21/08/2025
আসুন, অনেক অনেক মজার পোস্ট এর মাঝে একটু শিক্ষামূলক কিছুও পড়ি। নিজে জানি আর সবাইকে জানাই।
আজকে জানব, ভ্রান্তিবাতিক (Delusional Disorder) সম্পর্কে।
ভ্রান্তিবাতিক (Delusional Disorder) কি?
ভ্রান্তিবাতিক হলো এমন এক ধরনের মানসিক রোগ যেখানে একজন মানুষ দৃঢ়ভাবে ভুল কোনো বিশ্বাসে আচ্ছন্ন থাকেন। এই বিশ্বাস বাস্তবতার সাথে মেলে না, কিন্তু তিনি এটিকে সত্য ভেবে বসেন এবং অন্য কেউ বোঝালেও তা মানতে চান না।
ভ্রান্তিবাতিকের লক্ষণঃ
ভুল বিশ্বাসে দৃঢ়তা – যেমন কেউ সব সময় ভাবছে প্রতিবেশী তাকে ক্ষতি করতে চাইছে, কেউ বিষ দিচ্ছে, বা সঙ্গী প্রতারণা করছে।
ভ্রান্তির বাইরে আচরণ স্বাভাবিক থাকতে পারে – অনেক সময় রোগীরা দৈনন্দিন জীবনে মোটামুটি স্বাভাবিক থাকেন, শুধু নির্দিষ্ট বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়।
অতিরিক্ত সন্দেহ ও অশান্তি – পরিবার বা সম্পর্কের মধ্যে ঝগড়া, সামাজিক সমস্যা ও একাকীত্ব তৈরি করে।
হ্যালুসিনেশন সাধারণত থাকে না (সিজোফ্রেনিয়ার মতো কণ্ঠস্বর শোনা বা অদ্ভুত দৃশ্য দেখা সচরাচর হয় না)।
ভ্রান্তিবাতিকের ধরনঃ
Persecutory Type – মনে হয় কেউ ক্ষতি করছে বা ষড়যন্ত্র করছে।
Jealous Type – সঙ্গী প্রতারণা করছে এমন দৃঢ় বিশ্বাস।
Erotomanic Type – মনে হয় কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি বা অপরিচিত কেউ তার প্রেমে পড়েছে।
Grandiose Type – নিজের বিশেষ ক্ষমতা, প্রতিভা বা সম্পর্ক আছে বলে বিশ্বাস।
Somatic Type – শরীরে কোনো রোগ বা অস্বাভাবিকতা আছে বলে ভুল ধারণা।
ভ্রান্তিবাতিকের প্রতিকারঃ
👉 ১. চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেন।
👉 ২. ওষুধ (Medication)
সাধারণত Antipsychotic ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে Antidepressant বা Mood Stabilizer সহায়তা করে।
👉 ৩. সাইকোথেরাপি (Psychotherapy)
Cognitive Behavioral Therapy (CBT) রোগীকে বাস্তবতার সাথে ভ্রান্ত ধারণার পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে।
ধীরে ধীরে ভুল বিশ্বাস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
👉 ৪. পরিবার ও সাপোর্ট সিস্টেম
রোগীর ভ্রান্ত ধারণা সরাসরি অস্বীকার করলে অনেক সময় প্রতিক্রিয়া খারাপ হয়।
ধৈর্যের সাথে বোঝানো এবং চিকিৎসার প্রতি উৎসাহ দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর।
👉 ৫. জীবনযাত্রার উন্নতি
নিয়মিত ঘুম, ব্যায়াম, মেডিটেশন ও মানসিক চাপ কমানো।
মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা।
উপসংহার
ভ্রান্তিবাতিক কোনো সাধারণ সন্দেহ নয়, বরং এটি একটি গুরুতর মানসিক রোগ। এর ফলে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, একাকীত্ব, চাকরি বা সামাজিক জীবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।