02/12/2025
১৯৭১ সালের চারটি বিষয়ে
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালায়। উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিদের গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলন দমন করা। ২৫ মার্চ রাতে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড শুরু হলে বাঙালিরা সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে ‘মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী’ গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায়। ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর বিজয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
৭১ সালের গণহত্যা
আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বাঙালি বেসামরিক মানুষের ওপর পরিকল্পিত জাতিগত নিধন চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামাঞ্চল, শহর, সব জায়গায় বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ লক্ষ্যভিত্তিক হত্যার শিকার হন। বহু আন্তর্জাতিক রিপোর্টে নিহতের সংখ্যা ৩ লাখ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত উল্লেখ আছে, এবং এটিকে ২০শ শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৭১ সালের ভয়ংকর রাত ২৫ মার্চ
২৫ মার্চ রাতকে বলা হয় কালরাত। ঐ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক, মেশিনগান ও ভারী অস্ত্র নিয়ে ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, পুরান ঢাকা, সব স্থানে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়। ছাত্রাবাসগুলোতে ঢুকে শিক্ষক ছাত্রদের হত্যা করা হয়, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বহু প্রতিবেদনে এটিকে এক রাতের মধ্যে সংঘটিত অন্যতম বৃহৎ শহুরে গণহত্যা বলা হয়েছে।
৭১ সালে মা বোনদের ওপর সংগঠিত গণধর্ষণ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের রিপোর্ট ও মুক্তিযুদ্ধকালীন চিকিৎসকদের নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন চালায়। অনুমান করা হয় ২ থেকে ৪ লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হন। অসংখ্য মা বোনকে বন্দিশিবিরে নিয়ে গিয়ে মাসের পর মাস অত্যাচার করা হয়। যুদ্ধের পর এসব নারীকে “বীরাঙ্গনা” উপাধি দেওয়া হয় সম্মানের প্রতীক হিসেবে।
৭১ সালে গ্রাম গঞ্জ পুড়িয়ে ছারখার করা
পাকিস্তানি বাহিনী প্রতিরোধের সন্দেহে শত শত গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বরিশাল, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, খুলনা, সিলেট, কুমিল্লাসহ অনেক জেলায় গ্রামগুলো পুড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা, দেশত্যাগ বা পালাতে বাধ্য করা হয়। কসাইবাড়ী, চুকনগর, ঝালকাঠি, শ্রীমঙ্গল, বোয়ালখালি, এমন অসংখ্য স্থানে অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যার প্রমাণ আন্তর্জাতিক গবেষণায় উল্লেখ আছে।