয়া—
এক অন্ধ মহাবিশ্বের নির্দিষ্ট গতি।

* নৈঋতের স্রোতে ভেসে যায় বসন্ত

অধিকার আছে কি তোমার,
এই রাতের গাঢ় অন্ধকারে আমাকে ছুঁয়ে যাওয়ার,
নৈঋতের স্রোতে ভেসে যাওয়ার?
আমার বুকের শূন্যতা, যেখানে স্বপ্নের চিতা জ্বলে,
সেখানে তুমি পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে তোমার শীতল চুম্বন।

তুমি জানো না,
আমার ভাঙা হৃদয়ে কতো অন্ধ বিশ্বাসের চোরাবালি লুকিয়ে আছে,
যেখানে ঈশ্বরের নাম নেই,
শুধু রয়েছে কামনার অশ্লীল কাব্য।
তোমার শরীর, যেন এক আদিম দেবী,
যার নাভির চারপাশে জড়ো হয়েছে
অসংখ্য বিপন্ন দিনের গোপন আখ্যান।

নৈঋতের বাতাস বয়ে যায়,
আমার অস্থি-মজ্জায় জমে থাকা অতৃপ্তি ঝরে পড়ে,
তোমার নগ্ন পায়ের ছাপ মিশে যায় কাদামাটির মসৃণ ত্বকে।
তুমি কি জানো, এই দেহ, এই মন—
সবই একদিন হয়ে যাবে স্মৃতির ধ্বংসাবশেষ?
তবু আমি হাত বাড়াই,
তোমার কাঁধে রেখে দিতে চাই সমস্ত পাপ ও পূণ্য।

তুমি কি দেখেছো কখনো,
আকাশের বুক চিড়ে ঝরে পড়া শূন্যতার বৃষ্টিকে?
তোমার বুকের স্তব্ধ ঝড়গুলো আমার চোখে ঝলসে ওঠে,
আর আমি হারিয়ে যাই—
তোমার নিতম্বের বাঁকে,
যেখানে লুকিয়ে আছে
অজস্র নিষিদ্ধ কবিতার জন্মরেখা।

চারপাশের নির্লজ্জ আকাশ সাক্ষী থাকে,
আমি তোমার শরীর থেকে তুলে আনি
প্রেম আর পাপের অনন্ত সংজ্ঞা।
আমি জানি, তুমি দেবী নও,
তুমি শুধুই এক মানবী—
যার স্তনের কোলাজে আঁকা রয়েছে
আমার কবিতার শূন্য পঙক্তি।

তোমার উরুর ভাঁজে আমি খুঁজে পেয়েছি
নৈঋতের সুর,
যেখানে শরীর আর মনের দ্বন্দ্ব মিশে যায়
এক গভীর একান্তে।
তুমি কি সেই মুহূর্তগুলোকে মনে রেখেছো,
যখন আমি তোমার চুলের গন্ধে মিশে গিয়েছিলাম
এক বিপন্ন বসন্তের সন্ধানে?
ভাঙা গিটার,
যা তিন সেকেন্ডের সুরে তুলে আনে
তোমার কণ্ঠের অশ্রুত স্বর।
আমি জানি,
এই বসন্তও পেরিয়ে যাবে,
যেমন তুমি পেরিয়ে গেছো আমার শরীর,
আমার কামনা,
আমার সমস্ত উচ্চারণ।

তবু তোমার স্মৃতি,
যা চারতলার জানালায় রেখে গেছি
এক টুকরো চাঁদের আলোয়।
তোমার ব্রার হুক খুলে দেখেছিলাম
তোমার হৃদয়েও লুকিয়ে আছে
একাকিত্বের দগ্ধ ছায়া।
তুমি হয়তো ভুলে গেছো,
কিন্তু আমি এখনও সেই মায়াবী মুহূর্তে ফিরে যাই
প্রতি রাতে, প্রতি কবিতায়।

তোমার শরীরের বাঁকে বাঁকে
আমি খুঁজে পেয়েছি
এক নিষিদ্ধ ভাষা,
যা আমাকে কবি বানিয়েছে,
যা আমাকে পাপী বানিয়েছে,
যা আমাকে মানুষ করেছে।

তুমি কি জানো,
তোমার যোনীর গহ্বরে লুকিয়ে আছে
সমস্ত সৃষ্টির আদিকথা?
আমি সেখানেই পেতে চেয়েছি মুক্তি,
যেখানে তুমি লুকিয়ে রেখেছো
তোমার সমস্ত প্রেমহীন ভালোবাসা।

আজ নৈঋতের বাতাসে বয়ে যায়
আমাদের না-বলা কথারা।
তুমি দূরে সরে গেছো,
তবু তোমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে
আমার কবিতারা ঘুমিয়ে থাকে।
আমি জানি,
একদিন এই বসন্তও মুছে যাবে,
কিন্তু আমার শব্দেরা বেঁচে থাকবে
তোমার স্মৃতির নিভৃত পাঁজরে।

* তোফাজ্জল

তোফাজ্জল। ক্ষুধা বেড়ে যায় ; মায়ের মুখ ভেসে উঠে। স্বপ্ন বড় হয়। ধোঁয়া উঠা সালুনে মাছটা নির্জীব থাকে। শরীরের ব্যথা নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায় স্মৃতি। দেশ তুমি বর্ণমালার অক্ষর হও। শব্দের ভেতর যেভাবে ভাষাটি শুয়ে থাকে। একটি আখ্যানের অপেক্ষা করতে করতে তোফাজ্জলের মুখ থেকে রক্ত ঝরে যায়; গণতন্ত্র , সাঈদের আত্নদান নিঃশেষ হয়ে যায়। তোফাজ্জল তোমার লাশকে ঘিরে দাঁড়িয়ে কুখ্যাত খুনে বাহিনী। গাঢ় অন্ধকার হয়ে এসেছে চারিদিক। তোমার জন্য তুলে রাখি আঘ্রাণ। সকালের আহার। দুপুরের খাবার। তামাম চালের আড়তকে ভাত করে তুলি। এই শহরে ক্ষুধায় ঝুঁকে পড়ছে বৃক্ষগণ। ঘি হই আর ঢলে পড়ি কথা আর ধোঁয়ার ভেতর। অতঃপর তরুবর, অতঃপর পঞ্চবি ডাল— অতঃপর আমরা মানবচরিতে ঢুকে পড়ি। মব ট্রাইলে সব বিচার সম্পূর্ণ করি।

* অজস্র পথের গর্ভে

নিঃশব্দে সরে যাই—
তোমার ছায়ার পথে,
যেখানে রাত ফিসফিসিয়ে বলে
তারাদের গভীর অভিমান।
জলভরা মেঘের মতো মন
আবারও ভেঙে পড়ে,
তোমার চোখের ভিতরে
ঝরে যায় এক বুক বৃষ্টি।

ফুলঝুরির আলোয় মিশে থাকে
অতীতের গোপন শব্দ,
আমি খুঁজি সেখানে
পলাতক পথের আড়াল।
তুমি কি দেখেছো,
আমার ছায়া—
লতার মতো জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলো
তোমার ছেঁড়া হাসি?

নদীর জলের মতো আমার সময়
তোমার থেকে দূরে সরে যায়,
কিন্তু পায়ের নিচে জমে থাকে
শৈবালের মতো অভিমান।
চাঁদভাঙা রাতে
তোমার ছোঁয়া খুঁজি বাতাসের ঘ্রাণে,
তোমার ঠোঁটের রং হয়ে ওঠে
অপরিচিত লাল।

চলো, এইবার সত্যি পালাই—
পাখিদের অদৃশ্য ডানায় ভর করে।
দূরের কোনো সবুজ জঙ্গলে
লুকিয়ে ফেলি সমস্ত সংশয়,
যেখানে সূর্যাস্ত
তোমার মুখের মতো প্রখর নয়,
নরম—
ঠিক বালিশের আলতো গন্ধের মতো।

* মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানি না!

লাল পাহাড় দেখেছো!
পৃথিবীতে কেমন করে লাল হয় মাটি?
কত শিশুর কান্না হারিয়ে যায় বাতাসে,
কত মায়ের বুক খালি হয় নির্যাতনের
বন্দিশালা আয়নাঘরে?

রোহিঙ্গার ভিটে পুড়ে ছাই হয়ে যায়,
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, নীল নদের জলে
শরণার্থীদের স্বপ্নগুলো মিশে যায়।
সাগরের ঢেউ, পায়ে পায়ে কাঁদে,
মানবতার শব কাঁধে জাতিসংঘ হাটে।

ফিলিস্তিনের আকাশে বোমার আগুন,
একটি শিশুর খেলনা ছিটকে পড়ে ধূলায়।
আকাশ জানে, তার চাঁদ এখন রক্তিম,
সভ্যতার হাতেই তো তার পায়ের শিকল।

সিরিয়ার মরুভূমি সাক্ষী দেয়,
বালুকণার ওপর লুটিয়ে পড়া শরীরের।
যুদ্ধ কি শান্তি চায়?
নাকি শুধু তেল আর সীমানার মুনাফা বাড়ায়?

আফ্রিকার গহীন বনে শোনা যায় ক্ষুধার ক্রন্দন,
পুঁজির আগুনে দগ্ধ হয় সেইসব মানুষজন।
শস্যের বদলে উঠেছে কারখানার মেঘ,
উন্নয়নের মানচিত্রে কোথায় তারা আজ?

আশিয়ান হোক, ইউরোপ, কিংবা আমেরিকা,
মানবাধিকার যেন কেবল মুদ্রার খেলা।
যেখানে পুঁজির স্বার্থ, সেখানেই দাও সুরক্ষা,
আর বাকি পৃথিবী থাকে রক্তাক্ত—
খোলা প্রহরে নির্দয় নিরীক্ষা।

জাতিসংঘ মোমবাতি জ্বালায়,
মার্কিনীরা মেরে তারা মোমবাতি জ্বালায়,
সভ্যতার আদর্শ কি আদৌ সত্য?
রাষ্ট্রের খেলায় মানুষ বিনষ্ট।

সভ্যতার মিথ্যা শৃঙ্খল।
স্বপ্ন দেখি, এক নতুন ভোরের,
থাকবে না শিকলবন্দী প্রহর।

মানুষ হোক একবার সত্যিকারের মানুষ,
শান্তি ছুঁয়ে যাক তার প্রতিটি স্পর্শ।
মানবতা হোক ধর্ম, রাজনীতি নয়,
তোমার পৃথিবী হোক আলো, অন্ধকার নয়।

কিন্তু ততদিন,
এই কবিতা জ্বলবে প্রদীপ হয়ে,
যতক্ষণ পৃথিবী দেখবে মানবতার কবর,
ততক্ষণ আমার শব্দগুলো বিক্ষোভ হয়ে বাঁচবে।

* নির্লিপ্ত বাংলার গল্প

এই শীত সকাল, কুয়াশার চাদরে মোড়া,
মাঠের প্রান্তে দিগন্ত হারানো সীমানা,
বাংলার আকাশে ভেসে বেড়ায়
শালিকের ডানায় মেঘের শেষ ঘ্রাণ।

ধানখেতের শণশণ আওয়াজে জেগে উঠে
মাটির গন্ধ, পায়ের নিচে নরম কাদা,
নদীর বাঁকে দাঁড়িয়ে জেলেদের হাঁক
জেলের ছিপ ছুঁয়ে বয়ে চলে সময়ের ধারা।

পুকুরপাড়ের বুড়ো আমগাছটা,
অগণিত মিষ্টি স্মৃতির পাহারা দেয় আজও,
শীতের সকালের পিঠে আর ভাপা পিঠের গন্ধে
জীবনের সরলতায় বাঁধা পড়ে অবিরাম।

চাঁদপুরের পদ্মা কিংবা মেঘনা,
দুই স্রোত মিলেমিশে তৈরি করে গল্প,
কখনো জলের নিচে গ্রাস করে গ্রাম,
তবুও জেলে নৌকা ভাসায় স্বপ্নের খোঁজে।

রাত হলে, ঝুপড়ি ঘরের টিনের চালে
বৃষ্টির নাচ শুনে চুপ করে শোনে মন,
দূরের বটগাছের নিচে বাস করে
ভাঙ্গা মন্দিরের একটুকরো ইতিহাস।

বৃক্ষেরা কথা বলে, তাদের পাতা ঝরে
যেন স্মৃতির দাহন, শীত এসে দেয় সান্ত্বনা।
বর্ষার জলে ডুবে যায় মাটি,
তবু বাংলার কৃষক বুনে রাখে জীবনের বীজ।

পাখির ডাকে ভোর হয় বাংলার গ্রামে,
কৃষকের হাঁটুর গেরস্থালি শোনে ইতিহাস।
পিচঢালা রাস্তায় নগরীর আলো
তবু গ্রামের পথেই লুকায় জীবনের মানে।

বাংলা, তোর মাটি আমার বুকের ধন,
তোর গন্ধে মেশে আমার প্রতিটি নিশ্বাস।
তোর নদী আমার চোখের জলে মিশে,
তোর আকাশ আমার স্বপ্নের আঁধার।

তুমি সেই অবিনশ্বর, তুমি সেই চিরন্তন,
তোমার প্রতিটি ধূলিকণা গায় জীবনের গান।
তুমি আমার বেদনায়, তুমি আমার সুখে,
তোমার প্রতিটি মুহূর্তে আমি বেঁচে থাকি।

* বিস্মৃত ঋতুর মায়া

ঢেউয়ের নোনাজল ঘেঁটে একা একা সময় কাটাই,
আকাশে ছড়িয়ে থাকা বৃষ্টির গন্ধে
ভিজে যায় স্মৃতির কাঠামো।
তুমি যেন কোনো নামহীন ঋতু,
আমার দিনরাত্রির বুকের ভেতর
একটি ছায়া, একটি ঘূর্ণিপাক।

বনরক্ষিণীর মতো আগলে রাখো
অন্ধকারের গাঢ় নকশা,
আমি হারিয়ে যাই শব্দের বাঁকে।
এখানে নেই কোনো দুঃখ,
শুধু আছে কোলাহল আর
অস্পষ্ট উচ্চারণের ঘ্রাণ।

তোমাকে পেতে চাই
জনক রোডের নির্জনতার মতো,
অথচ তুমি কেবল আছো
আমার ভাঙা ভাবনার ছিটে ফোঁটায়।
তোমার ছোঁয়া যেন বাতাসে লুকানো,
তবু তোমার স্মৃতি দাঁড়িয়ে থাকে
কোনো সবুজ পোলের কাছে,
আমার একাকিত্বের পাহারায়।

নতুনের ভিতর পুরোনো স্পর্শ মিশে থাকে,
ঋতুর মায়ায় বুঁদ হয়ে থাকা উন্মাদ
চিবিয়ে খায় স্মৃতির বীজ।
এখানে সবুজ ঝরে, এখানে ভাষা থেমে যায়,
এখানে শুধুই তুমি—
উপমার আড়ালে অদেখা এক চিত্র।

* কল্পনার জোনাকি আলো হয়ে ভাসি

তোমাকে দেখলে মনে হয় কোনো গহীন বন:
যেন তারার আলোয় সিক্ত একটি স্নিগ্ধ স্বপ্ন।
তোমাকে দেখলে মনে হয় কোনো গভীর আকাশ:
তার চুপচাপ নীলিমায় লুকিয়ে আছে চিরকালীন গান।

তোমার নিকট আসি এক রহস্যভরা পাখির ডাকে,
ডানায় লেখা আছে অদৃশ্য নক্ষত্রপথের মানচিত্র।
বাইরে শীতল বাতাস বয়ে চলেছে
প্রাচীন গাছের শাখায় শাখায়,
জীবন ও মৃত্যুর মাঝে এক নীরব কথোপকথন।

আমি তোমার গভীরে ডুব দিই,
একটি কল্পনার জোনাকি আলো হয়ে ভাসি।
তোমার অন্তরের আকাশে ঝরে পড়ে
অদেখা চন্দ্রালোকে মোড়ানো নীরবতা।

তোমার রহস্যময় গভীরতায় আমি খুঁজে পাই
আমারই হারিয়ে যাওয়া ছায়াকে,
যা একদিন তোমার আলোর সঙ্গে মিশে
এক সুরময় পথ তৈরি করবে—
যেখানে সময় থেমে থাকবে,
আর আমরা হব একে অপরের চিরন্তন।

* তোমার ছোঁয়ার প্রতিশ্রুতি

সবটুকু শব্দ জমিয়েছি তোমার জন্য
প্রবাহমান মানুষেরা কখনও থামে না,
তবু আমি থেমে গেছি, তোমার জন্য।
প্রতিক্ষায় দিন চলে যায়;
মেঘলা আকাশে চাঁদের লুকোচুরি
আধা আলো, আধা রহস্য।

ঘূর্ণন স্রোতে নাবিক যেমন কূল খুঁজে পায় না,
তুমি সেই প্রতিশ্রুতি—যাকে ছুঁতে গেলে
অভিমানী ঢেউয়েরা ফিরে আসে কূলে।

শরতের আকাশে কাশফুল দুলে ওঠে হাওয়ার ছন্দে,
আমি তখন দেখি তোমার মুখ,
যেখানে মিথগুলো মিশে যায় বাস্তবের রূপকথায়।
তুমি দুর্গার প্রতিমা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো,
আর আমি কেবল দর্শক—প্রণামের অপেক্ষায়।

তুমি কি কোনো পৌরাণিক দেবী?
যে নদীর জলরেখায় বসে অপেক্ষা করে?
নাকি তুমি আধুনিক শহরের ব্যস্ততা,
যার ভিড়ে আমি নিজেকে বারবার হারাই?

তুমি আসো কুয়াশার মতো,
আবার মিলিয়ে যাও প্রভাতের রোদের ভিড়ে।
তোমার ছোঁয়া, অল্প একটু;
তবু তার গভীরতা মেপে শেষ করা যায় না।

তোমার অপেক্ষায় কত রাত!
দূরে দুলে ওঠা নৌকো দেখি,
আর ভাবি—তুমি কি কোনোদিন এসে বলবে,
“চলো, এবার আমাদের গল্পটা নতুন করে লিখি”?

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কথা। প্রাচীন গ্রিসে তখন প্রধানত দুই ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিল। এর মধ্যে একটি হলো অলিগার্কি, আ...
22/11/2024

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কথা। প্রাচীন গ্রিসে তখন প্রধানত দুই ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিল। এর মধ্যে একটি হলো অলিগার্কি, আর অন্যটি হলো ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্র। অলিগার্কি মানে অল্প কয়েকজন লোকের শাসন। এই অল্প কয়েকজন লোক হচ্ছেন সমাজের সবচেয়ে উঁচু বংশ এবং সম্পদশালী পরিবারের লোক। প্রাচীন গ্রিসের স্পার্টা রাষ্ট্রে ছিল এই অলিগার্কি শাসনব্যবস্থা।

স্পার্টার মূলত যুদ্ধ এবং সামরিক শক্তির বিষয়েই তাদের বেশিরভাগ সম্পদ খরচ করত। স্পার্টা ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী নগর রাষ্ট্র। স্পার্টা মত আরেক শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল এথেন্স। এথেন্সে আবার চলত ডেমোক্রেট্রিক বা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। এথেন্সের মূল ফোকাস ছিল সংস্কৃতি ও জ্ঞান চর্চার দিকে। এক পর্যায়ে এথেন্সও স্পার্টার মত শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে স্পার্টা ছিল প্রতিষ্ঠিত শক্তি, অন্যদিকে এথেন্স ছিল উঠতি শক্তি। এথেন্স সবেমাত্র শক্তিশালী হয়ে উঠছিলো এবং সে সময়ের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এই অবস্থা বেশিদিন চলতে পারেনি। একসময় গিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ইতিহাসে এই যুদ্ধ “পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ” নামে পরিচিত। আর এই যুদ্ধের মাধ্যমেই গ্রীক সভ্যতার সোনালী যুগের ধ্বংস শুরু হয়ে যায়।

এথেন্সের সাথে স্পার্টার এই যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে অনেক বিশেষজ্ঞই অনেক ব্যখ্যা দিয়েছেন। এদের মধ্যে গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের ব্যখ্যায় একদম মূল কথাটা উঠে আসে। তাঁর মতে, এথেন্স যে নতুন শক্তি হিসেবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল, এতে স্পার্টার ভয় হচ্ছিলো। এথেন্স যেন স্পার্টাকে ছাড়িয়ে না যেতে পারে সে ব্যবস্থা করাটাই তখন স্পার্টার একমাত্র মাথাব্যথা। স্পার্টার এই ভয় থেকেই দুই রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনাটা শুধু প্রাচীন গ্রীসেই সীমাবদ্ধ নয়। ইতিহাসে বার বার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

সেই উনিশ শতকের শুরুতে নেপোলিয়ন বলেছিলেন, “চীন ঘুমাচ্ছে, তাকে ঘুমাতে দাও। যদি এই ঘুম ভাঙে, সে পুরো পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিবে।” নেপোলিয়নের সেই কথার পর কেটে গেছে বহু বছর। এখন ২০২৩ সাল। চীনের ঘুম সত্যি ভেঙেছে। বর্তমান পৃথিবীতে শিল্প ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের চরম মুহুর্ত চলছে। আর এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে আমরা স্পার্টা-এথেন্সের মতো একই ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং প্রতিষ্ঠিত শক্তি। অন্যদিকে চীন হলো উঠতি শক্তি। শক্তিশালী দেশ হিসেবে চীনের উত্থান ছিলো আশ্চর্যজনকভাবে দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং নাটকীয়। এই নব্বইয়ের দশকেই চীন ছিল একটা গোবেচারা রাষ্ট্র। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের ভেতর চীন কৃষিপ্রধান সমাজ থেকে শিল্পোন্নত জাতিতে এবং বিশ্বের শীর্ষ শিল্প-উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে চীন এখন একটি মুখ্য চরিত্র।

চীনের এই বিস্ময়কর উত্থান তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যের এই বিশাল পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন একটি শক্তি। চীনের বিভিন্ন কার্যকলাপ থেকেই বোঝা যায় চীন নিজেও ক্ষমতার জন্য মরিয়া। নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার পথে যত প্রতিবন্ধকতা, সেসব কিছুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে কিংবা আগ্রাসী হুমকি দিতে চীন দ্বিধা করে না।

একটা নতুন রাষ্ট্র যখন নতুন করে শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে তখন সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র তাকে হুমকি মনে করে। ধীরে ধীরে তারা যুদ্ধের দিকে ঝুকে পরে, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই যুদ্ধ এড়ানো যায় না। এই পরিস্থিতিকে বলা হয়, “থুসিডাইডস ট্র্যাপ”। আর এই থুসিডাইডস ট্র্যাপ আমাদের বলে দেয়, যখন কোনো উঠতি শক্তি প্রতিষ্ঠিত শক্তির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন যুদ্ধই হলো সম্ভাব্য ফলাফল। চতুর্থ শতাব্দীর গ্রীক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডস হলেন এই তত্ত্বের প্রবক্তা। এই তত্ত্ব অনুসারে চীন আর যুক্তরাষ্ট্রও এখন সেই থুসিডাইসের ফাদে আটকা পড়েছে।

বর্তমান বিশ্বে আমেরিকার উপর চীনের ভূমিকা কী প্রভাব ফেলতে পারে তা এখনও দেখার বাকি আছে। রাজনৈতিক, বিশ্লেষকসহ বিশ্বের বড় বড় থিংক ট্যাংকরা এই ভবিষ্যৎ আঁচ করার চেষ্টা করে চলেছে। এই ভবিষ্যৎকে আঁচ করতে চাইলে আমাদের অতীতের আরও এমন ঘটনার উপর নজর দিতে হবে।

এজন্য আমরা চলে যাব বিশ শতকের জাপানে। জাপানের তখন সবেমাত্র শক্তিশালী দেশ হিসেবে উত্থান শুরু হয়েছে। তার আগে অর্থাৎ ১৮৫৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতিতে জাপানের তেমন কোন ভূমিকা ছিলোনা। কিন্তু এরপর এমন একটা ঘটনা ঘটে যা জাপানের অর্থনীতিকে ফুলে ফেপে উঠতে সাহায্য করেছিল। ঐ সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কমোডোর ম্যাথিউ পেরি এদো উপসাগরে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের জন্য গানবোট জাহাজের একটি বহর নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে গিয়ে তিনি জাপানের সম্রাটকে বাণিজ্যের জন্য জাপান সীমান্ত খুলে দিতে কিছুটা জোরপূর্বকই রাজি করান। লোভি জাপান তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং রাশিয়ার মতো বড় বড় দেশের সামরিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার সাথে পাল্লা দিতে ছুটে যায়। ১৮৮৫ থেকে ১৮৯৯ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জাপান তখন কেবলমাত্র বড় বড় দেশগুলোর সমান পদমর্যাদা অর্জন করেই সন্তুষ্ট হয়নি। জাপান তখন আশেপাশের অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারেরও প্রবল চেষ্টা চালাচ্ছিলো।

জাপানের প্রতিবেশী দেশ কোরিয়ায় যখন বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন জাপানের শক্তি প্রদর্শন করার সুযোগ আসে। তখন জাপান এবং চীন দুই দেশই সেখানে সৈন্য পাঠানোর সুযোগ নেয়। অতি শীঘ্রই তারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধে জাপান জয়ী হয়। ফলে কোরিয়া, তাইওয়ান এবং মঞ্চুরিয়ার নিয়ন্ত্রণ জাপানের হাতে চলে আসে। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে মঞ্চুরিয়াতে আবার রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ ছিল। ফলে এই ঘটনায় রাশিয়া স্বভাবতই নাক গলাতে আসবে। জাপান ঐ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার ছয় দিন পর রাশিয়ার অনুরোধে ইউরোপ জাপানের উপর চাপ প্রয়োগ করা শুরু করে। ফলে জাপান বাধ্য হয়ে মঞ্চুরিয়া থেকে সরে আসে। অবশ্য জাপান আশা করেছিল যে এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া হয়ত কোরিয়াকে জাপানের অংশ হিসাবে স্বীকৃতি দেবে। কিন্তু রাশিয়া স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার জানায়। রাশিয়া কোরিয়ায় একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব দেয়। মঞ্চুরিয়া ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জাপান তখন নিজেদের জন্য ক্ষতি হিসেবে দেখা শুরু করে। এর ফলে জাপান রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে জাপানই জয়ী হয়।

জাপানের এই মনোভাব বিশ্ব-রাজনীতির ইতিহাসে আমরা বার বার দেখতে পাই। জাপানের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণেই সে তখন বিশ্ব দরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। কিন্তু চীনের সাথে দ্বন্দ্বে রাশিয়া এবং ইউরোপের হস্তক্ষেপে জাপান বেশ অপমানিত বোধ করে। এই ঘটনায় জাপানের যে মনোভাব দেখতে পাওয়া যায়, অর্থাৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে প্রভাব বিস্তার করা, আগ্রাসী ভূমিকা, প্রতিষ্ঠিত শক্তির হস্তক্ষেপে অপমানিতবোধ হওয়া- সবই একটি উঠতি শক্তির বৈশিষ্ট্য। আর এসব বৈশিষ্ট্য সামরিক আগ্রাসনের চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।

ঠিক একই ঘটনা লক্ষ করা যায় বর্তমান সময়ের চীনের মধ্যে। ঐ সময় জাপান যা যা করেছিল এবং জাপানের যে ধরনের মনোভাব ছিল তার সবই এখন চীনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। চীনের পাগলা ঘোড়ার মত অগ্রগতি চীনকে সেই একই অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে বর্তমানের প্রতিষ্ঠিত শক্তি অ্যামেরিকার সাথে তার ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। কিন্তু এই বিরোধ আর প্রতিযোগিতা কোথায় গিয়ে থামবে? চীন আর অ্যামেরিকা কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে? চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন মূলত থুসিডাইসের ট্র্যাপের মধ্যে পরে গেছে। এই ট্র্যাপ থেকে বের না হতে পারলে আরেকটা বড় যুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ এড়ানোর খুব কঠিন।

20/11/2024

বিমূর্ত নারী ও পৌরাণিক অনুষঙ্গ

অন্ধকার গহীন তলে ভেসে উঠে এক আকাশ,
তার পিঠে চড়ে চলেছে একটি সাদা পাখি,
ঝড়ের বাঁশি শোনা যায়, বাতাসে মিশে আছে সময়,
যতদূর চোখ যায়, সেখানে নেই কোনো ভ্রান্তি,
শুধু এক মহাকাব্যের চুপি চুপি খোঁজ।

দূরে, নদীর তীরে বসে এক নারী,
তার হাতে রক্তের মত চাঁদের টুকরো,
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাক্ষসের পুরানো ছায়া,
অথচ তার চোখে কোনো ভয় নেই,
শুধু এক মূর্তির গভীর নিশ্চুপ রহস্য।

এতদিন পুঁথি গুঁজে রাখা ছিল,
এখন পাতা উড়ছে, খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসছে
অন্তহীন এক পুরাণের অনন্ততা,
যেখানে বৃষ্টির ফোঁটা কোনো দেবতার অবর্তীণ হাসি,
আর শহরের দেয়াল আঁকছে এক নতুন রূপকথা,
যেখানে সত্য শুধুই অসীম কল্পনা।

তবে, ইতিহাস তো শূন্যতার গভীরে পুরোনো রেখার মতো,
আধুনিকতার দিকে দৃষ্টিপাত করো,
তুমি সেখানে পাবো মূর্তির স্তব্ধ চোখ,
শূন্য থেকে জন্ম নেয় এক নতুন জীবন,
অথবা পুরাণের একটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া রুপকথা,
অথবা পুরোনো এক গান, যা কেউ শুনেনি।

কিন্তু তুমি এখনও তাকে অনুসরণ করো,
হয়তো কোনো একদিন তার সঙ্গী হবে,
যতদিন না সেদিন আসবে,
যতদিন না এক ত্রাণের নতুন পথ তৈরি হবে,
ততদিন তুমি দেখবে,
শুদ্ধতা, অবিরাম খুঁজে পাবে।

এখানে প্রতিটি পাতা, প্রতিটি শব্দ,
একটি কাল্পনিক পৃথিবী তৈরি করে,
যেখানে পুরাণ আর আধুনিকতার দোলাচলে
তুমি কখনও দেবতা, কখনও প্রাণী,
একটাই মাত্র দৃশ্য, একটাই সত্য,
সব কিছুই রূপান্তরিত হতে থাকে—
শুধু একটা কথা,
এই পৃথিবী চিরকাল,
ভুল এবং সঠিকের মাঝখানে,
একত্রে চলতে থাকে।

https://www.unitednews24.com/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-...
07/11/2024

https://www.unitednews24.com/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%8F/?fbclid=IwY2xjawGZBxtleHRuA2FlbQIxMQABHd0davtv14e8iJ3_X8deOscSc_8UuM875sEhuC0ti_V6DLBSJXQHJl1G9Q_aem_OaePXnC6GZHbJut0RD57nQ

একদিন কবি সভায় –শামসুদ্দিন হীরা ইতিহাসের ধূলো উড়ে চৈতির আম বাগানে অস্পষ্ট ভেসে আসে ঘোড়ার খুরের ধ্বনি উত্তরের বরে...

06/11/2024

হায় পুটি মাছ কুহেলি বলাকা

চোখের সীমানা পেরিয়ে ধোঁয়াশে দিগন্ত,
উত্তরের বাতাস হিম এনে কড়া নাড়ে শীতের।
দরজা খুলে বসি হৈমন্তিক শ্বাসকষ্টে
কুয়াশার আস্তিনে লেপটে থাকে খড়পোড়া ধোঁয়া।
মোহগ্রস্ত বালিকা, মুগ্ধ হেমন্তের প্রতিবাসরে-
সাজায় স্নিগ্ধ মেঘমুক্ত আকাশ;
ঘাসের আগায় শিশির দানা ;শুষ্ক বনতল,
হেমন্তে আউশ আমনের ঘ্রাণ।
বিলাঞ্চলে বক আর পাতিহাসের সখ্যতা
কালো জলে প্রতিবিম্ব এঁকে যায় উড়ন্ত সারস।
জেগে থাকে ডোলকলমির শুকনো ডাল,
কাদা বিলে কিশোরীর শালুক কুড়ানো অবিরল।
সে কবে দাদা বাড়ীর দাওয়ায় বসে
ঢেঁপ আর শালুকের সমাহার দেখেছি!
আজ গ্রীবা তুলে দেখি অতীত,
মনের জানালায় পাখা ঝাপটায় অসংখ্য সারস।
কালীগঙ্গায় এখনো বসে ধ্যানমগ্ন কানিবক,
একচোখে চেয়ে থাকা ধার্মিক ঋষি
হায় পুটি মাছ কুহেলি বলাকা!
আজ কেন শহুরে বাতায়নে শীতল জলের ডাক।
বদলে গেলো সব কিছু-
মাথার উপরে চাল,
দখল নিলো শব্দহীন নিঃপ্রাণ ছাদ।
খোলা আকাশ স্নিগ্ধ চাঁদ,
দখল নিলো নিয়ন বাতি।
ক্লান্তিহীন স্মৃতিরা মুক্ত বিচরনে
হাঁটে ভাসে সাঁতরায়,
ঝিরায় সোনালু গাছের ঝোপে।

28/10/2024

একদিন যৌবন যেমন.............................

ঠিক নিতম্ববন্ধনির নাভীমূলে
গোলাপী পেলব আগুনের চুলা
দেহের ঐ গলিতে হাতরে বেড়ায়
অবাধ্য চঞ্চল আঙুল
গরম নিঃস্বাস,ফুলে উঠা শিরা
পিস্টন ধাবিত করে অন্ধকার গুহা।
এসবও কি নেবে মেনে !
দ্বিধাহীন শাসন দেহাভ্যন্তরে।
মন্থর উত্তেজনা,উদ্বীপ্ত যৌবন
খুঁজে বেড়ায় গহীন বালুতট।
খুঁড়ে খুঁড়ে শিঞ্জন করে
পিচ্ছল গতিপথে অন্ধকার ছায়া।
সংযমে সঙ্গমে পতনে উত্থানে,
উত্থিত শিশ্ন উত্তেজনায়-
এক সময় এই নতমুখো যৌবন
উৎগিরনের লাভা জমে যাবে
অক্ষমতার আর্তচিৎকারে।

গোধূলী বেলায় কথা হয় আনন্দ পরিযায়ীর সাথে ; কথায় কথায় মিলে যায় বিশ্বাস আর বিস্ময়ের হালখাতা। সম্পর্ক গড়ায় পবিত্র আত্নীক বন্...
28/10/2024

গোধূলী বেলায় কথা হয় আনন্দ পরিযায়ীর সাথে ; কথায় কথায় মিলে যায় বিশ্বাস আর বিস্ময়ের হালখাতা। সম্পর্ক গড়ায় পবিত্র আত্নীক বন্ধনে যা সহদরের মতো। এখানে নেই কোন লোভ-বাসনা, চাওয়া-পাওয়া। অনুভূতির ক্ষেত্রে শুন্য এবং অসীমের অবস্থান পাশাপাশি, নির্লোভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ও এমনটাই। যা অনুভব করা যায়, প্রকাশে কিঞ্চিৎ কার্পণ্যতা থাকতে পারে। বলা যায় অনুভূতিসম্পন্ন এক বোধের একাত্বতা।

বনানীতে একটা রেস্টুরেন্ট ছিল।Turkish Cuisine নামে।কিন্তু অর্ডার করতে গিয়ে দেখা গেল মেনুতে কোন বীফ নাই। অবাক হওয়ার মত ব্য...
28/10/2024

বনানীতে একটা রেস্টুরেন্ট ছিল।Turkish Cuisine নামে।কিন্তু অর্ডার করতে গিয়ে দেখা গেল মেনুতে কোন বীফ নাই। অবাক হওয়ার মত ব্যপার কারণ টার্কিশ কুইজিনে তো বীফ কমন।

ওয়েইটারকে জিজ্ঞেস করতে জানা গেল রেস্টুরেন্টের বয়স ১২ বছরের বেশি (সাত মাস আগে) এবং তারা কখনওই বীফ সার্ভ করেনি।

সন্দেহ হওয়ায় রেস্টুরেন্ট ম্যানেজারের কাছে রেস্টুরেন্টের মালিকের নাম জানতে চাওয়া হল। উত্তর এল, মালিক নাকি চারজন। সবাই নাকি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, কিন্তু কারও নাম বলল না।

ওয়েইটারকে তার নাম জিজ্ঞেস করা হল। উত্তর এল, তপন। পুরো নাম জানতে চাওয়া হল। উত্তর, মিস্টার তপন!

মূল ওয়েইটারকে তার নাম জানতে চাওয়া হল। উত্তর এল, প্রণব।

ওকে।

একটা ছুতোয় আরেক ওয়েইটারকে ডেকে তার নাম জানতে চাওয়া হল। উত্তর, বাবু। পুরো নাম? উত্তর, শুধু বাবু ডাকলেই চলবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে পাশের একটা বাড়ির গার্ডের নেইমপ্লেট খেয়াল করে দেখা গেল মুসলিম নাম। চেহারাতেও মুসলিমদের ছাপ। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কী ব্যপার এই রেস্টুরেন্টের কি হিন্দু স্টাফ বেশি নাকি? উত্তর, বেশি কম না স্যার, সবই হিন্দু।

ওকে।

সবই "ঠিক" ছিল।

কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, ৫ অগাস্টের পর থেকে রেস্টুরেন্টটা আর খোলেনি।

তো এই হচ্ছে ঘটনা।

২০১২-১৩ সালের দিকে খুব শোনা গিয়েছিল ঢাকার বিভিন্ন বড়লোক এরিয়ায় রেস্টুরেন্ট ফ্রন্ট বিজনেসের আড়ালে র-য়ের প্রচুর স্লীপার সেল আছে। অনেকটা কোল্ড ওয়ারের সময় সিআইএর "অপারেশান গ্ল্যাডিও"-র মত। আগ্রহীরা Operation Gladio লিখে গুগল করতে পারেন।

বিশেষ রেস্টুরেন্ট বলতে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে শাহবাগ মন্দিরের (শেখের বাড়ি) ঠিক পাশে সান্তুর (Santoor) রেস্টুরেন্টের এই বদনাম ছিল সেই ৯০ এর দশকের শেষে রেস্টুরেন্টের জন্মলগ্ন থেকেই। ৫ অগাস্টে শেখের বাড়ির সাথে সান্তুর-ও পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সান্তুর পোড়ানো হয়েছে শুনে খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম কারণ র‍্যান্ডম মবের তো জানার কথা না ওটা যে র-য়ের আড্ডাখানা। অতএব থিওরি হচ্ছে হয় সত্যিই মবের ভেতর থেকে কেউ জেনেশুনে কাজটা করেছে, নয়তো অ্যাকসিডেন্টালি পুড়েছে, আর নয়তো র-য়ের লোকজন নিজেরাই এভিডেন্স ডেস্ট্রয় করতে কাজটা করেছে।

এছাড়াও কানে আসছে ঢাকার বড়লোক এলাকার অনেক রেস্টুরেন্ট আর অন্যান্য বিজনেসও নাকি ৫ অগাস্ট থেকে বন্ধ।

বলা বাহুল্য সেগুলার মধ্যে পলাতক লীগারদের বিজনেসের পাশাপাশি র-য়ের কিছু স্পটও আছে। প্লাস দু'টোর মধ্যে তফাতও বেশি না। যেমন সান্তুর-এর মালিকের বাবা ছিল শেখের আমলের লীগ নেতা।

তো এই হচ্ছে অবস্থা।

-তাওসিফ সালাম

#বিজ্ঞানমনস্ক

27/10/2024

আজন্মের জীবন্ত ছবি -

অপেক্ষার পর্দা সরিয়ে সময়ের কাছে চাইলাম মুক্তি
ছুটে এলো তপ্ত বুলেট, রাস্তায় বিছিয়ে দিলাম আশারোদ!
ভয় শঙ্কা হিসেব করি না আর _ প্রাপ্তি যৎকিঞ্চিত...
আত্নরক্ষায় শ্নাইডার নেই, আড়াল নেই ; সম্মুখে তাক করা বন্দুক!
মরণের বাসরে সম্পর্কের চিতায় কাঁদছে আমার ভাই!
অসহায়তার বাস্তিল দুর্গে বন্দী স্বপ্নের উদ্বৃত্ত সময়,
আর সময় নেই! বুক পেতেছি ; যা হবার হবে!!
ভ্যানে লাশের স্তূপে, মুখোশে ঢেকেছে শ্রদ্ধা...
বাতাসে ধোঁয়া, বারুদের গন্ধ। আকাশে উড়ছে শকুন!
মায়ের বুক ভারি করা নিঃশ্বাসের অশ্রুধারা,
রক্তাক্ত কাপড় জড়িয়ে বিলাপ করা স্টেচার।
আগস্ট, জুলাই শুধু মুহূর্তের ঋণ নয়,
আজন্মের জীবন্ত ছবি -
ভীষণ ঝড়ে আগলে রেখো হাজারো শহীদ স্মুতি
৭১ শেষে আবারো হারালাম, জিতলেন অর্ন্তযামী।

23/10/2024

জালালউদ্দিন রুমি একবার একটা বনের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা বড় কালো তিতির পাখি ধরে ফেলেন। রুমি যখন ভাবছেন যে, পাখিটাকে কীভাবে খাবেন; আগুনে ঝলসে; নাকি তরকারি রান্না করে!

এমন সময় পাখিটি বলে ওঠে— ‘রুমী তুমি তোমার এই জীবনে এতো গোশত খেয়েছো; অথচ তোমার এই আমিষের আকুতি শেষ হয়না। তুমি যদি আমাকে মুক্ত করে দাও; আমি তোমাকে তিনটি পরামর্শ দেবো; যা তোমার জীবনকে সন্তোষ আর শান্তিতে ভরে দেবে।’

রুমি কিছুটা বিচলিত হয়ে বলেন— “আমার হাতে বসেই প্রথম পরামর্শটা দাও; যদি পছন্দ না হয়; সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করবো তোমাকে।”

পাখিটি রাজি হয়ে বলল— ‘তুমি সব সময় তোমার বন্ধুদের উদ্ভট সব আলোচনায় বিচলিত হয়ে পড়ো। এর চেয়ে তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দাও। তাতে তোমার জীবন শ্রেয়তর হবে।’

রুমি কিছুটা চিন্তা করে নিয়ে ভাবতে থাকেন; পাখিটার কথায় বোধ আছে। সুতরাং দ্বিতীয় পরামর্শ দিতে বলেন।

পাখি বলে— ‘তুমি আমায় ছেড়ে দিলে ওই গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শটা দেবো।’

রুমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে ছেড়ে দেন; আর পাখি গিয়ে কাছেই একটি গাছের ডালে বসে।
পাখিটা এবার তার দ্বিতীয় পরামর্শের কথা বলে— ‘রুমী অতীতকে কখনো পালটানো যায় না। সুতরাং বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করো। আর ভবিষ্যতের জন্য বাঁচো। যা হোক বড় বোকামি করেছো তুমি। আমার পেটের মধ্যে তিন কেজি হীরা আছে। তুমি এটা পেলে তোমার তিনপুরুষ বসে খেতে পারতে।’

সাংঘাতিক ঘাবড়ে গিয়ে রুমি তিতিরের পেছনে রেগে ছুটতে থাকেন; তাকে আবার ধরতে। পাখি তখন জোরে জোরে বলে— ‘রুমি তুমি দেখছি আমার পরামর্শ একেবারেই শুনলে না। আমার নিজেরই ওজন যেখানে দুই কেজির বেশি নয়; আমার পেটে কী করে তিন কেজি হীরা থাকবে! তুমি দেখছি এখনো উদ্ভট আর বোধহীন কথায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছো! দ্বিতীয়ত আমি এরিমাঝে তোমাকে ছেড়ে গেছি; তোমার জীবনে এখন আমি অতীতের বিষয়।’

পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে রুমি তখন তৃতীয় পরামর্শের জন্য অনুরোধ করেন।

তিতির পাখিটি বলে— ‘রুমি শোনো; সবাইকে উপদেশ দিতে যেওনা। শুধু তাদের উপদেশ দাও; যারা সেটা শুনবে-মনে রাখবে। মনে রেখো কিছু কাপড় এতো জীর্ণ হয়ে যায়; যা আর কখনো সেলাই করা যায় না।’

[নুফহাতুল আরব" কিতাব থেকে অনুদিত ]

26/09/2024

বাংলার প্রকৃতিতে শরতের সৌন্দর্য অনন্য। বর্ষার পরের ঋতুই শরৎ। তাই শরতের আগমনে বাংলার প্রকৃতি থাকে নির্মল স্নিগ্ধ।শরতের আকাশের মতো আকাশ অন্য কোন ঋতুতে দেখা পাওয়া অসম্ভব, সব মিলিয়ে শরৎ যেন শুভ্রতার ঋতু। শরতের সকাল,দুপুর, রাত সব ঋতু থেকে আলাদা আবহ আবর্তিত। শরতের জ্যোৎস্নার রূপ অপরূপ, এতো কাছ থেকে চাঁদকে দেখার স্বাদই আলাদা।
আর যদি থাকে প্রিয়তমা পাশে, আনমনে গেয়ে উঠি
" এখুনি উঠিবে চাঁদ আধো আলো আধো ছায়াতে, কাছে এসে প্রিয় হাতখানি রাখো হাতে"। নৌকাতে বসে সন্ধ্যা রাতের চাঁদ, তুরাগপাড়ের কাঁশবন ; কি যে মায়ামুগ্ধ পরিবেশ। তাই শরৎ তার নান্দনিক ব্যঞ্জনা নিয়ে উদ্ভাসিত হয় বিশেষ মুহুর্তে।
‘প্রিয়তম আমার, ঐ চেয়ে দেখ, নব বধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরৎ কাল সমাগত।’ অথবা 'কাশ ফুলের মতো যার পরিধান, প্রফুল্ল পদ্মের মতো যার মুখ, উন্মত্ত হাঁসের ডাকের মতো রমণীয় যার নূপুরের শব্দ, পাকা শালি ধানের মতো সুন্দর যার ক্ষীণ দেহলতা, অপরূপ যার আকৃতি সেই নব বধূর মতো শরৎকাল আসে।’
মহাকবি কালিদাসের মতো তো এ সাধারনের
সেই দৃষ্টি নেই যে শরৎকে এতোটা গভীর উপলব্দীতে দেখবো।বাংলা সাহিত্যে শরৎ-প্রকৃতির লাবণ্যময় রূপ নিয়ে অসম্ভব চিত্ররূপময়তা ফুটিয়ে তুলেছেন কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ এর কবিতায়। বোধ করি বসন্ত, বর্ষার মতো শরৎ ঋতু তাদেরকে মুগ্ধু করেছে বিমোহিত করেছে।
শরতের প্রধান অনুষঙ্গ বোধ করি নদীর তীরে কাশের প্লাবন। ভাসা ভাসা অভিমানি মেঘ আকাশের কোন এক কোনায় জমবে, যেই না চাঁদ উঠবে অমনি সে লুকোচুরিতে মেতে উঠবে। আবার রৌদ্র করোজ্জ্বল সময়েও মেঘ রোদুরের এমন খেলা এই শরতেই দেখতে পাই।
শরতের এমন দিনে শারদীয় উৎসবে পরিবার সহ চলে গেলাম তুরাগতীরে নৌভ্রমনে। এলাম মিরপুর বেঁরিবাধেঁর ওপাড় কাউনদির কাশবন থেকে । কিছুক্ষন তুরাগে নৌকায় ঘুরে তারপর সন্ধ্যা পর্যন্ত তুরাগতীরে কাশবনে ঘুরাফেরা, দেখলাম চারদিকে শুধু শ্বেত স্নিগ্ধ মুগ্ধতা। এমন সৌন্দয্য দেখতে আজই ঘুরে আসুন মিরপুর বেড়িঁবাধেঁর তুরাগ তীরে।বাড়তি পাওনা তামান্না পার্ক, তুরাগতীরের রেস্তোরাঁ, সিন্নিরটেক, দিয়াবাড়ী, মিরপুর বেঁড়িবাধঁ। রাতের আলো-আধারিতে তুরাগের রাতের সৌন্দর্য দেখুন আর খাওয়া দাওয়া করুন যা ইচ্ছা।
@

Address

19/3, Borobagh, Mirpur 2
Dhaka
DHAKA1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শামসুদ্দিন হীরা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share