
18/01/2025
আপনার জীবনে একটা প্যাশন থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য না যে এই প্যাশন আপনাকে ভাত-কাপড় দেবে।
বরং প্যাশন আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্যাশন আপনাকে আপনার জীবনের ভয়ঙ্কর সব ড্যামেজ পার হতে সাহায্য করবে, আপনার নিঃসঙ্গতার সময়টুকু সঙ্গ দেবে এবং আপনাকে কখনও একা হতে দেবে না।
সম্ভবত সুবীর নন্দীকে একবার জিগানো হইছিলো, আপনি কীভাবে আপনার মৃত্যু চান? সুবীর নন্দি উত্তর দিয়েছিলেন, আমি চাই গান গাইতে গাইতে আমার মৃত্যু হোক। খেয়াল করে দেখবেন, শুধু সুবীর নন্দী না, ম্যাক্সিমাম আর্টিস্টেরই শেষ ইচ্ছা থাকে সে যেন কাজের মধ্যে ডুবে থেকে মরে যেতে পারে।
শুনে অবাক হয়েছিলাম। একটা মানুষ মরার সময় ছেলে চাইলো না, মেয়ে চাইলো না, বৌ চাইলো না, পরিবার চাইলো না, সে চাইলো তার কাজরে।
ছোটবেলায় কথাটা শুনে খুব অবাক হলেও এখন ধীরে ধীরে আমি সুবীর নন্দীর কথাটার গুরুত্ব আমি বুঝতে পেরেছি। পারছিও।
মানুষ হয়ে মানুষের উপর ডিপেনডেন্ট হওয়ার চে কাজের উপর ডিপেন্ডেন্ট হওয়া ভালো। মানুষ আপনাকে ছাইড়া যাবে, যাইতে পারে। কিন্তু কাজ আপনাকে কোনদিন ছাইড়া যাবে না।
জাস্ট আপনার যদি একটা প্যাশন থাকে, আপনাকে কোনদিন সকালে উঠে ভাবতে হবে না, আপনি কী করবেন? আপনার কোনদিন ভাবতে হবে না, পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলে আপনি কী করবেন? আপনার কোনদিন মনে হবে না, রাতে আপনার ঘুম ভেঙে গেলে বাকি রাতটা আপনি কীভাবে কাটাবেন?
ব্যাপারটাকে যতটা সহজ ভাবতেসেন, অতোটা সহজ কিন্তু না। জাস্ট এই করার মতো কিছু না থাকার কারণে বহু ছেলে মেয়ে ড্রাগ নেওয়া শুরু করে, বহু মানুষ ভুল মানুষের সাথে জড়ায়ে পড়ে, বহু মানুষ সকালে ঘুম থেকে পর্যন্ত উঠে না, কারণ, তার আসলে কিছুই করতে ভালো লাগে না।
এই জেনারেশনের সবচে রেলেভ্যান্ট এবং পপুলার গান কোনটা জানেন? একা বেঁচে থাকতে শেখো প্রিয়। ফর রিয়েল, গানটা আমাদের জন্য নিষ্ঠুর সত্য। আমাদের একা থাকতে হয়, একাই সবকিছু করতে হয়, বাট আপনার প্যাশন আপনাকে কোনদিন একা হইতে দেবে না। তাই যাদের প্যাশন থাকে, তাদের আমি কখনোই একা মানুষ বলি না।
মানুষ হয়ে যেহেতু জন্মাইসি, আমার আপনার পক্ষে দুঃখ, কষ্ট বা না পাওয়ারে এড়ানোর কোন উপায় নাই। এবং এই দুঃখ কষ্ট আসবে মানুষের পক্ষ থেকে, আপনি যতই ভালো মানুষ হন, মানুষের পক্ষ থেকে আসা এই ড্যামেজ আপনি এড়াইতে পারবেন না।
আপনার যা করতে হবে, সেইটা হলো, মানুষের বাইরের জগতে আপনার একটা ডিপেনডেন্সির জায়গা গড়ে তোলা। এটা হতে পারে কোডিং, হতে পারে গণিত, হতে পারে সাহিত্য বা ডিজাইন বা ছোটখাটো কোন বিজনেস।
তাহলে আপনি আর যাই হোন, কোনদিন শূণ্য হয়ে যাবেন না, কোনদিন আপনি মানুষের জন্য ডেসপারেট
হয়ে যাবেন না। কষ্ট হবে, দুঃখ হবে, খারাপ লাগবে, বাট দিনশেষে আপনি ঐ প্যাশনটাকে ধরে রেখে সময়টা পার করে ফেলতে পারবেন। নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য আপনাকে কোনদিন ড্রাগ নিতে হবে না বা আপনাকে ভুল মানুষ চুজ করতে হবে না।
ক্যারিয়ার, মোটিভেশন বা প্রোফেশন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাট সত্যি কথা হলো,খুব বাজে সময়ে ঐ প্রোফেশন বা একাডেমিক লেখাপড়াও অসহ্য হয়ে উঠতে পারে।
এই সময়টাতেই মূলত আপনার প্যাশন হইয়া উঠতে পারে আপনার বেস্টফ্রেন্ড, আপনার সেভিওর। মানুষরে সেভিওর বানাইলে সেই সেভিওর ফ্র্যাংকেনস্টাইন হয়ে উঠতেও পারে, বাট প্যাশনরে যদি একবার আপনি আপনার সেভিওর বানাইয়া ফেলতে পারেন, তাহলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর যাই হোক, আপনার শূণ্যতা আপনাকে খুন করে ফেলতে পারবে না কোনদিন।
-সাদিক